কোরবানির হাট কাঁপাবে মানিক-রতন
jugantor
কোরবানির হাট কাঁপাবে মানিক-রতন

  আক্তারুজ্জামান বকুল, নাগরপুর (টাঙ্গাইল)  

০৭ জুলাই ২০২১, ১৮:২৫:৩৪  |  অনলাইন সংস্করণ

নাম তাদের মানিক-রতন। না এই নাম কোনো মানুষের নয়। ৩৬ ও ৩৫ মণ ওজনের দুটি গরুর নাম এই মানিক-রতন। দেশীয় পদ্ধতিতে লালন-পালন করা বিশালাকৃতির গরু দুটি লালন-পালন করে বড় করে তুলেছেন টাঙ্গাইলের নাগরপুর ও দেলদুয়ার উপজেলার সীমান্তবর্তী গাজুটিয়া-সিঙ্গুরিয়া গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মো. হামিদ আলীর অনার্স পড়ুয়া কন্যা হামিদা আক্তার।

জেলার সবচেয়ে বড় দুটি গরু দেখতে প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে অনেক মানুষ ভিড় করছেন তাদের বাড়িতে।

এবারের ঈদুল আজহায় বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে কোরবানির হাট কাঁপাবে মানিক-রতন। গরু দুটি এবারের কোরবানির হাটে বিক্রি করে নিজের একটি খামারের স্বপ্ন দেখছেন এর মালিক ফাতেমা আক্তার। তবে তিনি কিছুটা শঙ্কায় রয়েছেন করোনাভাইরাসের প্রকোপে এর ন্যায্য দাম নিয়ে। তিনি ৩৬ মণ ওজনের মানিকের দাম চাচ্ছেন ১৪ লাখ টাকা আর ৩৫ মণ ওজনের রতনের দাম চাচ্ছেন ১৩ লাখ টাকা।

মানিক রতনের আয়েশি চলন-বলন আর খাবারের পসরা দেখেই মনে হবে যেন এক বিশাল রাজকীয় ব্যাপার। মানিক-রতনের সবচেয়ে প্রিয় খাবার হচ্ছে মিষ্টি আলু ও কলা।

জানা যায়, হামিদা তার পরিবারের সদস্যদের মতো অতি যত্নে চার বছর যাবত লালন-পালন করছেন অস্ট্রেলিয়ান ফ্রিজিয়ান জাতের ষাঁড় দুটিকে। যেহেতু তাদের বাড়িতেই ষাঁড় দুটির জন্ম। এজন্য আদর করে তাদের নামও রেখেছেন মানিক-রতন। তবে নামের সঙ্গে ষাঁড় দুটির, খাবার-দাবার ও আচার-আচরণেও রয়েছে বেশ মিল।

তাদের থাকার ঘরে রয়েছে দুটি সিলিং ফ্যান আর মশারি। তাদের নিয়মিত খাবারের তালিকায় রয়েছে খড়, ভুষি, কাঁচা ঘাস, মালটা, পেয়ারা, কলা, মিষ্টি কুমরা ও মিষ্টি আলু। রোগ-জীবাণুর হাত থেকে বাঁচতে প্রতিদিন তাদেরকে সাবান ও শ্যাম্পু দিয়ে গোসল করানো হয়। তাদের প্রতিদিন দেখতে বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষজন আসছেন। আর খামার করার পরামর্শ নিচ্ছেন।

হামিদা বলেন, মানিক-রতনকে আমরা চার বছর যাবত লালন-পালন করে আসছি। গত বছরও কোরবানির হাটে বিক্রি করিনি। তাদের অতি যত্নে লালন-পালন করেছি। নাম ধরে ডাকলে মাথা ও কান নাড়িয়ে সাড়া দেয়। যেহেতু সারা দেশে সরকার ঘোষিত কঠোর লকডাউন চলছে সেজন্য এর ন্যায্যমূল্য নিয়ে শঙ্কিত। আমরা বাড়ি থেকেই তাদের বিক্রি করার চেষ্টা করছি। সেক্ষেত্রে আমরা নিজ খরচে তাদের বাড়ি পৌঁছে দিব।

নাগরপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ডাক্তার মো.সোহেল রানা বলেন, আসন্ন কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে বেশ কয়েকজন খামারি কিছু বড় ষাঁড় প্রস্তুত করেছেন। তার মধ্যে গাজুটিয়া এলাকার হামিদ মাস্টারের মানিক-রতন অন্যতম। সম্পূর্ণ দেশীয় পদ্ধতি অবলম্বন করে ষাঁড় দুটি ঈদুল আজহার জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। এখন ন্যায্যমূল্য পেলে খামার মালিকরা উপকৃত হবেন।

তিনি বলেন, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের মাধ্যমে আমরা অনলাইন কোরবানির হাট নাগরপুর নামে একটি পেজ খুলেছি। তার মাধ্যমেও খামারিরা তাদের গরু-ছাগল বিক্রি করতে পারবেন।

কোরবানির হাট কাঁপাবে মানিক-রতন

 আক্তারুজ্জামান বকুল, নাগরপুর (টাঙ্গাইল) 
০৭ জুলাই ২০২১, ০৬:২৫ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

নাম তাদের মানিক-রতন। না এই নাম কোনো মানুষের নয়। ৩৬ ও ৩৫ মণ ওজনের দুটি গরুর নাম এই মানিক-রতন। দেশীয় পদ্ধতিতে লালন-পালন করা বিশালাকৃতির গরু দুটি লালন-পালন করে বড় করে তুলেছেন টাঙ্গাইলের নাগরপুর ও দেলদুয়ার উপজেলার সীমান্তবর্তী গাজুটিয়া-সিঙ্গুরিয়া গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মো. হামিদ আলীর অনার্স পড়ুয়া কন্যা হামিদা আক্তার।

জেলার সবচেয়ে বড় দুটি গরু দেখতে প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে অনেক মানুষ ভিড় করছেন তাদের বাড়িতে।

এবারের ঈদুল আজহায় বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে কোরবানির হাট কাঁপাবে মানিক-রতন। গরু দুটি এবারের কোরবানির হাটে বিক্রি করে নিজের একটি খামারের স্বপ্ন দেখছেন এর মালিক ফাতেমা আক্তার। তবে তিনি কিছুটা শঙ্কায় রয়েছেন করোনাভাইরাসের প্রকোপে এর ন্যায্য দাম নিয়ে। তিনি ৩৬ মণ ওজনের মানিকের দাম চাচ্ছেন ১৪ লাখ টাকা আর ৩৫ মণ ওজনের রতনের দাম চাচ্ছেন ১৩ লাখ টাকা।

মানিক রতনের আয়েশি চলন-বলন আর খাবারের পসরা দেখেই মনে হবে যেন এক বিশাল রাজকীয় ব্যাপার। মানিক-রতনের সবচেয়ে প্রিয় খাবার হচ্ছে মিষ্টি আলু ও কলা।

জানা যায়, হামিদা তার পরিবারের সদস্যদের মতো অতি যত্নে চার বছর যাবত লালন-পালন করছেন অস্ট্রেলিয়ান ফ্রিজিয়ান জাতের ষাঁড় দুটিকে। যেহেতু তাদের বাড়িতেই ষাঁড় দুটির জন্ম। এজন্য আদর করে তাদের নামও রেখেছেন মানিক-রতন। তবে নামের সঙ্গে ষাঁড় দুটির, খাবার-দাবার ও আচার-আচরণেও রয়েছে বেশ মিল।

তাদের থাকার ঘরে রয়েছে দুটি সিলিং ফ্যান আর মশারি। তাদের নিয়মিত খাবারের তালিকায় রয়েছে খড়, ভুষি, কাঁচা ঘাস, মালটা, পেয়ারা, কলা, মিষ্টি কুমরা ও মিষ্টি আলু। রোগ-জীবাণুর হাত থেকে বাঁচতে প্রতিদিন তাদেরকে সাবান ও শ্যাম্পু দিয়ে গোসল করানো হয়। তাদের প্রতিদিন দেখতে বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষজন আসছেন। আর খামার করার পরামর্শ নিচ্ছেন।

হামিদা বলেন, মানিক-রতনকে আমরা চার বছর যাবত লালন-পালন করে আসছি। গত বছরও কোরবানির হাটে বিক্রি করিনি। তাদের অতি যত্নে লালন-পালন করেছি। নাম ধরে ডাকলে মাথা ও কান নাড়িয়ে সাড়া দেয়। যেহেতু সারা দেশে সরকার ঘোষিত কঠোর লকডাউন চলছে সেজন্য এর ন্যায্যমূল্য নিয়ে শঙ্কিত। আমরা বাড়ি থেকেই তাদের বিক্রি করার চেষ্টা করছি। সেক্ষেত্রে আমরা নিজ খরচে তাদের বাড়ি পৌঁছে দিব।

নাগরপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ডাক্তার মো.সোহেল রানা বলেন, আসন্ন কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে বেশ কয়েকজন খামারি কিছু বড় ষাঁড় প্রস্তুত করেছেন। তার মধ্যে গাজুটিয়া এলাকার হামিদ মাস্টারের মানিক-রতন অন্যতম। সম্পূর্ণ দেশীয় পদ্ধতি অবলম্বন করে ষাঁড় দুটি ঈদুল আজহার জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। এখন ন্যায্যমূল্য পেলে খামার মালিকরা উপকৃত হবেন।

তিনি বলেন, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের মাধ্যমে আমরা অনলাইন কোরবানির হাট নাগরপুর নামে একটি পেজ খুলেছি। তার মাধ্যমেও খামারিরা তাদের গরু-ছাগল বিক্রি করতে পারবেন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন