‘বঙ্গবন্ধু আসলে এমন দেশ চাননি’
jugantor
‘বঙ্গবন্ধু আসলে এমন দেশ চাননি’

  শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি   

২৪ জুন ২০২১, ২২:২৭:৫৪  |  অনলাইন সংস্করণ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও বঙ্গবন্ধু পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য প্রফেসর ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকী বলেছেন, রাবির একজন উপাচার্যের নির্লজ্জতা আমাদের লজ্জিত করে, ব্যথিত করে। বঙ্গবন্ধু আসলে এমন দেশ দেখতে চাননি। তিনি দুর্নীতিমুক্ত অসাম্প্রদায়িক দেশ আমাদের উপহার দিতে চেয়েছিলেন।

বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শাহজাদপুর উপজেলার সর্বজন শ্রদ্ধেয় চিকিৎসক ও শাহজাদপুর উপজেলা বঙ্গবন্ধু পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত ডা. ইউনুস আলী খানের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ভার্চুয়ালি স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকী বলেন, বঙ্গবন্ধু মানুষকে খুব ভালোবাসতেন। জনগণই ছিল তার শক্তির আধার। জনগণও তাকে খুব ভালোবাসতেন বলেই আন্দোলন সংগ্রামের মধ্যে দিয়ে বঙ্গবন্ধুকে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা থেকে মুক্ত করে এনেছেন। ভুট্টো খানও তাকে জেলে আটকে রাখতে পারেননি। ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছেন।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু আমাদের স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন। তাই আমরা বুক ভরে নি:শ্বাস নিতে পারছি। তিনি এ দেশকে সোনার বাংলায় পরিণত করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু রাবির উপাচার্যের মতো গুটিকয়েক নির্লজ্জর কারণে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা আজ কলুষিত হয়ে পড়েছে। এদের বিরুদ্ধে এখনই সঠিক ব্যবস্থা নিতে হবে। তা না হলে পরিণতি আরও খারাপের দিকে যাবে।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু মঞ্জুরি কমিশন গঠন করে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে আলাদা স্বায়ত্তশাসন দিয়েছিলেন। এ বিল যখন জাতীয় সংসদে পাস হয়, তার আগে আমরা বলেছিলাম- তাদের ওপর নিয়ন্ত্রণ না থাকলে তারা দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়তে পারে। প্রতি উত্তরে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন- বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা আমাদের আস্থা ও সম্মানের পাত্র। তাদের ওপরে যাতে সচিব-মন্ত্রী ছড়ি ঘুরাতে না পারে তাই এ ব্যবস্থা নিয়েছি। তারা মেধা ও মনন দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা করবেন। তারা আজ বঙ্গবন্ধুর সেই আস্থার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন।

ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকী বলেন, প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা ডা. ইউনুস আলী খান ছিলেন বঙ্গবন্ধুর একজন পরীক্ষিত আদর্শ সৈনিক। তিনি আমৃত্যু পর্যন্ত আওয়ামী লীগের নিবেদিতপ্রাণ হিসেবে কাজ করে গেছেন। এলাকার মানুষের কাছে তিনি ছিলেন আস্থা ও ভরসার জায়গা। তাই তাকে তারা ভালোবাসতেন। শ্রদ্ধার সঙ্গে দেখতেন। তিনিও আজীবন এই এলাকার মানুষকে ভালোবেসে তাদের চিকিৎসাসেবা দিয়ে গেছেন। আমেরিকার সিটিজেন পাওয়া সত্ত্বেও তিনি এদের ছেড়ে যাননি। সব সময় পাশে থেকেছেন।

শাহজাদপুর উপজেলা বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুল হাইয়ের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক রওশন আলীর সঞ্চালনায় এ ভার্চুয়াল স্মরণসভায় প্রধান আলোচক ছিলেন- রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য প্রফেসর ড. আব্দুল খালেক।

বিশেষ অতিথি ছিলেন- কেন্দ্রীয় বঙ্গবন্ধু পরিষদের কার্যনির্বাহী সদস্য মো. মতিউর রহমান লালটু, সাবেক এমপি চয়ন ইসলাম। বক্তব্য রাখেন- ডা. আব্দুল খালেক, শহিদুল ইসলাম, আব্দুল জব্বার প্রমুখ।

এ অনুষ্ঠানে আমেরিকা থেকে ভার্চুয়ালি অংশগ্রহণ করেন প্রয়াত ডা. ইউনুস আলী খানের মেয়ে ডা. ইউনুস আলী খান ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক প্রীতিলা খান মলি, তার মা-বোনসহ পরিবারের সদস্যরা।

শাহজাদপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের হল রুমে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে শাহজাদপুর উপজেলা বঙ্গবন্ধু পরিষদ। সার্বিক সহযোগিতায় ছিল প্রয়াত ডা. ইউনুস আলী খান ফাউন্ডেশন। এছাড়া দিনভর কোরআনখানি,মিলাদ মাহফিল ও দোয়া-মোনাজাত করা হয়।

‘বঙ্গবন্ধু আসলে এমন দেশ চাননি’

 শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি  
২৪ জুন ২০২১, ১০:২৭ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও বঙ্গবন্ধু পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য প্রফেসর ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকী বলেছেন, রাবির একজন উপাচার্যের নির্লজ্জতা আমাদের লজ্জিত করে, ব্যথিত করে। বঙ্গবন্ধু আসলে এমন দেশ দেখতে চাননি। তিনি দুর্নীতিমুক্ত অসাম্প্রদায়িক দেশ আমাদের উপহার দিতে চেয়েছিলেন।

বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শাহজাদপুর উপজেলার সর্বজন শ্রদ্ধেয় চিকিৎসক ও শাহজাদপুর উপজেলা বঙ্গবন্ধু পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত ডা. ইউনুস আলী খানের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ভার্চুয়ালি স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকী বলেন, বঙ্গবন্ধু মানুষকে খুব ভালোবাসতেন। জনগণই ছিল তার শক্তির আধার। জনগণও তাকে খুব ভালোবাসতেন বলেই আন্দোলন সংগ্রামের মধ্যে দিয়ে বঙ্গবন্ধুকে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা থেকে মুক্ত করে এনেছেন। ভুট্টো খানও তাকে জেলে আটকে রাখতে পারেননি। ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছেন।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু আমাদের স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন। তাই আমরা বুক ভরে নি:শ্বাস নিতে পারছি। তিনি এ দেশকে সোনার বাংলায় পরিণত করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু রাবির উপাচার্যের মতো গুটিকয়েক নির্লজ্জর কারণে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা আজ কলুষিত হয়ে পড়েছে। এদের বিরুদ্ধে এখনই সঠিক ব্যবস্থা নিতে হবে। তা না হলে পরিণতি আরও খারাপের দিকে যাবে।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু মঞ্জুরি কমিশন গঠন করে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে আলাদা স্বায়ত্তশাসন দিয়েছিলেন। এ বিল যখন জাতীয় সংসদে পাস হয়, তার আগে আমরা বলেছিলাম- তাদের ওপর নিয়ন্ত্রণ না থাকলে তারা দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়তে পারে। প্রতি উত্তরে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন- বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা আমাদের আস্থা ও সম্মানের পাত্র। তাদের ওপরে যাতে সচিব-মন্ত্রী ছড়ি ঘুরাতে না পারে তাই এ ব্যবস্থা নিয়েছি। তারা মেধা ও মনন দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা করবেন। তারা আজ বঙ্গবন্ধুর সেই আস্থার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন।

ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকী বলেন, প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা ডা. ইউনুস আলী খান ছিলেন বঙ্গবন্ধুর একজন পরীক্ষিত আদর্শ সৈনিক। তিনি আমৃত্যু পর্যন্ত আওয়ামী লীগের নিবেদিতপ্রাণ হিসেবে কাজ করে গেছেন। এলাকার মানুষের কাছে তিনি ছিলেন আস্থা ও ভরসার জায়গা। তাই তাকে তারা ভালোবাসতেন। শ্রদ্ধার সঙ্গে দেখতেন। তিনিও আজীবন এই এলাকার মানুষকে ভালোবেসে তাদের চিকিৎসাসেবা দিয়ে গেছেন। আমেরিকার সিটিজেন পাওয়া সত্ত্বেও তিনি এদের ছেড়ে যাননি। সব সময় পাশে থেকেছেন।

শাহজাদপুর উপজেলা বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুল হাইয়ের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক রওশন আলীর সঞ্চালনায় এ ভার্চুয়াল স্মরণসভায় প্রধান আলোচক ছিলেন- রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য প্রফেসর ড. আব্দুল খালেক।

বিশেষ অতিথি ছিলেন- কেন্দ্রীয় বঙ্গবন্ধু পরিষদের কার্যনির্বাহী সদস্য মো. মতিউর রহমান লালটু, সাবেক এমপি চয়ন ইসলাম। বক্তব্য রাখেন- ডা. আব্দুল খালেক, শহিদুল ইসলাম, আব্দুল জব্বার প্রমুখ।

এ অনুষ্ঠানে আমেরিকা থেকে ভার্চুয়ালি অংশগ্রহণ করেন প্রয়াত ডা. ইউনুস আলী খানের মেয়ে ডা. ইউনুস আলী খান ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক প্রীতিলা খান মলি, তার মা-বোনসহ পরিবারের সদস্যরা।

শাহজাদপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের হল রুমে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে শাহজাদপুর উপজেলা বঙ্গবন্ধু পরিষদ। সার্বিক সহযোগিতায় ছিল প্রয়াত ডা. ইউনুস আলী খান ফাউন্ডেশন। এছাড়া দিনভর কোরআনখানি,মিলাদ মাহফিল ও দোয়া-মোনাজাত করা হয়।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন