ভাগবাটোয়ারা করে ঈদ উদযাপন হয় যেখানে
jugantor
ভাগবাটোয়ারা করে ঈদ উদযাপন হয় যেখানে

  তোফাজ্জল হোসেন, মদন (নেত্রকোনা)  

২২ জুলাই ২০২১, ১২:১৯:১২  |  অনলাইন সংস্করণ

নেত্রকোনার মদনে নিম্নআয়ের মানুষেরা গরু জবাই করে মাংস ভাগবাটোয়ারার মাধ্যমে ঈদ পালন করেন প্রতি বছর। এবারো তার ব্যতিক্রম হয়নি। প্রতিবছরের ন্যায় এবারো পবিত্র ঈদুল আযহা উৎযাপন করেছেন ভাগবাটোয়ারার মাধ্যমে।

সমাজের বিত্তশালীরা নিম্নআয়ের মানুষদের মধ্যে পূর্বে কোরবানির মাংস বিতরণ করতেন যা দিয়ে এসব পরিবারের লোকজন খেয়ে দেয়ে ঈদ ভালই কেটে যেত। কিন্তু বর্তমানে আগের চিরাচরিত নিয়ম আর নেই।

একদিকে নিম্নআয়ের পরিবারের লোকজন বাড়ি বাড়ি যেতে আগ্রহী নয়। তারা নিজেরাই এখন প্রত্যেক পাড়ায় পাড়ায় চাঁদা তুলে ঈদ উপলক্ষে গরু জবাই করে ভাগবাটোয়ারা করে ঈদ আনন্দ উপভোগ করেন। ঈদের কয়েকদিন আগে থেকেই থাকে তাদের প্রস্তুতি।

দুই থেকে তিনজন একত্রিত হয়ে চাঁদা তোলা শুরু করেন। যার যার সামর্থ্য অনুযায়ী দেয়া হয় চাঁদা। কেউ পাঁচশ, আবার কেউ এক হাজার থেকে শুরু করে তিন থেকে চার হাজার টাকা পর্যন্তও চাঁদা দেয়। উদ্যোক্তারা গরু জবাই করে ভাগবাটোয়ারা শেষ পর্যন্ত তারা দায়িত্ব পালন করে যায়। উপজেলার প্রতিটি গ্রামের পাড়ায় পাড়ায় চলে এ আয়োজন।

ঈদের দিন উপজেলার কয়েকটি গ্রাম ঘুরে এমন দৃশ্য চোখে পড়েছে। কেউ ক্রয় করেছেন এক লাখ টাকার বেশি দামের গরু। আবার কেউ নব্বই হাজার টাকা দামের গরু। চাঁদা উত্তোলনের ওপরেই নির্ভর করে ক্রয়ক্ষমতা, এমনটি জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা।

ঈদের দিন উপজেলার সাইতপুর গ্রামে গেলে নিম্নআয়ের মানুষেরা পাড়ায় পাড়ায় গরু কিনে জবাই করে এমনকি ভাগবাটোয়ারা করে মাংস বিতরণের দৃশ্য চোখে পড়েছে। এ সময় উদ্যোক্তা মস্তু মিয়া, নুনু মিয়া, হাসেম মিয়া যুগান্তরকে জানান, আমরা প্রতি বছর কয়েকজন মিলে গরু কিনে থাকি। এবার একটি ষাঁড় এক লাখ ছয় হাজার টাকা দিয়ে কিনেছিলাম। সবাই ভাগবাটোয়ারা করে নিয়েছি। তবে এবার আগের চেয়ে কম মাংস পেয়েছি। কারণ গরুর দাম বেশি ছিল।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উদ্যোক্তা জানান, আগে ধনীরা যে গরু কোরবানি করত তা থেকে ভাগবাটোয়ারা করে আমাদের যা দিত তাই মোটামুটি চলে যেত। এখন আর পাড়ায় আগের মতো দেয় না। তাই বাধ্য হয়ে কয়েকজন মিলিত হয়ে একটি গরু কিনে ভাগ করে খাই। এমন চিত্র মদন উপজেলার সব কটি গ্রামে।

এ ব্যাপারে জাহাঙ্গীরপুর কেন্দ্রীয় শাহী জামে মসজিদের খতিব মাওলানা মুফতি আনোয়ার হোসাইন বলেন, গরীবদের প্রতি ধনীদের বিশেষ করে কুরবানির ঈদের সময় মাংস বিতরণে মানবিক উদার দৃষ্টিভঙ্গি সৃষ্টি করতে হবে। তবে নিম্নআয়ের মানুষগুলো ঈদের দিন পাড়ায় পাড়ায় ভাগবাটোয়ারা করে গরু কিনে যে মাংস খায় তা ইসলাম সমর্থন করে না।

ভাগবাটোয়ারা করে ঈদ উদযাপন হয় যেখানে

 তোফাজ্জল হোসেন, মদন (নেত্রকোনা) 
২২ জুলাই ২০২১, ১২:১৯ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

নেত্রকোনার মদনে নিম্নআয়ের মানুষেরা গরু জবাই করে মাংস ভাগবাটোয়ারার মাধ্যমে ঈদ পালন করেন প্রতি বছর। এবারো তার ব্যতিক্রম হয়নি। প্রতিবছরের ন্যায় এবারো পবিত্র ঈদুল আযহা উৎযাপন করেছেন ভাগবাটোয়ারার মাধ্যমে।

সমাজের বিত্তশালীরা নিম্নআয়ের মানুষদের মধ্যে পূর্বে কোরবানির মাংস বিতরণ করতেন যা দিয়ে এসব পরিবারের লোকজন খেয়ে দেয়ে ঈদ ভালই কেটে যেত। কিন্তু বর্তমানে আগের চিরাচরিত নিয়ম আর নেই।

একদিকে নিম্নআয়ের পরিবারের লোকজন বাড়ি বাড়ি যেতে আগ্রহী নয়। তারা নিজেরাই এখন প্রত্যেক পাড়ায় পাড়ায় চাঁদা তুলে ঈদ উপলক্ষে গরু জবাই করে ভাগবাটোয়ারা করে ঈদ আনন্দ উপভোগ করেন। ঈদের কয়েকদিন আগে থেকেই থাকে তাদের প্রস্তুতি।

দুই থেকে তিনজন একত্রিত হয়ে চাঁদা তোলা শুরু করেন। যার যার সামর্থ্য অনুযায়ী দেয়া হয় চাঁদা। কেউ পাঁচশ, আবার কেউ এক হাজার  থেকে শুরু করে তিন থেকে চার হাজার টাকা পর্যন্তও চাঁদা দেয়। উদ্যোক্তারা গরু জবাই করে ভাগবাটোয়ারা শেষ পর্যন্ত তারা দায়িত্ব পালন করে যায়। উপজেলার প্রতিটি গ্রামের পাড়ায় পাড়ায় চলে এ আয়োজন।

ঈদের দিন উপজেলার কয়েকটি গ্রাম ঘুরে এমন দৃশ্য চোখে পড়েছে। কেউ ক্রয় করেছেন এক লাখ টাকার বেশি দামের গরু। আবার কেউ নব্বই হাজার টাকা দামের গরু। চাঁদা উত্তোলনের ওপরেই নির্ভর করে ক্রয়ক্ষমতা, এমনটি জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা।

ঈদের দিন উপজেলার সাইতপুর গ্রামে গেলে নিম্নআয়ের মানুষেরা  পাড়ায় পাড়ায় গরু কিনে জবাই করে এমনকি ভাগবাটোয়ারা করে মাংস বিতরণের দৃশ্য চোখে পড়েছে। এ সময় উদ্যোক্তা মস্তু মিয়া, নুনু মিয়া, হাসেম মিয়া যুগান্তরকে জানান, আমরা প্রতি বছর কয়েকজন মিলে গরু কিনে থাকি। এবার একটি ষাঁড় এক লাখ ছয় হাজার টাকা দিয়ে কিনেছিলাম। সবাই ভাগবাটোয়ারা করে নিয়েছি। তবে এবার আগের চেয়ে কম মাংস পেয়েছি। কারণ গরুর দাম বেশি ছিল। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উদ্যোক্তা জানান, আগে ধনীরা যে গরু কোরবানি করত তা থেকে ভাগবাটোয়ারা করে আমাদের যা দিত তাই মোটামুটি চলে যেত। এখন আর পাড়ায় আগের মতো দেয় না। তাই বাধ্য হয়ে কয়েকজন মিলিত হয়ে একটি গরু কিনে ভাগ করে খাই। এমন চিত্র মদন উপজেলার সব কটি গ্রামে।

এ ব্যাপারে  জাহাঙ্গীরপুর কেন্দ্রীয় শাহী জামে মসজিদের খতিব  মাওলানা মুফতি আনোয়ার হোসাইন বলেন, গরীবদের প্রতি ধনীদের বিশেষ করে কুরবানির ঈদের সময় মাংস বিতরণে মানবিক উদার দৃষ্টিভঙ্গি সৃষ্টি করতে হবে। তবে নিম্নআয়ের মানুষগুলো ঈদের দিন পাড়ায় পাড়ায় ভাগবাটোয়ারা করে গরু কিনে যে মাংস খায় তা ইসলাম সমর্থন করে না।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন