সেপটিক ট্যাংকে ঢুকিয়ে হত্যার অভিযোগ, মালিকের ভাইয়ের বিরুদ্ধে মামলা
jugantor
সেপটিক ট্যাংকে ঢুকিয়ে হত্যার অভিযোগ, মালিকের ভাইয়ের বিরুদ্ধে মামলা

  কাঁঠালিয়া (ঝালকাঠি) প্রতিনিধি  

০৮ জুলাই ২০২১, ০০:৫৫:৫৮  |  অনলাইন সংস্করণ

ঝালকাঠির কাঁঠালিয়ার মহিষকান্দিতে সেপটিক ট্যাংকির ভিতরে সেন্টারিং খুলতে গিয়ে কাঠমিস্ত্রী মারা যাওয়ার ঘটনা গোপন রেখে প্রতিবেশী মজনু মিয়াকে বাড়ি থেকে জোর করে ধরে নিয়ে ট্যাংকির মধ্যে ঢুকিয়ে হত্যা করার অভিযোগে মামলা হয়েছে।

বুধবার রাত নয়টায় নিহত মজনু মিয়ার বাবা শাহদৎ হোসেন বাদি হয়ে বাড়ির মালিক ফ্রান্স প্রবাসী মিরাজ খানের ছোটভাই পলাশ খানকে (২৮) প্রধান আসামি করে কাঁঠালিয়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

পলাশ খান পূর্ব মহিষকান্দি গ্রামের আলতাফ হোসেন খানের পুত্র। এ মামলায় অপর দুই আসামি হচ্ছে, পলাশ খানের সহযোগী চেঁচরী রামপুর গ্রামের মোজাম্মেল মিয়া ছেলে ইলিয়াস মিয়া ও ওরফে গাঞ্জা ইলিয়াছ (২৯) এবং একই গ্রামের হারুন মিয়ার ছেলে রিপন ওরফে গাঙ্গুয়া রিপনকে (২৮)।

মামলার বিবরণে জানা যায়, উপজেলার পূর্ব মহিষকান্দি গ্রামের ফ্রান্স প্রবাসী মিরাজ খানের নির্মাণাধীন ভবণের সেপটিক ট্যাংকি প্রায় মাস পূর্বে তৈরি করা হয়। এতে আসাদুল (৩০) নামের রাজমিস্ত্রী কাজ করেন।

মঙ্গলবার সকালে ওই ট্যাংকির সেন্টরিং খোলার জন্য মিস্ত্রী আসাদুল ভিতরে নামার কয়েক মিনিটের ব্যবধানে দম বন্ধ হয়ে মারা যায়। বাড়ির মালিকের ছোট ভাই পলাশ খান ও তার লোকজন মিস্ত্রি আসাদুলের মৃত্যু নিন্চিত হয়ে এ ঘটনা গোপন রেখে পাশের বাড়ির সামনে গিয়ে দোকানে চা-রুটি খাওয়ারত অবস্থায় মজনু মিয়া (২৫) নামের এক যুবককে জোর করে ধরে নিয়ে এসে ট্যাংকির মধ্যে সাপ ঢুকছে বলে লাঠি নিয়ে জোরপূর্বেক ঢুকিয়ে দেয়।

ট্যাংকির ভিতরে নেমে মজনু আসাদুলের লাশ দেখে চিৎকার দিয়ে দৌড়ে উপরে ওঠার চেষ্টা করলে পলাশ ও তার দুই সহযোগী ইলিয়াস ও রিপন মজনুর মাথা চেপে আবার ট্যাংকির ভিতের পাঠিয়ে দিয়ে আসাদুলের লাশ তুলে নিয়ে আসার জন্য বলে। ভিতরে যাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যে মজনু মিয়াও মারা যায়।

এ সময় মজনুর ছোট বোন ও চাচিসহ স্বজনরা ট্যাংকির ভিতর থেকে মজনুকে উদ্ধারের জন্য বারবার নামার চেষ্টা করলে পলাশ খান ও তার লোকজন নামতে বাঁধা প্রদান ও মারধর করে। এদিকে মজনুকে উদ্ধারের কোন ব্যবস্থা না করে পলাশ খান বাড়ির বাইরে গিয়ে কিছুক্ষণ পর শুভ (২২) নামে এক প্রতিবেশীকে নিয়ে আসে এবং তার মুখে গামছা ও কোমরে দড়ি বেঁধে ট্যাংকির ভিতরে পাঠানো হয়।

শুভ ওই দড়ি দিয়ে মিস্ত্রি আসাদুল ও মজনুর লাশ বেঁধে দেয়ার পর লাশ দুটি ট্যাংকি থেকে ওঠানো হয়। এরই মধ্যে শুভ অসুস্থ হয়ে জ্ঞান হারালে তাকে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়।

পলাশ খান ঘটনা অন্যদিকে নেওয়ার উদ্দেশ্যে কৌশলে চিকিৎসার অজুহাতে লাশ দুইটি ভান্ডারিয়া হাসপাতালে নিয়ে যায়।

কাঁঠালিয়া থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) পুলক চন্দ্র রায় জানান, মহিষকান্দি এলাকায় সেপটিক ট্যাংকির সেন্টারিং খুলতে গিয়ে মিস্ত্রীসহ দুই ব্যক্তি দম বন্ধ হয়ে মারা যায়। এদের মধ্যে মজনুকে জোর করে সেপটিকক ট্যাংকির মধ্যে ঢুকিয়ে হত্যা করার অভিযোগে তার বাবা বাড়ির মালিকের ছোটভাই পলাশ খানসহ তিনজনকে আসামি করে মামলা করেছেন। আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা করা হচ্ছে।

সেপটিক ট্যাংকে ঢুকিয়ে হত্যার অভিযোগ, মালিকের ভাইয়ের বিরুদ্ধে মামলা

 কাঁঠালিয়া (ঝালকাঠি) প্রতিনিধি 
০৮ জুলাই ২০২১, ১২:৫৫ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ

ঝালকাঠির কাঁঠালিয়ার মহিষকান্দিতে সেপটিক ট্যাংকির ভিতরে সেন্টারিং খুলতে গিয়ে কাঠমিস্ত্রী মারা যাওয়ার ঘটনা গোপন রেখে প্রতিবেশী মজনু মিয়াকে বাড়ি থেকে জোর করে ধরে নিয়ে ট্যাংকির মধ্যে ঢুকিয়ে হত্যা করার অভিযোগে মামলা হয়েছে। 

বুধবার রাত নয়টায় নিহত মজনু মিয়ার বাবা শাহদৎ হোসেন বাদি হয়ে বাড়ির মালিক ফ্রান্স প্রবাসী মিরাজ খানের ছোটভাই পলাশ খানকে (২৮) প্রধান আসামি করে কাঁঠালিয়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। 

পলাশ খান পূর্ব মহিষকান্দি গ্রামের আলতাফ হোসেন খানের পুত্র। এ মামলায় অপর দুই আসামি হচ্ছে, পলাশ খানের সহযোগী চেঁচরী রামপুর গ্রামের মোজাম্মেল মিয়া ছেলে ইলিয়াস মিয়া ও ওরফে গাঞ্জা ইলিয়াছ (২৯) এবং একই গ্রামের হারুন মিয়ার ছেলে রিপন ওরফে গাঙ্গুয়া রিপনকে (২৮)। 

মামলার বিবরণে জানা যায়, উপজেলার পূর্ব মহিষকান্দি গ্রামের ফ্রান্স প্রবাসী মিরাজ খানের নির্মাণাধীন ভবণের সেপটিক ট্যাংকি প্রায় মাস পূর্বে তৈরি করা হয়। এতে আসাদুল (৩০) নামের রাজমিস্ত্রী কাজ করেন। 

মঙ্গলবার সকালে ওই ট্যাংকির সেন্টরিং খোলার জন্য মিস্ত্রী আসাদুল ভিতরে নামার কয়েক মিনিটের ব্যবধানে দম বন্ধ হয়ে মারা যায়। বাড়ির মালিকের ছোট ভাই পলাশ খান ও তার লোকজন মিস্ত্রি আসাদুলের মৃত্যু নিন্চিত হয়ে এ ঘটনা গোপন রেখে পাশের বাড়ির সামনে গিয়ে দোকানে চা-রুটি খাওয়ারত অবস্থায় মজনু মিয়া (২৫) নামের এক যুবককে জোর করে ধরে নিয়ে এসে ট্যাংকির মধ্যে সাপ ঢুকছে বলে লাঠি নিয়ে জোরপূর্বেক ঢুকিয়ে দেয়।

ট্যাংকির ভিতরে নেমে মজনু আসাদুলের লাশ দেখে চিৎকার দিয়ে দৌড়ে উপরে ওঠার চেষ্টা করলে পলাশ ও তার দুই সহযোগী ইলিয়াস ও রিপন মজনুর মাথা চেপে আবার ট্যাংকির ভিতের পাঠিয়ে দিয়ে আসাদুলের লাশ তুলে নিয়ে আসার জন্য বলে। ভিতরে যাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যে মজনু মিয়াও মারা যায়। 

এ সময় মজনুর ছোট বোন ও চাচিসহ স্বজনরা ট্যাংকির ভিতর থেকে মজনুকে উদ্ধারের জন্য বারবার নামার চেষ্টা করলে পলাশ খান ও তার লোকজন নামতে বাঁধা প্রদান ও মারধর করে। এদিকে মজনুকে উদ্ধারের কোন ব্যবস্থা না করে পলাশ খান বাড়ির বাইরে গিয়ে কিছুক্ষণ পর শুভ (২২) নামে এক প্রতিবেশীকে নিয়ে আসে এবং তার মুখে গামছা ও কোমরে দড়ি বেঁধে ট্যাংকির ভিতরে পাঠানো হয়।  

শুভ ওই দড়ি দিয়ে মিস্ত্রি আসাদুল ও মজনুর লাশ বেঁধে দেয়ার পর লাশ দুটি ট্যাংকি থেকে ওঠানো হয়। এরই মধ্যে শুভ অসুস্থ হয়ে জ্ঞান হারালে তাকে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়। 

পলাশ খান ঘটনা অন্যদিকে নেওয়ার উদ্দেশ্যে কৌশলে চিকিৎসার অজুহাতে লাশ দুইটি ভান্ডারিয়া হাসপাতালে নিয়ে যায়।

কাঁঠালিয়া থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) পুলক চন্দ্র রায় জানান, মহিষকান্দি এলাকায় সেপটিক ট্যাংকির সেন্টারিং খুলতে গিয়ে মিস্ত্রীসহ দুই ব্যক্তি দম বন্ধ হয়ে মারা যায়। এদের মধ্যে মজনুকে জোর করে সেপটিকক ট্যাংকির মধ্যে ঢুকিয়ে হত্যা করার অভিযোগে তার বাবা বাড়ির মালিকের ছোটভাই পলাশ খানসহ তিনজনকে আসামি করে মামলা করেছেন। আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা করা হচ্ছে।
 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন