আ’লীগ নেতার কুকর্মের প্রতিবাদ করে ধর্ষণের শিকার নারী
jugantor
আ’লীগ নেতার কুকর্মের প্রতিবাদ করে ধর্ষণের শিকার নারী

  কিশোরগঞ্জ ব্যুরো ও পাকুন্দিয়া প্রতিনিধি  

২৬ জুন ২০২১, ২৩:২৯:৪৪  |  অনলাইন সংস্করণ

ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের নারী কেলেঙ্কারির প্রতিবাদ ও ঘটনা ফাঁস করে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন অনার্স পাশ এক শিক্ষার্থীর মা।

এ ঘটনায় কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার পাটুয়া ভাঙ্গা ইউনিয়নের ওই নারী সমাজপতিদের দ্বারে দ্বারে ঘুরে বিচারের আকুতি জানান। আর এ আকুতি জানানো ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। আর ভিডিও ফুটেজ দেখে ঢাকা থেকে ছুটে আসেন বিসিএস কোচিং নিয়ে ব্যস্ত সন্তান।

শনিবার দুপুর ১২টার দিকে থানায় হাজির হয়ে মাকে দিয়ে মামলা করালেন ছেলে। আর মামলা রুজুর পরপরই পাকুন্দিয়া থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে মামলার প্রধান আসামি ধর্ষক আবু হানিফকে গ্রেফতার করেছে। অপর আসামি হুমকিদাতা আওয়ামী লীগ নেতা জালাল উদ্দিন বাচ্চুকে গ্রেফতারেও বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালাচ্ছে।

এ মধ্যযুগীয় ও বর্বরতার ঘটনায় জড়িতদের ফাঁসি দাবি করেছেন ভুক্তভোগী নারী, তার ছেলে-মেয়ে ও জনপ্রতিনিধিরা।

অভিযোগে জানা গেছে, ওই ভুক্তভোগী নারীর স্বামী রাজধানীতে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। বিবাহিত মেয়ে থাকেন শ্বশুরবাড়ি। আর ছেলে অনার্স পাস করে ঢাকায় বিসিএস কোচিং করছেন। এমন পরিস্থিতিতে তিনি অধিকাংশ সময় একা বাড়িতে থাকেন। কিন্তু প্রায় প্রতিদিন রাতেই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জালাল উদ্দীন বাচ্চু এলাকায় ডাকাত হিসেবে পরিচিত আবু হানিফ নামে এক ব্যক্তিকে সঙ্গে নিয়ে ওই নারীর ঘরের পেছনে নির্জন স্থানে নারী এনে আনন্দ-ফুর্তি করেন।

এমন কুকর্মের প্রতিবাদ করেন ধর্ষণের শিকার ওই নারী। পাশাপাশি তিনি এ ঘটনা আশপাশের লোকজনের কাছে ফাঁস করে দেন। এ ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে তাকেও ধর্ষণ এবং পরিবারের সবাইকে হত্যার হুমকি দেন ওই আওয়ামী লীগ নেতা।

এ ঘটনার পর একদিন এশার নামাজের সময় কৌশলে ঘরে ঢুকে বুকে ছুরি ধরে এবং মুখে কাপড় গুঁজে আওয়ামী লীগ নেতার সহযোগী হানিফ ডাকাত ওই নারীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এ ঘটনার পরও নতুন করে আওয়ামী লীগ নেতা বাচ্চু ও তার ব্যাপারে মুখ খুললে এ ধর্ষণের ভিডিও ইন্টারনেটে ছেড়ে দেয়ার এবং ছেলে-মেয়েসহ তাদের সবাইকে হত্যা করা হবে বলে হুমকি দিয়ে যায় ধর্ষক হানিফ।

এদিকে ধর্ষণ-নির্যাতনের শিকার ওই নারী স্বামী এবং ছেলে মেয়েকে না জানিয়ে গোপনে গোপনে বিচারের জন্য গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তি ও জনপ্রতিনিধিদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছিলেন। এক মাতব্বরের কাছে এমন মধ্যযুগীয় বর্বরতার বিবরণ শুনিয়ে বিচার প্রার্থনার আকুতির সময় কেউ একজন এ ঘটনার ভিডিও ধারণ করেন। তিনি এ ভিডিও চিত্র সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দিলে তা ভাইরাল হয়ে ওঠে।

শুক্রবার এ ভিডিও চিত্রটি ঢাকায় বিসিএস কোচিং নিয়ে ব্যস্ত তার সন্তানের চোখে পড়ে। তিনি জন্মদাত্রী মায়ের এমন নিষ্ঠুর পরিণতির বিষয় জেনে একটি মোটরসাইকেল নিয়ে ঢাকা থেকে বাড়ি ফিরে আসেন। একইভাবে খবর পেয়ে শ্বশুরবাড়ি থেকে বাবার বাড়ি আসেন মেয়েও।

পাকুন্দিয়া থানার ওসি মো. সারওয়ার জাহান এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ভুক্তভোগী নারী নিজে বাদী হয়ে মামলা রুজু করেছেন। এ ছাড়া মামলা রুজুর পরপরই প্রধান আসামি আবু হানিফকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে। এ ছাড়া মামলার দ্বিতীয় আসামি হুমকি দাতা আওয়ামী লীগ নেতা সামছ উদ্দিন বাচ্চুকেও গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে বলে জানিয়েছেন ওসি।

আ’লীগ নেতার কুকর্মের প্রতিবাদ করে ধর্ষণের শিকার নারী

 কিশোরগঞ্জ ব্যুরো ও পাকুন্দিয়া প্রতিনিধি 
২৬ জুন ২০২১, ১১:২৯ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের নারী কেলেঙ্কারির প্রতিবাদ ও ঘটনা ফাঁস করে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন অনার্স পাশ এক শিক্ষার্থীর মা।

এ ঘটনায় কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার পাটুয়া ভাঙ্গা ইউনিয়নের ওই নারী সমাজপতিদের দ্বারে দ্বারে ঘুরে বিচারের আকুতি জানান। আর এ আকুতি জানানো ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। আর ভিডিও ফুটেজ দেখে ঢাকা থেকে ছুটে আসেন বিসিএস কোচিং নিয়ে ব্যস্ত সন্তান।

শনিবার দুপুর ১২টার দিকে থানায় হাজির হয়ে মাকে দিয়ে মামলা করালেন ছেলে। আর মামলা রুজুর পরপরই পাকুন্দিয়া থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে মামলার প্রধান আসামি ধর্ষক আবু হানিফকে গ্রেফতার করেছে। অপর আসামি হুমকিদাতা আওয়ামী লীগ নেতা জালাল উদ্দিন বাচ্চুকে গ্রেফতারেও বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালাচ্ছে। 

এ মধ্যযুগীয় ও বর্বরতার ঘটনায় জড়িতদের ফাঁসি দাবি করেছেন ভুক্তভোগী নারী, তার ছেলে-মেয়ে ও জনপ্রতিনিধিরা। 

অভিযোগে জানা গেছে, ওই ভুক্তভোগী নারীর স্বামী রাজধানীতে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। বিবাহিত মেয়ে থাকেন শ্বশুরবাড়ি। আর ছেলে অনার্স পাস করে ঢাকায় বিসিএস কোচিং করছেন। এমন পরিস্থিতিতে তিনি অধিকাংশ সময় একা বাড়িতে থাকেন। কিন্তু প্রায় প্রতিদিন রাতেই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জালাল উদ্দীন বাচ্চু এলাকায় ডাকাত হিসেবে পরিচিত আবু হানিফ নামে এক ব্যক্তিকে সঙ্গে নিয়ে ওই নারীর ঘরের পেছনে নির্জন স্থানে নারী এনে আনন্দ-ফুর্তি করেন।

এমন কুকর্মের প্রতিবাদ করেন ধর্ষণের শিকার ওই নারী। পাশাপাশি তিনি এ ঘটনা আশপাশের লোকজনের কাছে ফাঁস করে দেন। এ ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে তাকেও ধর্ষণ এবং পরিবারের সবাইকে হত্যার হুমকি দেন ওই আওয়ামী লীগ নেতা। 

এ ঘটনার পর একদিন এশার নামাজের সময় কৌশলে ঘরে ঢুকে বুকে ছুরি ধরে এবং মুখে কাপড় গুঁজে আওয়ামী লীগ নেতার সহযোগী হানিফ ডাকাত ওই নারীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এ ঘটনার পরও নতুন করে আওয়ামী লীগ নেতা বাচ্চু ও তার ব্যাপারে  মুখ খুললে এ ধর্ষণের ভিডিও ইন্টারনেটে ছেড়ে দেয়ার এবং ছেলে-মেয়েসহ তাদের সবাইকে  হত্যা করা হবে বলে হুমকি দিয়ে যায় ধর্ষক হানিফ।

এদিকে ধর্ষণ-নির্যাতনের শিকার ওই নারী স্বামী এবং ছেলে মেয়েকে না জানিয়ে গোপনে গোপনে বিচারের জন্য গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তি ও জনপ্রতিনিধিদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছিলেন। এক মাতব্বরের কাছে এমন মধ্যযুগীয় বর্বরতার বিবরণ শুনিয়ে বিচার প্রার্থনার আকুতির সময় কেউ একজন এ ঘটনার ভিডিও ধারণ করেন। তিনি এ ভিডিও চিত্র সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দিলে তা ভাইরাল হয়ে ওঠে।

শুক্রবার এ ভিডিও চিত্রটি ঢাকায় বিসিএস কোচিং নিয়ে ব্যস্ত তার সন্তানের চোখে পড়ে। তিনি জন্মদাত্রী মায়ের এমন নিষ্ঠুর পরিণতির বিষয় জেনে একটি মোটরসাইকেল নিয়ে ঢাকা থেকে বাড়ি ফিরে আসেন। একইভাবে খবর পেয়ে শ্বশুরবাড়ি থেকে বাবার বাড়ি আসেন মেয়েও।

পাকুন্দিয়া থানার ওসি মো. সারওয়ার জাহান এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ভুক্তভোগী নারী নিজে বাদী হয়ে মামলা রুজু করেছেন। এ ছাড়া মামলা রুজুর পরপরই প্রধান আসামি আবু হানিফকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে। এ ছাড়া মামলার দ্বিতীয় আসামি হুমকি দাতা আওয়ামী লীগ নেতা সামছ উদ্দিন বাচ্চুকেও গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে বলে জানিয়েছেন ওসি।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন