হাসপাতাল ভর্তি নেয়নি, নবজাতকের জন্ম হলো নির্বাচন অফিসের বারান্দায় 
jugantor
হাসপাতাল ভর্তি নেয়নি, নবজাতকের জন্ম হলো নির্বাচন অফিসের বারান্দায় 

  দিরাই (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি   

২২ জুলাই ২০২১, ২৩:১৯:১১  |  অনলাইন সংস্করণ

নবজাতকের জন্ম হলো নির্বাচন অফিসের বারান্দায় 

সুনামগঞ্জের দিরাই হাসপাতালে চিকিৎসা না দিয়েদরিদ্র এক প্রসূতিকে তাড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী প্রসূতি নারী ভাটিপাড়া ইউনিয়নের ডুলকর গ্রামের রুবেল মিয়ার স্ত্রী রেসমিনা বেগম।

সূত্র জানায়, প্রসব ব্যথায় কাতর স্ত্রীকে নিয়ে স্বামী রুবেল মিয়া (২৭) প্রত্যন্ত এলাকা থেকে দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসেন। সেখানে জরুরি বিভাগে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার ওই প্রসূতিকে ভর্তি না নিয়ে সিলেটে নিয়ে যেতে বলেন।এ সময় তিনি এক মেডিকেল অফিসারের শরণাপন্ন হন। তিনিও একই কথা বলেন।

হাসপাতালে ভর্তির চেষ্টা করে ব্যর্থ রেস্তোরাঁ শ্রমিক রুবেল মিয়া স্ত্রীকে নিয়ে হাসপাতাল ফটকের সামনে অ্যাম্বুলেন্স খুঁজতে থাকেন। তখনতার স্ত্রীর প্রসব ব্যথা তীব্র হয়ে ওঠে। রুবেল মিয়া তৎক্ষণাৎ স্ত্রী রেসমিনা বেগমকে হাসপাতাল ফটকের সামনেদিরাই নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ের বারান্দায় নিয়ে যান। সেখানে কয়েক মিনিটের মধ্যে তার স্ত্রী ফুটফুটেকন্যা সন্তান জন্ম দেন।

প্রসূতির স্বামী রুবেল মিয়া বলেন, আমার স্ত্রীর প্রসব ব্যথা শুরু হলে আমি দিরাই হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাই। প্রথমে কাউকে পাইনি। অনেকক্ষণ খোঁজাখুঁজির পর একজনকে পাই। তিনি আমার স্ত্রীকে সিলেট নিয়ে যেতে বলেন। আমি গরীব মানুষ। এতো টাকা কোথায় পাব এই চিন্তা করে অন্য ডাক্তার খুঁজতে থাকি।

কিন্তু কোনো উপায় না পেয়ে তিনি সিলেট যাওয়ার চিন্তা করেন জানিয়ে রুবেল মিয়া বলেন, হাসপাতালের গেইটের সামনে আমার স্ত্রী আর ব্যথা সহ্য করতে পারছিল না। পরে আমার মা ও আরেকজন মহিলার সহযোগিতায় তাকে রাস্তার পাশে নির্বাচন অফিসের বারান্দায় নিয়ে যাই। সেখানে কাপড় দিয়ে পর্দা করার কিছু সময় পর আমার স্ত্রী কন্যা সন্তান প্রসব করেন।

রুবেল মিয়া বলেন, এটি আমার প্রথম সন্তান। মা ও মেয়ে সুস্থ আছে। তাদেরকে বাড়ি নিয়ে গেছেন বলেও জানান তিনি।

রুবেল মিয়ার সঙ্গে থাকা তার ছোট ভাই জাহিদুল আক্ষেপ করে বলেন, হাসপাতালেযা দেখলাম; বলার ভাষা নাই। যাদের টাকা আছে-তাদের হাসপাতাল আছে, ডাক্তার আছে, চিকিৎসা আছে। যাদের টাকা নাই, তাদের কিছু নেই।

ঘটনার সময় দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাক্তার স্বাধীন কুমার দাস তার সিলেটের বাসায় ছিলেন। যোগাযোগ করা হলে এই স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বলেন, প্রসূতি মাকে হাসপাতালে ভর্তির জন্য বলা হয়েছে, কিন্তু উনারা চলে গেছেন। তাড়িয়ে দেওয়ার বিষয়টি মিথ্যা।

হাসপাতালে বর্তমান দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক ও আবাসিক মেডিকেল অফিসার বিদ্যুৎ রঞ্জন দাস বলেন, এই প্রসূতি মা হাসপাতালে এসেছেন বলে আমার জানা নেই।জরুরি বিভাগে নিয়ে আসলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হত। পরে ওই মা ও নবজাতককেহাসপাতালে যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া হয় বলে দাবি করেন তিনি।

হাসপাতাল ভর্তি নেয়নি, নবজাতকের জন্ম হলো নির্বাচন অফিসের বারান্দায় 

 দিরাই (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি  
২২ জুলাই ২০২১, ১১:১৯ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
নবজাতকের জন্ম হলো নির্বাচন অফিসের বারান্দায় 
দিরাই নির্বাচন অফিসের বারান্দায় কন্যা সন্তানের জন্ম দেন রেসমিনা বেগম। ছবি: যুগান্তর

সুনামগঞ্জের দিরাই হাসপাতালে চিকিৎসা না দিয়ে দরিদ্র এক প্রসূতিকে তাড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী প্রসূতি নারী ভাটিপাড়া ইউনিয়নের ডুলকর গ্রামের রুবেল মিয়ার  স্ত্রী রেসমিনা বেগম।

সূত্র জানায়, প্রসব ব্যথায় কাতর স্ত্রীকে নিয়ে স্বামী রুবেল মিয়া (২৭) প্রত্যন্ত এলাকা থেকে দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসেন। সেখানে জরুরি বিভাগে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার ওই প্রসূতিকে ভর্তি না নিয়ে সিলেটে নিয়ে যেতে বলেন। এ সময় তিনি এক মেডিকেল অফিসারের শরণাপন্ন হন। তিনিও একই কথা বলেন। 

হাসপাতালে ভর্তির চেষ্টা করে ব্যর্থ রেস্তোরাঁ শ্রমিক রুবেল মিয়া স্ত্রীকে নিয়ে হাসপাতাল ফটকের সামনে অ্যাম্বুলেন্স খুঁজতে থাকেন। তখন তার স্ত্রীর প্রসব ব্যথা তীব্র হয়ে ওঠে। রুবেল মিয়া তৎক্ষণাৎ স্ত্রী রেসমিনা বেগমকে হাসপাতাল ফটকের সামনে দিরাই নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ের বারান্দায় নিয়ে যান। সেখানে কয়েক মিনিটের মধ্যে তার স্ত্রী ফুটফুটে কন্যা সন্তান জন্ম দেন। 

প্রসূতির স্বামী রুবেল মিয়া বলেন, আমার স্ত্রীর প্রসব ব্যথা শুরু হলে আমি দিরাই হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাই। প্রথমে কাউকে পাইনি। অনেকক্ষণ খোঁজাখুঁজির পর একজনকে পাই। তিনি আমার স্ত্রীকে সিলেট নিয়ে যেতে বলেন। আমি গরীব মানুষ। এতো টাকা কোথায় পাব এই চিন্তা করে অন্য ডাক্তার খুঁজতে থাকি।

কিন্তু কোনো উপায় না পেয়ে তিনি সিলেট যাওয়ার চিন্তা করেন জানিয়ে রুবেল মিয়া বলেন, হাসপাতালের গেইটের সামনে আমার স্ত্রী আর ব্যথা সহ্য করতে পারছিল না। পরে আমার মা ও আরেকজন মহিলার সহযোগিতায় তাকে রাস্তার পাশে নির্বাচন অফিসের বারান্দায় নিয়ে যাই। সেখানে কাপড় দিয়ে পর্দা করার কিছু সময় পর আমার স্ত্রী কন্যা সন্তান প্রসব করেন। 

রুবেল মিয়া বলেন, এটি আমার প্রথম সন্তান। মা ও মেয়ে সুস্থ আছে। তাদেরকে বাড়ি নিয়ে গেছেন বলেও জানান তিনি।

রুবেল মিয়ার সঙ্গে থাকা তার ছোট ভাই জাহিদুল আক্ষেপ করে বলেন, হাসপাতালে যা দেখলাম; বলার ভাষা নাই। যাদের টাকা আছে- তাদের হাসপাতাল আছে, ডাক্তার আছে, চিকিৎসা আছে। যাদের টাকা নাই, তাদের কিছু নেই।

ঘটনার সময় দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাক্তার স্বাধীন কুমার দাস তার সিলেটের বাসায় ছিলেন। যোগাযোগ করা হলে এই স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বলেন, প্রসূতি মাকে হাসপাতালে ভর্তির জন্য বলা হয়েছে, কিন্তু উনারা চলে গেছেন। তাড়িয়ে দেওয়ার বিষয়টি মিথ্যা।

হাসপাতালে বর্তমান দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক ও আবাসিক মেডিকেল অফিসার বিদ্যুৎ রঞ্জন দাস বলেন, এই প্রসূতি মা হাসপাতালে এসেছেন বলে আমার জানা নেই। জরুরি বিভাগে নিয়ে আসলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হত। পরে ওই মা ও নবজাতককে হাসপাতালে যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া হয় বলে দাবি করেন তিনি। 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন