যুবককে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে কুপিয়ে হত্যা
jugantor
যুবককে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে কুপিয়ে হত্যা

  কালীগঞ্জ (গাজীপুর) প্রতিনিধি  

১৫ জুলাই ২০২১, ২১:১৯:১৯  |  অনলাইন সংস্করণ

গাজীপুরের কালীগঞ্জে মোবাইলে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে এনামুল শেখ (২২) নামে এক যুবককে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের মধ্যনারগানা এলাকায়।

বুধবার রাত পৌনে ৯টায় ধানমণ্ডি আমার বাংলাদেশ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। নিহত এনামুল শেখ জামালপুর ইউনিয়নের মধ্যনারগানা এলাকার আব্দুল বাতেনের ছেলে।

নিহতের বাবা আব্দুল বাতেন ও মা জানান, মঙ্গলবার রাত ৭টার দিকে প্রতিবেশী সাইফুলের ছেলে রিফাত এনামুলকে ফোন করে গেমস খেলার কথা বলে বাড়ি থেকে ডেকে নেয় পার্শ্ববর্তী আওয়ালের দোকানের পেছনে।

তার কিছুক্ষণ পর রিফাতের মামা মাসুদ ও তার সহযোগী বাছির, সাগর, সাইফুল, মোক্তার, আসাদ, শাকিব, দুলাল, রফিকুল, তাহেরসহ অজ্ঞাত ১৫-১৬ জন একটি চাপাতি, রামদা, লোহার রড নিয়ে এনামুলের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে দুই হাত, দুই পা ভাঙাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে।

পরে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় তাকে রক্তাক্ত জখম ও আহত অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। এদিকে তার অবস্থার অবনতি দেখে ঢাকার ধানমন্ডি আমার বাংলাদেশ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার রাত পৌনে ৯টার দিকে মারা যান।

এ ব্যাপারে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক মেহের আফরোজ চুমকি এমপি বলেন, খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। তবে এ রকম ন্যক্কারজনক ঘটনা খুবই দুঃখজনক। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া হবে। এটা দলীয় কোনো ঘটনা নয়। তাদের পারিবারিক বিষয়ে এটা ঘটতে পারে।

নিহতের পরিবারের লোকজন আরও জানান, তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে প্রায় ৫ বছর আগে মাসুদ গংদের সঙ্গে এনামুলের বিরোধ ছিল। পরবর্তীতে বিবাদ ভুলে সবাই একসঙ্গে চলাফেরা করত।

আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মাহবুবুর রহমান খান ওরুফে ফারুক মাস্টার (সাবেক চেয়ারম্যান) বলেন, এনামুল নৌকার পক্ষের কর্মী ছিলেন। প্রতিপক্ষ স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকরা তাকে হত্যার হুমকি দিয়ে আসছিল। নির্বাচনের আগের দিন থেকেই এনামুল তার বাড়ি থেকে বের হতেন না। গত মঙ্গলবার রাত ৭টার দিকে বাড়ি থেকে বের হলে স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকরা তার ওপর হামলা চালিয়ে পিটিয়ে ও কুপিয়ে গুরুতর আহত করে।

এ বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান খাইরুল আলম বলেন, পূর্বশত্রুতার জেরে এনামুলের ওপর হামলা হয়। এ ঘটনায় জড়িতরা কেউ আমার লোক বা সমর্থক নয়। তারা সবাই দুষ্কৃতকারী। তাদের গ্রেফতারের দাবি জানান তিনি।

কালীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এইচএম আবু বকর চৌধুরী জানান, তাদের মধ্যে আগে থেকেই পারিবারিক বিরোধ ছিল। বিরোধকে কেন্দ্র করেই হামলার ঘটনা ঘটেছে। নিহত এনামুলের চাচা আলম মিয়া উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। সেই হিসেবে এনামুল আওয়ামী পরিবারের একজন সদস্য ছিলেন।

কালীগঞ্জ থানার ওসি একেএম মিজানুল হক জানান, পুলিশ বুধবার দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

যুবককে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে কুপিয়ে হত্যা

 কালীগঞ্জ (গাজীপুর) প্রতিনিধি 
১৫ জুলাই ২০২১, ০৯:১৯ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

গাজীপুরের কালীগঞ্জে মোবাইলে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে এনামুল শেখ (২২) নামে এক যুবককে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের মধ্যনারগানা এলাকায়।

বুধবার রাত পৌনে ৯টায় ধানমণ্ডি আমার বাংলাদেশ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। নিহত এনামুল শেখ জামালপুর ইউনিয়নের মধ্যনারগানা এলাকার আব্দুল বাতেনের ছেলে।

নিহতের বাবা আব্দুল বাতেন ও মা জানান, মঙ্গলবার রাত ৭টার দিকে প্রতিবেশী সাইফুলের ছেলে রিফাত এনামুলকে ফোন করে গেমস খেলার কথা বলে বাড়ি থেকে ডেকে নেয় পার্শ্ববর্তী আওয়ালের দোকানের পেছনে। 

তার কিছুক্ষণ পর রিফাতের মামা মাসুদ ও তার সহযোগী বাছির, সাগর, সাইফুল, মোক্তার, আসাদ, শাকিব, দুলাল, রফিকুল, তাহেরসহ অজ্ঞাত ১৫-১৬ জন একটি চাপাতি, রামদা, লোহার রড নিয়ে এনামুলের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে দুই হাত, দুই পা ভাঙাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। 

পরে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় তাকে রক্তাক্ত জখম ও আহত অবস্থায় উদ্ধার করে  প্রথমে  উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। এদিকে তার অবস্থার অবনতি দেখে ঢাকার ধানমন্ডি আমার বাংলাদেশ  হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার রাত পৌনে ৯টার দিকে মারা যান।

এ ব্যাপারে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক মেহের আফরোজ চুমকি এমপি বলেন, খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। তবে এ রকম ন্যক্কারজনক ঘটনা খুবই দুঃখজনক। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া হবে। এটা দলীয় কোনো ঘটনা নয়। তাদের পারিবারিক বিষয়ে এটা ঘটতে পারে।

নিহতের পরিবারের লোকজন আরও জানান, তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে প্রায় ৫ বছর আগে মাসুদ গংদের সঙ্গে এনামুলের বিরোধ ছিল। পরবর্তীতে বিবাদ ভুলে সবাই একসঙ্গে চলাফেরা করত। 

আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মাহবুবুর রহমান খান ওরুফে ফারুক মাস্টার (সাবেক চেয়ারম্যান) বলেন, এনামুল নৌকার পক্ষের কর্মী ছিলেন। প্রতিপক্ষ স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকরা তাকে হত্যার হুমকি দিয়ে আসছিল। নির্বাচনের আগের দিন থেকেই এনামুল তার বাড়ি থেকে বের হতেন না। গত মঙ্গলবার রাত ৭টার দিকে বাড়ি থেকে বের হলে স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকরা তার ওপর হামলা চালিয়ে পিটিয়ে ও কুপিয়ে গুরুতর আহত করে।

এ বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান খাইরুল আলম বলেন, পূর্বশত্রুতার জেরে এনামুলের ওপর হামলা হয়। এ ঘটনায় জড়িতরা কেউ আমার লোক বা সমর্থক নয়। তারা সবাই দুষ্কৃতকারী। তাদের গ্রেফতারের দাবি জানান তিনি।

কালীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এইচএম আবু বকর চৌধুরী জানান, তাদের মধ্যে আগে থেকেই পারিবারিক বিরোধ ছিল। বিরোধকে কেন্দ্র করেই হামলার ঘটনা ঘটেছে। নিহত এনামুলের চাচা আলম মিয়া উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। সেই হিসেবে এনামুল আওয়ামী পরিবারের একজন সদস্য ছিলেন।  

কালীগঞ্জ থানার ওসি একেএম মিজানুল হক জানান, পুলিশ বুধবার দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও খবর
 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন