আমদানি বেশি বিক্রিও বেশি, রাজশাহীতে পশু সঙ্কটের আশঙ্কা (ভিডিও)
jugantor
আমদানি বেশি বিক্রিও বেশি, রাজশাহীতে পশু সঙ্কটের আশঙ্কা (ভিডিও)

  আনু মোস্তফা, রাজশাহী  

২০ জুলাই ২০২১, ১২:৪১:৪৩  |  অনলাইন সংস্করণ

প্রথম দিকে আমদানি ও কেনাবেচা কম হলেও শেষ সময়ে রাজশাহীর পশুহাটগুলিতে বেড়েছে কুরবানির পশু আমদানি। বেড়েছে বেচা-বিক্রি। গত বছরের মতো এ বছরও কুরবানির পশু সঙ্কটের আশঙ্কা করছে ক্রেতারা ছাড়াও হাট ইজারাদার।

ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়েই বলছেন, গত বছরের মতো এ বছরও কুরবানির পশুর ভাল দাম পাচ্ছেন বিক্রেতারা। যদিও রাজশাহীর হাটগুলিতে বড় গরুর দাম তুলনামূলকভাবে কম বলে খামারিরা জানিয়েছেন এবং বিক্রি কম হচ্ছে। বরং ছোট ও মাঝারি গরুর দাম বেশ ভাল। বিক্রিও হচ্ছে বেশি। তবে রাজশাহীর সিটিহাটসহ কয়েকটি হাটে অতিরিক্ত হাসিল আদায়ের অভিযোগ করেছেন ক্রেতা-বিক্রেতারা।

রাজশাহী জেলার অতিরিক্ত প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. ইসমাইল হোসেন জানিয়েছেন, রাজশাহীতে কুরবানিযোগ্য গবাদিপশুর সংখ্যা ১ লাখ ৫০ হারের মতো। জেলায় কুরবানি পশুর চাহিদা ১ লাখ ২৫ হাজার। এর মধ্যে গরু মহিষ ও খাসি রয়েছে। গত তিন বছর ধরে সীমান্ত পথে ভারত থেকে গবাদিপশু না আসায় খামারি ও গরু পালনকারী কৃষকরা পশুর ভাল দাম পাচ্ছেন। গত বছর কুরবানির পশুর কিছুটা সঙ্কট হয়েছিল। তবে এবার প্রচুর গরু আছে। যদিও ক্রেতারা বলছেন ভারতীয় গরু না আসায় দেশি ও খামারে পালিত গরুতে চাহিদা পূরণ হচ্ছে না।

সোমবার দুপুরে দেশের বৃহত্তম পশুহাট রাজশাহীর সিটিহাট ঘুরে দেখা গেছে, এই হাটে ছোট মাঝারি ও বড় গরুর আমদানি বেশ ভাল। তবে বেশি বিক্রি হচ্ছে ছোট ও মাঝারি মানের গরু।

খামারি সেনারুল ইসলাম বলছিলেন, প্রতি বছরই কুরবানিতে বিক্রির জন্য তারা ছোট গরু পালেন। এবারও ১৮টি গরু হাটে এনেছিলেন রোববার সকালে। সোমবার পর্যন্ত ১১টি বিক্রি করে ফেলেছেন। গড়পড়তা আড়াই থেকে তিন মণ ওজনের এসব গরু একেকটি ৭৫ থেকে ৮০ হাজারে বিক্রি করেছেন। গরুর দাম ভাল পেয়েছেন তিনি।

রাজশাহীর কাকনহাটের খামারি রজমান আলী সেখ বলেন, তিনি ফার্মে গরু পালন করেন। সবই বড় গরু। এবারও ৬টি গরু হাটে এনেছেন বিক্রির জন্য। কিন্তু ৫ থেকে ৬ জন ওজনের এসব গরু স্থানীয় ক্রেতারা কিনছেন না। তিনি গড় পড়তা দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা করে দাম চাচ্ছেন। কিন্তু এসব গরুর স্থানীয় চাহিদা কম থাকায় রোববার পর্যন্ত বিক্রি করতে পারেননি। অবশেষে সোমবার দুপুরে নোয়াখালীর কবিরহাটের দুই ব্যাপারীর কাছে চারটি বিক্রি করেছেন। দাম কিছুটা কম পেয়েছেন চাহিদার তুলনায়। কিন্তু এখন বাকি দুটাও বিক্রি করতে হবে। গরু বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া কঠিন।

রাজশাহীর সিটি হাটের ইজারাদার আতিকুর রহমান কালু বলেন, গত বছর খামারি ও কৃষকরা ভাল দাম পেয়েছিলেন কুরবানির পশুর। শেষ সময়ে অনেকেই গরু না পেয়ে ফেরত গিয়েছিলেন। কুরবানির পশু সঙ্কট হয়েছিল। এবারও প্রথমদিকে কেনা বেচা কম হলেও গত শনিবার থেকে বেচা বিক্রি বেশ জমে উঠেছে।

তিনি বলেন, প্রতিদিন এই হাটে গড়ে ১০ থেকে ১২ হাজার কুরবানির পশু আমদানি হচ্ছে। বিক্রি হচ্ছে দৈনিক ৫ থেকে ৭ হাজার। বড় গরুগুলি চালান হচ্ছে ঢাকা চট্টগ্রাম কুমিল্লা চাঁদপুর ও নোয়াখালীতে। প্রথমদিকে দুরের ব্যাপারীরা না আসলেও শনিবার থেকে তারা সিটি হাটে আসা শুরু করেছেন এবং বড় গরু কিনে চালান করছেন। এতে বরং বড় খামারিদের মনে আশা জেগেছে। গত বছর বড় গরুর দাম কম হওয়ায় খামারিরা মার খেয়েছিল।

এদিকে রাজশাহীর পুঠিয়ার ভালুকগাছির খামারি সোনা মিয়ার খামারে পালিত ১০টি গরু বিক্রি করতে সিটি আনেন সোমবার সকালে। এক ঘণ্টার মধ্যেই এসব মাঝারি গরু বিক্রি হয়ে যায়।

সোনা মিয়া বলেন, লোকজন করোনার মধ্যেও কুরবানি কিনতে হাটে আসছেন। সাধ্যের মধ্যে গরু কিনে নিচ্ছেন। তারা দাম দর বেশি করছেন না। ভাগাভাগিতে গরু কেনায় মাঝারি ও ছোট গরুর চাহিদাও যেমন বেশি আবার বিক্রিও বেশি হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, রাজশাহীর মুণ্ডুমালা, কাকনহাট, বাঘার রস্তুমপুর, চন্ডিপুর, পুঠিয়ার বানেশ্বর, কাটাখালীসহ বিভিন্ন স্থানে কুরবানির হাট জমে উঠেছে। এসব হাটে ছোট ও মাঝারি গরুর আমদানি বেশি। ক্রেতারাও কিনছেন দাম দর করে।

কাটাখালীর মোকতাদুল ইসলাম বলেন, গত বছর রাজশাহীর সিটি হাটে শেষ দিনে গিয়ে গরু পাওয়া যায়নি। সেই আশঙ্কায় এবার ক্রেতারা আগেভাগেই ভিড় করছেন বেশি হাটে। বেচা বিক্রিও বেশি হচ্ছে। শেষ দিনে এবারও রাজশাহীতে কুরবানির গরু সঙ্কট হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন হাট ইজারাদার আতিকুর রহমান কালু।

অন্যদিকে কুরবানি উপলক্ষে হাটগুলিতে মাশুল বা হাসিলে বেশি টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সরকারি নিয়মানুযায়ী ছোট বড় মাঝারি সব গরুতেই ৬০০ টাকা করে হাসিল নেওয়ার কথা কিন্তু সিটি হাটে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা করে আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে ক্রেতার কাছ থেকেই এই হাসিল আদায় করা হচ্ছে।

তবে ভুক্তভোগী একজন ক্রেতার মতে, ছাড়ে ৬০০ টাকা লেখা হলেও অতিরিক্ত ৪০০ টাকা ছাড়ে তোলা হচ্ছে না।

এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সিটি হাটের ইজারাদার আতিকুর রহমান কালু।

একই পরিস্থিতি বানেশ্বর ও কাটাখালী পশুহাটেও। ক্রেতারা বলছেন, করোনাকালে হাট মালিকরা এই অতিরিক্ত মাশুল আদায় করলেও কেউ দেখার নেই।

হাটগুলিতে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবু আসলাম। তিনি বলেন, অতিরিক্ত মাশুল আদায়ের বিষয়ে কেউ তাদের কাছে অভিযোগ করেননি। অভিযোগ করলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আমদানি বেশি বিক্রিও বেশি, রাজশাহীতে পশু সঙ্কটের আশঙ্কা (ভিডিও)

 আনু মোস্তফা, রাজশাহী 
২০ জুলাই ২০২১, ১২:৪১ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

প্রথম দিকে আমদানি ও কেনাবেচা কম হলেও শেষ সময়ে রাজশাহীর পশুহাটগুলিতে বেড়েছে কুরবানির পশু আমদানি। বেড়েছে বেচা-বিক্রি। গত বছরের মতো এ বছরও কুরবানির পশু সঙ্কটের আশঙ্কা করছে ক্রেতারা ছাড়াও হাট ইজারাদার।

ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়েই বলছেন, গত বছরের মতো এ বছরও কুরবানির পশুর ভাল দাম পাচ্ছেন বিক্রেতারা। যদিও রাজশাহীর হাটগুলিতে বড় গরুর দাম তুলনামূলকভাবে কম বলে খামারিরা জানিয়েছেন এবং বিক্রি কম হচ্ছে। বরং ছোট ও মাঝারি গরুর দাম বেশ ভাল। বিক্রিও হচ্ছে বেশি। তবে রাজশাহীর সিটিহাটসহ কয়েকটি হাটে অতিরিক্ত হাসিল আদায়ের অভিযোগ করেছেন ক্রেতা-বিক্রেতারা।

রাজশাহী জেলার অতিরিক্ত প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. ইসমাইল হোসেন জানিয়েছেন, রাজশাহীতে কুরবানিযোগ্য গবাদিপশুর সংখ্যা ১ লাখ ৫০ হারের মতো। জেলায় কুরবানি পশুর চাহিদা ১ লাখ ২৫ হাজার। এর মধ্যে গরু মহিষ ও খাসি রয়েছে। গত তিন বছর ধরে সীমান্ত পথে ভারত থেকে গবাদিপশু না আসায় খামারি ও গরু পালনকারী কৃষকরা পশুর ভাল দাম পাচ্ছেন। গত বছর কুরবানির পশুর  কিছুটা সঙ্কট হয়েছিল। তবে এবার প্রচুর গরু আছে। যদিও ক্রেতারা বলছেন ভারতীয় গরু না আসায় দেশি ও খামারে পালিত গরুতে চাহিদা পূরণ হচ্ছে না।

সোমবার দুপুরে দেশের বৃহত্তম পশুহাট রাজশাহীর সিটিহাট ঘুরে দেখা গেছে, এই হাটে ছোট মাঝারি ও বড় গরুর আমদানি বেশ ভাল। তবে বেশি বিক্রি হচ্ছে ছোট ও মাঝারি মানের গরু।

খামারি সেনারুল ইসলাম বলছিলেন, প্রতি বছরই কুরবানিতে বিক্রির জন্য তারা ছোট গরু পালেন। এবারও ১৮টি গরু হাটে এনেছিলেন রোববার সকালে। সোমবার পর্যন্ত ১১টি বিক্রি করে ফেলেছেন। গড়পড়তা আড়াই থেকে তিন মণ ওজনের এসব গরু একেকটি ৭৫ থেকে ৮০ হাজারে বিক্রি করেছেন। গরুর দাম ভাল পেয়েছেন তিনি।

রাজশাহীর কাকনহাটের খামারি রজমান আলী সেখ বলেন, তিনি ফার্মে গরু পালন করেন। সবই বড় গরু। এবারও ৬টি গরু হাটে এনেছেন বিক্রির জন্য। কিন্তু ৫ থেকে ৬ জন ওজনের এসব গরু স্থানীয় ক্রেতারা কিনছেন না। তিনি গড় পড়তা দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা করে দাম চাচ্ছেন। কিন্তু এসব গরুর স্থানীয় চাহিদা কম থাকায় রোববার পর্যন্ত বিক্রি করতে পারেননি। অবশেষে সোমবার দুপুরে নোয়াখালীর কবিরহাটের দুই ব্যাপারীর কাছে চারটি বিক্রি করেছেন। দাম কিছুটা কম পেয়েছেন চাহিদার তুলনায়। কিন্তু এখন বাকি দুটাও বিক্রি করতে হবে। গরু বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া কঠিন।

রাজশাহীর সিটি হাটের ইজারাদার আতিকুর রহমান কালু বলেন, গত বছর খামারি ও কৃষকরা ভাল দাম পেয়েছিলেন কুরবানির পশুর। শেষ সময়ে অনেকেই গরু না পেয়ে ফেরত গিয়েছিলেন। কুরবানির পশু সঙ্কট হয়েছিল। এবারও প্রথমদিকে কেনা বেচা কম  হলেও গত শনিবার থেকে বেচা বিক্রি বেশ জমে উঠেছে।

তিনি বলেন, প্রতিদিন এই হাটে গড়ে ১০ থেকে ১২ হাজার কুরবানির পশু আমদানি হচ্ছে। বিক্রি হচ্ছে দৈনিক ৫ থেকে ৭ হাজার। বড় গরুগুলি চালান হচ্ছে ঢাকা চট্টগ্রাম কুমিল্লা চাঁদপুর ও নোয়াখালীতে। প্রথমদিকে দুরের ব্যাপারীরা না আসলেও শনিবার থেকে তারা  সিটি হাটে আসা শুরু করেছেন এবং বড় গরু কিনে চালান করছেন। এতে বরং বড় খামারিদের মনে আশা জেগেছে। গত বছর বড় গরুর দাম কম হওয়ায় খামারিরা মার খেয়েছিল।  

এদিকে রাজশাহীর পুঠিয়ার ভালুকগাছির খামারি সোনা মিয়ার খামারে পালিত ১০টি গরু বিক্রি করতে সিটি আনেন সোমবার সকালে। এক ঘণ্টার মধ্যেই এসব মাঝারি গরু বিক্রি হয়ে যায়।

সোনা মিয়া বলেন, লোকজন করোনার মধ্যেও কুরবানি কিনতে হাটে আসছেন। সাধ্যের মধ্যে গরু কিনে নিচ্ছেন। তারা দাম দর বেশি করছেন না। ভাগাভাগিতে গরু কেনায় মাঝারি ও ছোট গরুর চাহিদাও যেমন বেশি আবার বিক্রিও বেশি হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, রাজশাহীর মুণ্ডুমালা, কাকনহাট, বাঘার রস্তুমপুর, চন্ডিপুর, পুঠিয়ার বানেশ্বর, কাটাখালীসহ বিভিন্ন স্থানে কুরবানির হাট জমে উঠেছে। এসব হাটে ছোট ও মাঝারি গরুর আমদানি বেশি। ক্রেতারাও কিনছেন দাম দর করে।

কাটাখালীর মোকতাদুল ইসলাম বলেন, গত বছর রাজশাহীর সিটি হাটে শেষ দিনে গিয়ে গরু পাওয়া যায়নি। সেই আশঙ্কায় এবার ক্রেতারা আগেভাগেই ভিড় করছেন বেশি হাটে। বেচা বিক্রিও বেশি হচ্ছে। শেষ দিনে এবারও রাজশাহীতে কুরবানির গরু সঙ্কট হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন হাট ইজারাদার আতিকুর রহমান কালু।

অন্যদিকে কুরবানি উপলক্ষে হাটগুলিতে মাশুল বা হাসিলে বেশি টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সরকারি নিয়মানুযায়ী ছোট বড় মাঝারি সব গরুতেই ৬০০ টাকা করে হাসিল নেওয়ার কথা কিন্তু সিটি হাটে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা করে আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে ক্রেতার কাছ থেকেই এই হাসিল আদায় করা হচ্ছে।

তবে ভুক্তভোগী একজন ক্রেতার মতে, ছাড়ে ৬০০ টাকা লেখা হলেও অতিরিক্ত ৪০০ টাকা ছাড়ে তোলা হচ্ছে না।

এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সিটি হাটের ইজারাদার আতিকুর রহমান কালু।

একই পরিস্থিতি বানেশ্বর ও কাটাখালী পশুহাটেও। ক্রেতারা বলছেন, করোনাকালে হাট মালিকরা এই অতিরিক্ত মাশুল আদায় করলেও কেউ দেখার নেই।

হাটগুলিতে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবু আসলাম। তিনি বলেন, অতিরিক্ত মাশুল আদায়ের বিষয়ে কেউ তাদের কাছে অভিযোগ করেননি। অভিযোগ করলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন