চোখের পলকেই নদীতে বিলীন ১৩ বসতভিটা-ঘরবাড়ি
jugantor
চোখের পলকেই নদীতে বিলীন ১৩ বসতভিটা-ঘরবাড়ি

  চৌহালী (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি  

১৯ জুন ২০২১, ২১:৩৭:৪৭  |  অনলাইন সংস্করণ

যমুনা নদীতে পানি বৃদ্ধি ও অবিরাম বর্ষণের কারণে সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুরে ১৩টি বসতভিটা ও ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। শনিবার ভোরের দিকে জালালপুর ইউনিয়নের গুচ্ছগ্রামে পূর্ব ও পাকুরতলা এবং আড়কান্দি এলাকায় মাত্র কয়েক মিটিনের ব্যবধানে চোখের পলকেই ২টি বাড়িসহ বসতভিটাগুলো বিলীন হয়। এতে নদীপাড়ে আতঙ্ক বেড়ে গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানান, প্রায় দেড় মাস ধরে যমুনা নদীতে পানি বৃদ্ধি ও গত ১ সপ্তাহ ধরে অবিরাম বর্ষণের কারণে চৌহালী উপাজেলাধীন এনায়েতপুর খাজা ইউনুস আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দক্ষিণে ব্রাহ্মণগ্রাম-আড়কান্দি থেকে পাঁচিল পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৬ কিলোমিটার এলাকায় ভাঙন শুরু হয়েছে।

তবে প্রথমদিকে ভাঙনের মাত্রা কিছুটা কম ছিল। হঠাৎ করে শনিবার ভোরের দিকে জালালপুর গুচ্ছগ্রামের পূর্ব, পাকুরতলা ও আড়কান্দি এলাকায় যমুনাপাড়ের ভাঙন বেড়ে যায়।

এতে চোখের পলকে জালালপুরের বুলু মাস্টার, আবদুর রাজ্জাক, ইউসুফ বেপারী, আলী মিয়া, মুজাম, সাবিনা খাতুন, টুলি বেগম, পাকুরতলা গ্রামের আজহার উদ্দিন মেম্বার, আবদুল মজিদ, ডাক্তার ফজল হোসেন ও আড়াকান্দি চরের সোবহান ও ইউসুফ আলীর বসতভিটা নদীতে চলে যায়। এ সময় নদীপাড়ে কান্নার রোল পড়ে যায়।

সবাই বাড়ির বসতভিটায় রাখা টিনের চাল ও অন্যান্য জিনিসপত্র সরাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। জালালপুর গ্রামের নদীপাড়ের বাসিন্দা কামরুজ্জামান কামরুল জানান, ভোরের দিকে চোখের পলকেই বসতভিটা, দোকান ও ২টি বাড়ি নদীতে বিলীন হয়। এখন আবার নতুন করে ভাঙনের মুখে পড়েছে গুচ্ছগ্রামসহ বিস্তীর্ণ এলাকা।

পানি উন্নয়ন বোর্ডর পক্ষ থেকে জিও ব্যাগ ফেলার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তবে এই মুহূর্তে এটা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম। এ কারণে হুমকিতে পড়েছে বিশাল এলাকা।

সিরাজগঞ্জ পাউবোর এসডিই জুবায়ের হোসেন বলেন, জরুরিভিত্তিতে এখনই ভাঙন ঠেকাতে দুই দিন ধরে জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে। তবে বৃষ্টির কারণে একটু সমস্যা হচ্ছে।

এদিকে ১২ জুন ভাঙন এলাকা পরিদর্শনে এসে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব কবির বিন আনোয়ার যুগান্তরকে জানান, সাড়ে ৬ কিলোমিটার ভাঙন এলাকা রক্ষায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী একনেক সভায় সাড়ে ৬শ' কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছেন। আশা করছি নভেম্বর-ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শুরু হবে। প্রকল্পের কাজ শুরু হলে ভাঙন মুক্ত হবে চৌহালী উপজেলাধীন এনায়েতপুর ও বেতিল স্পারবাঁধ ও শাহজাদপুরের খুকনী-জালালপুর ইউপির পূর্বাঞ্চল।

চোখের পলকেই নদীতে বিলীন ১৩ বসতভিটা-ঘরবাড়ি

 চৌহালী (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি 
১৯ জুন ২০২১, ০৯:৩৭ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

যমুনা নদীতে পানি বৃদ্ধি ও অবিরাম বর্ষণের কারণে সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুরে ১৩টি বসতভিটা ও ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। শনিবার ভোরের দিকে জালালপুর ইউনিয়নের গুচ্ছগ্রামে পূর্ব ও পাকুরতলা এবং আড়কান্দি এলাকায় মাত্র কয়েক মিটিনের ব্যবধানে চোখের পলকেই ২টি বাড়িসহ বসতভিটাগুলো বিলীন হয়। এতে নদীপাড়ে আতঙ্ক বেড়ে গেছে। 

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানান, প্রায় দেড় মাস ধরে যমুনা নদীতে পানি বৃদ্ধি ও গত ১ সপ্তাহ ধরে অবিরাম বর্ষণের কারণে চৌহালী উপাজেলাধীন এনায়েতপুর খাজা ইউনুস আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দক্ষিণে ব্রাহ্মণগ্রাম-আড়কান্দি থেকে পাঁচিল পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৬ কিলোমিটার এলাকায় ভাঙন শুরু হয়েছে। 

তবে প্রথমদিকে ভাঙনের মাত্রা কিছুটা কম ছিল। হঠাৎ করে শনিবার ভোরের দিকে জালালপুর গুচ্ছগ্রামের পূর্ব, পাকুরতলা ও আড়কান্দি এলাকায় যমুনাপাড়ের ভাঙন বেড়ে যায়।

এতে চোখের পলকে জালালপুরের বুলু মাস্টার, আবদুর রাজ্জাক, ইউসুফ বেপারী, আলী মিয়া, মুজাম, সাবিনা খাতুন, টুলি বেগম, পাকুরতলা গ্রামের আজহার উদ্দিন মেম্বার, আবদুল মজিদ, ডাক্তার ফজল হোসেন ও আড়াকান্দি চরের সোবহান ও ইউসুফ আলীর বসতভিটা নদীতে চলে যায়। এ সময় নদীপাড়ে কান্নার রোল পড়ে যায়। 

সবাই বাড়ির বসতভিটায় রাখা টিনের চাল ও অন্যান্য জিনিসপত্র সরাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। জালালপুর গ্রামের নদীপাড়ের বাসিন্দা কামরুজ্জামান কামরুল জানান, ভোরের দিকে চোখের পলকেই বসতভিটা, দোকান ও ২টি বাড়ি নদীতে বিলীন হয়। এখন আবার নতুন করে ভাঙনের মুখে পড়েছে গুচ্ছগ্রামসহ বিস্তীর্ণ এলাকা।
 
পানি উন্নয়ন বোর্ডর পক্ষ থেকে জিও ব্যাগ ফেলার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তবে এই মুহূর্তে এটা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম। এ কারণে হুমকিতে পড়েছে বিশাল এলাকা। 

সিরাজগঞ্জ পাউবোর এসডিই জুবায়ের হোসেন বলেন, জরুরিভিত্তিতে এখনই ভাঙন ঠেকাতে দুই দিন ধরে জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে। তবে বৃষ্টির কারণে একটু সমস্যা হচ্ছে।

এদিকে ১২ জুন ভাঙন এলাকা পরিদর্শনে এসে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব কবির বিন আনোয়ার যুগান্তরকে জানান, সাড়ে ৬ কিলোমিটার ভাঙন এলাকা রক্ষায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী একনেক সভায় সাড়ে ৬শ' কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছেন। আশা করছি নভেম্বর-ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শুরু হবে। প্রকল্পের কাজ শুরু হলে ভাঙন মুক্ত হবে চৌহালী উপজেলাধীন এনায়েতপুর ও বেতিল স্পারবাঁধ ও শাহজাদপুরের খুকনী-জালালপুর ইউপির পূর্বাঞ্চল।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন