তিউনিসিয়ায় নৌকাডুবিতে ছেলের মৃত্যুর খবরে মা হাসপাতালে
jugantor
তিউনিসিয়ায় নৌকাডুবিতে ছেলের মৃত্যুর খবরে মা হাসপাতালে

  টেকেরহাট (মাদারীপুর) প্রতিনিধি  

৩০ জুন ২০২১, ২৩:০১:৩৮  |  অনলাইন সংস্করণ

তিউনিসিয়ায় নৌকা ডুবিতে নিহত তরুণ ইমন মোল্লার গ্রামের বাড়ি মাদারীপুরের রাজৈরে সৃষ্টি হয়েছে শোকাবহ পরিবেশ। আদরের সন্তানের মৃত্যুর খবরে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে টেকেরহাটের একটি হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন মা আকলিমা।

এই ঘটনায় দালালদের কঠোর শাস্তির দাবি করেছেন স্বজন ও এলাকাবাসী।

জেলার পুলিশ সুপার সাংবাদিকদের জানান, এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

জানা যায়, কোনোভাবেই অবৈধপথে ইতালি যাওয়ার প্রবণতা থামছে না। এবার তিউনিসিয়ার ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবিতে প্রাণ গেছে মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার ইশিবপুর ইউনিয়নের শাখারপাড় গ্রামের সোবাহান মোল্লার ছেলে ইমন মোল্লার।

রোববার মোবাইল ফোনে ছেলের মৃত্যুর খবর শুনে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মা আকলিমা বেগম সোমবার বিকালে টেকেরহাটের একটি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তিনদিন ধরে পাড়ছেন না কথা বলতে। পরিবারের অন্য সদস্যরা শোকে পাথর। বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন প্রতিবেশীরাও।

স্বজনরা জানায়, সাড়ে তিনমাস আগে সদর উপজেলার পেয়ারপুর ইউনিয়নের বড়াইলবাড়ি গ্রামের মানবপাচারকারী চক্রের সদস্য রুবেল খান ইতালি নেয়ার প্রবণতা দেখিয়ে ইমনের পরিবারের কাছ থেকে আদায় করে সাড়ে ৭ লাখ টাকা। পরে অবৈধপথে ইতালি যাওয়ার সময় নৌকাডুবিতে মারা যায় ইমন। এ সময় লিবিয়ান পুলিশের হাতে আটক হয় মাদারীপুরের ৪৫ জনসহ অন্তত ৮০ বাংলাদেশি। এই ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন স্বজন ও এলাকাবাসী।

নিহত ইমনের ছোটভাই সোহান মোল্লা জানায়, দালালচক্র প্রথমে যে আশ্বাস দেয়, পরে সেই আশ্বাসের কিছুই রাখে না। তাদের চাহিদা মতো টাকা পেতেই দালালদের হাতে তুলে দেয়। দালালদে কঠোর বিচার হওয়া উচিৎ।

মাদারীপুরের পুলিশ সুপার গোলাম মোস্তফা রাসেল সাংবাদিকদের জানান, লোভে পড়ে অল্প টাকাতেই ইতালি যাবার স্বপ্ন দেখে গ্রামের সহজসরল তরুণ ও যুবকেরা। পরে নৌকাডুবিতে প্রাণ হারায় অনেকেই। ইমন নিহতের ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করলে নেয়া হবে আইনগত ব্যবস্থা।

প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার লিবিয়ার তিউনিসিয়া হয়ে সমুদ্রপথে অবৈধভাবে ইতালি যাওয়ার সময় ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবিতে প্রাণ হারায় ইমনসহ দুই বাংলাদেশি। নিহত ইমন শাখারপাড় উচ্চ বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণির ছাত্র ছিল। পরিবারে তিন ভাইয়ের মধ্যে সে বড়।

তিউনিসিয়ায় নৌকাডুবিতে ছেলের মৃত্যুর খবরে মা হাসপাতালে

 টেকেরহাট (মাদারীপুর) প্রতিনিধি 
৩০ জুন ২০২১, ১১:০১ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

তিউনিসিয়ায় নৌকা ডুবিতে নিহত তরুণ ইমন মোল্লার গ্রামের বাড়ি মাদারীপুরের রাজৈরে সৃষ্টি হয়েছে শোকাবহ পরিবেশ। আদরের সন্তানের মৃত্যুর খবরে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে টেকেরহাটের একটি হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন মা আকলিমা।

এই ঘটনায় দালালদের কঠোর শাস্তির দাবি করেছেন স্বজন ও এলাকাবাসী।

জেলার পুলিশ সুপার সাংবাদিকদের জানান, এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

জানা যায়, কোনোভাবেই অবৈধপথে ইতালি যাওয়ার প্রবণতা থামছে না। এবার তিউনিসিয়ার ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবিতে প্রাণ গেছে মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার ইশিবপুর ইউনিয়নের শাখারপাড় গ্রামের সোবাহান মোল্লার ছেলে ইমন মোল্লার।

রোববার মোবাইল ফোনে ছেলের মৃত্যুর খবর শুনে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মা আকলিমা বেগম সোমবার বিকালে টেকেরহাটের একটি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তিনদিন ধরে পাড়ছেন না কথা বলতে। পরিবারের অন্য সদস্যরা শোকে পাথর। বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন প্রতিবেশীরাও।

স্বজনরা জানায়, সাড়ে তিনমাস আগে সদর উপজেলার পেয়ারপুর ইউনিয়নের বড়াইলবাড়ি গ্রামের মানবপাচারকারী চক্রের সদস্য রুবেল খান ইতালি নেয়ার প্রবণতা দেখিয়ে ইমনের পরিবারের কাছ থেকে আদায় করে সাড়ে ৭ লাখ টাকা। পরে অবৈধপথে ইতালি যাওয়ার সময় নৌকাডুবিতে মারা যায় ইমন। এ সময় লিবিয়ান পুলিশের হাতে আটক হয় মাদারীপুরের ৪৫ জনসহ অন্তত ৮০ বাংলাদেশি। এই ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন স্বজন ও এলাকাবাসী।

নিহত ইমনের ছোটভাই সোহান মোল্লা জানায়, দালালচক্র প্রথমে যে আশ্বাস দেয়, পরে সেই আশ্বাসের কিছুই রাখে না। তাদের চাহিদা মতো টাকা পেতেই দালালদের হাতে তুলে দেয়। দালালদে কঠোর বিচার হওয়া উচিৎ।

মাদারীপুরের পুলিশ সুপার গোলাম মোস্তফা রাসেল সাংবাদিকদের জানান, লোভে পড়ে অল্প টাকাতেই ইতালি যাবার স্বপ্ন দেখে গ্রামের সহজসরল তরুণ ও যুবকেরা। পরে নৌকাডুবিতে প্রাণ হারায় অনেকেই। ইমন নিহতের ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করলে নেয়া হবে আইনগত ব্যবস্থা।

প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার লিবিয়ার তিউনিসিয়া হয়ে সমুদ্রপথে অবৈধভাবে ইতালি যাওয়ার সময় ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবিতে প্রাণ হারায় ইমনসহ দুই বাংলাদেশি। নিহত ইমন শাখারপাড় উচ্চ বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণির ছাত্র ছিল। পরিবারে তিন ভাইয়ের মধ্যে সে বড়।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন