এক একরামের পরিবর্তে আরেক একরাম চাই না: কাদের মির্জা
jugantor
এক একরামের পরিবর্তে আরেক একরাম চাই না: কাদের মির্জা

  কোম্পানীগঞ্জ (নোয়াখালী) প্রতিনিধি  

০৮ জুলাই ২০২১, ১৭:৩৭:৫১  |  অনলাইন সংস্করণ

নোয়াখালীর বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা অপরাজনীতির হোতারা সবাই তার বিরুদ্ধে একাট্টা হয়েছে দাবি করে বলেন, একরাম অপরাজনীতি করে তাই বলে তাকে বাদ দিয়ে আরেক একরাম নেতৃত্বে আসুক সেটা আমি চাই না। আমি নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের গুণগত পরিবর্তন চাই।

বুধবার রাত সাড়ে ৯টায় নিজের ফেসবুক লাইভে এসে তিনি এসব কথা বলেন।

দলীয় ত্যাগী, সৎ ও যোগ্য ব্যক্তিদের নাম সম্বলিত নিজের পছন্দের লোকদের দিয়ে জেলা আওয়ামী লীগের কমিটি তৈরি করে দলীয় সভানেত্রীর কাছে (প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা) একটি প্রস্তাবিত কমিটি পাঠিয়েছেন বলে দাবি করেছেন মেয়র আবদুল কাদের মির্জা। যেহেতু নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের নতুন কমিটি অনুমোদন হয়নি, সেহেতু আগের কমিটি বহাল আছে। তাই আমি ওই কমিটির সহ-সভাপতি হিসেবে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক বরাবর জেলা আওয়ামী লীগের নতুন প্রস্তাবিত কমিটি পাঠিয়েছি।

কাদের মির্জা বলেন, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাধারণ সম্পাদক যদি কমিটি প্রস্তাব করতে পারেন, তাহলে আমি বিগত কমিটির সহ-সভাপতি বহাল থাকা অবস্থায় কেন প্রস্তাবিত কমিটি দিতে পারব না। আমিও তো আওয়ামী লীগের একজন সদস্য। ওই ক্ষমতাবলে আমিও একটি কমিটি প্রস্তাব করেছি।

কাদের মির্জা আরও বলেন, জেলার দুই হাজার লোক কমিটিতে থাকার উপযুক্ত। সবাইকে তো রাখতে পারব না। তবে কয়েক জনের সঙ্গে আলাপ করে একটি কমিটি প্রস্তাব করেছি। এর মধ্যে তার নিজের এলাকার কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে তাদের প্রস্তাবিত কমিটিতে রাখা হয়েছে বলেও তিনি জানান।

এর মধ্যে ঢাকার ব্যবসায়ী সাবেক ছাত্র ও যুবলীগ নেতা গোলাম শরীফ চৌধুরী পিপল, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহাব উদ্দিন, প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা ইস্কান্দার হায়দার চৌধুরী বাবুল, অ্যাডভোকেট শংকর ভৌমিক ও আমেরিকা প্রবাসী আইয়ুব আলীর নাম উল্লেখ করেছেন। তবে কাদের মির্জার প্রস্তাবিত ওই কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে কাদের নাম প্রস্তাব করা হয়েছে তা তিনি প্রকাশ করেননি।

কাদের মির্জা আরও বলেন, নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের এখনো পূর্ণাঙ্গ কমিটি না থাকার কারণে বর্তমানে পুরো জেলায় আওয়ামী রাজনীতিতে স্থবিরতা নেমে এসেছে। ১৭ মাস পূর্বে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণা ব্যতীত দলীয় গঠনতন্ত্র মোতাবেক ৭৫ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি এখনো অনুমোদিত হয়নি। একটা কমিটি করা হয়েছে, তা পকেট কমিটি। এ কমিটি আমি মানি না।

অপরাজনীতির হোতারা যারা একরামের পক্ষে আছে, তারা এবং বিপক্ষে যারা আছে তারাও সবাই একজোট হয়েছে। এ জোট অপরাজনীতিকে পুনর্বাসন করার জন্য। এ কমিটি নিয়ে জাতীয় পর্যায়ের কিছু নেতা রাজনীতি করে আওয়ামী লীগের রাজনীতিকে ধ্বংস ও শেষ করে দিয়েছে। এখানে দৌরাত্ম্য চালাচ্ছে অপরাজনীতির হোতারা। কেন্দ্রীয় কমিটি সৃষ্টি করা এ সমস্যা সমাধানের পথ এখন খুঁজে পাচ্ছে না।

কাদের মির্জা আরও বলেন, অপরাজনীতির পক্ষে অবস্থান নিয়ে আবারো যেন কমিটি না হয়- সেই ষড়যন্ত্র চলছে। নীতি-নৈতিকতা বাদ দিয়ে যার পক্ষে অবস্থা নেয়া হচ্ছে সে যদি অপরাজনীতির হোতা না হয়, আমি যদি প্রমাণ না করতে পারি তাহলে দল আমার বিরুদ্ধে যে ব্যবস্থা নেয়, তা আমি মাথা পেতে নেব।

নেতাদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আপনাদের বিভাজনের কারণে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ আজ সংকটের মধ্যে পড়েছে। এখন দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনা হচ্ছেন শেষ ঠিকানা ও ভরসারস্থল। তার কাছে আহ্বান নোয়াখালীর রাজনীতি গতিশীল করার লক্ষ্যে অচিরেই তিনি যেন কমিটি ঘোষণা করেন।

তিনি দুঃখ ও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কিছু জাতীয় নেতা টাকা খেয়ে এমপি একরামুল করিম চৌধুরীকে প্রশ্রয় দেয়, দুঃসাহস জোগায়। এজন্যই সে মাতাল অবস্থায় যাকে-তাকে যা তা গালাগালি ও চরিত্র হরণ করে যাচ্ছে। দলীয় এমপি ও জেলা সাধারণ সম্পাদক হয়ে তিনি যা ইচ্ছা তা করছেন। মদপান অবস্থায় আমাকেও রাজাকার পরিবারের সন্তান বলার সাহস করেছেন।

এক একরামের পরিবর্তে আরেক একরাম চাই না: কাদের মির্জা

 কোম্পানীগঞ্জ (নোয়াখালী) প্রতিনিধি 
০৮ জুলাই ২০২১, ০৫:৩৭ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

নোয়াখালীর বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা অপরাজনীতির হোতারা সবাই তার বিরুদ্ধে একাট্টা হয়েছে দাবি করে বলেন, একরাম অপরাজনীতি করে তাই বলে তাকে বাদ দিয়ে আরেক একরাম নেতৃত্বে আসুক সেটা আমি চাই না। আমি নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের গুণগত পরিবর্তন চাই।

বুধবার রাত সাড়ে ৯টায় নিজের ফেসবুক লাইভে এসে তিনি এসব কথা বলেন।

দলীয় ত্যাগী, সৎ ও যোগ্য ব্যক্তিদের নাম সম্বলিত নিজের পছন্দের লোকদের দিয়ে জেলা আওয়ামী লীগের কমিটি তৈরি করে দলীয় সভানেত্রীর কাছে (প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা) একটি প্রস্তাবিত কমিটি পাঠিয়েছেন বলে দাবি করেছেন মেয়র আবদুল কাদের মির্জা। যেহেতু নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের নতুন কমিটি অনুমোদন হয়নি, সেহেতু আগের কমিটি বহাল আছে। তাই আমি ওই কমিটির সহ-সভাপতি হিসেবে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক বরাবর জেলা আওয়ামী লীগের নতুন প্রস্তাবিত কমিটি পাঠিয়েছি।

কাদের মির্জা বলেন, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাধারণ সম্পাদক যদি কমিটি প্রস্তাব করতে পারেন, তাহলে আমি বিগত কমিটির সহ-সভাপতি বহাল থাকা অবস্থায় কেন প্রস্তাবিত কমিটি দিতে পারব না। আমিও তো আওয়ামী লীগের একজন সদস্য। ওই ক্ষমতাবলে আমিও একটি কমিটি প্রস্তাব করেছি।

কাদের মির্জা আরও বলেন, জেলার দুই হাজার লোক কমিটিতে থাকার উপযুক্ত। সবাইকে তো রাখতে পারব না। তবে কয়েক জনের সঙ্গে আলাপ করে একটি কমিটি প্রস্তাব করেছি। এর মধ্যে তার নিজের এলাকার কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে তাদের প্রস্তাবিত কমিটিতে রাখা হয়েছে বলেও তিনি জানান।

এর মধ্যে ঢাকার ব্যবসায়ী সাবেক ছাত্র ও যুবলীগ নেতা গোলাম শরীফ চৌধুরী পিপল, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহাব উদ্দিন, প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা ইস্কান্দার হায়দার চৌধুরী বাবুল, অ্যাডভোকেট শংকর ভৌমিক ও আমেরিকা প্রবাসী আইয়ুব আলীর নাম উল্লেখ করেছেন। তবে কাদের মির্জার প্রস্তাবিত ওই কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে কাদের নাম প্রস্তাব করা হয়েছে তা তিনি প্রকাশ করেননি।

কাদের মির্জা আরও বলেন, নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের এখনো পূর্ণাঙ্গ কমিটি না থাকার কারণে বর্তমানে পুরো জেলায় আওয়ামী রাজনীতিতে স্থবিরতা নেমে এসেছে। ১৭ মাস পূর্বে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণা ব্যতীত দলীয় গঠনতন্ত্র মোতাবেক ৭৫ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি এখনো অনুমোদিত হয়নি। একটা কমিটি করা হয়েছে, তা পকেট কমিটি। এ কমিটি আমি মানি না।
 
অপরাজনীতির হোতারা যারা একরামের পক্ষে আছে, তারা এবং বিপক্ষে যারা আছে তারাও সবাই একজোট হয়েছে। এ জোট অপরাজনীতিকে পুনর্বাসন করার জন্য। এ কমিটি নিয়ে জাতীয় পর্যায়ের কিছু নেতা রাজনীতি করে আওয়ামী লীগের রাজনীতিকে ধ্বংস ও শেষ করে দিয়েছে। এখানে দৌরাত্ম্য চালাচ্ছে অপরাজনীতির হোতারা। কেন্দ্রীয় কমিটি সৃষ্টি করা এ সমস্যা সমাধানের পথ এখন খুঁজে পাচ্ছে না।

কাদের মির্জা আরও বলেন, অপরাজনীতির পক্ষে অবস্থান নিয়ে আবারো যেন কমিটি না হয়- সেই ষড়যন্ত্র চলছে। নীতি-নৈতিকতা বাদ দিয়ে যার পক্ষে অবস্থা নেয়া হচ্ছে সে যদি অপরাজনীতির হোতা না হয়, আমি যদি প্রমাণ না করতে পারি তাহলে দল আমার বিরুদ্ধে যে ব্যবস্থা নেয়, তা আমি মাথা পেতে নেব।

নেতাদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আপনাদের বিভাজনের কারণে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ আজ সংকটের মধ্যে পড়েছে। এখন দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনা হচ্ছেন শেষ ঠিকানা ও ভরসারস্থল। তার কাছে আহ্বান নোয়াখালীর রাজনীতি গতিশীল করার লক্ষ্যে অচিরেই তিনি যেন কমিটি ঘোষণা করেন।

তিনি দুঃখ ও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কিছু জাতীয় নেতা টাকা খেয়ে এমপি একরামুল করিম চৌধুরীকে প্রশ্রয় দেয়, দুঃসাহস জোগায়। এজন্যই সে মাতাল অবস্থায় যাকে-তাকে যা তা গালাগালি ও চরিত্র হরণ করে যাচ্ছে। দলীয় এমপি ও জেলা সাধারণ সম্পাদক হয়ে তিনি যা ইচ্ছা তা করছেন। মদপান অবস্থায় আমাকেও রাজাকার পরিবারের সন্তান বলার সাহস করেছেন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : আবদুল কাদের মির্জা

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন