চার বছরেও শেষ হয়নি ৫২ মিটার সেতুর কাজ
jugantor
চার বছরেও শেষ হয়নি ৫২ মিটার সেতুর কাজ

  রফিক মোল্লা, চৌহালী (সিরাজগঞ্জ)   

২০ জুন ২০২১, ২০:৩৯:১২  |  অনলাইন সংস্করণ

সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার বিনানই পূর্বপাড়া নদীতে ৫২ মিটার একটি সেতুর নির্মাণ কাজ ৪ বছরেও শেষ হয়নি। বিভিন্ন অজুহাতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ বন্ধ রাখায় চৌহালী উপজেলা সদরের সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলসহ রাজধানী ঢাকায় যাতায়াতকারীদের পোহাতে হচ্ছে চরম ভোগান্তি। তবে দ্রুত কাজ শেষ করা হবে বলে জানিয়েছে এলজিইডি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, স্বাধীনতার পর থেকে চৌহালী উপজেলার দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের প্রাণের দাবি ছিল বাঘুটিয়া ইউনিয়নের বিনানই পূর্বপাড়া নদীতে একটি সেতু নির্মাণের। সেই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৭ সালে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অধীনে ৫২ মিটার আরসিসি গার্ডার সেতুটি নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন তৎকালীন সংসদ সদস্য আলহাজ আব্দুল মজিদ মণ্ডল।

এতে বরাদ্দ দেয়া হয় ২ কোটি ২৩ লাখ টাকা। এ কাজটি পেয়েছে মের্সাস আরএবি-আরসি কন্সট্রাকশন নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, চৌহালী উপজেলা সদরে যাতায়াতে এই নদীই প্রধান সমস্যা। এছাড়া চৌহালীর মানুষ প্রয়োজনীয় কাজে রাজধানী ঢাকায় যাতায়াতে এই নদীতে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হতে হয়। এখানে বছরের প্রায় ৮ মাস পানি থাকে। এ কারণে বর্ষায় নৌকা ও শুষ্ক মৌসুমে হেঁটে চলাচল করতে হয়ে। বিশেষ করে বৃষ্টির সময় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় শত শত মানুষকে।

এ বিষয়ে স্থানীয় নৌকার মাঝি আব্দুল বাতেন ও ব্যবসায়ী ইমরান হোসেন বলেন, সেতু নির্মাণে যেমন ঠিকাদারের গাফিলতি রয়েছে সেই সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের তদারকির চরম অভাব। এ কারণে দীর্ঘ কয়েক বছর সময় চলে গেলেও সেতুটির নির্মাণ কাজ শেষ হয়নি। এছাড়া অপরিকল্পিতভাবে সেতুটির স্ট্রাকচার নির্মাণ করায় বর্ষায় নৌকা চলাচলে মারাত্মক বাধার সৃষ্টি হবে।

এ বিষয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্বাস আলী বলেন, ঠিকাদারের গাফিলতিতে সেতুটি নির্মাণ প্রায় ৪ বছর পেরিয়ে গেছে। এত দেরি হওয়ায় আমরা চিন্তিত, কবে এর কাজ শেষ হবে কেউ বলতে পারছে না।

এ ব্যাপারে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের আবদুল খালেক জানান, সেতুটি নির্মাণে আমাদের কোনো গাফিলতি নেই। নিচু পিলার উঁচু করতে গিয়ে দেরি হয়েছে। এটা সম্পূর্ণ ইঞ্জিনিয়ারদের ব্যাপার। এ সংক্রান্ত জটিলতায় একটু বেশি সময় লেগে গেছে।

তবে চৌহালী উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) সহকারী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম যুগান্তরকে জানান, যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো না হওয়ায় মালামাল পরিবহন সমস্যা ও করোনার কারণে শ্রমিক ঠিকমতো পাওয়া যাচ্ছে না। এ কারণে নির্মাণ কাজে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। তবে পিলারসহ অন্যান্য কাজ মোটামুটি শেষ। ঢালাই হবে অচিরেই। আশা করছি খুব দ্রুতই সেতুটির নির্মাণ কাজ শেষে চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হবে।

চার বছরেও শেষ হয়নি ৫২ মিটার সেতুর কাজ

 রফিক মোল্লা, চৌহালী (সিরাজগঞ্জ)  
২০ জুন ২০২১, ০৮:৩৯ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার বিনানই পূর্বপাড়া নদীতে ৫২ মিটার একটি সেতুর নির্মাণ কাজ ৪ বছরেও শেষ হয়নি। বিভিন্ন অজুহাতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ বন্ধ রাখায় চৌহালী উপজেলা সদরের সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলসহ রাজধানী ঢাকায় যাতায়াতকারীদের পোহাতে হচ্ছে চরম ভোগান্তি। তবে দ্রুত কাজ শেষ করা হবে বলে জানিয়েছে এলজিইডি। 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, স্বাধীনতার পর থেকে চৌহালী উপজেলার দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের প্রাণের দাবি ছিল বাঘুটিয়া ইউনিয়নের বিনানই পূর্বপাড়া নদীতে একটি সেতু নির্মাণের। সেই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৭ সালে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অধীনে ৫২ মিটার আরসিসি গার্ডার সেতুটি নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন তৎকালীন সংসদ সদস্য আলহাজ আব্দুল মজিদ মণ্ডল। 

এতে বরাদ্দ দেয়া হয় ২ কোটি ২৩ লাখ টাকা। এ কাজটি পেয়েছে মের্সাস আরএবি-আরসি কন্সট্রাকশন নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। 

স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, চৌহালী উপজেলা সদরে যাতায়াতে এই নদীই প্রধান সমস্যা। এছাড়া চৌহালীর মানুষ প্রয়োজনীয় কাজে রাজধানী ঢাকায় যাতায়াতে এই নদীতে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হতে হয়। এখানে বছরের প্রায় ৮ মাস পানি থাকে। এ কারণে বর্ষায় নৌকা ও শুষ্ক মৌসুমে হেঁটে চলাচল করতে হয়ে। বিশেষ করে বৃষ্টির সময় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় শত শত মানুষকে। 

এ বিষয়ে স্থানীয় নৌকার মাঝি আব্দুল বাতেন ও ব্যবসায়ী ইমরান হোসেন বলেন, সেতু নির্মাণে যেমন ঠিকাদারের গাফিলতি রয়েছে সেই সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের তদারকির চরম অভাব। এ কারণে দীর্ঘ কয়েক বছর সময় চলে গেলেও সেতুটির নির্মাণ কাজ শেষ হয়নি। এছাড়া অপরিকল্পিতভাবে সেতুটির স্ট্রাকচার নির্মাণ করায় বর্ষায় নৌকা চলাচলে মারাত্মক বাধার সৃষ্টি হবে। 

এ বিষয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্বাস আলী বলেন, ঠিকাদারের গাফিলতিতে সেতুটি নির্মাণ প্রায় ৪ বছর পেরিয়ে গেছে। এত দেরি হওয়ায় আমরা চিন্তিত, কবে এর কাজ শেষ হবে কেউ বলতে পারছে না। 

এ ব্যাপারে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের আবদুল খালেক জানান, সেতুটি নির্মাণে আমাদের কোনো গাফিলতি নেই। নিচু পিলার উঁচু করতে গিয়ে দেরি হয়েছে। এটা সম্পূর্ণ ইঞ্জিনিয়ারদের ব্যাপার। এ সংক্রান্ত জটিলতায় একটু বেশি সময় লেগে গেছে। 

তবে চৌহালী উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) সহকারী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম যুগান্তরকে জানান, যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো না হওয়ায় মালামাল পরিবহন সমস্যা ও করোনার কারণে শ্রমিক ঠিকমতো পাওয়া যাচ্ছে না। এ কারণে নির্মাণ কাজে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। তবে পিলারসহ অন্যান্য কাজ মোটামুটি শেষ। ঢালাই হবে অচিরেই। আশা করছি খুব দ্রুতই সেতুটির নির্মাণ কাজ শেষে চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হবে। 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন