ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় যমুনা গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যানের মৃত্যুবার্ষিকী পালন
jugantor
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় যমুনা গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যানের মৃত্যুবার্ষিকী পালন

  যুগান্তর প্রতিবেদন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া  

১৩ জুলাই ২০২১, ২২:১৮:১৪  |  অনলাইন সংস্করণ

দেশের শিল্প জগতের পুরোধা ব্যক্তিত্ব, অন্যতম বৃহৎ শিল্প গ্রুপ যমুনা গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, দৈনিক যুগান্তরের স্বপ্নদ্রষ্টা, বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলামের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পালিত হয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুরে দৈনিক যুগান্তরের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা স্টাফ রিপোর্টার সাব্বির আহমেদ সুবীরের উদ্যোগে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের পশ্চিম পাইকপাড়ায় মোহাম্মদী (সা.) এতিমখানায় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া, কোরআন খতম ও ভোজের আয়োজন করা হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন- বাংলাভিশনের ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি আশিকুল ইসলাম, মোহাম্মদী (সা.) এতিমখানার প্রধান শিক্ষক মাওলানা মো. রায়খান উদ্দিন, কোষাধ্যক্ষ আলহাজ মো. মোজাম্মেল হক, হেফজ শাখার প্রধান হাফেজ মাওলানা আবুল কাশেম।

আলোচনায় বক্তারা বলেন, গত বছরের এই দিনে আমাদের শোকের সাগরে ভাসিয়ে চলে গেছেন নুরুল ইসলাম। আমরা শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় আজ তাকে স্মরণ করছি।

তার মৃত্যু দেশের শিল্প ও সেবা খাতের জন্য একটি বিরাট দুঃসংবাদ বয়ে এনেছিল। এটি দেশের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।

নুরুল ইসলামের সবচেয়ে বড় অবদান হলো, তিনি অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার মাধ্যমে কেবল দেশের অর্থনীতির ভিতকেই সুদৃঢ় করেননি, একই সঙ্গে বিপুলসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাও করে দিয়েছেন। বর্তমানে লক্ষাধিক মানুষ কর্মরত আছেন যমুনা গ্রুপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে। সেদিক থেকে দেশের আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে তার ভূমিকা অনন্য। শিল্পপ্রতিষ্ঠান পরিচালনার ক্ষেত্রে তিনি ব্যবসার সব নিয়ম-কানুন ও শৃঙ্খলা মেনে চলেছেন। নিয়মের বাইরে একচুলও যাননি, সব প্রতিষ্ঠান নিয়মতান্ত্রিকভাবে পরিচালনা করেছেন।

নুরুল ইসলাম ছিলেন আধুনিক চিন্তার একজন সাহসী উদ্যোক্তা। তিনি ১৯৭৪ সালে যমুনা গ্রুপ প্রতিষ্ঠা করেন। এ গ্রুপে রয়েছে মোট ৪১টি প্রতিষ্ঠান। তিনি ছিলেন একজন সফল স্বপ্নচারী মানুষ। নিজের উদ্ভাবনী চিন্তাকে বাস্তবে রূপ দিতে সচেষ্ট ছিলেন তিনি। এশিয়ার সবচেয়ে বড় শপিংমল যমুনা ফিউচার পার্ক এবং নির্মাণাধীন মেরিয়টস হোটেল এর জ্বলন্ত উদাহরণ।

দেশের শিল্প ও সেবা খাতে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে যমুনা গ্রুপ। ইলেকট্রনিক্স, বস্ত্র, ওভেন গার্মেন্টস, রাসায়নিক, চামড়া, মোটরসাইকেল, বেভারেজ টয়লেট্রিজ, নির্মাণ ও আবাসন খাতের ব্যবসায় শীর্ষস্থানে রয়েছে এই গ্রুপ। দৈনিক যুগান্তর ও যমুনা টেলিভিশনেরও প্রতিষ্ঠাতা নুরুল ইসলাম।

নুরুল ইসলাম সৎ ও নীতির প্রতি ছিলেন একনিষ্ঠ। শুধু শিল্পপ্রতিষ্ঠান পরিচালনার ক্ষেত্রেই নয়; সমাজ, রাষ্ট্র, রাজনীতি-সব ক্ষেত্রেই তিনি ছিলেন দুর্নীতি ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার। দৈনিক যুগান্তরকে তিনি গড়ে তুলেছেন ‘সত্যের সন্ধানে নির্ভীক’ একটি সংবাদপত্র হিসেবে। সাদাকে সাদা এবং কালোকে কালো বলার প্রত্যয় নিয়ে এগিয়ে চলেছে যুগান্তর।

এক্ষেত্রে তিনি সাংবাদিকদের সব ধরনের প্রভাবের ঊর্ধ্বে থেকে দায়িত্ব পালনে উৎসাহ দিয়েছেন। শুরু থেকে এ পর্যন্ত যুগান্তর সেই নীতিতেই অটল রয়েছে। যুগান্তরের মতো বস্তুনিষ্ঠ খবর ও বলিষ্ঠ মতপ্রকাশে সাহসী ভূমিকা পালন করে আসছে গ্রুপের অন্য একটি প্রতিষ্ঠান যমুনা টেলিভিশনও।

দেশের শিল্প ও সেবা খাতে নুরুল ইসলাম যে অসামান্য অবদান রেখে গেছেন, সেজন্য তিনি আজীবন স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। তার যেসব স্বপ্ন এখনো পূরণ হয়নি, তা পূরণে সচেষ্ট রয়েছেন তার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাই। তার প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে আমরা তার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করছি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় যমুনা গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যানের মৃত্যুবার্ষিকী পালন

 যুগান্তর প্রতিবেদন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া 
১৩ জুলাই ২০২১, ১০:১৮ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

দেশের শিল্প জগতের পুরোধা ব্যক্তিত্ব, অন্যতম বৃহৎ শিল্প গ্রুপ যমুনা গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, দৈনিক যুগান্তরের স্বপ্নদ্রষ্টা, বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলামের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পালিত হয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুরে দৈনিক যুগান্তরের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা স্টাফ রিপোর্টার সাব্বির আহমেদ সুবীরের উদ্যোগে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের পশ্চিম পাইকপাড়ায় মোহাম্মদী (সা.) এতিমখানায় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া, কোরআন খতম ও ভোজের আয়োজন করা হয়। 

এ সময় উপস্থিত ছিলেন- বাংলাভিশনের ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি আশিকুল ইসলাম, মোহাম্মদী (সা.) এতিমখানার প্রধান শিক্ষক মাওলানা মো. রায়খান উদ্দিন, কোষাধ্যক্ষ আলহাজ মো. মোজাম্মেল হক, হেফজ শাখার প্রধান হাফেজ মাওলানা আবুল কাশেম।

আলোচনায় বক্তারা বলেন, গত বছরের এই দিনে আমাদের শোকের সাগরে ভাসিয়ে চলে গেছেন নুরুল ইসলাম। আমরা শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় আজ  তাকে স্মরণ করছি।

তার মৃত্যু দেশের শিল্প ও সেবা খাতের জন্য একটি বিরাট দুঃসংবাদ বয়ে এনেছিল। এটি দেশের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।

নুরুল ইসলামের সবচেয়ে বড় অবদান হলো, তিনি অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার মাধ্যমে কেবল দেশের অর্থনীতির ভিতকেই সুদৃঢ় করেননি, একই সঙ্গে বিপুলসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাও করে দিয়েছেন। বর্তমানে লক্ষাধিক মানুষ কর্মরত আছেন যমুনা গ্রুপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে। সেদিক থেকে দেশের আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে তার ভূমিকা অনন্য। শিল্পপ্রতিষ্ঠান পরিচালনার ক্ষেত্রে তিনি ব্যবসার সব নিয়ম-কানুন ও শৃঙ্খলা মেনে চলেছেন। নিয়মের বাইরে একচুলও যাননি, সব প্রতিষ্ঠান নিয়মতান্ত্রিকভাবে পরিচালনা করেছেন। 

নুরুল ইসলাম ছিলেন আধুনিক চিন্তার একজন সাহসী উদ্যোক্তা। তিনি ১৯৭৪ সালে যমুনা গ্রুপ প্রতিষ্ঠা করেন। এ গ্রুপে রয়েছে মোট ৪১টি প্রতিষ্ঠান। তিনি ছিলেন একজন সফল স্বপ্নচারী মানুষ। নিজের উদ্ভাবনী চিন্তাকে বাস্তবে রূপ দিতে সচেষ্ট ছিলেন তিনি। এশিয়ার সবচেয়ে বড় শপিংমল যমুনা ফিউচার পার্ক এবং নির্মাণাধীন মেরিয়টস হোটেল এর জ্বলন্ত উদাহরণ।

দেশের শিল্প ও সেবা খাতে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে যমুনা গ্রুপ। ইলেকট্রনিক্স, বস্ত্র, ওভেন গার্মেন্টস, রাসায়নিক, চামড়া, মোটরসাইকেল, বেভারেজ টয়লেট্রিজ, নির্মাণ ও আবাসন খাতের ব্যবসায় শীর্ষস্থানে রয়েছে এই গ্রুপ। দৈনিক যুগান্তর ও যমুনা টেলিভিশনেরও প্রতিষ্ঠাতা নুরুল ইসলাম।

নুরুল ইসলাম সৎ ও নীতির প্রতি ছিলেন একনিষ্ঠ। শুধু শিল্পপ্রতিষ্ঠান পরিচালনার ক্ষেত্রেই নয়; সমাজ, রাষ্ট্র, রাজনীতি-সব ক্ষেত্রেই তিনি ছিলেন দুর্নীতি ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার। দৈনিক যুগান্তরকে তিনি গড়ে তুলেছেন ‘সত্যের সন্ধানে নির্ভীক’ একটি সংবাদপত্র হিসেবে। সাদাকে সাদা এবং কালোকে কালো বলার প্রত্যয় নিয়ে এগিয়ে চলেছে যুগান্তর।

এক্ষেত্রে তিনি সাংবাদিকদের সব ধরনের প্রভাবের ঊর্ধ্বে থেকে দায়িত্ব পালনে উৎসাহ দিয়েছেন। শুরু থেকে এ পর্যন্ত যুগান্তর সেই নীতিতেই অটল রয়েছে। যুগান্তরের মতো বস্তুনিষ্ঠ খবর ও বলিষ্ঠ মতপ্রকাশে সাহসী ভূমিকা পালন করে আসছে গ্রুপের অন্য একটি প্রতিষ্ঠান যমুনা টেলিভিশনও।

দেশের শিল্প ও সেবা খাতে নুরুল ইসলাম যে অসামান্য অবদান রেখে গেছেন, সেজন্য তিনি আজীবন স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। তার যেসব স্বপ্ন এখনো পূরণ হয়নি, তা পূরণে সচেষ্ট রয়েছেন তার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাই। তার প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে আমরা তার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করছি।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : স্বপ্নদ্রষ্টার মৃত্যু নাই

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন