আবারও ডিম পেড়েছে খানজাহানের কুমির

  বাগেরহাট প্রতিনিধি ৩০ এপ্রিল ২০১৮, ২২:০৯ | অনলাইন সংস্করণ

কুমির

বাগেরহাট শহরতলীতে হজরত খানজাহান (রহ.) মাজার শরীফের দিঘীর মিঠা পানির মা কুমির আবারও ডিম পেড়েছে।

খানজাহানের দিঘির মা কুমির আবারও ৬০-৭০টি ডিম পেড়ে বাচ্চা ফোটানোর চেষ্টা করছে এমন খবরে সোমবার সংবাদকর্মীরা ছুটে যান খানজাহানের মাজারে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, রোদের মধ্যে দিঘীর উত্তর পাড়ে মা কুমিরটি মাটি আঁকড়ে আছে। সেখানে গর্ত খুঁড়ে ডিম ঢেকে রেখেছে ওই মা কুমিরটি। শনি ও রোববার ডিম পাড়ার পর এখন বাচ্চা ফোটানোর জন্য ‘তা’ দিচ্ছে।

আগ্রহী মানুষ কাছে গেলেই তেড়ে আসছে কুমিরটি। সেখানে বাঁশের বেড়া দিয়ে ঘিরে রেখেছে মাজারের খাদেমরা। কুমিরের ডিম দেখতে দেখতে দর্শনার্থীদের ভিড় অনেকটা বেড়েছে খানজাহানের মাজারে।

মা কুমিরটি ডিম মাটির ধুলো দিয়ে ঢেকে রেখে বাচ্চা ফুটাবার জন্য ‘তা’ দিতে থাকায় ডিমের সঠিক সংখ্যার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এবার খানজাহানের মাজার শরীফের দীঘির কুমিরের ডিম থেকে বাচ্চা জম্ম নেবে এমন প্রত্যাশা করছেন মাজারের খাদেমরা।

হজরত খানজাহান (রহ.) আমল থেকে প্রায় সাড়ে ৬০০ বছর ধরে মাজারের দিঘীতে ‘কালাপাড়’ ও ‘ধলাপাড়’ নামের মিঠা পানির কুমির বংশ পরম্পরা (মার্স কোকোডাইল) বসবাস করে আসছে। তবে ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে হযরত খানজাহানের আমরের কুমিরের শেষ বংশধরটি মারা যায়। বর্তমানে দিঘিতে কালাপাড় ও ধলাপাড়ের কোনো বংশধর নেই।

২০০৫ সালে ভারতের মাদ্রাজ কোকোডাইল ফার্ম থেকে পাওয়া ৪০টি মিঠা পানির কুমিরছানার মধ্যে ছয়টি কুমির খানজাহানের দিঘিতে ছাড়া হয়েছে। ওই সময়ে ছাড়া মা ও পুরুষ কুমিরগুলোই এখন এই দিঘিতে বসবাস করছে।

মা কুমিরটি কয়েক বছর ধরে দীঘির পাড়ে উঠে ডিম পাড়লেও তা থেকে বাচ্চা ফুটছে না। প্রাকৃতিক ও কৃত্রিম ভাবে ইনকিউবেটরে নিয়ন্ত্রিত তাপমাত্রায় ডিম রেখে চেষ্টা করেও বাচ্চা ফোটানো যায়নি।

হযরত খানজাহানের মাজারের প্রধান খাদেম শের আলী ফকির জানান, গত শনিবার রাতে ও রোববার মা দিঘির উত্তর পাড়ে গর্ত খুঁড়ে আনুমানিক ৬০-৭০টি ডিম পেড়েছে। ওই ডিম ধুলামাটি দিয়ে ঢেকে বাচ্চা ফোটাতে জন্য এখন ‘তা’ দিচ্ছে মা কুমিরটি। মাঝেমধ্যে খুব অল্পসময়ের জন্য কুমিরটি দিঘিতে নেমে আবার ফিরে আসছে ডিমে তা দিতে। আগামী আগস্ট মাস পর্যন্ত কুমিরটি ডিমে তা দেবার পর বাচ্চা জন্মাবে এমন প্রত্যাশা মাজারের প্রধান খাদেমের।

মাজারের প্রধান খাদেম আরও জানান, হজরত খানজাহান (রহ.) এ দিঘীতে কালাপাড় ও ধলাপাড় নামে দুটি কুমির লালন-পালন করতেন। ওই জুটির কোনো বংশধর এখন আর বেঁচে নেই। এখন ভারত সরকারের দেয়া মিঠা পানির কুমির এখন দিঘীর শেষ সম্বল।

কয়েক বছর ধরে এই দীঘির মাদি কুমির ডিম পাড়লেও তাতে বাচ্চা ফুটছে না।

কুমিরের বংশবৃদ্ধি না হলে দিঘিটি তার সাড়ে ৬০০ বছরের ঐতিহ্য হারাবে। তাই দিঘীতে কুমিরের বংশবৃদ্ধি ও সংরক্ষণের জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানান তিনি।

দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে হযরত খানজাহানের মাজারে ঘুরতে আসা শফিক আহমেদ. সোহরাব হোসেন, আ. রহমান, সালমা বেগম, মহিদুল ইসলামসহ কয়েকজন দর্শনার্থীরা জানান, তাদের বিশ্বাস দিঘির কুমিরের জন্য মানত করলে হযরত খানজাহানের কৃপায় মনোবাসনা পূর্ণ হয়। সে বিশ্বাস নিয়েই তারা বিভিন্ন সময় মাজারে আসেন। কুমিরকে হাঁস-মুরগিও খেতে দিচ্ছেন। দিঘীর কুমিরকে ঘিরেই তাদের আগ্রহ অনেক বেশি। তাই দিঘীতে কুমির সংরক্ষণের দাবি জানান তারা।

বাগেরহাট জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সাইফুজ্জামান খান জানান, দিঘিতে বর্তমানে মিঠা পানি প্রজাতির একটি পুরুষ ও একটি মা কুমির রয়েছে। কয়েক বছর ধরে প্রাকৃতিক ও কৃত্রিমভাবে চেষ্টা করেও ডিম থেকে বাচ্চা ফোটানো যায়নি। মা কুমিরটিকে চিকিৎসাও দেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, এ ব্যাপারে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শও নেয়া হয়েছে। পুরুষ প্রজাতির কুমিরটির শুক্রাণু মা কুমিরটির ডিম্বাণুতে যথাযথভাবে প্রতিস্থাপন না হবার ফলে ডিম থেকে বাচ্চা ফুটছে না। তা ছাড়া শতভাগ সুষ্ঠু পরিবেশ না থাকায় পুরুষ কুমিরটির শুক্রাণুর সক্ষমতা কমে যেতে পারে।

বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক তপন কুমার বিশ্বাস জানান, কুমির খানজাহানের দিঘির ঐতিহ্য। কুমিরের ডিম থেকে বাচ্চা ফোটানোর জন্য কয়েক বছর ধরে নানাভাবে চেষ্টা করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে প্রাণিসম্পদ বিভাগের চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেয়া হচ্ছে। কী কারণে বাচ্চা ফুটছে না তা জানার চেষ্টা করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, দিঘীর ঐতিহ্য ধরে রাখতে কুমিরের বংশবৃদ্ধির জন্য সরকারের সর্বোচ্চ চেষ্টা অব্যাহত থাকবে। তাই ইতিমধ্যে খানজাহানের দিঘি থেকে দুটি কুমির সুন্দরবনের করমজল কুমির প্রজনন কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সুন্দরবনের করমজল থেকে কুমির এনে দিঘীতে সংরক্ষণের জন্য বন বিভাগের সঙ্গে আলোচনা করা হচ্ছে।

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter