আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সংঘর্ষের খবর
jugantor
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সংঘর্ষের খবর

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

০৯ জুলাই ২০২১, ১৮:০১:০৯  |  অনলাইন সংস্করণ

ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা দ্বৈরথ মানেই বাড়তি উত্তেজনা। মার-মার কাট-কাট অবস্থা। দু'দলের খেলায় গ্যালারিতে দর্শকদের মারামারির ঘটনা অনেক ঘটেছে।

এমনকি মাঠের ফুটবলাররাও সংঘর্ষে লিপ্ত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ১৯৪৬ সালের সাউথ আমেরিকান চ্যাম্পিয়নশিপে হাই ইন্টেনসিটির ম্যাচে দু’দলের খেলোয়াড়দের মারামারির ঘটনা ফুটবল ইতিহাসকে কলঙ্কিত করেছে।

ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা দ্বৈরথের সেই উত্তেজনার প্রভাব পড়েছে হাজার মাইল দূরের বাংলাদেশেও। পেলে-ম্যারাডোনা, রোনালদো-বাতিস্তুতার সময়েও যে উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করত বাংলাদেশে, বর্তমানে মেসি-নেইমারদের দ্বৈরথেও সেই উত্তাপ একটুও কমেনি ।

চলমান কোপা আমেরিকায় সেই বিষয়টি সুস্পষ্ট। বাংলাদেশে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা ম্যাচ মানেই উন্মাদনা। দুই দলের সমর্থকদের মধ্যে কথাকাটাকাটি স্বাভাবিক ব্যাপার। তবে মাঝেমধ্যে ঘটে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা।

বাকবিতণ্ডা থেকে তা হাতাহাতির পর্যায়ে চলে যায়। এমনকি বেদম পিটুনির মতো ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালের দারস্থ হতে হয়।

কোপা আমেরিকার ফাইনালে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা মুখোমুখি হওয়া নিয়ে সম্প্রতি কয়েকটি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায়। যেখানে ৩ আর্জেন্টিনা সমর্থককে ব্রাজিলভক্তরা বেদম পিটিয়ে আহত করার ঘটনা ঘটেছে।

এর আগে নওয়াব মিয়া নামে এক ব্রাজিল সমর্থকের আর্জেন্টিনাভক্তদের হামলায় মাথা ফেটে যায়। হাসপাতালে দিতে হয় সেলাই।

এ ঘটনাগুলো নিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা খবর প্রকাশ করেছে। এছাড়া ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা ফাইনাল নিয়ে বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েনের খবরও প্রকাশ করে তারা।

এরপরই তা বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে।

এএফপির সংবাদে বলা হয়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ এমরানুল ইসলাম তাদের জানিয়েছেন- ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার মধ্যে কোন দেশ ভালো খেলে, তা নিয়ে তর্কে হাতাহাতি হয় দুটি ছেলের মধ্যে। তাদের সঙ্গে যোগ দেন আরও কিছু ভক্ত।

এএফপি আরও লিখেছে- এই পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কোপার ফাইনাল হবে ব্রাজিলের মারাকানা স্টেডিয়ামে। সেখান থেকে প্রায় ১৫ হাজার কিলোমিটার দূরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দুই দেশের এই ফাইনাল নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সদা সতর্ক রয়েছে। অনাকাঙিক্ষত ঘটনা এড়াতে বড় পর্দায় এ ম্যাচ দেখতে পারবেন না বলে গ্রামবাসীকে বলা হয়েছে। ফাইনালের সময় গ্রামবাসীকে জমায়েত হয়ে খেলা দেখতে নিষেধ করা হয়েছে।

এএফপিতে এ প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিশ্বজুড়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর নজরে পড়েছে বিষয়টি।

আর্জেন্টিনার একমাত্র ইংরেজি ভাষার সংবাদমাধ্যম ‘বুয়েনস এইরেস টাইমস’ এএফিপির বরাতে এ সংবাদ তাদের অনলাইনের ক্রীড়া বিভাগে বেশ গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করেছে।

তারা লিখেছে, ‘কোপা আমেরিকা আর বিশ্বকাপের সময় বাংলাদেশের ১৬ কোটি জনগণের মাঝে ফুটবল উন্মাদনার সৃষ্টি হয়। লাখ লাখ ব্রাজিল এবং আর্জেন্টিনার সমর্থক তাদের প্রিয় দলের পতাকা নিজেদের বাড়িতে এবং রাস্তায় স্থাপন করে। মাঝেমধ্যে দুই পক্ষে সংঘর্ষও হয়। ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপের সময় দেশটিতে ১২ বছর বয়সী এক ব্রাজিল সমর্থক রাস্তায় পতাকা ওড়াতে গিয়ে মারা যান। তাছাড়া অন্য একটি ঘটনায় দুই পক্ষের সংঘর্ষে এক পিতা ও তার পুত্র মারাত্মক আহত হন।’

ফ্রান্সের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম ‘ফ্রান্স ২৪’-এর অনলাইন মাধ্যমেও এ খবর প্রকাশ করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের অনলাইন সংবাদমাধ্যম ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস টাইমসেও খবরটি প্রকাশ করা হয়।

এছাড়া মিসরের সংবাদমাধ্যম ‘আল-আরহাম’-এর অনলাইন সংস্করণেও এ খবর প্রকাশ করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সংঘর্ষের খবর

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
০৯ জুলাই ২০২১, ০৬:০১ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা দ্বৈরথ মানেই বাড়তি উত্তেজনা। মার-মার কাট-কাট অবস্থা। দু'দলের খেলায় গ্যালারিতে দর্শকদের মারামারির ঘটনা অনেক ঘটেছে।

এমনকি মাঠের ফুটবলাররাও সংঘর্ষে লিপ্ত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ১৯৪৬ সালের সাউথ আমেরিকান চ্যাম্পিয়নশিপে হাই ইন্টেনসিটির ম্যাচে  দু’দলের খেলোয়াড়দের মারামারির ঘটনা ফুটবল ইতিহাসকে কলঙ্কিত করেছে।

ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা দ্বৈরথের সেই উত্তেজনার প্রভাব পড়েছে হাজার মাইল দূরের বাংলাদেশেও। পেলে-ম্যারাডোনা, রোনালদো-বাতিস্তুতার সময়েও যে উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করত বাংলাদেশে, বর্তমানে মেসি-নেইমারদের দ্বৈরথেও সেই উত্তাপ একটুও কমেনি ।

চলমান কোপা আমেরিকায় সেই বিষয়টি সুস্পষ্ট। বাংলাদেশে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা ম্যাচ মানেই উন্মাদনা। দুই দলের সমর্থকদের মধ্যে কথাকাটাকাটি স্বাভাবিক ব্যাপার। তবে মাঝেমধ্যে ঘটে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা।

বাকবিতণ্ডা থেকে তা হাতাহাতির পর্যায়ে চলে যায়। এমনকি বেদম পিটুনির মতো ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালের দারস্থ হতে হয়।

কোপা আমেরিকার ফাইনালে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা মুখোমুখি হওয়া নিয়ে সম্প্রতি কয়েকটি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে  ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায়।  যেখানে ৩ আর্জেন্টিনা সমর্থককে ব্রাজিলভক্তরা বেদম পিটিয়ে আহত করার ঘটনা ঘটেছে।

এর আগে নওয়াব মিয়া নামে এক ব্রাজিল সমর্থকের আর্জেন্টিনাভক্তদের হামলায় মাথা ফেটে যায়। হাসপাতালে দিতে হয় সেলাই।

এ ঘটনাগুলো নিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা খবর প্রকাশ করেছে। এছাড়া ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা ফাইনাল নিয়ে বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েনের খবরও প্রকাশ করে তারা।

এরপরই  তা বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে।

 

এএফপির সংবাদে বলা হয়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ এমরানুল ইসলাম তাদের জানিয়েছেন- ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার মধ্যে কোন দেশ ভালো খেলে, তা নিয়ে তর্কে হাতাহাতি হয় দুটি ছেলের মধ্যে। তাদের সঙ্গে যোগ দেন আরও কিছু ভক্ত।

এএফপি আরও লিখেছে- এই পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কোপার ফাইনাল হবে ব্রাজিলের মারাকানা স্টেডিয়ামে। সেখান থেকে প্রায় ১৫ হাজার কিলোমিটার দূরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দুই দেশের এই ফাইনাল নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সদা সতর্ক রয়েছে। অনাকাঙিক্ষত ঘটনা এড়াতে বড় পর্দায় এ ম্যাচ দেখতে পারবেন না বলে গ্রামবাসীকে বলা হয়েছে। ফাইনালের সময় গ্রামবাসীকে জমায়েত হয়ে খেলা দেখতে নিষেধ করা হয়েছে।

এএফপিতে এ প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিশ্বজুড়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর নজরে পড়েছে বিষয়টি।

আর্জেন্টিনার একমাত্র ইংরেজি ভাষার সংবাদমাধ্যম ‘বুয়েনস এইরেস টাইমস’ এএফিপির বরাতে এ সংবাদ তাদের অনলাইনের ক্রীড়া বিভাগে বেশ গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করেছে।

তারা লিখেছে, ‘কোপা আমেরিকা আর বিশ্বকাপের সময় বাংলাদেশের ১৬ কোটি জনগণের মাঝে ফুটবল উন্মাদনার সৃষ্টি হয়। লাখ লাখ ব্রাজিল এবং আর্জেন্টিনার সমর্থক তাদের প্রিয় দলের পতাকা নিজেদের বাড়িতে এবং রাস্তায় স্থাপন করে। মাঝেমধ্যে দুই পক্ষে সংঘর্ষও হয়। ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপের সময় দেশটিতে ১২ বছর বয়সী এক ব্রাজিল সমর্থক রাস্তায় পতাকা ওড়াতে গিয়ে মারা যান। তাছাড়া অন্য একটি ঘটনায় দুই পক্ষের সংঘর্ষে এক পিতা ও তার পুত্র মারাত্মক আহত হন।’

ফ্রান্সের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম ‘ফ্রান্স ২৪’-এর অনলাইন মাধ্যমেও এ খবর প্রকাশ করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের অনলাইন সংবাদমাধ্যম ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস টাইমসেও খবরটি প্রকাশ করা হয়।

এছাড়া মিসরের সংবাদমাধ্যম ‘আল-আরহাম’-এর অনলাইন সংস্করণেও এ খবর প্রকাশ করা হয়েছে।

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন