চিকিৎসক সংকটে কাপাসিয়ায় বিপর্যস্ত স্বাস্থ্যসেবা
jugantor
চিকিৎসক সংকটে কাপাসিয়ায় বিপর্যস্ত স্বাস্থ্যসেবা

  কাপাসিয়া (গাজীপুর) প্রতিনিধি  

২৩ জুন ২০২১, ১৪:২৯:০২  |  অনলাইন সংস্করণ

চিকিৎসক সংকটে কাপাসিয়ায় বিপর্যস্ত স্বাস্থ্যসেবা

গাজীপুরের কাপাসিয়ায় উপজেলা হাসপাতালে নেই পর্যাপ্ত চিকিৎসক। এ সংকটের কারণে উপজেলার ১১ ইউনিয়নের পাঁচ লাখেরও বেশি মানুষ প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ৫০ শয্যাবিশিষ্ট কাপাসিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩২ চিকিৎসকের পদ থাকলেও সেখানে কর্মরত আছেন ১২ জন। হাসপাতালটির বহির্বিভাগে প্রতিদিন ৫০০-৬০০-এর বেশি মানুষ চিকিৎসা নিতে আসেন। কিন্তু চিকিৎসকের অভাবে চিকিৎসা দিতে না পারার কারণে কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন রোগীরা। সেখানে জরুরি বিভাগে ডাক্তার না থাকার কারণে বেশিরভাগ সময় উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার দিয়ে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হয় রোগীদের।

কাপাসিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অর্থোসার্জারি বিশেষজ্ঞ না থাকায় প্রতিনিয়ত রোগী নিয়ে ঢাকাসহ বিভিন্ন হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা করাতে হয় বলে জানান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনের ওষুধ ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম।

এ বিষয়ে কথা হয় বারিষাব ইউনিয়নের বারাব গ্রামের রৌশনার সঙ্গে। তিনি বলেন, এ হাসপাতালে চর্মরোগের ডাক্তার না থাকার কারণে ৪০ কি.মি পথ পাড়ি দিয়ে গাজীপুর থেকে চর্ম করে নিয়ে এই মাত্র এসেছি। আমার দুঃখ হয় আমাদের এ হাসপাতালে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ থাকলে আজ আমার এত কষ্ট হতো না।

পরিয়াব গ্রামের রিমা বলেন, এ হাসপালের শিশু বিভাগে শিশু বিশেষজ্ঞ না থাকায় এখন আমার শিশুকে নিয়ে গাজীপুর বা ঢাকার অন্য কোনো হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে। স্বামী বিদেশে থাকায় আমি কীভাবে এত দূরে বাচ্চা নিয়ে চিকিৎসা করাতে যাব, এ নিয়ে চিন্তায় আছি।

কাপাসিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার-পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. আব্দুল সালাম সরকার যুগান্তরকে জানান, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাবে জরুরি বিভাগসহ বহির্বিভাগ সেবায় চিকিৎসক সংকট থাকায় চিকিৎসা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। বহির্বিভাগের আট বিভাগে ১৬ চিকিৎসকের পদ থাকলেও এর বিপরীতে আছে সাতজন। আর ১০ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের বিপরীতে আছেন দুজন। বিভিন্ন বিভাগে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় প্রতিদিন ১০০-১৫০ রোগীকে ফেরত পাঠাতে হয় অন্যান্য হাসপাতালে। এমনকি এ হাসপাতালে মেডিসিন বিশেষজ্ঞ পর্যন্ত নেই। এক্সরে, ইসিজি, আল্ট্রাসনোগ্রাম, এনালাইজারসহ এক মাস থেকে এক বছরের মধ্যে বিভিন্ন মেশিন ক্রয় করা হয়েছে। কিন্তু সেগুলোর জন্য নেই কোনো মেডিকেল টেকনোলজিষ্ট।

তিনি আরও বলেন, মেডিকেল টেকনোলজি ল্যাব পদে গত বছর নিয়োগ পান সুমনা আহমেদ নামে একজন। আমার এখান থেকে বেতন নিলেও তিনি কাজ করেন আইসিডিডিআরবিতে ঢাকায়। এ ব্যাপারে আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি। প্রতি মাসিক সভায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের চাহিদা পূরণের জন্য বারবার কর্তৃপক্ষকে অবহিত করছি।

চিকিৎসক সংকটে কাপাসিয়ায় বিপর্যস্ত স্বাস্থ্যসেবা

 কাপাসিয়া (গাজীপুর) প্রতিনিধি 
২৩ জুন ২০২১, ০২:২৯ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
চিকিৎসক সংকটে কাপাসিয়ায় বিপর্যস্ত স্বাস্থ্যসেবা
ফাইল ছবি

গাজীপুরের কাপাসিয়ায় উপজেলা হাসপাতালে নেই পর্যাপ্ত চিকিৎসক। এ সংকটের কারণে উপজেলার ১১ ইউনিয়নের পাঁচ লাখেরও বেশি মানুষ প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ৫০ শয্যাবিশিষ্ট কাপাসিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩২ চিকিৎসকের পদ থাকলেও সেখানে কর্মরত আছেন ১২ জন। হাসপাতালটির বহির্বিভাগে প্রতিদিন ৫০০-৬০০-এর বেশি মানুষ চিকিৎসা নিতে আসেন। কিন্তু চিকিৎসকের অভাবে চিকিৎসা দিতে না পারার কারণে কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন রোগীরা। সেখানে জরুরি বিভাগে ডাক্তার না থাকার কারণে বেশিরভাগ সময় উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার দিয়ে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হয় রোগীদের।

কাপাসিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অর্থোসার্জারি বিশেষজ্ঞ না থাকায় প্রতিনিয়ত রোগী নিয়ে ঢাকাসহ বিভিন্ন হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা করাতে হয় বলে জানান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনের ওষুধ ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম।

এ বিষয়ে কথা হয় বারিষাব ইউনিয়নের বারাব গ্রামের রৌশনার সঙ্গে। তিনি বলেন, এ হাসপাতালে চর্মরোগের ডাক্তার না থাকার কারণে ৪০ কি.মি পথ পাড়ি দিয়ে গাজীপুর থেকে চর্ম করে নিয়ে এই মাত্র এসেছি। আমার দুঃখ হয় আমাদের এ হাসপাতালে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ থাকলে আজ আমার এত কষ্ট হতো না।

পরিয়াব গ্রামের রিমা বলেন, এ হাসপালের শিশু বিভাগে শিশু বিশেষজ্ঞ না থাকায় এখন আমার শিশুকে নিয়ে গাজীপুর বা ঢাকার অন্য কোনো হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে। স্বামী বিদেশে থাকায় আমি কীভাবে এত দূরে বাচ্চা নিয়ে চিকিৎসা করাতে যাব, এ নিয়ে চিন্তায় আছি।

কাপাসিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার-পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. আব্দুল সালাম সরকার যুগান্তরকে জানান, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাবে জরুরি বিভাগসহ বহির্বিভাগ সেবায় চিকিৎসক সংকট থাকায় চিকিৎসা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। বহির্বিভাগের আট বিভাগে ১৬ চিকিৎসকের পদ থাকলেও এর বিপরীতে আছে সাতজন। আর ১০  বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের বিপরীতে আছেন দুজন। বিভিন্ন বিভাগে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় প্রতিদিন ১০০-১৫০ রোগীকে ফেরত পাঠাতে হয় অন্যান্য হাসপাতালে। এমনকি এ হাসপাতালে মেডিসিন বিশেষজ্ঞ পর্যন্ত নেই। এক্সরে, ইসিজি, আল্ট্রাসনোগ্রাম, এনালাইজারসহ এক মাস থেকে এক বছরের মধ্যে বিভিন্ন মেশিন ক্রয় করা হয়েছে। কিন্তু সেগুলোর জন্য নেই কোনো মেডিকেল টেকনোলজিষ্ট।

তিনি আরও বলেন, মেডিকেল টেকনোলজি ল্যাব পদে গত বছর নিয়োগ পান সুমনা আহমেদ নামে একজন। আমার এখান থেকে বেতন নিলেও তিনি কাজ করেন আইসিডিডিআরবিতে ঢাকায়। এ ব্যাপারে আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি। প্রতি মাসিক সভায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের চাহিদা পূরণের জন্য বারবার কর্তৃপক্ষকে অবহিত করছি।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন