জমাট বাঁধা ২৫৫ টন সার ফেরত দিল রাজশাহী বাফার 
jugantor
জমাট বাঁধা ২৫৫ টন সার ফেরত দিল রাজশাহী বাফার 

  রাজশাহী ব্যুরো  

২৫ জুন ২০২১, ১৫:০০:২৮  |  অনলাইন সংস্করণ

ফাইল ছবি

ব্যবহার অনুপযোগী জমাট বাঁধা ২৫৫ টন ইউরিয়া ফেরত দিয়েছে রাজশাহী বাফার গুদাম কর্তৃপক্ষ।

বৃহস্পতিবার ডিলাররা এসব সার নামাতে দেননি গুদামে। ফলে এসব সার ফেরত দেওয়া হয়েছে।

রাজশাহীতে বিসিআইসির বাফার গুদামের ইনচার্জ সাজেদুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, পরিবহণ ঠিকাদার এসব সার নিয়ে আসে। ঢাকার নবাব অ্যান্ড কোম্পানি নামের একটি প্রতিষ্ঠান এসব সার নওয়াপাড়া থেকে রাজশাহীতে পাঠায়। তবে শক্ত জমাট বাঁধা এসব সার দেখে ডিলাররা সার খালাসে বাধা দেন। আমরাও সারগুলো পরীক্ষা করে দেখেছি। এসব সার কোনোভাবেই জমিতে ব্যবহারের উপযোগী নয়। এ কারণে সারগুলো আবার ফেরত পাঠানো হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও রাজশাহীর সার ডিলাররা জানান, বুধবার মধ্যরাত থেকে বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত ১৫টি ট্রাক রাজশাহী বাফার গুদামে ঢুকে এসব সার নিয়ে। প্রতিটি ট্রাকে ১৭ টন করে ইউরিয়া ছিল। বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে সামনের একটি ট্রাকের ত্রিপল খুলে সার খালাসের উদ্যোগ নেওয়া হলে ডিলাররা টের পেয়ে গুদামে ভিড় করেন। তারা জমাটা বাঁধা এসব সার খালাসে বাধা দেন। ফলে বাফার গুদাম কর্তৃপক্ষ এসব সার খালাস করতে নিষেধ করে। শেষে ট্রাকগুলো যশোরের নওয়াপাড়ায় ফিরে যায়।

রাজশাহী বাফার গুদামের সহকারী ম্যানেজার মিজানুর রহমান যুগান্তরকে জানান, সার বোঝাই ট্রাকগুলো থেকে পানি ঝরছিল। সারে পানি দেওয়া কেন— এটি জানতে গিয়ে দেখা গেছে, এসব সার শক্ত জমাট বাঁধা অবস্থায় রয়েছে। ঠিকাদার সারের গাড়িতে পানি ছিটিয়ে সারগুলো গলানোর চেষ্টা করেছেন। এসব সার ডিলারদের দেওয়া যাবে না বিবেচনা করেই সার খালাস না করে ফেরত দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এই সারগুলো কত বছরের পুরনো সেটিও জানা সম্ভব হয়নি। কারণ সারের বস্তার ওপর তেমন কিছু লেখা নেই।

এদিকে জেলা সার মনিটরিং কমিটির সভাপতি ও রাজশাহীর জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিল যুগান্তরকে বলেন, যেসব সার ফেরত দেওয়া হয়েছে, সেগুলো জমিতে ব্যবহার অনুপযোগী বলে আমি শুনেছি। সুতরাং এসব গ্রহণ করে কৃষকদের ঠকানো হতো। তাই ফেরত দেওয়া হয়েছে। সার সরবরাহকারী ঠিকাদারই এ জন্য দায়ী বলে তিনি মনে করেন। বিষয়টি কেন্দ্রীয় সার মনিটরিং কমিটিকে জানানো হবে বলে জানান জেলা প্রশাসক।

এদিকে রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপপরিচালক ও জেলা সার মনিটরিং কমিটির সদস্য সচিব কেজেএম আব্দুল আউয়াল যুগান্তরকে বলেন, জমাট বাঁধা শক্ত সার আসার বিষয়টি আমাকে ডিলাররা জানান। বিষয়টি আমি জেলা প্রশাসক মহোদয়কে জানাই। বাফারের কর্মকর্তারা সারগুলো দেখে সেগুলো ব্যবহার অনুপযোগী না থাকায় ফেরতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

জমাট বাঁধা ২৫৫ টন সার ফেরত দিল রাজশাহী বাফার 

 রাজশাহী ব্যুরো 
২৫ জুন ২০২১, ০৩:০০ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
ফাইল ছবি
ফাইল ছবি

ব্যবহার অনুপযোগী জমাট বাঁধা ২৫৫ টন ইউরিয়া ফেরত দিয়েছে রাজশাহী বাফার গুদাম কর্তৃপক্ষ। 

বৃহস্পতিবার ডিলাররা এসব সার নামাতে দেননি গুদামে। ফলে এসব সার ফেরত দেওয়া হয়েছে। 

রাজশাহীতে বিসিআইসির বাফার গুদামের ইনচার্জ সাজেদুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, পরিবহণ ঠিকাদার এসব সার নিয়ে আসে। ঢাকার নবাব অ্যান্ড কোম্পানি নামের একটি প্রতিষ্ঠান এসব সার নওয়াপাড়া থেকে রাজশাহীতে পাঠায়। তবে শক্ত জমাট বাঁধা এসব সার দেখে ডিলাররা সার খালাসে বাধা দেন। আমরাও সারগুলো পরীক্ষা করে দেখেছি। এসব সার কোনোভাবেই জমিতে ব্যবহারের উপযোগী নয়। এ কারণে সারগুলো আবার ফেরত পাঠানো হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও রাজশাহীর সার ডিলাররা জানান, বুধবার মধ্যরাত থেকে বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত ১৫টি ট্রাক রাজশাহী বাফার গুদামে ঢুকে এসব সার নিয়ে। প্রতিটি ট্রাকে ১৭ টন করে ইউরিয়া ছিল। বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে সামনের একটি ট্রাকের ত্রিপল খুলে সার খালাসের উদ্যোগ নেওয়া হলে ডিলাররা টের পেয়ে গুদামে ভিড় করেন। তারা জমাটা বাঁধা এসব সার খালাসে বাধা দেন। ফলে বাফার গুদাম কর্তৃপক্ষ এসব সার খালাস করতে নিষেধ করে। শেষে ট্রাকগুলো যশোরের নওয়াপাড়ায় ফিরে যায়। 

রাজশাহী বাফার গুদামের সহকারী ম্যানেজার মিজানুর রহমান যুগান্তরকে জানান, সার বোঝাই ট্রাকগুলো থেকে পানি ঝরছিল। সারে পানি দেওয়া কেন— এটি জানতে গিয়ে দেখা গেছে, এসব সার শক্ত জমাট বাঁধা অবস্থায় রয়েছে। ঠিকাদার সারের গাড়িতে পানি ছিটিয়ে সারগুলো গলানোর চেষ্টা করেছেন। এসব সার ডিলারদের দেওয়া যাবে না বিবেচনা করেই সার খালাস না করে ফেরত দেওয়া হয়েছে। 

তিনি আরও বলেন, এই সারগুলো কত বছরের পুরনো সেটিও জানা সম্ভব হয়নি। কারণ সারের বস্তার ওপর তেমন কিছু লেখা নেই। 

এদিকে জেলা সার মনিটরিং কমিটির সভাপতি ও রাজশাহীর জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিল যুগান্তরকে বলেন, যেসব সার ফেরত দেওয়া হয়েছে, সেগুলো জমিতে ব্যবহার অনুপযোগী বলে আমি শুনেছি। সুতরাং এসব গ্রহণ করে কৃষকদের ঠকানো হতো। তাই ফেরত দেওয়া হয়েছে। সার সরবরাহকারী ঠিকাদারই এ জন্য দায়ী বলে তিনি মনে করেন। বিষয়টি কেন্দ্রীয় সার মনিটরিং কমিটিকে জানানো হবে বলে জানান জেলা প্রশাসক।

এদিকে রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপপরিচালক ও  জেলা সার মনিটরিং কমিটির সদস্য সচিব কেজেএম আব্দুল আউয়াল যুগান্তরকে বলেন, জমাট বাঁধা শক্ত সার আসার বিষয়টি আমাকে ডিলাররা জানান। বিষয়টি আমি জেলা প্রশাসক মহোদয়কে জানাই। বাফারের কর্মকর্তারা সারগুলো দেখে সেগুলো ব্যবহার অনুপযোগী না থাকায় ফেরতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন