দুর্গাপুরে ঘরে ফেরার স্বপ্ন পূরণ হলো স্বপ্নার
jugantor
দুর্গাপুরে ঘরে ফেরার স্বপ্ন পূরণ হলো স্বপ্নার

  তোবারক হোসেন খোকন, দুর্গাপুর (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি  

২৫ জুন ২০২১, ০২:২১:৫৩  |  অনলাইন সংস্করণ

‘এতোদিন আমার কোনো ঘর ছিল না- আমার বাপ-মা ছিল না, ভাই-বোন ছিল না, এখন আমার সব হইছে' একটানা কথাগুলো বলে একটু যেন দম নিলেন।

আনমনে আকাশের দিকে তাকালেন। আষাঢ়ের ভেজা আকাশের দিকে তাকিয়ে একটু কী ভিজে গেল তার চোখ? পরক্ষণেই দিগন্ত থেকে চোখ নামিয়ে নামিয়ে নিলেন। মনে মনে কি যেন ভাবলেন একবার।

দুই হাতে তালি বাজাতে শুরু করলেন। তালি বাজাতে বাজাতে বলনেল আমার এখন সব আছে। আমার ঘর আছে। আমার থাকার জায়গা আছে। বলছি স্বপনা হিজড়ার কথা। পথই ছিল যার ঠিকানা, পথই ছিল যার ঘর আজ তার কথা বলব।

এ নিয়ে স্বপ্না হিজরা যুগান্তরকে বলেন, কিভাবে পথকে আপন করে নিলেন, আবার পথ ছেড়ে আজ কীভাবে ঘরে ফিরছেন। দীর্ঘ চল্লিশ বছর পর! মাত্র আট বছর বয়সে তিনি বুঝতে পেরেছিলেন এ সমাজ তার নয়। এ ঘর তার নয়। স্বপ্না ছিলেন তার মা বাবার বড় সন্তান।

কিন্তু সামাজিক বাস্তবতায় তিনি আজ পৌত্রিক নাম ফেলে স্বপ্না হিজড়া নামেই পরিচিত। স্বপ্না জানালেন তার নিগ্রহের কথা। কেউ তাকে ঘর ভাড়া দিতে চায় না। এরই মধ্যে একদিন ফোন পেলেন দুর্গাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দপ্তর থেকে।

ভয়ে ভয়ে স্বপ্না গেলেন তার আট সহযোগী তৃতীয় লিঙ্গের মানুষকে নিয়ে। এরপর যেন স্বপ্নের মত বদলে গেল স্বপ্নার জীবনে।

মুজিব জন্মশতবর্ষে প্রাধানমন্ত্রীর দেয়া উপহার একটি সেমি পাকা ঘর পেলেন স্বপ্না হিজড়া। নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলায় স্বপ্নাসহ রত্মা ও দুলাল নামে আরও দুজন তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ পেয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর এই উপহার।

মুজিববর্ষে ভূমিহীন ও গৃহহীনদের সেমিপাকা ঘর দেওয়ার প্রকল্প হাতে নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সেই প্রকল্পের বাস্তবায়নই হচ্ছে স্বপ্নার এই ঘর। দুর্গাপুরে এই তৃতীয় লিঙ্গের তিনজনসহ মোট ৪৫ জন ভূমিহীন ও গৃহহীন ব্যক্তি পেলেন এই উপহার।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, তৃতীয় লিঙ্গের এই তিনটি ঘর নিয়ে সবচেয়ে বেশি আন্তরিক থেকেছি। ঘর তৈরির প্রতিটা ধাপেই খুব আনন্দ লেগেছে, সব অসহায় মানুষের জন্য কিছু করতে পারছি। স্বপ্নাসহ তার নতুন প্রতিবেশীরা ঘর পেয়ে আনন্দিত। এতো আনন্দের মধ্যেও স্বপ্না অন্যদের কথা ভুলতে পারেন না। তিনি আবদার জানালেন, অন্য হিজড়াদেরও যেন সরকারি সেমিপাকা ঘর দেয়া হয়।

ঘর দেয়া নিয়ে সহকারী কমিশনার ভুমি রুয়েল সাংমা জানান, তৃতীয় লিঙ্গের এসব অসহায় মানুষ ছাড়াও বীর মুক্তিযোদ্ধা, প্রতিবন্ধী, বিধবা ও ভূমিহীনদের ঘর ও জমি দেওয়ার জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার যুগান্তরকে জানান, আইডিকার্ড জটিলতায় সবাইকে ঘর দেয়া সম্ভব হয়নি। তবে আশার কথা হলো, আইডিকার্ড সংশোধনের প্রক্রিয়া চলছে। আগামী অর্থবছরে আরও ঘর বরাদ্দ আসবে।

তৃতীয় লিঙ্গের এসব অসহায় মানুষেরা যেন গৃহহীন না থাকে সে বিষয়ে আমাদের উপর নির্দেশনা রয়েছে। পরবর্তিতে সরকারি এ ঘর গুলো যেন অসহায় ব্যক্তিরা পায়, সে বিষয়ে সবার সহযোগিতা চেয়েছেন।

দুর্গাপুরে ঘরে ফেরার স্বপ্ন পূরণ হলো স্বপ্নার

 তোবারক হোসেন খোকন, দুর্গাপুর (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি 
২৫ জুন ২০২১, ০২:২১ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ

‘এতোদিন আমার কোনো ঘর ছিল না- আমার বাপ-মা ছিল না, ভাই-বোন ছিল না, এখন আমার সব হইছে' একটানা কথাগুলো বলে একটু যেন দম নিলেন।

আনমনে আকাশের দিকে তাকালেন। আষাঢ়ের ভেজা আকাশের দিকে তাকিয়ে একটু কী ভিজে গেল তার চোখ? পরক্ষণেই দিগন্ত থেকে চোখ নামিয়ে নামিয়ে নিলেন। মনে মনে কি যেন ভাবলেন একবার।

দুই হাতে তালি বাজাতে শুরু করলেন। তালি বাজাতে বাজাতে বলনেল আমার এখন সব আছে। আমার ঘর আছে। আমার থাকার জায়গা আছে। বলছি স্বপনা হিজড়ার কথা। পথই ছিল যার ঠিকানা, পথই ছিল যার ঘর আজ তার কথা বলব।

এ নিয়ে স্বপ্না হিজরা যুগান্তরকে বলেন, কিভাবে পথকে আপন করে নিলেন, আবার পথ ছেড়ে আজ কীভাবে ঘরে ফিরছেন। দীর্ঘ চল্লিশ বছর পর! মাত্র আট বছর বয়সে তিনি বুঝতে পেরেছিলেন এ সমাজ তার নয়। এ ঘর তার নয়। স্বপ্না ছিলেন তার মা বাবার বড় সন্তান।

কিন্তু সামাজিক বাস্তবতায় তিনি আজ পৌত্রিক নাম ফেলে স্বপ্না হিজড়া নামেই পরিচিত। স্বপ্না জানালেন তার নিগ্রহের কথা। কেউ তাকে ঘর ভাড়া দিতে চায় না। এরই মধ্যে একদিন ফোন পেলেন দুর্গাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দপ্তর থেকে।

ভয়ে ভয়ে স্বপ্না গেলেন তার আট সহযোগী তৃতীয় লিঙ্গের মানুষকে নিয়ে। এরপর যেন স্বপ্নের মত বদলে গেল স্বপ্নার জীবনে।

মুজিব জন্মশতবর্ষে প্রাধানমন্ত্রীর দেয়া উপহার একটি সেমি পাকা ঘর পেলেন স্বপ্না হিজড়া। নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলায় স্বপ্নাসহ রত্মা ও দুলাল নামে আরও দুজন তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ পেয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর এই উপহার।

মুজিববর্ষে ভূমিহীন ও গৃহহীনদের সেমিপাকা ঘর দেওয়ার প্রকল্প হাতে নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সেই প্রকল্পের বাস্তবায়নই হচ্ছে স্বপ্নার এই ঘর। দুর্গাপুরে এই তৃতীয় লিঙ্গের তিনজনসহ মোট ৪৫ জন ভূমিহীন ও গৃহহীন ব্যক্তি পেলেন এই উপহার।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, তৃতীয় লিঙ্গের এই তিনটি ঘর নিয়ে সবচেয়ে বেশি আন্তরিক থেকেছি। ঘর তৈরির প্রতিটা ধাপেই খুব আনন্দ লেগেছে, সব অসহায় মানুষের জন্য কিছু করতে পারছি। স্বপ্নাসহ তার নতুন প্রতিবেশীরা ঘর পেয়ে আনন্দিত। এতো আনন্দের মধ্যেও স্বপ্না অন্যদের কথা ভুলতে পারেন না। তিনি আবদার জানালেন, অন্য হিজড়াদেরও যেন সরকারি সেমিপাকা ঘর দেয়া হয়।

ঘর দেয়া নিয়ে সহকারী কমিশনার ভুমি রুয়েল সাংমা জানান, তৃতীয় লিঙ্গের এসব অসহায় মানুষ ছাড়াও বীর মুক্তিযোদ্ধা, প্রতিবন্ধী, বিধবা ও ভূমিহীনদের ঘর ও জমি দেওয়ার জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার যুগান্তরকে জানান, আইডিকার্ড জটিলতায় সবাইকে ঘর দেয়া সম্ভব হয়নি। তবে আশার কথা হলো, আইডিকার্ড সংশোধনের প্রক্রিয়া চলছে। আগামী অর্থবছরে আরও ঘর বরাদ্দ আসবে।

তৃতীয় লিঙ্গের এসব অসহায় মানুষেরা যেন গৃহহীন না থাকে সে বিষয়ে আমাদের উপর নির্দেশনা রয়েছে। পরবর্তিতে সরকারি এ ঘর গুলো যেন অসহায় ব্যক্তিরা পায়, সে বিষয়ে সবার সহযোগিতা চেয়েছেন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন