ছাত্রলীগের আরও এক কমিটিতে ছাত্রদল নেতা!
jugantor
ছাত্রলীগের আরও এক কমিটিতে ছাত্রদল নেতা!

  ফরিদপুর ব্যুরো  

২৩ জুন ২০২১, ০০:৩৬:৫২  |  অনলাইন সংস্করণ

ফরিদপুরের মধুখালীতে আরও এক ছাত্রদল নেতার ছাত্রলীগের পদ পাওয়া নিয়ে ব্যাপক তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়েছে। মধুখালী উপজেলার রায়পুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক নাজমুল হোসেনকে করা হয়েছে মধুখালী উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।

এ নিয়ে সংগঠনের ভেতর-বাইরে তৈরি হয়েছে নানা অসন্তোষ।

মধুখালী উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হওয়া নাজমুল হোসেনকে ২০১৮ সালে যে প্যাডে রায়পুর ইউনিয়ন শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক করে ছাত্রদলের কমিটির ঘোষণা করা হয়, তা এখন ছড়িয়ে পড়েছে। যদিও এই ছবিকে কারসাজি বলে দাবি অভিযুক্ত নাজমুলের।

খোঁজ জানা গেছে, গত ১২ জুন জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি তামজিদুল রশিদ চৌধুরী রিয়ান ও ফাহিম আহমেদ স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে মধুখালী উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি হিসেবে রবিন মোল্যা ও ইনজামামুল আলম অনিককে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। নাজমুল হোসেনকে উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক করা হয়।

উপজেলা ছাত্রলীগের নবনির্বাচিত সভাপতি রবিন মোল্যার দাবি, নাজমুল দীর্ঘদিন ধরেই ছাত্রলীগের রাজনীতি করে আসছেন। সেই হিসেবেই তাকে পদ দেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, নাজমুল ছাত্রদল করতেন, বিষয়টি আমাদেরও অনেকেই জানিয়েছেন। তবে খোঁজ নিয়ে এর কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি।

তবে মধুখালী উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ওমর ফারুক বলেন, ২০১৮ সালে উপজেলার রায়পুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের কমিটিতে নাজমুল হোসেনকে যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়। এখনো সেই কমিটি আছে।

এ ব্যাপারে ফরিদপুর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি তামজিদুল রশিদ চৌধুরী রিয়ান বলেন, রায়পুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে কথা বলেই নাজমুল হোসেনকে ছাত্রলীগের পদ দেয়া হয়েছে। নাজমুল দীর্ঘদিন যাবত ছাত্রলীগের রাজনীতিতে জড়িত থাকার সুপারিশেই তাকে পদ দেয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, নাজমুল হোসেন ছাত্রদল করতেন- এমন অভিযোগের সত্যতা পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এছাড়া এ বিষয়ে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত টিম করা হয়েছে। তাদের তদন্ত শেষে রিপোর্ট জমা দেয়ার পর সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

রায়পুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুর সাত্তার শেখ বলেন, নাজমুল হোসেনের বাড়ি ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে। ২ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের প্রত্যয়নপত্র পেয়েই নাজমুলকে ছাত্রলীগের পদ দিতে আমি সুপারিশ করেছি।

অভিযুক্ত নাজমুল হোসেন ছাত্রদল করার কথা অস্বীকার করেন বলেন, আমার পরিবার দীর্ঘদিন যাবত আওয়ামী লীগ রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। পারিবারিক কারণেই ছোটবেলা থেকেই আমিও ছাত্রলীগের রাজনীতি করে আসছি। একটি মহল আমার বিরুদ্ধে এ ধরনের অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্র করছে।

এ বিষয়ে মধুখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল হক বকু বলেন, নাজমুল হোসেন ছাত্রদলের রাজনীতি করত, বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে নাজমুল দীর্ঘদিন ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। ছাত্রলীগের মিছিল-মিটিংয়ে তাকে দেখেছি।

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় ছাত্রদল নেতা রায়হান রনির ছাত্রলীগে পদ পাওয়া নিয়ে তুমুল আলোচনা হয়। এর মধ্যে গত ১৯ জুন তাকে ছাত্রলীগ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। একই দিন ছাত্রদলও তাকে বহিষ্কার করে।

ছাত্রলীগের আরও এক কমিটিতে ছাত্রদল নেতা!

 ফরিদপুর ব্যুরো 
২৩ জুন ২০২১, ১২:৩৬ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ

ফরিদপুরের মধুখালীতে আরও এক ছাত্রদল নেতার ছাত্রলীগের পদ পাওয়া নিয়ে ব্যাপক তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়েছে। মধুখালী উপজেলার রায়পুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক নাজমুল হোসেনকে করা হয়েছে মধুখালী উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।

এ নিয়ে সংগঠনের ভেতর-বাইরে তৈরি হয়েছে নানা অসন্তোষ।

মধুখালী উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হওয়া নাজমুল হোসেনকে ২০১৮ সালে যে প্যাডে রায়পুর ইউনিয়ন শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক করে ছাত্রদলের কমিটির ঘোষণা করা হয়, তা এখন ছড়িয়ে পড়েছে। যদিও এই ছবিকে কারসাজি বলে দাবি অভিযুক্ত নাজমুলের।

খোঁজ জানা গেছে, গত ১২ জুন জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি তামজিদুল রশিদ চৌধুরী রিয়ান ও ফাহিম আহমেদ স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে মধুখালী উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি হিসেবে রবিন মোল্যা ও ইনজামামুল আলম অনিককে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। নাজমুল হোসেনকে উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক করা হয়।

উপজেলা ছাত্রলীগের নবনির্বাচিত সভাপতি রবিন মোল্যার দাবি, নাজমুল দীর্ঘদিন ধরেই ছাত্রলীগের রাজনীতি করে আসছেন। সেই হিসেবেই তাকে পদ দেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, নাজমুল ছাত্রদল করতেন, বিষয়টি আমাদেরও অনেকেই জানিয়েছেন। তবে খোঁজ নিয়ে এর কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি।

তবে মধুখালী উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ওমর ফারুক বলেন, ২০১৮ সালে উপজেলার রায়পুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের কমিটিতে নাজমুল হোসেনকে যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়। এখনো সেই কমিটি আছে।

এ ব্যাপারে ফরিদপুর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি তামজিদুল রশিদ চৌধুরী রিয়ান বলেন, রায়পুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে কথা বলেই নাজমুল হোসেনকে ছাত্রলীগের পদ দেয়া হয়েছে। নাজমুল দীর্ঘদিন যাবত ছাত্রলীগের রাজনীতিতে জড়িত থাকার সুপারিশেই তাকে পদ দেয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, নাজমুল হোসেন ছাত্রদল করতেন- এমন অভিযোগের সত্যতা পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এছাড়া এ বিষয়ে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত টিম করা হয়েছে। তাদের তদন্ত শেষে রিপোর্ট জমা দেয়ার পর সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

রায়পুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুর সাত্তার শেখ বলেন, নাজমুল হোসেনের বাড়ি ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে। ২ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের প্রত্যয়নপত্র পেয়েই নাজমুলকে ছাত্রলীগের পদ দিতে আমি সুপারিশ করেছি।

অভিযুক্ত নাজমুল হোসেন ছাত্রদল করার কথা অস্বীকার করেন বলেন, আমার পরিবার দীর্ঘদিন যাবত আওয়ামী লীগ রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। পারিবারিক কারণেই ছোটবেলা থেকেই আমিও ছাত্রলীগের রাজনীতি করে আসছি। একটি মহল আমার বিরুদ্ধে এ ধরনের অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্র করছে।

এ বিষয়ে মধুখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল হক বকু বলেন, নাজমুল হোসেন ছাত্রদলের রাজনীতি করত, বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে নাজমুল দীর্ঘদিন ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। ছাত্রলীগের মিছিল-মিটিংয়ে তাকে দেখেছি।

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় ছাত্রদল নেতা রায়হান রনির ছাত্রলীগে পদ পাওয়া নিয়ে তুমুল আলোচনা হয়। এর মধ্যে গত ১৯ জুন তাকে ছাত্রলীগ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। একই দিন ছাত্রদলও তাকে বহিষ্কার করে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন