ইয়াবার টাকা আদায়ে শিবগঞ্জে ব্যাপক বোমাবাজি
jugantor
ইয়াবার টাকা আদায়ে শিবগঞ্জে ব্যাপক বোমাবাজি

  রাজশাহী ব্যুরো  

২৩ জুন ২০২১, ১৮:১৮:৩২  |  অনলাইন সংস্করণ

আটক ইয়াবার দাম আদায় করতে না পেরে কথিত সোর্সের বাড়িসহ পুরো গ্রামে ব্যাপক বোমাবাজি করেছে একদল সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ী। এ ঘটনায় ৫ জন আহত হয়েছেন।

বুধবার ও আগের দিন মঙ্গলবার চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী চরাঞ্চলের জঙ্গইল্যাপাড়ায় দফায় দফায় এ বোমাবাজির ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। ফলে চরম আতঙ্কের মধ্যে পড়েছে চরাঞ্চলের কয়েক হাজার মানুষ।

স্থানীয়রা অভিযোগে জানিয়েছেন, দুর্লভপুর ইউনিয়নের মফিজুলের ছেলে মাদক কারবারি মাসুদ, নুরু সরকারের ছেলে আলম, বাক্কার মৌলভীর ছেলে বাবলুর নেতৃত্বে একদল মাদক ব্যবসায়ী এ হামলা চালায়। বোমায় আহত মফিজুল (৫০) নামের এক ব্যক্তিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহীতে পাঠানো হয়েছে। মফিজুলের বাড়ি চরহাসানপুর জঙ্গইল্যাপাড়ায়।

এলাকাবাসীর অভিযোগে জানা গেছে, গত ২৬ এপ্রিল শিবগঞ্জের পদ্মা নদীর এক নম্বর বাঁধের কাছ থেকে মাদক কারবারি মাসুদ, বাবুল ও আলম সিন্ডিকেটের এক হাজার ২০০ ইয়াবা বড়ি আটক করেন গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল। ফারুক নামের একজন বাহক এসব ইয়াবা নিয়ে সীমান্তের গাইপাড়া গ্রাম থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরে যাচ্ছিল। পুলিশ আটক ইয়াবাসহ ফারুকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে জেলহাজতে প্রেরণ করেন।

এদিকে মাসুদ, বাবলু ও আলম আটক ইয়াবা তাদের দাবি করে এর দাম আদায় ও গ্রেফতার ফারুকের জামিন খরচ বাবদ লাখ টাকা আদায়ের জন্য কথিত সোর্স একই এলাকার কোরাইশিকে চাপ দিয়ে আসছিল। জঙ্গইল্যাপাড়ার মফিজুলের ছেলে কোরাইশি ইয়াবা ধরিয়ে দেওয়ার কথা অস্বীকার করে আসছিল। এ নিয়ে গত কয়েক দিন ধরে জঙ্গইল্যাপাড়ায় উত্তেজনা চলছিল। মাদক কারবারিরা অব্যাহতভাবে ইয়াবার টাকা আদায়ের জন্য কোরাইশি ও তার বাবার ওপর হুমকি-ধমকিও দিয়ে আসছিল।

এদিকে গত ২১ জুন রাতে গ্রামে এ নিয়ে একটি সালিশ বসে। কিন্তু তাতে সমাধান না হওয়ায় পরদিন ২২ জুন মাসুদ ও তার সহযোগীরা কোরাইশির বাড়ি ও গ্রাম ঘিরে ব্যাপক বোমাবাজি করে। খবর পেয়ে শিবগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও কাউকে গ্রেফতার করতে না পেরে ফিরে যায়।

এদিকে বুধবার সকাল থেকেই মাসুদ গং দলবলসহ পুনরায় জঙ্গইল্যাপাড়া ঘিরে আবার বোমাবাজি শুরু করে। এ সময় মাসুদ ও আলমের লোকেরা কোরাইশিকে ধরতে তার বাড়িতেও বোমাবাজি শুরু করে। এ সময় কোরাইশি পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও বোমার আঘাতে তার বাবা মফিজুল (৪০) গুরুতর আহত হন। তার চোখে বোমার স্প্লিন্টার লাগে। মফিজুলকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহীতে পাঠানো হয়েছে।

অন্যদিকে এলাকাবাসীর অভিযোগ, শিবগঞ্জের চরাঞ্চলের পোড়াপাড়া, জঙ্গইল্যাপাড়া, গাইপাড়াসহ কয়েকটি গ্রামে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে মাদক কারবারি মাসুদ, আজাদ, বাবলু ও আলমের সিন্ডিকেট। তারা অনেক দিন ধরে ভারত থেকে অবাধে ফেনসিডিল, ইয়াবা, হেরোইন ও বোমা তৈরির মসলা ছাড়াও বিভিন্ন ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র এনে দেশের ভেতরে পাচার করে আসছে।

সীমান্তের কাছে হওয়ায় পুলিশ এসব গ্রামে অভিযান চালিয়েও কাউকে গ্রেফতার করতে পারে না। ফলে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে মাদক ও অস্ত্র চোরাচালানের এই আন্ত:সীমান্ত সিন্ডিকেট। এর আগেও মাসুদ গংরা চরাঞ্চলের বিভিন্ন গ্রামে প্রকাশ্যে অস্ত্র ও বোমাবাজি করলেও তাদের বিরুদ্ধে পুলিশ অজ্ঞাত কারণে কোনো মামলা দায়ের করেনি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শিবগঞ্জ থানার ওসি ফরিদ উদ্দিন বলেন, পদ্মার চরাঞ্চলের এ গ্রামগুলো ভারতীয় সীমান্তের কাছে। নদী পাড়ি দিয়ে দুর্গম এই এলাকাতে পৌঁছতে পুলিশের কয়েক ঘণ্টা লেগে যায়। এরই মধ্যে টের পেয়ে সন্ত্রাসী ও মাদক কারবারি মাসুদ ও তার সহযোগীরা সীমান্ত পার হয়ে ভারতে ঢুকে পড়ে। পুলিশ ফিরে আসলে তারা আবার গ্রামে ফিরে আসে। মাসুদ ও তার সহযোগীদের গ্রেফতারে পুলিশ সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছে বলে জানান তিনি।

ইয়াবার টাকা আদায়ে শিবগঞ্জে ব্যাপক বোমাবাজি

 রাজশাহী ব্যুরো 
২৩ জুন ২০২১, ০৬:১৮ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

আটক ইয়াবার দাম আদায় করতে না পেরে কথিত সোর্সের বাড়িসহ পুরো গ্রামে ব্যাপক বোমাবাজি করেছে একদল সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ী। এ ঘটনায় ৫ জন আহত হয়েছেন।

বুধবার ও আগের দিন মঙ্গলবার চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী চরাঞ্চলের জঙ্গইল্যাপাড়ায় দফায় দফায় এ বোমাবাজির ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। ফলে চরম আতঙ্কের মধ্যে পড়েছে চরাঞ্চলের কয়েক হাজার মানুষ।

স্থানীয়রা অভিযোগে জানিয়েছেন, দুর্লভপুর ইউনিয়নের মফিজুলের ছেলে মাদক কারবারি মাসুদ, নুরু সরকারের ছেলে আলম, বাক্কার মৌলভীর ছেলে বাবলুর নেতৃত্বে একদল মাদক ব্যবসায়ী এ হামলা চালায়। বোমায় আহত মফিজুল (৫০) নামের এক ব্যক্তিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহীতে পাঠানো হয়েছে। মফিজুলের বাড়ি চরহাসানপুর জঙ্গইল্যাপাড়ায়।

এলাকাবাসীর অভিযোগে জানা গেছে, গত ২৬ এপ্রিল শিবগঞ্জের পদ্মা নদীর এক নম্বর বাঁধের কাছ থেকে মাদক কারবারি মাসুদ, বাবুল ও আলম সিন্ডিকেটের এক হাজার ২০০ ইয়াবা বড়ি আটক করেন গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল। ফারুক নামের একজন বাহক  এসব ইয়াবা নিয়ে সীমান্তের গাইপাড়া গ্রাম থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরে যাচ্ছিল। পুলিশ আটক ইয়াবাসহ ফারুকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে জেলহাজতে প্রেরণ করেন।

এদিকে মাসুদ, বাবলু ও আলম আটক ইয়াবা তাদের দাবি করে এর দাম আদায় ও গ্রেফতার ফারুকের জামিন খরচ বাবদ লাখ টাকা আদায়ের জন্য কথিত সোর্স একই এলাকার কোরাইশিকে চাপ দিয়ে আসছিল। জঙ্গইল্যাপাড়ার মফিজুলের ছেলে কোরাইশি ইয়াবা ধরিয়ে দেওয়ার কথা অস্বীকার করে আসছিল। এ নিয়ে গত কয়েক দিন ধরে জঙ্গইল্যাপাড়ায় উত্তেজনা চলছিল। মাদক কারবারিরা অব্যাহতভাবে ইয়াবার টাকা আদায়ের জন্য কোরাইশি ও তার বাবার ওপর হুমকি-ধমকিও দিয়ে আসছিল।

এদিকে গত ২১ জুন রাতে গ্রামে এ নিয়ে একটি সালিশ বসে। কিন্তু তাতে সমাধান না হওয়ায় পরদিন ২২ জুন মাসুদ ও তার সহযোগীরা কোরাইশির বাড়ি ও গ্রাম ঘিরে ব্যাপক বোমাবাজি করে। খবর পেয়ে শিবগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও কাউকে গ্রেফতার করতে না পেরে ফিরে যায়।

এদিকে বুধবার সকাল থেকেই মাসুদ গং দলবলসহ পুনরায় জঙ্গইল্যাপাড়া ঘিরে আবার বোমাবাজি শুরু করে। এ সময় মাসুদ ও আলমের লোকেরা কোরাইশিকে ধরতে তার বাড়িতেও বোমাবাজি শুরু করে। এ সময় কোরাইশি পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও বোমার আঘাতে তার বাবা মফিজুল (৪০) গুরুতর আহত হন। তার চোখে বোমার স্প্লিন্টার লাগে। মফিজুলকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহীতে পাঠানো হয়েছে।

অন্যদিকে এলাকাবাসীর অভিযোগ, শিবগঞ্জের চরাঞ্চলের পোড়াপাড়া, জঙ্গইল্যাপাড়া, গাইপাড়াসহ কয়েকটি গ্রামে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে মাদক কারবারি মাসুদ, আজাদ, বাবলু ও আলমের সিন্ডিকেট। তারা অনেক দিন ধরে ভারত থেকে অবাধে ফেনসিডিল, ইয়াবা, হেরোইন ও বোমা তৈরির মসলা ছাড়াও বিভিন্ন ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র এনে দেশের ভেতরে পাচার করে আসছে।

সীমান্তের কাছে হওয়ায় পুলিশ এসব গ্রামে অভিযান চালিয়েও কাউকে গ্রেফতার করতে পারে না। ফলে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে মাদক ও অস্ত্র চোরাচালানের এই আন্ত:সীমান্ত সিন্ডিকেট। এর আগেও মাসুদ গংরা চরাঞ্চলের বিভিন্ন গ্রামে প্রকাশ্যে অস্ত্র ও বোমাবাজি করলেও তাদের বিরুদ্ধে পুলিশ অজ্ঞাত কারণে কোনো মামলা দায়ের করেনি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শিবগঞ্জ থানার ওসি ফরিদ উদ্দিন বলেন, পদ্মার চরাঞ্চলের এ গ্রামগুলো ভারতীয়  সীমান্তের কাছে। নদী পাড়ি দিয়ে দুর্গম এই এলাকাতে পৌঁছতে পুলিশের কয়েক ঘণ্টা লেগে যায়। এরই মধ্যে টের পেয়ে সন্ত্রাসী ও মাদক কারবারি মাসুদ ও তার সহযোগীরা সীমান্ত পার হয়ে ভারতে ঢুকে পড়ে। পুলিশ ফিরে আসলে তারা আবার গ্রামে ফিরে আসে। মাসুদ ও তার সহযোগীদের গ্রেফতারে পুলিশ সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছে বলে জানান তিনি।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন