ভরা বর্ষায় পানির জন্য হাহাকার কৃষকদের!
jugantor
ভরা বর্ষায় পানির জন্য হাহাকার কৃষকদের!

  গোলাম কবির বিলু, পীরগঞ্জ (রংপুর)  

২৫ জুলাই ২০২১, ২০:২০:৩২  |  অনলাইন সংস্করণ

পানির অভাবে কৃষকরা তাদের জমিতে রোপা আমন চারা লাগাতে পারছেন না। বর্ষার মাস শ্রাবণেও যেন পানির জন্য কৃষকদের মাঝে হাহাকার চলছে।

কৃষি বিভাগের হিসাবে এখনো ২৫ ভাগের এক ভাগ জমিতেও কৃষকরা রোপা আমন চারা লাগাতে পারেনি। ফলে আমন চাষে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

তবে সময়কে কাজে লাগাতে কৃষকরা বীজতলা থেকে চারা তুলে বলান দিয়েছেন; যা পরবর্তীতে তুলে জমিতে লাগানো হবে।

উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা কৃষি বিভাগ চলতি আমন মৌসুমে পীরগঞ্জের ৩৩১টি গ্রামে ২৫ হাজার ২৬৫ হেক্টর জমিতে রোপা আমন ধানের চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। কৃষকদের ফসলের রোগবালাইসহ নানান বিষয়ে পরামর্শ দিতে কৃষি বিভাগ পীরগঞ্জ উপজেলাকে ৪৬টি ব্লকে ভাগ করেছে। ওই সব ব্লকের অধীনে রোববার পর্যন্ত মাত্র ১ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন চারা লাগানো হয়েছে।

সূত্র আরও জানায়, আগামী ২০ আগস্ট পর্যন্ত আমন চারা লাগানো যাবে। এ সময়ের পরে জমিতে রোপা আমন চারা লাগানো হলে আশানুরূপ ধানের ফলন হবে না বলে কৃষি বিভাগ জানিয়েছে। তবে পানির অভাবে জমিতে আমন রোপণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়ার আশঙ্কাও করছেন কৃষক ও কৃষি বিভাগ।

উপজেলার মদনখালী ইউনিয়নের কোচারপাড়া গ্রামের সচেতন চাষী মঞ্জুর হোসেন বলেন, আকাশের পানির ওপর নির্ভর করে আমরা আমন চাষ করি। কিন্তু বৃষ্টির পানির অভাবে আমরা শ্যালোমেশিনের মাধ্যমে পানি সেচ দিয়ে জমি কাদা করে আমন চারা লাগাই। যারা পানি সেচ দিয়ে আবাদ করতে অক্ষম তারা আমন চারাগুলো বলান দেন। পরে জমিতে বৃষ্টির পানি হলে আমন চারা লাগান।

তিনি আরও বলেন, বলান প্রক্রিয়ায় ধানের আবাদে কষ্ট কম, ধানের ফলনও কাঙ্ক্ষিত হয়। বলান হলো- বীজতলা থেকে চারা তুলে বেশি চারা গুচ্ছ করে মাটিতে পুঁতে দেয়া। এ পদ্ধতি উপজেলায় ব্যাপকভাবে প্রচলিত। এতে আমন চারার বয়স বীজতলার চেয়ে বেশি হলে সমস্যা নেই।

রায়পুর কৃষি ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সাথী বেগম বলেন, অধিকাংশ কৃষক বীজতলা থেকে চারা তুলে বলান দিয়েছেন। কৃষকরা বৃষ্টির অপেক্ষায় আছেন। পানি হলেই জমিতে আমন চারা লাগাবেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাদেকুজ্জামান সরকার বলেন, দেশে ২৪ জুলাই থেকে ২ আগস্টের মধ্যে ব্যাপক বৃষ্টিপাত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে আবহাওয়া অফিস বলেছে। যেহেতু রোপা আমন চারা লাগানোর আরও প্রায় ৩ সপ্তাহ সময় রয়েছে। এ সময়েই কৃষি বিভাগের আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হতে পারে।

ভরা বর্ষায় পানির জন্য হাহাকার কৃষকদের!

 গোলাম কবির বিলু, পীরগঞ্জ (রংপুর) 
২৫ জুলাই ২০২১, ০৮:২০ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

পানির অভাবে কৃষকরা তাদের জমিতে রোপা আমন চারা লাগাতে পারছেন না। বর্ষার মাস শ্রাবণেও যেন পানির জন্য কৃষকদের মাঝে হাহাকার চলছে।

কৃষি বিভাগের হিসাবে এখনো ২৫ ভাগের এক ভাগ জমিতেও কৃষকরা রোপা আমন চারা লাগাতে পারেনি। ফলে আমন চাষে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

তবে সময়কে কাজে লাগাতে কৃষকরা বীজতলা থেকে চারা তুলে বলান দিয়েছেন; যা পরবর্তীতে তুলে জমিতে লাগানো হবে।

উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা কৃষি বিভাগ চলতি আমন মৌসুমে পীরগঞ্জের ৩৩১টি গ্রামে ২৫ হাজার ২৬৫ হেক্টর জমিতে রোপা আমন ধানের চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। কৃষকদের ফসলের রোগবালাইসহ নানান বিষয়ে পরামর্শ দিতে কৃষি বিভাগ পীরগঞ্জ উপজেলাকে ৪৬টি ব্লকে ভাগ করেছে। ওই সব ব্লকের অধীনে রোববার পর্যন্ত মাত্র ১ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন চারা লাগানো হয়েছে।

সূত্র আরও জানায়, আগামী ২০ আগস্ট পর্যন্ত আমন চারা লাগানো যাবে। এ সময়ের পরে জমিতে রোপা আমন চারা লাগানো হলে আশানুরূপ ধানের ফলন হবে না বলে কৃষি বিভাগ জানিয়েছে। তবে পানির অভাবে জমিতে আমন রোপণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়ার আশঙ্কাও করছেন কৃষক ও কৃষি বিভাগ।

উপজেলার মদনখালী ইউনিয়নের কোচারপাড়া গ্রামের সচেতন চাষী মঞ্জুর হোসেন বলেন, আকাশের পানির ওপর নির্ভর করে আমরা আমন চাষ করি। কিন্তু বৃষ্টির পানির অভাবে আমরা শ্যালোমেশিনের মাধ্যমে পানি সেচ দিয়ে জমি কাদা করে আমন চারা লাগাই। যারা পানি সেচ দিয়ে আবাদ করতে অক্ষম তারা আমন চারাগুলো বলান দেন। পরে জমিতে বৃষ্টির পানি হলে আমন চারা লাগান।

তিনি আরও বলেন, বলান প্রক্রিয়ায় ধানের আবাদে কষ্ট কম, ধানের ফলনও কাঙ্ক্ষিত হয়। বলান হলো- বীজতলা থেকে চারা তুলে বেশি চারা গুচ্ছ করে মাটিতে পুঁতে দেয়া। এ পদ্ধতি উপজেলায় ব্যাপকভাবে প্রচলিত। এতে আমন চারার বয়স বীজতলার চেয়ে বেশি হলে সমস্যা নেই।

রায়পুর কৃষি ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সাথী বেগম বলেন, অধিকাংশ কৃষক বীজতলা থেকে চারা তুলে বলান দিয়েছেন। কৃষকরা বৃষ্টির অপেক্ষায় আছেন। পানি হলেই জমিতে আমন চারা লাগাবেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাদেকুজ্জামান সরকার বলেন, দেশে ২৪ জুলাই থেকে ২ আগস্টের মধ্যে ব্যাপক বৃষ্টিপাত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে আবহাওয়া অফিস বলেছে। যেহেতু রোপা আমন চারা লাগানোর আরও প্রায় ৩ সপ্তাহ সময় রয়েছে। এ সময়েই কৃষি বিভাগের আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হতে পারে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন