বরিশালে নিত্যপণ্যের বাজারে আগুন
jugantor
বরিশালে নিত্যপণ্যের বাজারে আগুন

  বরিশাল ব্যুরো  

২০ জুন ২০২১, ২৩:০২:১১  |  অনলাইন সংস্করণ

বরিশালের বাজারে চাল, আলু, ডিম, ভোজ্যতেল, ফার্মের মুরগি ও মাছের দাম বেড়েছে। সবজির দাম আগের মতোই চড়া হলেও গরুর মাংসের দাম বাড়েনি।

এক সপ্তাহের ব্যবধানে নিত্যপণ্যের মূল্যের এমন ঊর্ধ্বমুখিতে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। তবে রসুন, মসুরডাল, চিনি, আটা-ময়দাসহ অন্যান্য পণ্যের দাম একই অবস্থানে রয়েছে। কমেছে দেশি পেঁয়াজের দাম।

রোববার নগরীর নতুনবাজারে গিয়ে দেখা যায়, গত সপ্তাহে সরু মিনিকেট চাল প্রতি কেজি ছিল ৫৬-৫৮ টাকা দরে বিক্রি হলেও বর্তমানে তা ৫৮-৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মাঝারি বিআর-২৮ জাতের চালের দাম কেজিতে ২ টাকা বেড়ে ৪৮ থেকে ৫০ টাকা হয়েছে। পাইজাম ৪৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া বেড়েছে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম। এক লিটারের বোতলজাত তেল গত সপ্তাহে ১৪০ টাকায় বিক্রি হলেও তা এ সপ্তাহে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫০-১৫৩ টাকায়। তেমনি খোলা সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ৫ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকায়।

বাজারে চায়না আদা কেজিপ্রতি ১৩০ টাকা দরে বিক্রি করতে দেখা গেছে। সপ্তাহ তিনেক আগেও যা ৯০ থেকে ১০০ টাকা ছিল। একইভাবে দেশি আদা ২০ টাকা বেড়ে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আলুর কেজি এখন ২২ টাকা; যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ২০ টাকা।

গত সপ্তাহের তুলনায় রসুন, মসুরডাল, আটাময়দা ও চিনির দামে কোন পরিবর্তন আসেনি। খুচরা বাজারে প্রতি কেজি দেশি রসুন বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকায়। মোটা দানার মসুর ডাল ৭৫ টাকা, প্যাকেট আটা ৩৫ টাকা, ময়দা ৪৫ টাকা এবং চিনি ৭০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে। চায়না রসুনের দাম কেজি প্রতি ৫ টাকা বেড়ে ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পেঁয়াজ কেজিপ্রতি ১০ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে ৪৫ টাকায়।

সবজির বাজার আগের মতোই চড়া। মানভেদে প্রতি কেজি ফুলকপি ৬০ টাকা, বেগুন ৬০ টাকা, টমেটো ১০০ টাকা, ধনেপাতা ২০০ টাকা, মুলা ২০ টাকা, কাঁচামরিচ ৪০ টাকা, বাঁধাকপি ৬০ টাকা, বরবটি ৭০ টাকা, গাজর (চায়না) ১০০ টাকা, শসা ৫০ টাকা, পেঁপে ৪০ টাকা, করলা ৬০ টাকা, পটল ৪০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৩০ টাকা, ঢেড়শ ৪০ টাকা, চিচিঙ্গা ৩০ টাকা, চাল কুমড়া ৩০ টাকা, ঝিঙে ৪০ টাকা, কচুর লতি ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিভিন্ন ধরনের শাকের আঁটি ৩০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে।

সরবরাহ কম থাকায় বাজারের সব ধরনের মাছের দাম গত সপ্তাহের চেয়ে কেজিতে ৫০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এক কেজির কিছুটা বড় আকারের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে এক হাজার ৪০০ থেকে এক হাজার ৫০০ টাকায়। চাষের শিং মাছ প্রতি কেজি ৫০০-৫৫০ টাকা, রুই ৩০০-৩৫০ টাকা, চাষের পাঙ্গাশ ১৮০-২০০ টাকা, কাতল ৪০০-৬০০ টাকা, তেলাপিয়া ১৪০-১৫০ টাকা, সাগরের ঢেলা ৩৪০-৩৬০ টাকা, নদীর পোয়া ৫০০-৫৫০ টাকা, আকারভেদে আইড় ৯০০ থেকে ১ হাজার ১০০ টাকা, চাষের পাবদা ৩৫০ টাকা, দেশি শিং ৯৫০-১০০০ টাকা, ছোট দেশি চিংড়ি ৮০০ থেকে এক হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

গত সপ্তাহের চেয়ে ব্রয়লার মুরগি কেজিপ্রতি ১০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকায়। কক ২০ টাকা বেড়ে ২৬০ টাকা ও সোনালি মুরগি ২০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় ৫ টাকা বেড়ে এক হালি ফার্মের মুরগির ডিম বিক্রি হচ্ছে ৩৫ টাকায়।

নগরীর কাউনিয়ার বাসিন্দা শাহজাহান খান বলেন, সপ্তাহে সপ্তাহে নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যাচ্ছে। অথচ বেতন বাড়ছে না। তাই পণ্যদ্রব্যের ন্যায্য দাম নিশ্চিতে নিয়মিত বাজার মনিটরিং দরকার।

জাকির এন্টারপ্রাইজের মালিক কবির হাওলাদার বলেন, তেল ও চালের দাম কোম্পানি থেকেই বাড়ানো হয়েছে। ব্যবসায়ীদের বেশি দামে কিনতে হচ্ছে বলেই বেশি দামে বিক্রি করছেন।

ডিম বিক্রেতা আবদুর রহিম বলেছেন, বাজারে মাছ-মাংসের দাম বেড়ে যাওয়ায় ডিমের চাহিদা বেড়েছে। কিন্তু সেই অনুযায়ী ডিমের জোগান না থাকায় স্বাভাবিকভাবেই দাম বেড়েছে।

গরু ও খাসির মাংসের দামে কোনো পরিবর্তন নেই। ঈদের আগে নগরীর বিভিন্ন বাজারে গরুর মাংস প্রতি কেজি ৫৫০ থেকে ৫৮০ টাকা দরে বিক্রি করা হতো। ঈদের কয়েক দিন আগে থেকে তা ৬০০ টাকা হয়ে যায়। তারপর আর বাড়েনি। খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকায়।

বরিশালে নিত্যপণ্যের বাজারে আগুন

 বরিশাল ব্যুরো 
২০ জুন ২০২১, ১১:০২ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

বরিশালের বাজারে চাল, আলু, ডিম, ভোজ্যতেল, ফার্মের মুরগি ও মাছের দাম বেড়েছে। সবজির দাম আগের মতোই চড়া হলেও গরুর মাংসের দাম বাড়েনি।

এক সপ্তাহের ব্যবধানে নিত্যপণ্যের মূল্যের এমন ঊর্ধ্বমুখিতে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। তবে রসুন, মসুরডাল, চিনি, আটা-ময়দাসহ অন্যান্য পণ্যের দাম একই অবস্থানে রয়েছে। কমেছে দেশি পেঁয়াজের দাম।

রোববার নগরীর নতুনবাজারে গিয়ে দেখা যায়, গত সপ্তাহে সরু মিনিকেট চাল প্রতি কেজি ছিল ৫৬-৫৮ টাকা দরে বিক্রি হলেও বর্তমানে তা ৫৮-৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মাঝারি বিআর-২৮ জাতের চালের দাম কেজিতে ২ টাকা বেড়ে ৪৮ থেকে ৫০ টাকা হয়েছে। পাইজাম ৪৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া বেড়েছে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম। এক লিটারের বোতলজাত তেল গত সপ্তাহে ১৪০ টাকায় বিক্রি হলেও তা এ সপ্তাহে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫০-১৫৩ টাকায়। তেমনি খোলা সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ৫ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকায়।

বাজারে চায়না আদা কেজিপ্রতি ১৩০ টাকা দরে বিক্রি করতে দেখা গেছে। সপ্তাহ তিনেক আগেও যা ৯০ থেকে ১০০ টাকা ছিল। একইভাবে দেশি আদা ২০ টাকা বেড়ে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আলুর কেজি এখন ২২ টাকা; যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ২০ টাকা।

গত সপ্তাহের তুলনায় রসুন, মসুরডাল, আটাময়দা ও চিনির দামে কোন পরিবর্তন আসেনি। খুচরা বাজারে প্রতি কেজি দেশি রসুন বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকায়। মোটা দানার মসুর ডাল ৭৫ টাকা, প্যাকেট আটা ৩৫ টাকা, ময়দা ৪৫ টাকা এবং চিনি ৭০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে। চায়না রসুনের দাম কেজি প্রতি ৫ টাকা বেড়ে ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পেঁয়াজ কেজিপ্রতি ১০ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে ৪৫ টাকায়।

সবজির বাজার আগের মতোই চড়া। মানভেদে প্রতি কেজি ফুলকপি ৬০ টাকা, বেগুন ৬০ টাকা, টমেটো ১০০ টাকা, ধনেপাতা ২০০ টাকা, মুলা ২০ টাকা, কাঁচামরিচ ৪০ টাকা, বাঁধাকপি ৬০ টাকা, বরবটি ৭০ টাকা, গাজর (চায়না) ১০০ টাকা, শসা ৫০ টাকা, পেঁপে ৪০ টাকা, করলা ৬০ টাকা, পটল ৪০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৩০ টাকা, ঢেড়শ ৪০ টাকা, চিচিঙ্গা ৩০ টাকা, চাল কুমড়া ৩০ টাকা, ঝিঙে ৪০ টাকা, কচুর লতি ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিভিন্ন ধরনের শাকের আঁটি ৩০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে।

সরবরাহ কম থাকায় বাজারের সব ধরনের মাছের দাম গত সপ্তাহের চেয়ে কেজিতে ৫০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এক কেজির কিছুটা বড় আকারের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে এক হাজার ৪০০ থেকে এক হাজার ৫০০ টাকায়। চাষের শিং মাছ প্রতি কেজি ৫০০-৫৫০ টাকা, রুই ৩০০-৩৫০ টাকা, চাষের পাঙ্গাশ ১৮০-২০০ টাকা, কাতল ৪০০-৬০০ টাকা, তেলাপিয়া ১৪০-১৫০ টাকা, সাগরের ঢেলা ৩৪০-৩৬০ টাকা, নদীর পোয়া ৫০০-৫৫০ টাকা, আকারভেদে আইড় ৯০০ থেকে ১ হাজার ১০০ টাকা, চাষের পাবদা ৩৫০ টাকা, দেশি শিং ৯৫০-১০০০ টাকা, ছোট দেশি চিংড়ি ৮০০ থেকে এক হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

গত সপ্তাহের চেয়ে ব্রয়লার মুরগি কেজিপ্রতি ১০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকায়। কক ২০ টাকা বেড়ে ২৬০ টাকা ও সোনালি মুরগি ২০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় ৫ টাকা বেড়ে এক হালি ফার্মের মুরগির ডিম বিক্রি হচ্ছে ৩৫ টাকায়।

নগরীর কাউনিয়ার বাসিন্দা শাহজাহান খান বলেন, সপ্তাহে সপ্তাহে নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যাচ্ছে। অথচ বেতন বাড়ছে না। তাই পণ্যদ্রব্যের ন্যায্য দাম নিশ্চিতে নিয়মিত বাজার মনিটরিং দরকার।

জাকির এন্টারপ্রাইজের মালিক কবির হাওলাদার বলেন, তেল ও চালের দাম কোম্পানি থেকেই বাড়ানো হয়েছে। ব্যবসায়ীদের বেশি দামে কিনতে হচ্ছে বলেই বেশি দামে বিক্রি করছেন।

ডিম বিক্রেতা আবদুর রহিম বলেছেন, বাজারে মাছ-মাংসের দাম বেড়ে যাওয়ায় ডিমের চাহিদা বেড়েছে। কিন্তু সেই অনুযায়ী ডিমের জোগান না থাকায় স্বাভাবিকভাবেই দাম বেড়েছে।

গরু ও খাসির মাংসের দামে কোনো পরিবর্তন নেই। ঈদের আগে নগরীর বিভিন্ন বাজারে গরুর মাংস প্রতি কেজি ৫৫০ থেকে ৫৮০ টাকা দরে বিক্রি করা হতো। ঈদের কয়েক দিন আগে থেকে তা ৬০০ টাকা হয়ে যায়। তারপর আর বাড়েনি। খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকায়।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন