সেপটিক ট্যাংকিতে জোর করে ঢুকিয়ে হত্যার অভিযোগ
jugantor
সেপটিক ট্যাংকিতে জোর করে ঢুকিয়ে হত্যার অভিযোগ

  কাঁঠালিয়া (ঝালকাঠি) প্রতনিধি  

০৬ জুলাই ২০২১, ২৩:১৩:৫৯  |  অনলাইন সংস্করণ

ঝালকাঠির কাঁঠালিয়ায় একটি নির্মাণাধীন বাড়ির নতুন সেপটিক ট্যাংকির সেন্টারিং খুলতে গিয়ে বিষাক্ত গ্যাসে রাজমিস্ত্রি ও এক প্রতিবেশীর মৃত্যু হয়েছে। এদের উদ্ধার করতে গিয়ে অপর এক প্রতিবেশী আহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে উপজেলার চেঁচরীরামপুর ইউনিয়নের মহিষকান্দি গ্রামে ও ফান্স প্রবাসী মিরাজ হোসেনের নির্মাণাধীন ভবনে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় রাজমিস্ত্রি আসাদুল (২৮) ও প্রতিবেশী যুবক মজনু মিয়ার (৩০) ট্যাংকির মধ্যেই মৃত্যু হয়। তাদের উদ্ধার করতে গিয়ে শুভ খান (২২) নামের অপর এক প্রতিবেশী গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়।

রাজমিস্ত্রি আসাদুলের বাড়ি ভাণ্ডারিয়া উপজেলার গাজীপুর গ্রামে। মজনু মিয়া মহিষকান্দি গ্রামের শাহাদাত হোসেনের ছেলে। শুভ খান (২২) একই গ্রামের ইদ্রিস খানের ছেলে।

পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও মৃত আসাদুলের স্বজনরা জানান, মহিষকান্দি গ্রামের মিরাজ খানের নির্মাণাধীন বাড়ির নতুন সেপটিক ট্যাংকির সেন্টারিং মঙ্গলবার সকালে রাজমিস্ত্রি আসাদুল খুলতে যান। ট্যাংকির মুখ খুলে ভিতরে ঢুকে সেন্টারিং খুলতে গেলে পড়ে যান আসাদুল। তিনি ভিতরে থেকে বাঁচাও বাঁচার চিৎকার করলে কেউ তাকে উদ্ধার করেননি।

কিছু সময় পর তার কোন শব্দ না পেয়ে বাড়ির মালিকের ছোটভাই পলাশ খান প্রতিবেশী যুবক মজনুকে ডেকে নিয়ে রাজমিস্ত্রি আসাদুলকে উদ্ধার করার জন্য ট্যাংকির ভিতরে নামিয়ে দেন।

মজনু মিয়া মিস্ত্রিকে উদ্ধার করতে ট্যাংকির ভিতরে ঢুকলে সেও অসুস্থ হয়ে বাঁচাও বাঁচাও বলে চিৎকার করে নীরব হয়ে যান।

এরপর ডাকা হয় অপর প্রতিবেশী যুবক শুভকে। শুভ এসে দুইজনকে উদ্ধার করার জন্য এগিয়ে গেলে সেও অসুস্থ হয়ে পড়ে।

তবে নিহত হতদরিদ্র মজনুর পরিবারের অভিযোগ, রাজমিস্ত্রি আসাদুল ট্যাংকির ভিতর যাওয়ার পর সে বাঁচার আকুতি জানালে তাকে উদ্ধারের কোনো চেষ্টা না করে ভবনের মালিক মিরাজ খানের ছোটভাই পলাশ খান মজনুকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে ভেতরে একটি সাপ ঢুকছে বলে জোড় করে ট্যাংকির মধ্যে ঢুকিয়ে দেয়।

মজনু ভিতরে গিয়ে যখন বাঁচাও বাঁচাও বলে আকুতি করছিল তখন তাকে উদ্ধার না করে শুভকে ডেকে এনে তাকেও মৃত্যুর মুখে ফেলে দেয় পলাশ খান।

মজনুর ছোটবোন সুমাইয়া জানান, পশাল খান আমার ভাইকে বাড়ি থেকে জোর করে টেনে নিয়ে ট্যাংকির মধ্যে নামিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে।

ভবন মালিকের ছোটভাই পলাশ খান জানান, রাজমিস্ত্রি ট্যাংকির মধ্যে নেমে চিৎকার করায় আমিও তাকে বাঁচাতে ডাক-চিৎকার করলে অনেক লোকজন ঘটনাস্থলে আসেন। তবে মজনু যে কখন ভিতরে নেমেছে তা আমি দেখিনি। আর বিষক্ত গ্যাসের কারণে রাজমিস্ত্রি আসাদুল ও মজনুর মৃত্যু হয়েছে।
এলাবাসীর দাবি, এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে অপরাধীকে আইনের আওতায় আনা হোক।

কাঁঠালিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ পুলক চন্দ্র রায় জানান, সেপটিক ট্যাংকির কাজ করতে গিয়ে বিষাক্ত গ্যাসে দম বন্ধ হয়ে তাদের মৃত্যু হয়েছে। এ ব্যাপারে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সেপটিক ট্যাংকিতে জোর করে ঢুকিয়ে হত্যার অভিযোগ

 কাঁঠালিয়া (ঝালকাঠি) প্রতনিধি 
০৬ জুলাই ২০২১, ১১:১৩ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

ঝালকাঠির কাঁঠালিয়ায় একটি নির্মাণাধীন বাড়ির নতুন সেপটিক ট্যাংকির সেন্টারিং খুলতে গিয়ে বিষাক্ত গ্যাসে রাজমিস্ত্রি ও এক প্রতিবেশীর মৃত্যু হয়েছে। এদের উদ্ধার করতে গিয়ে অপর এক প্রতিবেশী আহত হয়েছেন। 

মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে উপজেলার চেঁচরীরামপুর ইউনিয়নের মহিষকান্দি গ্রামে ও ফান্স প্রবাসী মিরাজ হোসেনের নির্মাণাধীন ভবনে এ ঘটনা ঘটে। 

এ ঘটনায় রাজমিস্ত্রি আসাদুল (২৮) ও প্রতিবেশী যুবক মজনু মিয়ার (৩০) ট্যাংকির মধ্যেই মৃত্যু হয়। তাদের উদ্ধার করতে গিয়ে শুভ খান (২২) নামের অপর এক প্রতিবেশী গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। 

রাজমিস্ত্রি আসাদুলের বাড়ি ভাণ্ডারিয়া উপজেলার গাজীপুর গ্রামে। মজনু মিয়া মহিষকান্দি গ্রামের শাহাদাত হোসেনের ছেলে। শুভ খান (২২) একই গ্রামের ইদ্রিস খানের ছেলে। 

পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও মৃত আসাদুলের স্বজনরা জানান, মহিষকান্দি গ্রামের মিরাজ খানের নির্মাণাধীন বাড়ির নতুন সেপটিক ট্যাংকির সেন্টারিং মঙ্গলবার সকালে রাজমিস্ত্রি আসাদুল খুলতে যান। ট্যাংকির মুখ খুলে ভিতরে ঢুকে সেন্টারিং খুলতে গেলে পড়ে যান আসাদুল। তিনি ভিতরে থেকে বাঁচাও বাঁচার চিৎকার করলে কেউ তাকে উদ্ধার করেননি। 

কিছু সময় পর তার কোন শব্দ না পেয়ে বাড়ির মালিকের ছোটভাই পলাশ খান প্রতিবেশী যুবক মজনুকে ডেকে নিয়ে রাজমিস্ত্রি আসাদুলকে উদ্ধার করার জন্য ট্যাংকির ভিতরে নামিয়ে দেন। 

মজনু মিয়া মিস্ত্রিকে উদ্ধার করতে ট্যাংকির ভিতরে ঢুকলে সেও অসুস্থ হয়ে বাঁচাও বাঁচাও বলে চিৎকার করে নীরব হয়ে যান। 

এরপর ডাকা হয় অপর প্রতিবেশী যুবক শুভকে। শুভ এসে দুইজনকে উদ্ধার করার জন্য এগিয়ে গেলে সেও অসুস্থ হয়ে পড়ে। 

তবে নিহত হতদরিদ্র মজনুর পরিবারের অভিযোগ, রাজমিস্ত্রি আসাদুল ট্যাংকির ভিতর যাওয়ার পর সে বাঁচার আকুতি জানালে তাকে উদ্ধারের কোনো চেষ্টা না করে ভবনের মালিক মিরাজ খানের ছোটভাই পলাশ খান মজনুকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে ভেতরে একটি সাপ ঢুকছে বলে জোড় করে ট্যাংকির মধ্যে ঢুকিয়ে দেয়। 

মজনু ভিতরে গিয়ে যখন বাঁচাও বাঁচাও বলে আকুতি করছিল তখন তাকে উদ্ধার না করে শুভকে ডেকে এনে তাকেও মৃত্যুর মুখে ফেলে দেয় পলাশ খান। 

মজনুর ছোটবোন সুমাইয়া জানান, পশাল খান আমার ভাইকে বাড়ি থেকে জোর করে টেনে নিয়ে ট্যাংকির মধ্যে নামিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে।

ভবন মালিকের ছোটভাই পলাশ খান জানান, রাজমিস্ত্রি ট্যাংকির মধ্যে নেমে চিৎকার করায় আমিও তাকে বাঁচাতে ডাক-চিৎকার করলে অনেক লোকজন ঘটনাস্থলে আসেন। তবে মজনু যে কখন ভিতরে নেমেছে তা আমি দেখিনি। আর বিষক্ত গ্যাসের কারণে রাজমিস্ত্রি আসাদুল ও মজনুর মৃত্যু হয়েছে। 
এলাবাসীর দাবি, এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে অপরাধীকে আইনের আওতায় আনা হোক। 

কাঁঠালিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ পুলক চন্দ্র রায় জানান, সেপটিক ট্যাংকির কাজ করতে গিয়ে বিষাক্ত গ্যাসে দম বন্ধ হয়ে তাদের মৃত্যু হয়েছে। এ ব্যাপারে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন