পানির চেয়েও কম দামে বিক্রি হচ্ছে চামড়া 
jugantor
পানির চেয়েও কম দামে বিক্রি হচ্ছে চামড়া 

  মুক্তাগাছা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি  

২২ জুলাই ২০২১, ১৯:৫৪:০০  |  অনলাইন সংস্করণ

চামড়া

২ লিটার বোতলজাত পানির দাম ৩০ টাকা। গরুর চামড়া বিক্রি হচ্ছে ১৫ থেকে ৩০ টাকায়।

ময়মনসিংহ মুক্তাগাছা উপজেলা সদরসহ ভাবকির মোড়, চেচুয়া বাজার, কুমারগাতা,গাবতলি বাজার, বনবাজার এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কুরবানির পশুর চামড়া বিক্রি করতে না পেরে,অনেকেই বাড়ির সামনে, রাস্তায় বা আবর্জনার স্তূপের ভিতর ফেলে রাখতে দেখা গেছে ।

পাশাপাশি এলাকাগুলোতে চামড়া কেনার জন্য মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ীদের তেমন দেখা মেলেনি এর বিপরীতে বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও এতিমখানার লোকজনের বিনামূল্যে চামড়া সংগ্রহ করতে দেখা গেছে। অনেকেই আবার চামড়া বিক্রি করতে না পরে মসজিদ-মাদ্রাসা বা এতিমখানায় চামড়া দান করে দিয়েছেন।

উপজেলা ভাবকির মোড়ের স্থায়ী বাসিন্দা সাইফুরজামান (দুদু) যুগান্তরকে বলেন, সকাল সাড়ে ১২টার মধ্যে তার কোরবানির গরু কাটাকাটি শেষ হয়েছে, কিন্তু গতকাল থেকে এখন পর্যন্ত চামড়া ব্যবসায়ীদের দেখা পায়নি। বিগত বছরগুলোতে এমন অবস্থা ছিল না, এখন এমন কেন হচ্ছে, বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।

উপজেলার দোল্লা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হোসেন আলী জানান, এবার চামড়া কেনার জন‍্য কোনো ব্যবসায়ীকে দেখা যাচ্ছে না, দু'একজন কিনছে তাও আবার আস্ত গরুর চামড়া ১৫ টাকা ও ছাগল ১০ টাকায়। এমন সিন্ডিকেট আগে কখনো দেখিনি। ফলে এলাকার এতিম ও দুস্থরা তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

শাজাহান নামের একজন চামড়া ব্যবসায়ী জানান, নির্ধারিত দামে চামড়া কিনব কিভাবে আমরা চামড়া কিনলেও আড়তে বেচতে হচ্ছে অনেক কম দামে। তাছাড়াও এবার করোনাভাইরাস ও লকডাউনের কারণে চামড়া বেচাকেনা করতে পারব কি না, সেটা এখন বুঝতে পারছি না। তাই চামড়া কিনে নিয়ে কোনো ভরসা পাচ্ছি না। এবার দাম কম হওয়ায় হক থেকে বঞ্চিত হচ্ছে গরিব, এতিম ও অসহায়রা।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার অধিকাংশ মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ীরা, চামড়া কিনছে না এ বছর।

গাবতলি বাজারের মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ী আমির হোসেন জানান, খাসি ছাগলের চামড়া ১৫ টাকা, গরুর চামড়া ৩০-৪০ টাকায় কিনছি। তবে বকরি ছাগলের চামড়া কিনছি না আমি। ব্যবসায় লোকসান হওয়ার আশঙ্কা থাকায় অনেকেই এবছর চামড়া কিনছেন না বলে জানান এই চামড়া ব‍্যবসায়ী।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, আবদুল্লাহ আল মনসুর যুগান্তরকে জানান, করোনাভাইরাস ও লকডাউনের অজুহাত দেখিয়ে চামড়া ব্যবসায়ীরা এমনটি করতে পারে। তবে এখনও পর্যন্ত আমাদের কাছে কোনো অভিযোগ আসেনি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব আমরা।

পানির চেয়েও কম দামে বিক্রি হচ্ছে চামড়া 

 মুক্তাগাছা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি 
২২ জুলাই ২০২১, ০৭:৫৪ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
চামড়া
চামড়া। ফাইল ছবি

২ লিটার বোতলজাত পানির দাম ৩০ টাকা। গরুর চামড়া বিক্রি হচ্ছে ১৫ থেকে ৩০ টাকায়। 

ময়মনসিংহ মুক্তাগাছা উপজেলা সদরসহ ভাবকির মোড়, চেচুয়া বাজার, কুমারগাতা,গাবতলি বাজার, বনবাজার এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কুরবানির পশুর চামড়া বিক্রি করতে না পেরে,অনেকেই বাড়ির সামনে, রাস্তায় বা আবর্জনার স্তূপের ভিতর ফেলে রাখতে দেখা গেছে ।

পাশাপাশি এলাকাগুলোতে চামড়া কেনার জন্য মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ীদের তেমন দেখা মেলেনি এর বিপরীতে বিভিন্ন  মসজিদ, মাদ্রাসা ও এতিমখানার লোকজনের বিনামূল্যে চামড়া সংগ্রহ করতে দেখা গেছে। অনেকেই আবার চামড়া বিক্রি করতে না পরে মসজিদ-মাদ্রাসা বা এতিমখানায় চামড়া দান করে দিয়েছেন।

উপজেলা ভাবকির মোড়ের স্থায়ী বাসিন্দা সাইফুরজামান (দুদু) যুগান্তরকে বলেন, সকাল সাড়ে ১২টার মধ্যে তার কোরবানির গরু কাটাকাটি শেষ হয়েছে, কিন্তু গতকাল থেকে এখন পর্যন্ত চামড়া ব্যবসায়ীদের দেখা পায়নি। বিগত বছরগুলোতে এমন অবস্থা ছিল না, এখন এমন কেন হচ্ছে, বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।

উপজেলার দোল্লা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হোসেন আলী জানান, এবার চামড়া কেনার জন‍্য কোনো ব্যবসায়ীকে দেখা যাচ্ছে না, দু'একজন কিনছে তাও আবার আস্ত গরুর চামড়া ১৫ টাকা ও ছাগল ১০ টাকায়। এমন সিন্ডিকেট আগে কখনো দেখিনি। ফলে এলাকার এতিম ও দুস্থরা তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। 

শাজাহান নামের একজন চামড়া ব্যবসায়ী জানান, নির্ধারিত দামে চামড়া কিনব কিভাবে আমরা চামড়া কিনলেও আড়তে বেচতে হচ্ছে অনেক কম দামে। তাছাড়াও এবার করোনাভাইরাস ও লকডাউনের কারণে চামড়া বেচাকেনা করতে পারব কি না, সেটা এখন বুঝতে পারছি না। তাই চামড়া কিনে নিয়ে কোনো ভরসা পাচ্ছি না। এবার দাম কম হওয়ায় হক থেকে বঞ্চিত হচ্ছে গরিব, এতিম ও অসহায়রা।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার অধিকাংশ মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ীরা, চামড়া কিনছে না এ বছর।

গাবতলি বাজারের মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ী আমির হোসেন জানান, খাসি ছাগলের চামড়া ১৫ টাকা, গরুর চামড়া ৩০-৪০ টাকায় কিনছি। তবে বকরি ছাগলের চামড়া কিনছি না আমি। ব্যবসায় লোকসান হওয়ার আশঙ্কা থাকায় অনেকেই এবছর চামড়া কিনছেন না বলে জানান এই চামড়া ব‍্যবসায়ী।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, আবদুল্লাহ আল মনসুর যুগান্তরকে জানান, করোনাভাইরাস ও লকডাউনের অজুহাত দেখিয়ে চামড়া ব্যবসায়ীরা এমনটি করতে পারে। তবে এখনও পর্যন্ত আমাদের কাছে কোনো অভিযোগ আসেনি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব আমরা।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন