একজন হাকিমের স্বপ্ন বুননে ‘স্বপ্ন বুনন’
jugantor
একজন হাকিমের স্বপ্ন বুননে ‘স্বপ্ন বুনন’

  এসএম শহীদ, মধুপুর (টাঙ্গাইল)  

২১ জুলাই ২০২১, ১৫:১৫:০৮  |  অনলাইন সংস্করণ

দুর্ঘটনায় পা হারিয়ে স্বপ্ন দেখা ভুলেই গিয়েছিলেন টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার অরণখোলা ইউনিয়নের গাছাবাড়ী গ্রামের ইটভাটা শ্রমিক আব্দুল হাকিম। অথচ ছোট বেলা থেকেই স্বপ্ন ছিল সুন্দর একটি জীবনের। শারীরিক বাড়ন্ত আর স্বপ্ন বুনন একসঙ্গে চলছিল। কিন্তু শারীরিক পূর্ণতা পেলেও দরিদ্রতা স্বপ্ন বুননকে এগিয়ে নিতে পারেনি।

কোনোরকম বেঁচে থাকার যোত যোগাড় ছাড়া বাড়তি কোনো সুযোগ তার জীবনে আসেনি। তাই অধরা থেকেছে স্বপ্নের ‘সুখ’। এর পর হঠাৎই এক দুর্ঘটনায় একটি পা হারিয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করেন আব্দুল হাকিম। এর পর তার স্বপ্নগুলো একেবারেই ভেসে যায় দুঃখের সাগরে।

জীবনে তার বহু ঈদ এসেছে গেছে। কিন্তু অপরাপর দিনের সঙ্গে ঈদের দিনের পার্থক্য তার কাছে তেমন মনে হয়নি। কেবল এবারই ঈদ যেন তার পরিবারের জন্য অনেকটা অর্থবহ। স্বপ্ন বুনন নামের মধুপুরের ফেসবুক ভিত্তিক সামাজিক সংগঠন একটি অটোরিকশা নিয়ে হাকিমের পরিবারের পাশে দাঁড়ালো। বহুদিনের অধরা স্বপ্নকে স্পর্শ করলেন হাকিম।

মঙ্গলবার ঈদের আগের দিনের সন্ধ্যা হাকিমের ছোট্ট উঠান স্বপ্ন বুননের কয়েক সদস্যে ভরে গিয়েছিল। আগতদের হাত থেকে ঈদ উপহার হিসেবে অটোভ্যান প্রাপ্তির দৃশ্যটি হাকিমের কাছে ছিল সত্যি এক অনন্য ঘটনা।

মধুপুর উপজেলার গাছাবাড়ী গ্রামের ইমাম আলীর ছেলে আব্দুল হাকিম। আলাপকালে হাকিমের কাছ থেকে জানা যায়, পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষ তিনি। স্ত্রী, দুই সন্তান, মা ও বাবাকে নিয়ে ৬ সদস্যের সংসার। ৬ মুখের আহার জোগাড়ে নিরন্তর পরিশ্রম হাকিমের। হঠাৎই এক দুর্ঘটনা ঝড় হয়ে আসে পরিবারটিতে। একটি পা হারিয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করেন তিনি। চোখে মুখে অন্ধকার নেমে আসে। অনেক চেষ্টা তদ্বিরে উঠে দাঁড়ানোর অবলম্বন করেন ভ্যানরিক্সাকে।

প্রতিদিন ১২০ টাকায় ভাড়া নিয়ে ভ্যান চালিয়ে সংসারের ৬ প্রাণ বাঁচানোর নতুন সংগ্রাম শুরু হয়। অনেক বাধা বিপত্তি আসে এ সংগ্রামেও। এক পা না থাকায় অনেকে তার ভ্যান ভাড়া নিতে চান না। এতে তার অধিকাংশ দিন কম আয় হতো। ফলে অনাহারে অর্ধাহারে দিন কাটানোর ঘটনা ছিল অহরহ।

এ নিয়ে তার দুঃখ হলেও নিজস্ব ভ্যান হলে সে দুঃখকে দুঃখ মনে হতো না- এমন ভাবতেন হাকিম। এমন ভাবনার সময়ে কাকতালীয়ভাবে নজরে আসে সদ্য সৃষ্টি ‘স্বপ্ন বুনন’ নামের ফেসবুক সংগঠনের এডমিনদের। তারা প্রথম মানবিক উদ্যোগ হিসেবে বেছে নেন হাকিমকে অটোভ্যান তৈরি করে দেয়ার।

প্রায় অর্ধ লাখ টাকায় অটোভ্যান তৈরি করে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হাকিমের দারিদ্রের সাক্ষী কুঁড়ে ঘরে গিয়ে হাজির স্বপ্ন বুনন টিম। সঙ্গে ছিলেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি বেলায়েত হোসেনসহ গণ্যমান্য ব্যক্তি। অটোভ্যান ও তার চাবি হাকিমের হাতে তুলে দেয়া হয়।

স্বপ্ন বুনন টিম জানায়, ত্যাগের মহিমায় বিশ্ব মুসলিম যখন খুশির ঈদ আয়োজনে ব্যস্ত তখন হাকিম মিয়ার বাড়ির রান্নার চুলোর আগুনের শিখার তেজ ম্রিয়মাণ। এমন ক্ষণে উপহার হিসেবে অটোভ্যান প্রাপ্তির আনন্দ হাকিমের চিন্তার দিগন্ত অতিক্রম করে গেছে। পরিবারের সবার চোখে আনন্দের জল বইছিল।

স্বপ্ন বুনন টিমের মাঝেও সেই জলে আনন্দের ঢেউ খেলেছে। দেয়া আর নেয়ার আনন্দ ধারা একাকার হয়ে অভূতপূর্ব এক দৃশ্য তৈরি করে। এরই নাম যেন ভালোবাসা, মানবতা। ত্যাগের মহিমায় জয় হোক ভালোবাসার, জাগ্রত থাক মানবতা। ভালো থাকুক হাকিম মিয়ার পরিবার এই প্রত্যাশা স্বপ্ন বুননের।

একজন হাকিমের স্বপ্ন বুননে ‘স্বপ্ন বুনন’

 এসএম শহীদ, মধুপুর (টাঙ্গাইল) 
২১ জুলাই ২০২১, ০৩:১৫ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

দুর্ঘটনায় পা হারিয়ে স্বপ্ন দেখা ভুলেই গিয়েছিলেন টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার অরণখোলা ইউনিয়নের গাছাবাড়ী গ্রামের ইটভাটা শ্রমিক আব্দুল হাকিম। অথচ ছোট বেলা থেকেই স্বপ্ন ছিল সুন্দর একটি জীবনের। শারীরিক বাড়ন্ত আর স্বপ্ন বুনন একসঙ্গে চলছিল। কিন্তু  শারীরিক পূর্ণতা পেলেও দরিদ্রতা স্বপ্ন বুননকে এগিয়ে নিতে পারেনি।

কোনোরকম বেঁচে থাকার যোত যোগাড় ছাড়া বাড়তি কোনো সুযোগ তার জীবনে আসেনি। তাই অধরা থেকেছে স্বপ্নের ‘সুখ’। এর পর হঠাৎই এক দুর্ঘটনায় একটি পা হারিয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করেন আব্দুল হাকিম। এর পর তার স্বপ্নগুলো একেবারেই ভেসে যায় দুঃখের সাগরে।

জীবনে তার বহু ঈদ এসেছে গেছে। কিন্তু অপরাপর দিনের সঙ্গে ঈদের দিনের পার্থক্য তার কাছে তেমন মনে হয়নি। কেবল এবারই ঈদ যেন তার পরিবারের জন্য অনেকটা অর্থবহ। স্বপ্ন বুনন নামের মধুপুরের ফেসবুক ভিত্তিক সামাজিক সংগঠন একটি অটোরিকশা নিয়ে হাকিমের পরিবারের পাশে দাঁড়ালো। বহুদিনের অধরা স্বপ্নকে স্পর্শ করলেন হাকিম।

মঙ্গলবার ঈদের আগের দিনের সন্ধ্যা হাকিমের ছোট্ট উঠান স্বপ্ন বুননের কয়েক সদস্যে ভরে গিয়েছিল। আগতদের হাত থেকে ঈদ উপহার হিসেবে অটোভ্যান প্রাপ্তির দৃশ্যটি হাকিমের কাছে ছিল সত্যি এক অনন্য ঘটনা।

মধুপুর উপজেলার গাছাবাড়ী গ্রামের ইমাম আলীর ছেলে আব্দুল হাকিম। আলাপকালে হাকিমের কাছ থেকে জানা যায়, পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষ তিনি। স্ত্রী, দুই সন্তান, মা ও বাবাকে নিয়ে ৬ সদস্যের সংসার। ৬ মুখের আহার জোগাড়ে নিরন্তর পরিশ্রম হাকিমের। হঠাৎই এক দুর্ঘটনা ঝড় হয়ে আসে পরিবারটিতে। একটি পা হারিয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করেন তিনি। চোখে মুখে অন্ধকার নেমে আসে। অনেক চেষ্টা তদ্বিরে উঠে দাঁড়ানোর অবলম্বন করেন ভ্যানরিক্সাকে।

প্রতিদিন ১২০ টাকায় ভাড়া নিয়ে ভ্যান চালিয়ে সংসারের ৬ প্রাণ বাঁচানোর নতুন সংগ্রাম শুরু হয়। অনেক বাধা বিপত্তি আসে এ সংগ্রামেও। এক পা না থাকায় অনেকে তার ভ্যান ভাড়া নিতে চান না। এতে তার  অধিকাংশ দিন কম আয় হতো। ফলে অনাহারে অর্ধাহারে  দিন কাটানোর ঘটনা ছিল অহরহ।

এ নিয়ে তার দুঃখ হলেও নিজস্ব ভ্যান হলে সে দুঃখকে দুঃখ মনে হতো না- এমন ভাবতেন হাকিম। এমন ভাবনার সময়ে কাকতালীয়ভাবে নজরে আসে সদ্য সৃষ্টি ‘স্বপ্ন বুনন’ নামের ফেসবুক সংগঠনের এডমিনদের। তারা প্রথম মানবিক উদ্যোগ হিসেবে বেছে নেন হাকিমকে অটোভ্যান তৈরি করে দেয়ার।

প্রায় অর্ধ লাখ টাকায় অটোভ্যান তৈরি করে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হাকিমের দারিদ্রের সাক্ষী কুঁড়ে ঘরে গিয়ে হাজির স্বপ্ন বুনন টিম। সঙ্গে ছিলেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি বেলায়েত হোসেনসহ গণ্যমান্য ব্যক্তি। অটোভ্যান ও তার চাবি হাকিমের হাতে তুলে দেয়া হয়।

স্বপ্ন বুনন টিম জানায়, ত্যাগের মহিমায় বিশ্ব মুসলিম যখন খুশির ঈদ আয়োজনে ব্যস্ত তখন হাকিম মিয়ার বাড়ির রান্নার চুলোর আগুনের শিখার তেজ ম্রিয়মাণ। এমন ক্ষণে উপহার হিসেবে অটোভ্যান প্রাপ্তির আনন্দ হাকিমের চিন্তার দিগন্ত অতিক্রম করে গেছে। পরিবারের সবার চোখে আনন্দের জল বইছিল।

স্বপ্ন বুনন টিমের মাঝেও সেই জলে আনন্দের ঢেউ খেলেছে। দেয়া আর নেয়ার আনন্দ ধারা একাকার হয়ে অভূতপূর্ব এক দৃশ্য তৈরি করে। এরই নাম যেন ভালোবাসা, মানবতা। ত্যাগের মহিমায় জয় হোক ভালোবাসার, জাগ্রত থাক মানবতা। ভালো থাকুক হাকিম মিয়ার পরিবার এই প্রত্যাশা স্বপ্ন বুননের।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন