‘হাটোত খাড়া হবার দেয় না, দাবর খায়া ফিরি আসি’
jugantor
‘হাটোত খাড়া হবার দেয় না, দাবর খায়া ফিরি আসি’

  কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি  

১১ জুলাই ২০২১, ১৮:৩৩:৫২  |  অনলাইন সংস্করণ

‘আইজ চাইর হাট থাকি গরু নিয়া ঘুরব্যার নাগছি। যে হাটে যাই দাবর (ধাওয়া) খায়া ফিরি আসি। হাটোত খাড়া হবার দেয় না। গরু বেচাই কেমন করি। এলা গরু কিনি ভালোই বিপদোত পরলোং।’

এক নি:শ্বাসে কথাগুলো বললেন- উলিপুরের গরু ব্যবসায়ী ফজলুল হক।

একদিকে লকডাউন অন্যদিকে কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে গরু কিনে বিপদে পড়েছেন গরুর বেপারি-পাইকাররা। এক হাট থেকে আরেক হাটে যাচ্ছেন। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর অবস্থানের কারণে হাটে গরু বিক্রি করতে পারছেন না। হাট জমে ওঠার আগেই ধাওয়া খেয়ে পালিয়ে আসছেন গরু নিয়ে। কখনো কখনো পথেই কাটাচ্ছেন ঘণ্টার পর ঘণ্টা।

ফজলুল হকের সঙ্গে দেখা হয় রাজারহাট উপজেলার সিঙ্গেরডাবড়ি এলাকায় কুড়িগ্রাম-তিস্তা সড়কে। নছিমনযোগে তিনটি গরু নিয়ে উলিপুর থেকে যাচ্ছিলেন কাউনিয়ার টেপা মধুপুর হাটে। কিন্তু পথিমধ্যে ইজারাদারের ফোন পেয়ে রাস্তায় দাঁড়িয়ে যান। এক লাইনে ১০টি নছিমন দাঁড়িয়ে রাস্তার উপর। প্রায় ৫০টি গরু নিয়ে ২০-২৫ জন বেপারি রাস্তার পাশে বসে অপেক্ষা করছেন ইজারাদারের ‘ক্লিয়ারেন্স’ পাওয়ার অপেক্ষায়।

উলিপুরের গুনাইগাছ এলাকার বাসিন্দা মো. শাহজামাল জানান, চর ও গ্রাম থেকে তারা গরুগুলো কিনেছেন লাভের আশায়। গত ৭ দিনে পর‌্যায়ক্রমে উলিপুর, দুর্গাপুর ও বড়বাড়ি হাটে গেছেন। সব জায়গায় হাট জমে ওঠার আগেই ধাওয়া খেয়ে চলে এসেছেন।

বেপারিরা জানান, নছিমন ভাড়া আর গরুর খাদ্য কিনতে বাড়তি খরচ জোগাতে গিয়ে গরুতে খরচ পড়ছে বেশি। অথচ দাম অনেক কমে গেছে। ক্রেতাই মিলছে না। ক্রেতার অপেক্ষায় দু-এক ঘণ্টা কাটাতেই হাট ভেঙে যাচ্ছে। এখন লাভ তো দূরের কথা কত লোকসান হয় তা নিয়েই চিন্তিত সবাই।

গরুর বেপারি এনামুল, শফিকুল, মোকলেছারসহ সবার দাবি, স্বাস্থ্যবিধি মেনে তাদের গরু বেচা-কেনা করার সুযোগও দেয়া হোক। তা না হলে তারা চরম ক্ষতিতে পড়বেন।

অবশ্য কুড়িগ্রামের প্রশাসন বলছে ভিন্নকথা। জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আব্দুল হাই সরকার জানান, জেলায় ১ লাখ ৩০ হাজার গবাদি পশু প্রস্তুত; যা স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে অন্য জেলায় যাবে। গরু যাতে নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারে সে ব্যাপারে পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রেজাউল করিম জানিয়েছেন, সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে হাটে গরু কেনা-বেচায় কোনো বাধা নেই। হাট সম্প্রসারণ করে বেচাকেনার জন্য ২৬টি গরুর হাটে ইজারাদারদের বিশেষ নির্দেশনা দেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। এছাড়া অনলাইনে গবাদিপশু বিক্রির বিশেষ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

‘হাটোত খাড়া হবার দেয় না, দাবর খায়া ফিরি আসি’

 কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি 
১১ জুলাই ২০২১, ০৬:৩৩ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

‘আইজ  চাইর হাট থাকি গরু নিয়া ঘুরব্যার নাগছি। যে হাটে যাই দাবর (ধাওয়া) খায়া ফিরি আসি। হাটোত খাড়া হবার দেয় না। গরু বেচাই কেমন করি। এলা গরু কিনি ভালোই বিপদোত পরলোং।’

এক নি:শ্বাসে কথাগুলো বললেন- উলিপুরের গরু ব্যবসায়ী ফজলুল হক।

একদিকে লকডাউন অন্যদিকে কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে গরু কিনে বিপদে পড়েছেন গরুর বেপারি-পাইকাররা। এক হাট থেকে আরেক হাটে যাচ্ছেন। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর অবস্থানের কারণে হাটে গরু বিক্রি করতে পারছেন না। হাট জমে ওঠার আগেই ধাওয়া খেয়ে পালিয়ে আসছেন গরু নিয়ে। কখনো কখনো পথেই কাটাচ্ছেন ঘণ্টার পর ঘণ্টা।

ফজলুল হকের সঙ্গে দেখা হয় রাজারহাট উপজেলার সিঙ্গেরডাবড়ি এলাকায় কুড়িগ্রাম-তিস্তা সড়কে। নছিমনযোগে তিনটি গরু নিয়ে উলিপুর থেকে যাচ্ছিলেন কাউনিয়ার টেপা মধুপুর হাটে। কিন্তু পথিমধ্যে ইজারাদারের ফোন পেয়ে রাস্তায় দাঁড়িয়ে যান। এক লাইনে ১০টি নছিমন দাঁড়িয়ে রাস্তার উপর। প্রায় ৫০টি গরু নিয়ে ২০-২৫ জন বেপারি রাস্তার পাশে বসে অপেক্ষা করছেন ইজারাদারের ‘ক্লিয়ারেন্স’ পাওয়ার অপেক্ষায়।

উলিপুরের গুনাইগাছ এলাকার বাসিন্দা মো. শাহজামাল জানান, চর ও গ্রাম থেকে তারা গরুগুলো কিনেছেন লাভের আশায়। গত ৭ দিনে পর‌্যায়ক্রমে উলিপুর, দুর্গাপুর ও বড়বাড়ি হাটে গেছেন। সব জায়গায় হাট জমে ওঠার আগেই ধাওয়া খেয়ে চলে এসেছেন।

বেপারিরা জানান, নছিমন ভাড়া আর গরুর খাদ্য কিনতে বাড়তি খরচ জোগাতে গিয়ে গরুতে খরচ পড়ছে বেশি। অথচ দাম অনেক কমে গেছে। ক্রেতাই মিলছে না। ক্রেতার অপেক্ষায় দু-এক ঘণ্টা কাটাতেই হাট ভেঙে যাচ্ছে। এখন লাভ তো দূরের কথা কত লোকসান হয় তা নিয়েই চিন্তিত সবাই। 

গরুর বেপারি এনামুল, শফিকুল, মোকলেছারসহ সবার দাবি, স্বাস্থ্যবিধি মেনে তাদের গরু বেচা-কেনা করার সুযোগও দেয়া হোক। তা না হলে তারা চরম ক্ষতিতে পড়বেন।

অবশ্য কুড়িগ্রামের প্রশাসন বলছে ভিন্নকথা। জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আব্দুল হাই সরকার জানান, জেলায় ১ লাখ ৩০ হাজার গবাদি পশু প্রস্তুত; যা স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে অন্য জেলায় যাবে। গরু যাতে নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারে সে ব্যাপারে পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রেজাউল করিম জানিয়েছেন, সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে হাটে গরু কেনা-বেচায় কোনো বাধা নেই। হাট সম্প্রসারণ করে বেচাকেনার জন্য ২৬টি গরুর হাটে ইজারাদারদের বিশেষ নির্দেশনা দেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। এছাড়া অনলাইনে গবাদিপশু বিক্রির বিশেষ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন