বাবাকে বাঁচাতে পারলেন না সাতক্ষীরার ওলিউল
jugantor
অক্সিজেন আনতে গিয়ে পুলিশের হাতে আটক
বাবাকে বাঁচাতে পারলেন না সাতক্ষীরার ওলিউল

  সাতক্ষীরা প্রতিনিধি  

০৯ জুলাই ২০২১, ০০:২৫:৪৩  |  অনলাইন সংস্করণ

করোনায় আক্রান্ত বাবার জন্য শহর থেকে অক্সিজেন আনতে গিয়ে পুলিশের হাতে আটক থাকায় বাবাকে হারিয়েছেন সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বৈচনা গ্রামের ওলিউল ইসলাম।

মাত্র ২০০ টাকা ঘুষ দিয়ে দুই ঘণ্টা পর বাড়িতে ফিরে গিয়ে তিনি দেখতে পেলেন অক্সিজেনের অভাবে মৃত বাবা রজব আলীর (৬৫) নিথর দেহ। বৃহস্পতিবার দুপুরে নির্মম এ ঘটনা ঘটেছে সাতক্ষীরা শহরের ইটাগাছা মোড়ে।

ওলিউল ইসলাম জানান, করোনার উপসর্গ নিয়ে তার বৃদ্ধ বাবা রজব আলী মারাত্মকভাবে শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। জেলা পরিষদের সদস্য আল ফেরদৌস আলফার কাছ থেকে একটি অক্সিজেন সিলিন্ডার দান হিসাবে গ্রহণ করার জন্য বৈচনা গ্রাম থেকে মোটরসাইকেলে সাতক্ষীরায় যাচ্ছিলেন তিনি।

ইটাগাছায় পৌঁছালে স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই সুভাষ চন্দ্র তার গাড়ির কাগজপত্র আছে কিনা তা দেখার জন্য তাকে আটক করেন। এরপর দুই হাজার টাকার ঘুষ দাবি করেন তিনি। কিন্তু এই টাকা না থাকায় দুই ঘণ্টা পর স্থানীয়দের সহযোগিতায় এএসআইকে ২০০ টাকা ঘুষ দিয়ে মুক্তি পান ওলিউল ইসলাম।

পরে অক্সিজেন সিলিন্ডারটি নিয়ে দ্রুত বাড়ি ফিরে গিয়ে দেখতে পান তার বাবার নিথর মরদেহ পড়ে আছে।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, পুলিশ আমাকে আটকে না রাখলে হয়তো বাবাকে বাঁচাতে পারতাম। আমি ওই পুলিশ কর্মকর্তার বিচার দাবি করছি।

তবে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ইটাগাছা পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই সুভাষচন্দ্র বলেন, দুই ঘণ্টা নয়, তকে কয়েক মিনিট দাঁড় করিয়ে কাগজপত্র দেখছিলাম। পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। ঘুষ গ্রহণের কথা অস্বীকার করেন তিনি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাতক্ষীরা সদর থানার ওসি দেলোয়ার হুসেন জানান, প্রাথমিক তদন্তের পর এএসআই সুভাষচন্দ্রকে পুলিশ লাইন্সে ক্লোজড করা হয়েছে।

অপরদিকে ঘটনার তদন্তে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সজীব খানকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

অক্সিজেন আনতে গিয়ে পুলিশের হাতে আটক

বাবাকে বাঁচাতে পারলেন না সাতক্ষীরার ওলিউল

 সাতক্ষীরা প্রতিনিধি 
০৯ জুলাই ২০২১, ১২:২৫ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ

করোনায় আক্রান্ত বাবার জন্য শহর থেকে অক্সিজেন আনতে গিয়ে পুলিশের হাতে আটক থাকায় বাবাকে হারিয়েছেন সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বৈচনা গ্রামের ওলিউল ইসলাম।

মাত্র ২০০ টাকা ঘুষ দিয়ে দুই ঘণ্টা পর বাড়িতে ফিরে গিয়ে তিনি দেখতে পেলেন অক্সিজেনের অভাবে মৃত বাবা রজব আলীর (৬৫) নিথর দেহ। বৃহস্পতিবার দুপুরে নির্মম এ ঘটনা ঘটেছে সাতক্ষীরা শহরের ইটাগাছা মোড়ে।

ওলিউল ইসলাম জানান, করোনার উপসর্গ নিয়ে তার বৃদ্ধ বাবা রজব আলী মারাত্মকভাবে শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। জেলা পরিষদের সদস্য আল ফেরদৌস আলফার কাছ থেকে একটি অক্সিজেন সিলিন্ডার দান হিসাবে গ্রহণ করার জন্য বৈচনা গ্রাম থেকে মোটরসাইকেলে সাতক্ষীরায় যাচ্ছিলেন তিনি।

ইটাগাছায় পৌঁছালে স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই সুভাষ চন্দ্র তার গাড়ির কাগজপত্র আছে কিনা তা দেখার জন্য তাকে আটক করেন। এরপর দুই হাজার টাকার ঘুষ দাবি করেন তিনি। কিন্তু এই টাকা না থাকায় দুই ঘণ্টা পর স্থানীয়দের সহযোগিতায় এএসআইকে ২০০ টাকা ঘুষ দিয়ে মুক্তি পান ওলিউল ইসলাম।

পরে অক্সিজেন সিলিন্ডারটি নিয়ে দ্রুত বাড়ি ফিরে গিয়ে দেখতে পান তার বাবার নিথর মরদেহ পড়ে আছে।  

কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, পুলিশ আমাকে আটকে না রাখলে হয়তো বাবাকে বাঁচাতে পারতাম। আমি ওই পুলিশ কর্মকর্তার বিচার দাবি করছি।

তবে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ইটাগাছা পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই সুভাষচন্দ্র বলেন, দুই ঘণ্টা নয়, তকে কয়েক মিনিট দাঁড় করিয়ে কাগজপত্র দেখছিলাম। পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। ঘুষ গ্রহণের কথা অস্বীকার করেন তিনি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাতক্ষীরা সদর থানার ওসি দেলোয়ার হুসেন জানান, প্রাথমিক তদন্তের পর এএসআই সুভাষচন্দ্রকে পুলিশ লাইন্সে ক্লোজড করা হয়েছে।

অপরদিকে ঘটনার তদন্তে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সজীব খানকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন