রাঙ্গাবালী আ.লীগের কমিটি নিয়ে বিতর্ক, পদবঞ্চিতদের ক্ষোভ
jugantor
রাঙ্গাবালী আ.লীগের কমিটি নিয়ে বিতর্ক, পদবঞ্চিতদের ক্ষোভ

  পটুয়াখালী ও রাঙ্গাবালী প্রতিনিধি  

১০ জুলাই ২০২১, ১১:৫২:২৬  |  অনলাইন সংস্করণ

রাঙ্গাবালী আ.লীগের কমিটি নিয়ে বিতর্ক, পদবঞ্চিতদের ক্ষোভ

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলা আওয়ামী লীগের নব-গঠিত কমিটি নিয়ে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। প্রকৃত ও ত্যাগীদের বাদ দিয়ে জামায়াত-বিএনপি পরিবারের সদস্যকে ওই কমিটিতে সাংগঠনিক পদ দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

নতুন কমিটিতে পদ পাওয়া ফরহাদ হোসেন জামায়াতের একজন নিয়মিত অর্থদাতা বলে দাবি করেন পদবঞ্চিতরা। ওই কমিটির বিরুদ্ধে উপজেলা লীগের সাবেক আইন বিষয় সম্পাদক মো. আবু জাফরসহ অনেকেই কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগের পাশাপাশি পদবঞ্চিতরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।

অভিযোগে বলা হয়- ২০১৯ সালের ২৯ নভেম্বর সম্মেলনের মাধ্যমে রাঙ্গাবালী উপজেলা আওয়ামী লীগে সভাপতি পদে অধ্যক্ষ মো. দেলোয়ার হোসেন এবং সম্পাদক পদে সাইদুজ্জামান মামুন নির্বাচিত হন। এরপর অজ্ঞাত কারণে পূর্ণাঙ্গ কমিটি আটকে থাকে।

গত ৩০ জুন জেলা থেকে ৭১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি অনুমোদন দেয়া হয়। ওই কমিটিতে সাংগঠনিক পদে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের এক পরিচালক মো. ফরহাদ হোসেনকে সাংগঠনিক সম্পাদক পদে বসানো হয়েছে।
মূলত ফরহাদের বাবা মো. হানিফ সর্দার বর্তমানে একই উপজেলার বড়বাইশদা ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি এবং তার চাচা অ্যাডভোকেট মো. দেলোয়ার হোসেন জামায়াত ইসলামীর নেতা।

একই অভিযোগ বড়বাইশদা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ওমর ফারুকসহ অনেকের।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ফরহাদ জামায়াত ইসলামী সংগঠনের একজন নিয়মিত অর্থদাতা। তৎকালীন সময়ে ফরহাদ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদলের সঙ্গে জড়িত ছিল। ‘বায়তুল মাল’ জামায়াত ইসলামী নামের একটি অর্থ পরিশোধের রশিদে দাতা হিসেবে ফরহাদের নাম রয়েছে এবং ওই রশিদের অনুকূলে ফরহাদ এক লাখ ২০ হাজার টাকা প্রদান করেছেন। এভাবে নিয়মিত ফরহাদ জামায়াত ইসলামকে অর্থ সহায়তা দিয়ে আসতো। এরকম লোক দলে পদ পেলে সেটা যেমন সংগঠন পরিপন্থী তেমনি দলের জন্য অশনি সংকেত।

এ ব্যাপারে ফরহাদ হোসেন বলেন, আমি তৎকালীন সময়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে ছিলাম। এছাড়া রাঙ্গবালী উপজেলা যুবলীগের সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা ঈর্ষান্বিত হয়ে মনগড়া অভিযোগ করছে।

এ প্রসঙ্গে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যক্ষ মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, পদবঞ্চিতরা তো অভিযোগ করবেই। কমিটি গঠনে ভুল হলে সেটা সংশোধন হবে।

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী আলমগীর ও সম্পাদক ভিপি আব্দুল মান্নান বলেন, তথ্য গোপন করে কেউ যদি কমিটিতে স্থান পায়, তবে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তাছাড়া কমিটি গঠনের সময় এ বিষয়ে কেউ তাকে অবহিত করেননি। তাছাড়া পদ বঞ্চিতরা অভিযোগ করবেই।

রাঙ্গাবালী আ.লীগের কমিটি নিয়ে বিতর্ক, পদবঞ্চিতদের ক্ষোভ

 পটুয়াখালী ও রাঙ্গাবালী প্রতিনিধি 
১০ জুলাই ২০২১, ১১:৫২ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ
রাঙ্গাবালী আ.লীগের কমিটি নিয়ে বিতর্ক, পদবঞ্চিতদের ক্ষোভ
ফাইল ছবি

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলা আওয়ামী লীগের নব-গঠিত কমিটি নিয়ে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। প্রকৃত ও ত্যাগীদের বাদ দিয়ে জামায়াত-বিএনপি পরিবারের সদস্যকে ওই কমিটিতে সাংগঠনিক পদ দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

নতুন কমিটিতে পদ পাওয়া ফরহাদ হোসেন জামায়াতের একজন নিয়মিত অর্থদাতা বলে দাবি করেন পদবঞ্চিতরা। ওই কমিটির বিরুদ্ধে উপজেলা লীগের সাবেক আইন বিষয় সম্পাদক মো. আবু জাফরসহ অনেকেই কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগের পাশাপাশি পদবঞ্চিতরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।

অভিযোগে বলা হয়- ২০১৯ সালের ২৯ নভেম্বর সম্মেলনের মাধ্যমে রাঙ্গাবালী উপজেলা আওয়ামী লীগে সভাপতি পদে অধ্যক্ষ মো. দেলোয়ার হোসেন এবং সম্পাদক পদে সাইদুজ্জামান মামুন নির্বাচিত হন। এরপর অজ্ঞাত কারণে পূর্ণাঙ্গ কমিটি আটকে থাকে।

গত ৩০ জুন জেলা থেকে ৭১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি অনুমোদন দেয়া হয়। ওই কমিটিতে সাংগঠনিক পদে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের এক পরিচালক মো. ফরহাদ হোসেনকে সাংগঠনিক সম্পাদক পদে বসানো হয়েছে।
মূলত ফরহাদের বাবা মো. হানিফ সর্দার বর্তমানে একই উপজেলার বড়বাইশদা ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি এবং তার চাচা অ্যাডভোকেট মো. দেলোয়ার হোসেন জামায়াত ইসলামীর নেতা।

একই অভিযোগ বড়বাইশদা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ওমর ফারুকসহ অনেকের।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ফরহাদ জামায়াত ইসলামী সংগঠনের একজন নিয়মিত অর্থদাতা। তৎকালীন সময়ে ফরহাদ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদলের সঙ্গে জড়িত ছিল। ‘বায়তুল মাল’ জামায়াত ইসলামী নামের একটি অর্থ পরিশোধের রশিদে দাতা হিসেবে ফরহাদের নাম রয়েছে এবং ওই রশিদের অনুকূলে ফরহাদ এক লাখ ২০ হাজার টাকা প্রদান করেছেন। এভাবে নিয়মিত ফরহাদ জামায়াত ইসলামকে অর্থ সহায়তা দিয়ে আসতো। এরকম লোক দলে পদ পেলে সেটা যেমন সংগঠন পরিপন্থী তেমনি দলের জন্য অশনি সংকেত।

এ ব্যাপারে ফরহাদ হোসেন বলেন, আমি তৎকালীন সময়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে ছিলাম। এছাড়া রাঙ্গবালী উপজেলা যুবলীগের সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা ঈর্ষান্বিত হয়ে মনগড়া অভিযোগ করছে।

এ প্রসঙ্গে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যক্ষ মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, পদবঞ্চিতরা তো অভিযোগ করবেই। কমিটি গঠনে ভুল হলে সেটা সংশোধন হবে।

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী আলমগীর ও সম্পাদক ভিপি আব্দুল মান্নান বলেন, তথ্য গোপন করে কেউ যদি কমিটিতে স্থান পায়, তবে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তাছাড়া কমিটি গঠনের সময় এ বিষয়ে কেউ তাকে অবহিত করেননি। তাছাড়া পদ বঞ্চিতরা অভিযোগ করবেই।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন