হাতুড়ির টুং টাং শব্দে মুখর কামারশালা
jugantor
হাতুড়ির টুং টাং শব্দে মুখর কামারশালা

  মো. আবু তালেব, হাটহাজারী (চট্টগ্রাম)  

১৩ জুলাই ২০২১, ১১:৫০:৫৫  |  অনলাইন সংস্করণ

কামারশালা

ঘামছে কামার, পুড়েছে লোহা; তৈরি হচ্ছে ছুরি-বঁটি-দা। কামারশালাগুলো কোরবানি সামনে রেখে সরব হয়েছে। তাই ভাঁতির ফাঁসফুস আর হাতুড়ি পেটার ঠুকঠাক ও টুং টাং শব্দে মুখর কামারশালাগুলো।

গত সপ্তাহখানেক ধরে এমন ব্যস্ততা বেড়েছে হাটহাজারী পৌরসভা ও উপজেলার কয়েক শতাধিক কামারের দোকানে। তবে করোনাকালে ক্রেতা সমাগম না থাকায় কামারদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে।

মঙ্গলবার সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, পৌরসভার অধিকাংশ বাজারে কর্মকাররা পশুর মাংস কাটাকাটি আর চামড়া ছড়ানোর কাজে ব্যবহৃত, ছুরি, বঁটি ও দাসহ কিছু ধারালো জিনিস তৈরিতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। তারা দিবারাত্রি অবিরত মাংসকর্তন সামগ্রী তৈরিতে দম ফেলার ফুরসত পাচ্ছেন না। তবে এসব তৈরিতে আধুনিকতার ছোঁয়া লাগেনি। সেকেলে পুরনো নিয়মেই চলছে আগুনে পুড়ে লোহা হতে ধারালো মাংসকর্তন সামগ্রী তৈরির কাজ।

এ ক্ষেত্রে লোহার মানভেদে স্প্রিং লোহা ৫০০ টাকা ও নরমাল ৩০০ টাকা। পশুর চামড়া ছাড়ানো ছুরি ১৫০-২০০ টাকা, ২৫০-৩০০ টাকা, বঁটি সাড়ে ৩৫০-৪০০ টাকা এবং পশু জবাইয়ের ছুরি ৫০০-১০০০ হাজার টাকায় বিক্রি হয় বলে জানান কামাররা। এ ছাড়া বিভিন্ন সাইজের, ছুরি লোহার ওজনের ওপর ভিত্তি করেও বিক্রি করা হচ্ছে। ছোট ছুরি থেকে শুরু করে বড় কিরিচ, ধামায় শান দেওয়ার জন্য কাজের গুণাগুণের ওপর ভিত্তি করে ৪০-১৮০ টাকা পর্যন্ত, ছুরি ৫০-৮০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে।

কোরবানি উপলক্ষ্যে ছুরি মেরামত করতে আসা ব্যবসায়ী মো. ইব্রাহিম সওদাগর, মো. ইসমাইল মুন্সি ও মো. ছাবের সওদাগর জানান, দেশের অন্যান্য বিভাগের চেয়ে এই চট্টগ্রামের মানুষ বেশ ভোজন প্রিয়। দেশের একটি বৃহৎ অংশ কোরবানি হয় চট্টগ্রামে। এর মধ্যে হাটহাজারী উপজেলা অন্যতম। তাই সবাই কোরবানিতে পশুর মাংস কাটাছেঁড়া করার জন্য দা, বঁটি, ছুরি, ধামা, কিরিচ ইত্যাদি মেরামত করতে এ সময়ে কামারশালায় ভিড় করেন, তারাও আসছেন।

এদিকে কাজের ফাঁকে পৌর এলাকার কাছারি রোডের বিকাশ দাশ (৫২) নামে এক কর্মকারের সঙ্গে কথা হয়। তিনি জানান, পৈতৃক সূত্রে এ পেশায় আসা। দীর্ঘ ২০ বছর কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে যাচ্ছেন। কোরবানি এলে কাজ বাড়ে। তবে অনেক গ্রাহক সঠিক মূল্য দেন না। এর মধ্যে করোনাকালে ক্রেতা সমাগম বিগত বছরের তুলনায় অনেকাংশে কম। তৎমধ্যে উচ্চ মূল্যে কয়লা, লোহা ও স্টিলের মালামাল কিনে করোনাকালে ক্রেতা কম থাকায় বিনিয়োগকৃত পুঁজি উঠানো নিয়ে মারাত্মক ঝুঁকিতে আছি।

এ ছাড়া হাটহাজারী বাজারের কাজল কর্মকার (৫০) জানান, সারা বছর কাজ খুব কম থাকে, তবে কোরবানি এলে কাজ বাড়ে। অনেক গ্রাহক সঠিক মূল্য দেন না। তার মধ্যে করোনাকালে প্রত্যাশা নিয়ে হাটবাজারে ক্রেতা না থাকায় ওইসব সরঞ্জাম বিক্রি কমে যাওয়ায় বিনিয়োগকৃত পুঁজি উঠানো নিয়ে মারাত্মক ঝুঁকিতে আছি।

হাতুড়ির টুং টাং শব্দে মুখর কামারশালা

 মো. আবু তালেব, হাটহাজারী (চট্টগ্রাম) 
১৩ জুলাই ২০২১, ১১:৫০ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ
কামারশালা
ছবি: যুগান্তর

ঘামছে কামার, পুড়েছে লোহা; তৈরি হচ্ছে ছুরি-বঁটি-দা। কামারশালাগুলো কোরবানি সামনে রেখে সরব হয়েছে। তাই ভাঁতির ফাঁসফুস আর হাতুড়ি পেটার ঠুকঠাক ও টুং টাং শব্দে মুখর কামারশালাগুলো।

গত সপ্তাহখানেক ধরে এমন ব্যস্ততা বেড়েছে হাটহাজারী পৌরসভা ও উপজেলার কয়েক শতাধিক কামারের দোকানে। তবে করোনাকালে ক্রেতা সমাগম না থাকায় কামারদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে।  

মঙ্গলবার সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, পৌরসভার অধিকাংশ বাজারে কর্মকাররা পশুর মাংস কাটাকাটি আর চামড়া ছড়ানোর কাজে ব্যবহৃত, ছুরি, বঁটি ও দাসহ কিছু ধারালো জিনিস তৈরিতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। তারা দিবারাত্রি অবিরত মাংসকর্তন সামগ্রী তৈরিতে দম ফেলার ফুরসত পাচ্ছেন না। তবে এসব তৈরিতে আধুনিকতার ছোঁয়া লাগেনি। সেকেলে পুরনো নিয়মেই চলছে আগুনে পুড়ে লোহা হতে ধারালো মাংসকর্তন সামগ্রী তৈরির কাজ।

এ ক্ষেত্রে লোহার মানভেদে স্প্রিং লোহা ৫০০ টাকা ও নরমাল ৩০০ টাকা। পশুর চামড়া ছাড়ানো ছুরি ১৫০-২০০ টাকা, ২৫০-৩০০ টাকা, বঁটি সাড়ে ৩৫০-৪০০ টাকা এবং পশু জবাইয়ের ছুরি ৫০০-১০০০ হাজার টাকায় বিক্রি হয় বলে জানান কামাররা। এ ছাড়া বিভিন্ন সাইজের, ছুরি লোহার ওজনের ওপর ভিত্তি করেও বিক্রি করা হচ্ছে। ছোট ছুরি থেকে শুরু করে বড় কিরিচ, ধামায় শান দেওয়ার জন্য কাজের গুণাগুণের ওপর ভিত্তি করে ৪০-১৮০ টাকা পর্যন্ত, ছুরি ৫০-৮০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে।

কোরবানি উপলক্ষ্যে ছুরি মেরামত করতে আসা ব্যবসায়ী মো. ইব্রাহিম সওদাগর, মো. ইসমাইল মুন্সি ও মো. ছাবের সওদাগর জানান, দেশের অন্যান্য বিভাগের চেয়ে এই চট্টগ্রামের মানুষ বেশ ভোজন প্রিয়। দেশের একটি বৃহৎ অংশ কোরবানি হয় চট্টগ্রামে। এর মধ্যে হাটহাজারী উপজেলা অন্যতম। তাই সবাই কোরবানিতে পশুর মাংস কাটাছেঁড়া করার জন্য দা, বঁটি, ছুরি, ধামা, কিরিচ ইত্যাদি মেরামত করতে এ সময়ে কামারশালায় ভিড় করেন, তারাও আসছেন।

এদিকে কাজের ফাঁকে পৌর এলাকার কাছারি রোডের বিকাশ দাশ (৫২) নামে এক কর্মকারের সঙ্গে কথা হয়। তিনি জানান, পৈতৃক সূত্রে এ পেশায় আসা। দীর্ঘ ২০ বছর কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে যাচ্ছেন। কোরবানি এলে কাজ বাড়ে। তবে অনেক গ্রাহক সঠিক মূল্য দেন না। এর মধ্যে করোনাকালে ক্রেতা সমাগম বিগত বছরের তুলনায় অনেকাংশে কম। তৎমধ্যে উচ্চ মূল্যে কয়লা, লোহা ও স্টিলের মালামাল কিনে করোনাকালে ক্রেতা কম থাকায় বিনিয়োগকৃত পুঁজি উঠানো নিয়ে মারাত্মক ঝুঁকিতে আছি।

এ ছাড়া হাটহাজারী বাজারের কাজল কর্মকার (৫০) জানান, সারা বছর কাজ খুব কম থাকে, তবে কোরবানি এলে কাজ বাড়ে। অনেক গ্রাহক সঠিক মূল্য দেন না। তার মধ্যে করোনাকালে প্রত্যাশা নিয়ে হাটবাজারে ক্রেতা না থাকায় ওইসব সরঞ্জাম বিক্রি কমে যাওয়ায় বিনিয়োগকৃত পুঁজি উঠানো নিয়ে মারাত্মক ঝুঁকিতে আছি।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন