সেজান জুস কারখানায় অগ্নিকাণ্ড অবহেলার কারণে, আসামিদের স্বীকারোক্তি
jugantor
সেজান জুস কারখানায় অগ্নিকাণ্ড অবহেলার কারণে, আসামিদের স্বীকারোক্তি

  নারায়ণগঞ্জ  প্রতিনিধি  

১৪ জুলাই ২০২১, ২১:৪৬:০০  |  অনলাইন সংস্করণ

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে সেজান জুসের কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেফতারকৃত ৮ আসামি তাদের অবহেলার কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে রিমান্ডে স্বীকার করেছেন- এমনটাই জানিয়েছেন পুলিশ সুপার জায়েদুল আলম। বুধবার বিকালে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান তিনি।

এছাড়া দায়েরকৃত হত্যা মামলায় গ্রেফতারকৃত ৮ আসামির মধ্যে ৬ জনকে কারাগারে প্রেরণ করেছেন আদালত। সজীব গ্রুপের এমডি এমএস হাসেমের ২ ছেলে তাওসীব ইব্রাহীম ও তানজীম ইব্রাহীম জামিন পেয়েছেন।

বুধবার দুপুরে ৪ দিনের রিমান্ড শেষে আসামিদের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফাহমিদা খাতুনের আদালতে হাজির করলে ৬ জনকে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেয়া হয়। এদের মধ্যে হাশেম ফুডের মালিক এমএস হাসেমের ২ ছেলে তাওসীব ইব্রাহীম ও তানজীম ইব্রাহীমকে জামিন দিয়েছেন বিচারক।

পুলিশ সুপার বলেন, এটি অত্যন্ত মর্মান্তিক ঘটনা। জেলা প্রশাসনের সার্বিক নির্দেশনায় আমরা প্রাথমিকভাবে যাদের এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট মনে করেছি তাদের গ্রেফতার করেছি। গ্রেফতারকৃত আটজনের রিমান্ড আবেদন করেছিলাম। আদালত ৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন, আমরা তাদের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। আজকে রিমান্ড শেষে আদালতে তোলার পর আদালত তাদের দুইজনের জামিন ও ছয়জনকে কারাগারে প্রেরণ করেছেন আদালত।

জিজ্ঞাসাবাদে তাদের ভবন নির্মাণে অনিয়মসহ বিভিন্ন অনিয়মের ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলেও তারা কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। ঘটনাটি তাদের অবহেলায় ঘটেছে এটি তারা স্বীকার করেছেন।

বুধবার দুপুরে চার দিনের রিমান্ড শেষে তাদেরকে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফাহমিদা খাতুনের আদালতে প্রেরণ করা হয়। এ সময় আসামিপক্ষ সবার জামিনের আবেদন করলে আদালত দুজনকে জামিন দিয়েছেন আদালত এবং বাকি ৬ জনকে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দিয়েছেন।

নারায়ণগঞ্জ কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক আসাদুজ্জামান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা রূপগঞ্জ থানার পরিদর্শক হুমায়ুন কবির জানান, এর আগে গত শনিবার গ্রেফতার ৮ জনকে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফাহমিদা খাতুনের আদালতে ৩০২, ৩২৬, ৩২৫, ৩২৩, ৩২৪, ৩০৭ ধারায় হত্যা এবং হত্যা প্রচেষ্টার অভিযোগে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিন করে পুলিশ রিমান্ড আবেদন করলে আদালত প্রত্যেককে চার দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

বুধবার ৪ দিনের রিমান্ড শেষে আদালতে প্রেরণ করা হয় সজীব গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. আবুল হাসেম (৭০), তার ছেলে হাসীব বিন হাসেম ওরফে সজীব (৩৯), তারেক ইব্রাহীম (৩৫), তাওসীব ইব্রাহীম (৩৩), তানজীম ইব্রাহীম (২১), শাহান শান আজাদ (৪৩), মামুনুর রশিদ (৫৩) ও মো. সালাউদ্দিনকে (৩০)। এদের মধ্যে জামিন পেয়েছেন আবুল হাসেমের ছেলে তাওসীব ইব্রাহীম ও তানজীম ইব্রাহীম। বাকিদের কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার রূপগঞ্জ উপজেলার কর্ণগোপ এলাকায় অবস্থিত ওই কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে ডেমরা, কাঞ্চনসহ ফায়ার সার্ভিসের ১৮টি ইউনিট আগুন নেভাতে কাজ করে। ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ২৯ ঘণ্টা পর নিয়ন্ত্রণে আসে আগুন। তবে এ সময়ের মধ্যে ঝরে গেছে ৫২ প্রাণ। আহত হয়েছেন অন্তত ৫০ জন।

সেজান জুস কারখানায় অগ্নিকাণ্ড অবহেলার কারণে, আসামিদের স্বীকারোক্তি

 নারায়ণগঞ্জ  প্রতিনিধি 
১৪ জুলাই ২০২১, ০৯:৪৬ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে সেজান জুসের কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেফতারকৃত ৮ আসামি তাদের অবহেলার কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে রিমান্ডে স্বীকার করেছেন- এমনটাই জানিয়েছেন পুলিশ সুপার জায়েদুল আলম। বুধবার বিকালে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান তিনি। 

এছাড়া দায়েরকৃত হত্যা মামলায় গ্রেফতারকৃত ৮ আসামির মধ্যে ৬ জনকে কারাগারে প্রেরণ করেছেন আদালত।  সজীব গ্রুপের এমডি এমএস হাসেমের ২ ছেলে তাওসীব ইব্রাহীম ও তানজীম ইব্রাহীম জামিন পেয়েছেন। 

বুধবার দুপুরে ৪ দিনের রিমান্ড শেষে আসামিদের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফাহমিদা খাতুনের আদালতে হাজির করলে ৬ জনকে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেয়া হয়। এদের মধ্যে হাশেম ফুডের মালিক এমএস হাসেমের ২ ছেলে তাওসীব ইব্রাহীম ও তানজীম ইব্রাহীমকে জামিন দিয়েছেন বিচারক। 

পুলিশ সুপার বলেন, এটি অত্যন্ত মর্মান্তিক ঘটনা। জেলা প্রশাসনের সার্বিক নির্দেশনায় আমরা প্রাথমিকভাবে যাদের এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট মনে করেছি তাদের গ্রেফতার করেছি। গ্রেফতারকৃত আটজনের রিমান্ড আবেদন করেছিলাম। আদালত ৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন, আমরা তাদের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। আজকে রিমান্ড শেষে আদালতে তোলার পর আদালত তাদের দুইজনের জামিন ও ছয়জনকে কারাগারে প্রেরণ করেছেন আদালত। 

জিজ্ঞাসাবাদে তাদের ভবন নির্মাণে অনিয়মসহ বিভিন্ন অনিয়মের ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলেও তারা কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। ঘটনাটি তাদের অবহেলায় ঘটেছে এটি তারা স্বীকার করেছেন।

বুধবার দুপুরে চার দিনের রিমান্ড শেষে তাদেরকে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফাহমিদা খাতুনের আদালতে প্রেরণ করা হয়। এ সময় আসামিপক্ষ সবার জামিনের আবেদন করলে আদালত দুজনকে জামিন দিয়েছেন আদালত এবং বাকি ৬ জনকে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দিয়েছেন। 

নারায়ণগঞ্জ কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক আসাদুজ্জামান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। 

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা রূপগঞ্জ থানার পরিদর্শক হুমায়ুন কবির জানান, এর আগে গত শনিবার গ্রেফতার ৮ জনকে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফাহমিদা খাতুনের আদালতে ৩০২, ৩২৬, ৩২৫, ৩২৩, ৩২৪, ৩০৭ ধারায় হত্যা এবং হত্যা প্রচেষ্টার অভিযোগে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিন করে পুলিশ রিমান্ড আবেদন করলে আদালত প্রত্যেককে চার দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

বুধবার ৪ দিনের রিমান্ড শেষে আদালতে প্রেরণ করা হয় সজীব গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. আবুল হাসেম (৭০), তার ছেলে হাসীব বিন হাসেম ওরফে সজীব (৩৯), তারেক ইব্রাহীম (৩৫), তাওসীব ইব্রাহীম (৩৩), তানজীম ইব্রাহীম (২১), শাহান শান আজাদ (৪৩), মামুনুর রশিদ (৫৩) ও মো. সালাউদ্দিনকে (৩০)। এদের মধ্যে জামিন পেয়েছেন আবুল হাসেমের ছেলে তাওসীব ইব্রাহীম ও তানজীম ইব্রাহীম। বাকিদের কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার রূপগঞ্জ উপজেলার কর্ণগোপ এলাকায় অবস্থিত ওই কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে ডেমরা, কাঞ্চনসহ ফায়ার সার্ভিসের ১৮টি ইউনিট আগুন নেভাতে কাজ করে। ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ২৯ ঘণ্টা পর নিয়ন্ত্রণে আসে আগুন। তবে এ সময়ের মধ্যে ঝরে গেছে ৫২ প্রাণ। আহত হয়েছেন অন্তত ৫০ জন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : রূপগঞ্জে কারখানায় আগুন

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন