সিলেট বিভাগে ২ লাখ কোরবানির পশু মজুদ, অস্থায়ী হাট ২০০
jugantor
সিলেট বিভাগে ২ লাখ কোরবানির পশু মজুদ, অস্থায়ী হাট ২০০

  সিলেট ব্যুরো  

১৫ জুলাই ২০২১, ২২:৩৭:০৫  |  অনলাইন সংস্করণ

ঈদুল আজহায় কোরবানির জন্য সিলেট বিভাগে ১ লাখ ৭৭ হাজার ৮০৫টি পশু মজুদ রয়েছে। এটা প্রাণিসম্পদ বিভাগের হিসাব। এর বাইরেও ব্যক্তিপর্যায়ে আরও কিছু পশু রয়েছে। যেগুলো এই হিসাবের বাইরে রয়েছে। সব মিলিয়ে সিলেটে প্রায় ২ লাখ পশু মজুদ রয়েছে। ফলে সিলেটের বাইরে থেকে পশু আনার প্রয়োজন নেই।

এমন তথ্য দিয়েছেন সিলেট জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. রুস্তম আলী। কোরবানির ঈদে এসব পশু বিক্রির জন্য প্রায় ২০০ অস্থায়ী পশুর হাট বসবে সিলেট বিভাগে।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর জানায়, সিলেট বিভাগে ১২ হাজার ৯৭২ জন খামারির কাছে ১ লাখ ৭৭ হাজার ৮০৫টি কোরবানিযোগ্য পশু রয়েছে। এর মধ্যে সিলেট জেলায় ৫৮ হাজার ৭৯৩টি, মৌলভীবাজার জেলায় ৩২ হাজার ৫২৯টি, হবিগঞ্জে ৩৭ হাজার ৬২৮টি এবং সুনামগঞ্জে ৪৮ হাজার ৮৫৫টি কোরবানি যোগ্য পশু রয়েছে।

সিলেট জেলায় ষাঁড় ২৩ হাজার ৯২৬টি, বলদ ১৬ হাজার ৭৩৫টি, গাভী ২ হাজার ৪৬৯টি, মহিষ ১ হাজার ১০টি, ছাগল ১১ হাজার ৭৪০টি, ভেড়া ২ হাজার ৭৪৮টি এবং অন্যান্য ১৬৫টি কোরবানিযোগ্য পশু রয়েছে।

মৌলভীবাজারে ষাঁড় ১৬ হাজার ৭৮১টি, বলদ ২ হাজার ৮০৯টি, গাভী ২ হাজার ৮১টি, মহিষ ৮৩০টি, ছাগল ৯ হাজার ২৪৪টি এবং ৭৮৪টি ভেড়া মিলিয়ে ৩২ হাজার ৫২৯টি কোরবানিযোগ্য পশু রয়েছে।

হবিগঞ্জ জেলায় কোরবানিযোগ্য পশুর মধ্যে ষাঁড় ১৭ হাজার ২৬৩টি, বলদ ৫ হাজার ১৮টি, গাভী ৪ হাজার ৪৮৭টি, মহিষ ১১৮টি, ছাগল ৮ হাজার ৮৪৮টি এবং ভেড়া ৩ হাজার ৮৯৪টি রয়েছে। আর সুনামগঞ্জে ষাঁড় ২৫ হাজার ৯৫৬টি, বলদ ৬ হাজার ৪৯০টি, গাভী ৫ হাজার ৮৩৯টি, মহিষ ৬৬৬টি, ছাগল ৫ হাজার ৭৬৮টি, ভেড়া ৪ হাজার ১৩৬টি মিলিয়ে ৪৮ হাজার ৮৫৫টি কোরবানিযোগ্য পশু রয়েছে।

সিলেট জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. রুস্তম আলী বলেন, গত বছর সিলেট জেলায় ১ লাখের মতো পশু কোরবানি হয়েছিল। এবারো হয়তো এরকমই হবে বলে আমরা ধারণা করছি। সেজন্য স্থানীয় ও খামারিদের কাছে থাকা কোরবানিযোগ্য পশু মিলিয়ে চাহিদা অনেকটাই পূরণ হয়ে যাবে।

সিলেটের পুলিশ সুপার ফরিদ উদ্দিন আহমদ বলেন, পশু চোরাচালান বন্ধে সীমান্ত এলাকা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারি থাকবে। যাকে কোনভাবেই ভারতীয় পশু দেশে প্রবেশ করতে না পারে।

খামারি আব্দুল হেকিম বলেন, তালিকাভুক্ত খামারিদের বাইরেও ব্যক্তি ও পরিবার পর্যায়ে অনেকেই কোরবানির জন্য পশু লালন-পালন করে থাকেন। তার দাবি, ঈদের মৌসুমে পশু বিক্রেতার নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, কোরবানির পশুবাহী ট্রাক ছিনতাই প্রতিরোধ এবং সীমান্তবর্তী জেলায় গবাদিপশুর অবৈধ অনুপ্রবেশ বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া জরুরি।

এদিকে কোরবানির ঈদ উপলক্ষে প্রায় ২শ পশুর হাটের অনুমোদন দেয়া হয়েছে সিলেট বিভাগে। এর মধ্যে সিলেট জেলায় ৫২টি, মৌলভীবাজারে ৩০টি, হবিগঞ্জে ৫৪টি ও সুনামগঞ্জে ৩৮টি।

সিলেট জেলা প্রশাসনের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক মামুনুর রশীদ জানান, ৫২ পশুর হাটের মধ্যে ৪৯টি উপজেলা পর্যায়ে ও ৩টি বসবে সিলেট নগরীতে। সেগুলো হচ্ছে সিলেট নগরীর দক্ষিণ সুরমার ট্রাক টার্মিনাল, নগরের মাছিমপুর এলাকার কয়েদির মাঠ ও শাহী ঈদগাহ এলাকার কালাপাথর মাঠ।

সিসিকের প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান জানান, ৮টি হাটের অনুমোদন চেয়ে তিনটি হাটের অনুমোদন পাওয়ার পর ইজারার জন্য পত্রিকায় দরপত্র বিজ্ঞপ্তি দিয়েছি। দরপত্র জমা শেষ হলে দুই-এক দিনের মধ্যেই পশুর হাট বসবে।

সিলেট বিভাগে ২ লাখ কোরবানির পশু মজুদ, অস্থায়ী হাট ২০০

 সিলেট ব্যুরো 
১৫ জুলাই ২০২১, ১০:৩৭ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

ঈদুল আজহায় কোরবানির জন্য সিলেট বিভাগে ১ লাখ ৭৭ হাজার ৮০৫টি পশু মজুদ রয়েছে। এটা প্রাণিসম্পদ বিভাগের হিসাব। এর বাইরেও ব্যক্তিপর্যায়ে আরও কিছু পশু রয়েছে। যেগুলো এই হিসাবের বাইরে রয়েছে। সব মিলিয়ে সিলেটে প্রায় ২ লাখ পশু মজুদ রয়েছে। ফলে সিলেটের বাইরে থেকে পশু আনার প্রয়োজন নেই।

এমন তথ্য দিয়েছেন সিলেট জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. রুস্তম আলী। কোরবানির ঈদে এসব পশু বিক্রির জন্য প্রায় ২০০ অস্থায়ী পশুর হাট বসবে সিলেট বিভাগে।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর জানায়, সিলেট বিভাগে ১২ হাজার ৯৭২ জন খামারির কাছে ১ লাখ ৭৭ হাজার ৮০৫টি কোরবানিযোগ্য পশু রয়েছে। এর মধ্যে সিলেট জেলায় ৫৮ হাজার ৭৯৩টি, মৌলভীবাজার জেলায় ৩২ হাজার ৫২৯টি, হবিগঞ্জে ৩৭ হাজার ৬২৮টি এবং সুনামগঞ্জে ৪৮ হাজার ৮৫৫টি কোরবানি যোগ্য পশু রয়েছে।

সিলেট জেলায় ষাঁড় ২৩ হাজার ৯২৬টি, বলদ ১৬ হাজার ৭৩৫টি, গাভী ২ হাজার ৪৬৯টি, মহিষ ১ হাজার ১০টি, ছাগল ১১ হাজার ৭৪০টি, ভেড়া ২ হাজার ৭৪৮টি এবং অন্যান্য ১৬৫টি কোরবানিযোগ্য পশু রয়েছে।

মৌলভীবাজারে ষাঁড় ১৬ হাজার ৭৮১টি, বলদ ২ হাজার ৮০৯টি, গাভী ২ হাজার ৮১টি, মহিষ ৮৩০টি, ছাগল ৯ হাজার ২৪৪টি এবং ৭৮৪টি ভেড়া মিলিয়ে ৩২ হাজার ৫২৯টি কোরবানিযোগ্য পশু রয়েছে।

হবিগঞ্জ জেলায় কোরবানিযোগ্য পশুর মধ্যে ষাঁড় ১৭ হাজার ২৬৩টি, বলদ ৫ হাজার ১৮টি, গাভী ৪ হাজার ৪৮৭টি, মহিষ ১১৮টি, ছাগল ৮ হাজার ৮৪৮টি এবং ভেড়া ৩ হাজার ৮৯৪টি রয়েছে। আর সুনামগঞ্জে ষাঁড় ২৫ হাজার ৯৫৬টি, বলদ ৬ হাজার ৪৯০টি, গাভী ৫ হাজার ৮৩৯টি, মহিষ ৬৬৬টি, ছাগল ৫ হাজার ৭৬৮টি, ভেড়া ৪ হাজার ১৩৬টি মিলিয়ে ৪৮ হাজার ৮৫৫টি কোরবানিযোগ্য পশু রয়েছে।

সিলেট জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. রুস্তম আলী বলেন, গত বছর সিলেট জেলায় ১ লাখের মতো পশু কোরবানি হয়েছিল। এবারো হয়তো এরকমই হবে বলে আমরা ধারণা করছি। সেজন্য স্থানীয় ও খামারিদের কাছে থাকা কোরবানিযোগ্য পশু মিলিয়ে চাহিদা অনেকটাই পূরণ হয়ে যাবে।

সিলেটের পুলিশ সুপার ফরিদ উদ্দিন আহমদ বলেন, পশু চোরাচালান বন্ধে সীমান্ত এলাকা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারি থাকবে। যাকে কোনভাবেই ভারতীয় পশু দেশে প্রবেশ করতে না পারে।

খামারি আব্দুল হেকিম বলেন, তালিকাভুক্ত খামারিদের বাইরেও ব্যক্তি ও পরিবার পর্যায়ে অনেকেই কোরবানির জন্য পশু লালন-পালন করে থাকেন। তার দাবি, ঈদের মৌসুমে পশু বিক্রেতার নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, কোরবানির পশুবাহী ট্রাক ছিনতাই প্রতিরোধ এবং সীমান্তবর্তী জেলায় গবাদিপশুর অবৈধ অনুপ্রবেশ বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া জরুরি।

এদিকে কোরবানির ঈদ উপলক্ষে প্রায় ২শ পশুর হাটের অনুমোদন দেয়া হয়েছে সিলেট বিভাগে। এর মধ্যে সিলেট জেলায় ৫২টি, মৌলভীবাজারে ৩০টি, হবিগঞ্জে ৫৪টি ও সুনামগঞ্জে ৩৮টি।

সিলেট জেলা প্রশাসনের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক মামুনুর রশীদ জানান, ৫২ পশুর হাটের মধ্যে ৪৯টি উপজেলা পর্যায়ে ও ৩টি বসবে সিলেট নগরীতে। সেগুলো হচ্ছে সিলেট নগরীর দক্ষিণ সুরমার ট্রাক টার্মিনাল, নগরের মাছিমপুর এলাকার কয়েদির মাঠ ও শাহী ঈদগাহ এলাকার কালাপাথর মাঠ।

সিসিকের প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান জানান, ৮টি হাটের অনুমোদন চেয়ে তিনটি হাটের অনুমোদন পাওয়ার পর ইজারার জন্য পত্রিকায় দরপত্র বিজ্ঞপ্তি দিয়েছি। দরপত্র জমা শেষ হলে দুই-এক দিনের মধ্যেই পশুর হাট বসবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন