মুক্তি পেল পরকীয়া প্রেমিকযুগল, চাপের মুখে তালাকনামায় সই
jugantor
মুক্তি পেল পরকীয়া প্রেমিকযুগল, চাপের মুখে তালাকনামায় সই

  ধামরাই (ঢাকা) প্রতিনিধি  

২৩ জুন ২০২১, ০১:০৬:২৫  |  অনলাইন সংস্করণ

তিন দিন গৃহবন্দি থাকার পর অবশেষে মুক্তি পেয়েছে জনতার হাতে আটক পরকীয়া প্রেমিক যুগল। মাতবর ও স্থানীয় কাজী তালাকনামা ও ৩০০ টাকা মূল্যের নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে জোর করে ওই গৃহবধূর সই নিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

গৃহবধূর স্বামী বাবু মিয়াকে ছাড়াই খোলাতালাক সম্পন্ন করেছেন ওই কাজী। এ নিয়ে এলাকায় ব্যাপক তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন এলাকাবাসী।

ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার বিকালে উপজেলার বালিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম সূত্রাপুর এলাকায়।

এলাকাবাসী জানান, রোববার ভোরে অসামাজিক কাজে লিপ্ত থাকা অবস্থায় গৃহবধূ ঝর্ণা আক্তার পরকীয়া প্রেমিকসহ জনতার হাতে আটক হয়। ওই প্রেমিকের নাম জাহাঙ্গীর আলম। সে চৌহাট ইউনিয়নের মো. আব্দুর রউফ মুন্সির ছেলে। খবর পেয়ে ওই প্রেমিকযুগলের পরিবারের লোকজন ছুটে এলে তাদের অপমান অপদস্থ করা হয় চরমভাবে।

এরপর প্রেমিকযুগলের মুক্তির ব্যাপারে বলা হয়, মোহরানার ৫ লাখ ও ধারের সাড়ে ৬ লাখ টাকাসহ যাবতীয় পাওনা ছাড়াই খোলাতালাক করতে হবে ওই গৃহবধূকে। সেই সঙ্গে ৩০০ টাকা মূল্যের নন-জুডিশিয়াল সাদা স্ট্যাম্পেও সই দিতে হবে। এতে তারা রাজি না হওয়ায় ওই প্রেমিক যুগলকে পুলিশে না দিয়ে তিন দিন ঘরের ভেতর আটকে রেখে অমানুষিক নির্যাতন চালান স্থানীয় মাতবররা। তাদের কোনো প্রকার খাবার দেয়া হয়নি। এমনকি কারও সঙ্গে কোনো দেখা সাক্ষাত করাও ছিল নিষেধ।

অবশেষে ওই প্রেমিক যুগলকে বাঁচাতে মঙ্গলবার দিনভর অনেক দেনদরবার শেষে বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে তাদের পরিবারের সদস্যরা মাতবরদের কথায় রাজি হলে ওই প্রেমিকযুগল মুক্তি পায়। আর মুক্তির জন্য তাদের ৩০০ টাকা মূল্যের নন-জুডিশিয়াল সাদা স্ট্যাম্পে সই করতে হয়েছে। অপরদিকে ওই গৃহবধূকে খোলা তালাকনামায় সই করতে হয়েছে মোহরানাসহ যাবতীয় পাওনা বিসর্জন দিয়ে।

মুক্তির পর ওই গৃহবধূ জানান, আমি না হয় ভুল করেছি। আমার একজন সন্তান রয়েছে। কেউ ওই সন্তানের মুখের দিকে চেয়েও আমাকে একটু ক্ষমা করল না। জাহাঙ্গীর আমার ছোটবেলার খেলার সাথী। ওর সঙ্গে আমার দীর্ঘদিনের প্রেম ভালোবাসা জেনেই আমার স্বামী বাবু মিয়া আমাকে বিয়ে করে আনে। আর এখন একটু ভুলের জন্য আমাকে স্বামীর ঘর ছাড়তে হলো। আমি তালাকনামায় ও সাদা স্ট্যাম্পে সই করতে চাইনি- কাজী ও মাতবররা আমাকে সই করতে বাধ্য করেছে। আমি আইনের আশ্রয় নেব।

ইউপি সদস্য মো. আবুল হাসেম বকুল বলেন, এলাকাবাসী যা ভালো মনে করেছেন আমিও তাদের সঙ্গে একমত পোষণ করেছি। যে গৃহবধূ স্বামী থাকা অবস্থায় পরকীয়া প্রেমিক নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মতো মেলামেশা করতে পারে, সে অনেক কিছুই করতে পারে। তাই এলাকাবাসীর সিদ্ধান্ত- সে এই এলাকায় থাকতে পারবে না। তাই খোলাতালাক করা হয়েছে।

কাজী ফজল হক বলেন, মেম্বার ও মাতবররা বলায় আমি ওই গৃহবধূর স্বামী বাবু মিয়াকে ছাড়াই খোলাতালাক সম্পাদন করতে বাধ্য হয়েছি। পরবর্তীতে ওই বাবু মিয়ার সই নেব।

মুক্তি পেল পরকীয়া প্রেমিকযুগল, চাপের মুখে তালাকনামায় সই

 ধামরাই (ঢাকা) প্রতিনিধি 
২৩ জুন ২০২১, ০১:০৬ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ

তিন দিন গৃহবন্দি থাকার পর অবশেষে মুক্তি পেয়েছে জনতার হাতে আটক পরকীয়া প্রেমিক যুগল। মাতবর ও স্থানীয় কাজী তালাকনামা ও ৩০০ টাকা মূল্যের নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে জোর করে ওই গৃহবধূর সই নিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

গৃহবধূর স্বামী বাবু মিয়াকে ছাড়াই খোলাতালাক সম্পন্ন করেছেন ওই কাজী। এ নিয়ে এলাকায় ব্যাপক তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন এলাকাবাসী।

ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার বিকালে উপজেলার বালিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম সূত্রাপুর এলাকায়।

এলাকাবাসী জানান, রোববার ভোরে অসামাজিক কাজে লিপ্ত থাকা অবস্থায় গৃহবধূ ঝর্ণা আক্তার পরকীয়া প্রেমিকসহ জনতার হাতে আটক হয়। ওই প্রেমিকের নাম জাহাঙ্গীর আলম। সে চৌহাট ইউনিয়নের মো. আব্দুর রউফ মুন্সির ছেলে। খবর পেয়ে ওই প্রেমিকযুগলের পরিবারের লোকজন ছুটে এলে তাদের অপমান অপদস্থ করা হয় চরমভাবে।

এরপর প্রেমিকযুগলের মুক্তির ব্যাপারে বলা হয়, মোহরানার ৫ লাখ ও ধারের সাড়ে ৬ লাখ টাকাসহ যাবতীয় পাওনা ছাড়াই খোলাতালাক করতে হবে ওই গৃহবধূকে। সেই সঙ্গে ৩০০ টাকা মূল্যের নন-জুডিশিয়াল সাদা স্ট্যাম্পেও সই দিতে হবে। এতে তারা রাজি না হওয়ায় ওই প্রেমিক যুগলকে পুলিশে না দিয়ে তিন দিন ঘরের ভেতর আটকে রেখে অমানুষিক নির্যাতন চালান স্থানীয় মাতবররা। তাদের কোনো প্রকার খাবার দেয়া হয়নি। এমনকি কারও সঙ্গে কোনো দেখা সাক্ষাত করাও ছিল নিষেধ।

অবশেষে ওই প্রেমিক যুগলকে বাঁচাতে মঙ্গলবার দিনভর অনেক দেনদরবার শেষে বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে তাদের পরিবারের সদস্যরা মাতবরদের কথায় রাজি হলে ওই প্রেমিকযুগল মুক্তি পায়। আর মুক্তির জন্য তাদের ৩০০ টাকা মূল্যের নন-জুডিশিয়াল সাদা স্ট্যাম্পে সই করতে হয়েছে। অপরদিকে ওই গৃহবধূকে খোলা তালাকনামায় সই করতে হয়েছে মোহরানাসহ যাবতীয় পাওনা বিসর্জন দিয়ে।

মুক্তির পর ওই গৃহবধূ জানান, আমি না হয় ভুল করেছি। আমার একজন সন্তান রয়েছে। কেউ ওই সন্তানের মুখের দিকে চেয়েও আমাকে একটু ক্ষমা করল না। জাহাঙ্গীর আমার ছোটবেলার খেলার সাথী। ওর সঙ্গে আমার দীর্ঘদিনের প্রেম ভালোবাসা জেনেই আমার স্বামী বাবু মিয়া আমাকে বিয়ে করে আনে। আর এখন একটু ভুলের জন্য আমাকে স্বামীর ঘর ছাড়তে হলো। আমি তালাকনামায় ও সাদা স্ট্যাম্পে সই করতে চাইনি- কাজী ও মাতবররা আমাকে সই করতে বাধ্য করেছে। আমি আইনের আশ্রয় নেব।

ইউপি সদস্য মো. আবুল হাসেম বকুল বলেন, এলাকাবাসী যা ভালো মনে করেছেন আমিও তাদের সঙ্গে একমত পোষণ করেছি। যে গৃহবধূ স্বামী থাকা অবস্থায় পরকীয়া প্রেমিক নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মতো মেলামেশা করতে পারে, সে অনেক কিছুই করতে পারে। তাই এলাকাবাসীর সিদ্ধান্ত- সে এই এলাকায় থাকতে পারবে না। তাই খোলাতালাক করা হয়েছে।

কাজী ফজল হক বলেন, মেম্বার ও মাতবররা বলায় আমি ওই গৃহবধূর স্বামী বাবু মিয়াকে ছাড়াই খোলাতালাক সম্পাদন করতে বাধ্য হয়েছি। পরবর্তীতে ওই বাবু মিয়ার সই নেব।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন