‘হাসিনা মোক ঘর দিছে, মুই নতুন ঘরোত থাকিম’
jugantor
‘হাসিনা মোক ঘর দিছে, মুই নতুন ঘরোত থাকিম’

  জলঢাকা (নীলফামারী) প্রতিনিধি  

২০ জুন ২০২১, ১৮:১৭:৩৯  |  অনলাইন সংস্করণ

‘নতুন ঘরোত (ঘর) উঠি (উঠে), নামাজ পড়ি ওমার (ওদের) জন্য দোয়া করমো (করব)। আল্লাহ যেন ওমাক (ওদের) ভালো থোয় (রাখে)। মোর (আমার) নিজের থাকিবার জাগা (জায়গা) নাই। বেটি (মেয়ে) জামাইয়ের বাড়িতে কষ্ট করি থাকোং (থাকি)। শেখ হাসিনা মোক (আমাকে) ঘর দিছে, এখন মুই (আমি) নতুন ঘরোত থাকিম।’

রোববার প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর ঘরের চাবি স্থানীয় সংসদ সদস্য মেজর (অব.) রানা মোহাম্মদ সোহেলের হাত থেকে পেয়ে এভাবেই তার অনুভূতির কথা জানালেন নীলফামারীর জলঢাকা মীরগঞ্জ ইউনিয়নের কোহিনুর বেগম।

সতীনের সংসারে ঠাঁই হয়নি কোহিনুরের। স্বামী আব্দুস সালাম খোঁজখবর নেন না তার। তাই বাধ্য হয়ে অনেকটা আশ্রিতার মতো আশ্রয় নিয়েছেন মেয়ে জামাইয়ের সংসারে। নবনির্মিত শেখ হাসিনার উপহার হিসেবে ঘর বরাদ্দ পেয়েছেন তিনি।

এদিকে দুর্ঘটনায় পা ভেঙে বর্তমানে পঙ্গুত্ব অবস্থায় রয়েছেন ধর্মপাল ইউনিয়নের সুরুজ্জামান গত জানুয়ারিতে প্রথম দফায় ঘর পেয়েছেন তিনি। তার সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, দুর্ঘটনায় পঙ্গুত্ব বরণ করছি, ঘর পেয়েছি, কাজ-কর্মের হদিস মেলেনি এখনো। স্ত্রী ময়না মানুষের বাসায় ঝিয়ের কাজ করে যা আয় হয় তা দিয়ে সংসার চালাচ্ছি। শেখ হাসিনা মাথা গোঁজার ঠাঁই দিয়েছেন এখন একটা যে কোনো কর্ম হলেই বাকি জীবন পার করতে পারি।

দ্বিতীয় দফায় ঘর বিতরণ অনুষ্ঠানে এসে এভাবেই তার অনুভূতির কথা সাংবাদিকদের কাছে জানান সুরুজ্জামান।

ঘরের চাবি হাতে পেয়ে একই রকম অনুভূতির কথা জানান পশ্চিম শিমুলবাড়ী ইউনিয়নের হালিমা বেগম, আর্জিনাসহ অনেকেই।

এ সময় হালিমা বেগম জানান, এক সময় আমাদের থাকার জায়গা ছিল না। প্রতিরাতে ঝড়-বৃষ্টিতে কষ্ট করে সন্তানদের নিয়ে থাকতে হয়েছে। সরকার আশ্রয়ণ প্রকল্পে আমাদের ঘর করে দিয়েছেন আমরা তার কাছে চিরকৃতজ্ঞ।

জলঢাকায় ভূমিহীনদের জন্য সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর অধীনে উপজেলাটিতে ৩০০ ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর মধ্যে মীরগঞ্জ ইউনিয়নে ১৩০টি, শিমুলবাড়ীতে ৭০টি এবং কৈমারী ইউনিয়নে ১০০টি ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। নতুন বরাদ্দে প্রতিটি ঘর নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা।

এর আগে উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে প্রথম দফায় ১৪১টি ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে শিমুলবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান হামিদুল হক, মীরগঞ্জ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির খান হুকুম আলী জানান, প্রধানমন্ত্রী যে উদ্দেশ্য নিয়ে দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে ঘর উপহার দিয়েছেন বর্তমান ইউএনও মাহবুব হাসানের নিরলস পরিশ্রমে তা আজ বাস্তবায়িত হয়েছে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুব হাসান বলেন, প্রধানমন্ত্রী ভূমিহীন ও গৃহহীনদের যে ঘর দিচ্ছেন তা পেয়ে সুবিধাবঞ্চিত এসব মানুষ খুঁজে পেয়েছে তাদের নতুন করে বাঁচার প্রেরণা। এসব ঘর নির্মাণে মান বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে নিয়মিত মনিটরিং করা হয়েছে। সর্বক্ষেত্রে সহযোগিতা করার জন্য তিনি সবার প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

‘হাসিনা মোক ঘর দিছে, মুই নতুন ঘরোত থাকিম’

 জলঢাকা (নীলফামারী) প্রতিনিধি 
২০ জুন ২০২১, ০৬:১৭ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

‘নতুন ঘরোত (ঘর) উঠি (উঠে), নামাজ পড়ি ওমার (ওদের) জন্য দোয়া করমো (করব)। আল্লাহ যেন ওমাক (ওদের) ভালো থোয় (রাখে)। মোর (আমার) নিজের থাকিবার জাগা (জায়গা) নাই। বেটি (মেয়ে) জামাইয়ের বাড়িতে কষ্ট করি থাকোং (থাকি)। শেখ হাসিনা মোক (আমাকে) ঘর দিছে, এখন মুই (আমি) নতুন ঘরোত থাকিম।’

রোববার প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর ঘরের চাবি স্থানীয় সংসদ সদস্য মেজর (অব.) রানা মোহাম্মদ সোহেলের হাত থেকে পেয়ে এভাবেই তার অনুভূতির কথা জানালেন নীলফামারীর জলঢাকা মীরগঞ্জ ইউনিয়নের কোহিনুর বেগম।

সতীনের সংসারে ঠাঁই হয়নি কোহিনুরের। স্বামী আব্দুস সালাম খোঁজখবর নেন না তার। তাই বাধ্য হয়ে অনেকটা আশ্রিতার মতো আশ্রয় নিয়েছেন মেয়ে জামাইয়ের সংসারে। নবনির্মিত শেখ হাসিনার উপহার হিসেবে ঘর বরাদ্দ পেয়েছেন তিনি।

এদিকে দুর্ঘটনায় পা ভেঙে বর্তমানে পঙ্গুত্ব অবস্থায় রয়েছেন ধর্মপাল ইউনিয়নের সুরুজ্জামান গত জানুয়ারিতে প্রথম দফায় ঘর পেয়েছেন তিনি। তার সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, দুর্ঘটনায় পঙ্গুত্ব বরণ করছি, ঘর পেয়েছি, কাজ-কর্মের হদিস মেলেনি এখনো। স্ত্রী ময়না মানুষের বাসায় ঝিয়ের কাজ করে যা আয় হয় তা দিয়ে সংসার চালাচ্ছি। শেখ হাসিনা মাথা গোঁজার ঠাঁই দিয়েছেন এখন একটা যে কোনো কর্ম হলেই বাকি জীবন পার করতে পারি।

দ্বিতীয় দফায় ঘর বিতরণ অনুষ্ঠানে এসে এভাবেই তার অনুভূতির কথা সাংবাদিকদের কাছে জানান সুরুজ্জামান।

ঘরের চাবি হাতে পেয়ে একই রকম অনুভূতির কথা জানান পশ্চিম শিমুলবাড়ী ইউনিয়নের হালিমা বেগম, আর্জিনাসহ অনেকেই।

এ সময় হালিমা বেগম জানান, এক সময় আমাদের থাকার জায়গা ছিল না। প্রতিরাতে ঝড়-বৃষ্টিতে কষ্ট করে সন্তানদের নিয়ে থাকতে হয়েছে। সরকার আশ্রয়ণ প্রকল্পে আমাদের ঘর করে দিয়েছেন আমরা তার কাছে চিরকৃতজ্ঞ।

জলঢাকায় ভূমিহীনদের জন্য সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর অধীনে উপজেলাটিতে ৩০০ ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর মধ্যে মীরগঞ্জ ইউনিয়নে ১৩০টি, শিমুলবাড়ীতে ৭০টি এবং কৈমারী ইউনিয়নে ১০০টি ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। নতুন বরাদ্দে প্রতিটি ঘর নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা।

এর আগে উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে প্রথম দফায় ১৪১টি ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে শিমুলবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান হামিদুল হক, মীরগঞ্জ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির খান হুকুম আলী জানান, প্রধানমন্ত্রী যে উদ্দেশ্য নিয়ে দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে ঘর উপহার দিয়েছেন বর্তমান ইউএনও মাহবুব হাসানের নিরলস পরিশ্রমে তা আজ বাস্তবায়িত হয়েছে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুব হাসান বলেন, প্রধানমন্ত্রী ভূমিহীন ও গৃহহীনদের যে ঘর দিচ্ছেন তা পেয়ে সুবিধাবঞ্চিত এসব মানুষ খুঁজে পেয়েছে তাদের নতুন করে বাঁচার প্রেরণা। এসব ঘর নির্মাণে মান বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে নিয়মিত মনিটরিং করা হয়েছে। সর্বক্ষেত্রে সহযোগিতা করার জন্য তিনি সবার প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন