কোরবানির পশুর হাট কাঁপাবে ৩০ মণের ‘কালা তুফান’
jugantor
কোরবানির পশুর হাট কাঁপাবে ৩০ মণের ‘কালা তুফান’

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

২৪ জুন ২০২১, ১১:৩৪:৫৭  |  অনলাইন সংস্করণ

কালা তুফান

অশান্ত নামে ডাকা হলেও খুবই শান্ত ‘কালা তুফান’। ছয় ফুট উচ্চতা ছাড়িয়ে ৩০ মণ ওজনের অতিকায় এমন গরু খুব কমই দেখা যায়। পরম যত্নে লালন-পালন করা হচ্ছে ‘কালা তুফানকে’। আসন্ন কোরবানির ঈদ উপলক্ষ্যে কালা তুফানের দাম চাওয়া হয়েছে ১০ লাখ টাকা।

‘কালা তুফানের’ মালিক নাটোর সদর উপজেলার হয়বতপুর বাজার এলাকার ব্যবসায়ী আমিরুল ইসলাম। তিনি ২০০৫ সালে শখের বশে গরু পালন কার্যক্রম শুরু করেন। মোটাতাজাকরণ কার্যক্রমে লক্ষ্য করেন, একটু পরিশ্রম করলেই মুনাফা করা সম্ভব বলে জানান আমিরুল। খবর বাসসের।

জানা যায়, এ বছর কোরবানি ঈদ উপলক্ষ্য করে তিনটি গরু পালন করেন আমিরুল। এর মধ্যে দুটি সাড়ে চার লাখ টাকা করে ইতোমধ্যে কিনে নিয়ে গেছেন ঢাকার ব্যবসায়ীরা। এখন আমিরুলের খামারে শুধুই কালা তুফানের অবস্থান।

আমিরুল জানান, তিন বছর ধরে পরম যত্নে কালা তুফানকে তৈরি করেছেন তিনি। অ্যাংকর ভুসি, গুড় আর চিড়া সহযোগে তৈরি করা বিশেষ খাবার কালা তুফানের প্রিয় খাবার। প্রতিদিন সকাল আর বিকালে প্রয়োজন হয় আট কেজি করে। মাঝেমধ্যে আমিরুলের নিজস্ব খামারে উৎপাদিত নেপিয়ার ঘাস কালা তুফানের প্রিয় খাবার হয়ে ওঠে।

নিয়ম করে খাবার খাওয়ানো, পরিচর্যা করা, একজন পশু চিকিৎসকের পরামর্শে রেখে কালা তুফানকে তৈরি করেছেন আমিরুল। কালা তুফান এখন উচ্চতায় ছয় ফুট ছাড়িয়ে গেছে আর দৈর্ঘ্যে ৯ ফুট। ওজন কমপক্ষে এক হাজার ২০০ কেজি।

বাজারে পশু খাবারের ক্রমবর্ধমান উচ্চমূল্যের কথা উল্লেখ করে আমিরুল জানান, ছয় মাস আগে অ্যাংকর ভুসির কেজি ছিল ৩৫ টাকা, এখন ৫৫ টাকা। গত পরশু এক বস্তা ৮০০ টাকায় কিনলেও মঙ্গলবার কিনতে হয়েছে ৯১০ টাকায়। পশু খাদ্যমূল্যের বাজার পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণের দাবি জানান আমিরুল।

ক্ষতিকর স্টেরয়েড ব্যবহার করে পশুর ওজন ও আয়তন বৃদ্ধি প্রসঙ্গে আমিরুল বলেন, কোনো স্টেরয়েড কখনই ব্যবহার করা তো দূরের কথা, ভুল করেও আমাদের চিন্তায় আসেনি।

আমিরুল আরও বলেন, অনেক যত্নে কালা তুফানকে লালন করেছি। সৌখিন ব্যক্তিরাই ওর কদর বুঝবে। তাদের গোচরে আনতে পারলে দাম অন্তত ১০ লাখ টাকা পাওয়া যাবে। আসন্ন কোরবানির ঈদ উপলক্ষ্যে প্রাণিসম্পদ বিভাগের অনলাইন পশুর বাজারে কালা তুফানের যথাযথ প্রচারণার দাবি জানান তিনি।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. গোলাম মোস্তফা বলেন, জেলার প্রাণিসম্পদ অঙ্গন বৈচিত্র্যে ভরপুর হয়ে উঠছে। প্রাণিসম্পদ বিভাগ আমাদের উৎসাহী খামারিদের নতুন নতুন প্রযুক্তি সরবরাহ করছে, তাদের প্রণোদনা প্রদান করছে, প্রয়োজনে চিকিৎসা চিকিৎসাসেবা। এরই ইতিবাচক ফল হিসেবে নাটোরে তৈরি হয়েছে ‘কালা তুফান’। প্রাকৃতিকভাবেই তৈরি হওয়া ‘কালা তুফান’ অনেক আকর্ষণীয় এবং উৎপাদক তার ন্যায্য দাম অবশ্যই পাবেন।

কোরবানির পশুর হাট কাঁপাবে ৩০ মণের ‘কালা তুফান’

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
২৪ জুন ২০২১, ১১:৩৪ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ
কালা তুফান
ছবি: সংগৃহীত

অশান্ত নামে ডাকা হলেও খুবই শান্ত ‘কালা তুফান’। ছয় ফুট উচ্চতা ছাড়িয়ে ৩০ মণ ওজনের অতিকায় এমন গরু খুব কমই দেখা যায়। পরম যত্নে লালন-পালন করা হচ্ছে ‘কালা তুফানকে’। আসন্ন কোরবানির ঈদ উপলক্ষ্যে কালা তুফানের দাম চাওয়া হয়েছে ১০ লাখ টাকা।

‘কালা তুফানের’ মালিক নাটোর সদর উপজেলার হয়বতপুর বাজার এলাকার ব্যবসায়ী আমিরুল ইসলাম। তিনি ২০০৫ সালে শখের বশে গরু পালন কার্যক্রম শুরু করেন। মোটাতাজাকরণ কার্যক্রমে লক্ষ্য করেন, একটু পরিশ্রম করলেই মুনাফা করা সম্ভব বলে জানান আমিরুল। খবর বাসসের।

জানা যায়, এ বছর কোরবানি ঈদ উপলক্ষ্য করে তিনটি গরু পালন করেন আমিরুল। এর মধ্যে দুটি সাড়ে চার লাখ টাকা করে ইতোমধ্যে কিনে নিয়ে গেছেন ঢাকার ব্যবসায়ীরা। এখন আমিরুলের খামারে শুধুই কালা তুফানের অবস্থান।

আমিরুল জানান, তিন বছর ধরে পরম যত্নে কালা তুফানকে তৈরি করেছেন তিনি। অ্যাংকর ভুসি, গুড় আর চিড়া সহযোগে তৈরি করা বিশেষ খাবার কালা তুফানের প্রিয় খাবার। প্রতিদিন সকাল আর বিকালে প্রয়োজন হয় আট কেজি করে। মাঝেমধ্যে আমিরুলের নিজস্ব খামারে উৎপাদিত নেপিয়ার ঘাস কালা তুফানের প্রিয় খাবার হয়ে ওঠে।

নিয়ম করে খাবার খাওয়ানো, পরিচর্যা করা, একজন পশু চিকিৎসকের পরামর্শে রেখে কালা তুফানকে তৈরি করেছেন আমিরুল। কালা তুফান এখন উচ্চতায় ছয় ফুট ছাড়িয়ে গেছে আর দৈর্ঘ্যে ৯ ফুট। ওজন কমপক্ষে এক হাজার ২০০ কেজি।

বাজারে পশু খাবারের ক্রমবর্ধমান উচ্চমূল্যের কথা উল্লেখ করে আমিরুল জানান, ছয় মাস আগে অ্যাংকর ভুসির কেজি ছিল ৩৫ টাকা, এখন ৫৫ টাকা। গত পরশু এক বস্তা ৮০০ টাকায় কিনলেও মঙ্গলবার কিনতে হয়েছে ৯১০ টাকায়। পশু খাদ্যমূল্যের বাজার পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণের দাবি জানান আমিরুল।

ক্ষতিকর স্টেরয়েড ব্যবহার করে পশুর ওজন ও আয়তন বৃদ্ধি প্রসঙ্গে আমিরুল বলেন, কোনো স্টেরয়েড কখনই ব্যবহার করা তো দূরের কথা, ভুল করেও আমাদের চিন্তায় আসেনি।

আমিরুল আরও বলেন, অনেক যত্নে কালা তুফানকে লালন করেছি। সৌখিন ব্যক্তিরাই ওর কদর বুঝবে। তাদের গোচরে আনতে পারলে দাম অন্তত ১০ লাখ টাকা পাওয়া যাবে। আসন্ন কোরবানির ঈদ উপলক্ষ্যে প্রাণিসম্পদ বিভাগের অনলাইন পশুর বাজারে কালা তুফানের যথাযথ প্রচারণার দাবি জানান তিনি।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. গোলাম মোস্তফা বলেন, জেলার প্রাণিসম্পদ অঙ্গন বৈচিত্র্যে ভরপুর হয়ে উঠছে। প্রাণিসম্পদ বিভাগ আমাদের উৎসাহী খামারিদের নতুন নতুন প্রযুক্তি সরবরাহ করছে, তাদের প্রণোদনা প্রদান করছে, প্রয়োজনে চিকিৎসা চিকিৎসাসেবা। এরই ইতিবাচক ফল হিসেবে নাটোরে তৈরি হয়েছে ‘কালা তুফান’। প্রাকৃতিকভাবেই তৈরি হওয়া ‘কালা তুফান’ অনেক আকর্ষণীয় এবং উৎপাদক তার ন্যায্য দাম অবশ্যই পাবেন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন