ছেলে সেজে প্রেম, অতঃপর...
jugantor
ছেলে সেজে প্রেম, অতঃপর...

  টঙ্গীবাড়ী (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধি  

২৫ জুলাই ২০২১, ২০:০৮:১০  |  অনলাইন সংস্করণ

মুখের কথা, চুলের স্টাইল, পোশাক-আশাক সবই ছেলেদের মতো। নাম রেখেছেন রায়হান। প্রেম করেছেন মাধ্যমিক স্কুলের ছাত্রীর (১৬) সঙ্গে।

কথিত প্রেমিক ফুসলিয়ে বিয়ের প্রলোভনে সহযোগীদের নিয়ে ওই ছাত্রীকে অপহরণ করে নিয়ে তুলে দেয় তার মা মুক্তা বেগমের হাতে।

মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী উপজেলার ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী নিখোঁজের ঘটনায় তার পিতা পুলিশকে সংবাদ দিলে পুলিশ জেলার সদর থানাধীন জোর পুকুরপাড় পূর্বপাড়ার কাজলের বাড়ি থেকে তাকে অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে।

উদ্ধারকৃত ছাত্রী জানায়, আমার সঙ্গে প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে মুক্তা বেগমের মেয়ে স্মৃতি (১৫) ছেলে সেজে প্রেম করে আসছিল। তার মা মুক্তা, বাবা রবিউল তাকে সহযোগিতা করত। বুধবার ঈদের দিন বেলা সাড়ে ১১টায় আমাকে স্মৃতি নিজেকে রায়হান পরিচয়ে তার মা, বাবা ও সৎমাকে সঙ্গে নিয়ে অটোরিকশায় করে গোপনে নিয়ে আসে।

পরবর্তীতে আমি বুঝতে পারি আমার প্রেমিক রায়হান আসলে ছেলে নয় মেয়ে। তারা আমাকে ৩ দিন আটকিয়ে রেখে নির্যাতন করে খারাপ কাজ করার কথা বলে। আমি রাজি না হওয়াতে তারা আমাকে অন্যত্র পাঠিয়ে দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল।

ওই ছাত্রীর পিতা জানান, আমার প্রতিবেশী চাচাতো বোন আর তার মেয়ে স্মৃতিকে যোগসাজশে ছেলে সাজিয়ে আমার মেয়েকে কৌশলে ফাঁদে ফেলে অপহরণ করে নিয়া যায়। মেয়েকে অন্যত্র স্থানান্তরের প্রস্তুতির সময় পুলিশের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা করেছি।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আল মামুন জানান, স্মৃতি, মুক্তা, রবিউল, হিজড়া শাকিলা সংঘবদ্ধ নারী ও শিশু পাচারকারী চক্র। তারা কৌশলে উঠতি বয়সী মেয়েদের অপহরণ করে অশ্লীল কাজ করানোসহ বিভিন্ন স্থানে পাচারের সঙ্গে জড়িত বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে।

টঙ্গীবাড়ী থানার ওসি হারুন অর রশিদ জানান, স্মৃতি মেয়েটি খুবই স্মার্টলি ছেলেদের মতো কথা বলে। পোশাক, হেয়ার স্টাইল ছেলেদের মতো। কৌশলে ওই ছাত্রীর সঙ্গে প্রেমের অভিনয় করে তুলে নিয়ে তার মা মুক্তার হাতে তুলে দেয়। ওই ছাত্রীকে স্মৃতির মা মুক্তার স্বামী রবিউলের হাতে তুলে দেয় আর রবিউল তার আরেক স্ত্রী হিজড়া শাকিলার মাধ্যমে পাচারের সময় স্মৃতি ও মুক্তাকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে জিজ্ঞাসাবাদে তারা অপহরণ ও পাচারের ঘটনা জানায়। তাদের দুজনের কথামতো পরবর্তীতে অপর দুজনকে আটক করা হয়।

তিনি জানান, শনিবার স্মৃতি ও মুক্তাকে আদালতে পাঠানো হলে তারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন। রোববার রবিউল ও হিজড়া শাকিলাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

ছেলে সেজে প্রেম, অতঃপর...

 টঙ্গীবাড়ী (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধি 
২৫ জুলাই ২০২১, ০৮:০৮ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

মুখের কথা, চুলের স্টাইল, পোশাক-আশাক সবই ছেলেদের মতো। নাম রেখেছেন রায়হান। প্রেম করেছেন মাধ্যমিক স্কুলের ছাত্রীর (১৬) সঙ্গে।

কথিত প্রেমিক ফুসলিয়ে বিয়ের প্রলোভনে সহযোগীদের নিয়ে ওই ছাত্রীকে অপহরণ করে নিয়ে তুলে দেয় তার মা মুক্তা বেগমের হাতে।

মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী উপজেলার ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী নিখোঁজের ঘটনায় তার পিতা পুলিশকে সংবাদ দিলে পুলিশ জেলার সদর থানাধীন জোর পুকুরপাড় পূর্বপাড়ার কাজলের বাড়ি থেকে তাকে অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে।

উদ্ধারকৃত ছাত্রী জানায়, আমার সঙ্গে প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে মুক্তা বেগমের মেয়ে স্মৃতি (১৫) ছেলে সেজে প্রেম করে আসছিল। তার মা মুক্তা, বাবা রবিউল তাকে সহযোগিতা করত। বুধবার ঈদের দিন বেলা সাড়ে ১১টায় আমাকে স্মৃতি নিজেকে রায়হান পরিচয়ে তার মা, বাবা ও সৎমাকে সঙ্গে নিয়ে অটোরিকশায় করে গোপনে নিয়ে আসে।

পরবর্তীতে আমি বুঝতে পারি আমার প্রেমিক রায়হান আসলে ছেলে নয় মেয়ে। তারা আমাকে ৩ দিন আটকিয়ে রেখে নির্যাতন করে খারাপ কাজ করার কথা বলে। আমি রাজি না হওয়াতে তারা আমাকে অন্যত্র পাঠিয়ে দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল।

ওই ছাত্রীর পিতা জানান, আমার প্রতিবেশী চাচাতো বোন আর তার মেয়ে স্মৃতিকে যোগসাজশে ছেলে সাজিয়ে আমার মেয়েকে কৌশলে ফাঁদে ফেলে অপহরণ করে নিয়া যায়। মেয়েকে অন্যত্র স্থানান্তরের প্রস্তুতির সময় পুলিশের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা করেছি।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আল মামুন জানান, স্মৃতি, মুক্তা, রবিউল, হিজড়া শাকিলা সংঘবদ্ধ নারী ও শিশু পাচারকারী চক্র। তারা কৌশলে উঠতি বয়সী মেয়েদের অপহরণ করে অশ্লীল কাজ করানোসহ বিভিন্ন স্থানে পাচারের সঙ্গে জড়িত বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে।

টঙ্গীবাড়ী থানার ওসি হারুন অর রশিদ জানান, স্মৃতি মেয়েটি খুবই স্মার্টলি ছেলেদের মতো কথা বলে। পোশাক, হেয়ার স্টাইল ছেলেদের মতো। কৌশলে ওই ছাত্রীর সঙ্গে প্রেমের অভিনয় করে তুলে নিয়ে তার মা মুক্তার হাতে তুলে দেয়। ওই ছাত্রীকে স্মৃতির মা মুক্তার স্বামী রবিউলের হাতে তুলে দেয় আর রবিউল তার আরেক স্ত্রী হিজড়া শাকিলার মাধ্যমে পাচারের সময় স্মৃতি ও মুক্তাকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে জিজ্ঞাসাবাদে তারা অপহরণ ও পাচারের ঘটনা জানায়। তাদের দুজনের কথামতো পরবর্তীতে অপর দুজনকে আটক করা হয়।

তিনি জানান, শনিবার স্মৃতি ও মুক্তাকে আদালতে পাঠানো হলে তারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন। রোববার রবিউল ও হিজড়া শাকিলাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন