দায় না নিলেও ভিজিএফের ১৫০ বস্তা চাল ফেরত দিলেন ওসি এলএসডি
jugantor
দায় না নিলেও ভিজিএফের ১৫০ বস্তা চাল ফেরত দিলেন ওসি এলএসডি

  উলিপুর (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি  

১৯ জুলাই ২০২১, ০৪:০৯:১৪  |  অনলাইন সংস্করণ

কুড়িগ্রামের উলিপুরে দুই দিন পর দায় না নিলেও ভিজিএফের ১৫০ বস্তা নিম্নমানের চালের পরিবর্তে উন্নত মানের চাল পুনরায় ইউনিয়ন পরিষদে পাঠালেন ভারপ্রাপ্ত খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা (ওসি এলএসডি)। রোববার বিকালে উপজেলার হাতিয়া ইউনিয়ন পরিষদে সরকারি গুদাম থেকে এসব চাল পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ওই ইউপি চেয়ারম্যান।

জানা গেছে, উপজেলার হাতিয়া ইউনিয়নে অসহায় দুস্থ পরিবারের মাঝে ১০ কেজি করে ভিজিএফের চাল বরাদ্দ দেয়া হয়। শুক্রবার ওই ইউনিয়নে বিতরণের জন্য ৬টি ট্রলিতে ৫০ কেজি ওজনের ৯শ বস্তা উন্নত মানের চাল খাদ্য গুদাম থেকে বের করা হয়। কিন্তু গুদাম কর্মকর্তার যোগসাজশে ব্যবসায়ীদের একটি সিন্ডিকেট ৬টি ট্রলির মধ্যে ১টি ট্রলির ওই চাল ইউপি কার্যালয়ে পৌঁছানোর পূর্বেই পরিবর্তন করে সরকারি সিল ছাড়াই ১৫০ বস্তা নিম্নমানের চাল পাঠায়।

পরে চালগুলো ইউনিয়ন পরিষদের গুদামে নামিয়ে নেয়ার সময় প্লাস্টিকের পুরোনা বস্তা ও সরকারি সিল না থাকায় বিষয়টি চেয়ারম্যানের সন্দেহ হয়। এ সময় ইউপি চেয়ারম্যান আবুল হোসেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ ওই গুদাম কর্মকর্তাকে অবগত করেন। গুদাম কর্মকর্তার কথামতো ১৫০ বস্তা পচা চাল ফেরত পাঠান ইউপি চেয়ারম্যান। এরপর নিম্নমানের চালগুলো সরকারি গুদামের নয় বলে খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা সাংবাদিকদের জানান।

এরপরই শুরু হয় নানা নাটকীয়তা। ঘটনাটিকে ধামাচাপা দিতে ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের লোকজন তৎপরতা চালাতে থাকেন। অবশেষে দুই দিন পর রোববার বিকালে ১৫০ বস্তা নিম্নমানের চালের পরিবর্তে পুনরায় উন্নতমানের চাল হাতিয়া ইউনিয়ন পরিষদে সরকারি গুদাম থেকে পাঠানো হয়।

এ ব্যাপারে দৈনিক যুগান্তরের অনলাইন সংস্করণে শনিবার ও প্রিন্ট ভার্সনে রোববার একটি প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছে।

হাতিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আবুল হোসেন বলেন, গত শুক্রবার ৯০০ বস্তার মধ্যে ১৫০ বস্তা নিম্নমানের চাল খাদ্যগুদাম থেকে পাঠানো হলে সেই চাল ফেরত পাঠাই। রোববার বিকালে ওই ১৫০ বস্তা চাল বুঝে পাই।

উলিপুর খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি এলএসডি) শাহিনুর রহমান শুক্রবারের ঘটনার পর থেকে সাংবাদিকদের ফোন রিসিভ করছেন না। বারবার ফোন করলেও রিসিভ না করায় ক্ষুদে বার্তা পাঠানো হয়। এরপরও তিনি কোনো সাড়া দেননি। এরপর সন্ধ্যায় খাদ্যগুদামে বক্তব্য নেয়ার জন্য গেলে গুদামের প্রধান ফটকসহ পকেট গেট ভিতর থেকে বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) আলাউদ্দিন বসুনিয়া জানান, ওই ইউনিয়নের ভিজিএফের সমস্ত চাল পাঠানো হয়েছে। রোববার চেয়ারম্যান উপস্থিত থেকে গুদাম থেকে চাল বুঝে নিয়েছেন।

শুক্রবারের ১৫০ বস্তা নিম্নমানের চালের বিষয়ে তিনি বলেন, গুদামের মজুদ ঠিক আছে। কীভাবে এ ঘটনা ঘটল তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার নূর-এ-জান্নাত রুমি বলেন, হাতিয়া ইউনিয়ন পরিষদ থেকে শুক্রবার ১৫০ বস্তা নিম্নমানের চাল ফেরত দেয়ার ঘটনা সঠিক। কিন্তু বস্তাগুলো কোথা থেকে এসে কোথায় গেল তার কোনো হদিস মিলেছে না। এ নিয়ে তদন্ত চলছে। তবে ১৫০ বস্তা ফেরত দেয়া চালগুলো নাকি খাদ্যগুদাম কর্মকর্তার নয়। আমি ইউনিয়ন পরিষদের ও গুদামের রেজিস্টারে কোনো গরমিল পাইনি।

দায় না নিলেও ভিজিএফের ১৫০ বস্তা চাল ফেরত দিলেন ওসি এলএসডি

 উলিপুর (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি 
১৯ জুলাই ২০২১, ০৪:০৯ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ

কুড়িগ্রামের উলিপুরে দুই দিন পর দায় না নিলেও ভিজিএফের ১৫০ বস্তা নিম্নমানের চালের পরিবর্তে উন্নত মানের চাল পুনরায় ইউনিয়ন পরিষদে পাঠালেন ভারপ্রাপ্ত খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা (ওসি এলএসডি)। রোববার বিকালে উপজেলার হাতিয়া ইউনিয়ন পরিষদে সরকারি গুদাম থেকে এসব চাল পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ওই ইউপি চেয়ারম্যান।

জানা গেছে, উপজেলার হাতিয়া ইউনিয়নে অসহায় দুস্থ পরিবারের মাঝে ১০ কেজি করে ভিজিএফের চাল বরাদ্দ দেয়া হয়। শুক্রবার ওই ইউনিয়নে বিতরণের জন্য ৬টি ট্রলিতে ৫০ কেজি ওজনের ৯শ বস্তা উন্নত মানের চাল খাদ্য গুদাম থেকে বের করা হয়। কিন্তু গুদাম কর্মকর্তার যোগসাজশে ব্যবসায়ীদের একটি সিন্ডিকেট ৬টি ট্রলির মধ্যে ১টি ট্রলির ওই চাল ইউপি কার্যালয়ে পৌঁছানোর পূর্বেই পরিবর্তন করে সরকারি সিল ছাড়াই ১৫০ বস্তা নিম্নমানের চাল পাঠায়।

পরে চালগুলো ইউনিয়ন পরিষদের গুদামে নামিয়ে নেয়ার সময় প্লাস্টিকের পুরোনা বস্তা ও সরকারি সিল না থাকায় বিষয়টি চেয়ারম্যানের সন্দেহ হয়। এ সময় ইউপি চেয়ারম্যান আবুল হোসেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ ওই গুদাম কর্মকর্তাকে অবগত করেন। গুদাম কর্মকর্তার কথামতো ১৫০ বস্তা পচা চাল ফেরত পাঠান ইউপি চেয়ারম্যান। এরপর নিম্নমানের চালগুলো সরকারি গুদামের নয় বলে খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা সাংবাদিকদের জানান।

এরপরই শুরু হয় নানা নাটকীয়তা। ঘটনাটিকে ধামাচাপা দিতে ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের লোকজন তৎপরতা চালাতে থাকেন। অবশেষে দুই দিন পর রোববার বিকালে ১৫০ বস্তা নিম্নমানের চালের পরিবর্তে পুনরায় উন্নতমানের চাল হাতিয়া ইউনিয়ন পরিষদে সরকারি গুদাম থেকে পাঠানো হয়।

এ ব্যাপারে দৈনিক যুগান্তরের অনলাইন সংস্করণে শনিবার ও প্রিন্ট ভার্সনে রোববার একটি প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছে।

হাতিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আবুল হোসেন বলেন, গত শুক্রবার ৯০০ বস্তার মধ্যে ১৫০ বস্তা নিম্নমানের চাল খাদ্যগুদাম থেকে পাঠানো হলে সেই চাল ফেরত পাঠাই। রোববার বিকালে ওই ১৫০ বস্তা চাল বুঝে পাই।

উলিপুর খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি এলএসডি) শাহিনুর রহমান শুক্রবারের ঘটনার পর থেকে সাংবাদিকদের ফোন রিসিভ করছেন না। বারবার ফোন করলেও রিসিভ না করায় ক্ষুদে বার্তা পাঠানো হয়। এরপরও তিনি কোনো সাড়া দেননি। এরপর সন্ধ্যায় খাদ্যগুদামে বক্তব্য নেয়ার জন্য গেলে গুদামের প্রধান ফটকসহ পকেট গেট ভিতর থেকে বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) আলাউদ্দিন বসুনিয়া জানান, ওই ইউনিয়নের ভিজিএফের সমস্ত চাল পাঠানো হয়েছে। রোববার চেয়ারম্যান উপস্থিত থেকে গুদাম থেকে চাল বুঝে নিয়েছেন।

শুক্রবারের ১৫০ বস্তা নিম্নমানের চালের বিষয়ে তিনি বলেন, গুদামের মজুদ ঠিক আছে। কীভাবে এ ঘটনা ঘটল তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার নূর-এ-জান্নাত রুমি বলেন, হাতিয়া ইউনিয়ন পরিষদ থেকে শুক্রবার ১৫০ বস্তা নিম্নমানের চাল ফেরত দেয়ার ঘটনা সঠিক। কিন্তু বস্তাগুলো কোথা থেকে এসে কোথায় গেল তার কোনো হদিস মিলেছে না। এ নিয়ে তদন্ত চলছে। তবে ১৫০ বস্তা ফেরত দেয়া চালগুলো নাকি খাদ্যগুদাম কর্মকর্তার নয়। আমি ইউনিয়ন পরিষদের ও গুদামের রেজিস্টারে কোনো গরমিল পাইনি।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন