বাল্যবিয়েতে বাধা, বরের বিরুদ্ধে কনের বড়বোনের ধর্ষণ মামলা!
jugantor
বাল্যবিয়েতে বাধা, বরের বিরুদ্ধে কনের বড়বোনের ধর্ষণ মামলা!

  গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি  

২৫ জুলাই ২০২১, ২১:৩৮:৪৬  |  অনলাইন সংস্করণ

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে ছোটবোনের সঙ্গে বিয়ের প্রস্তুতি চলাকালে বাল্যবিয়ের অভিযোগে বিয়ে ভেঙে দেয় প্রশাসন! বিয়ে না হওয়ায় সেই বরের বিরুদ্ধে কনের বড়বোন ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের করেছেন।

আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ২২ ধারায় ভিকটিমের জবানবন্দিতে রয়েছে কনের বড়বোনের স্বাক্ষর।

কনের বড়বোন নিজেকে বিবাহিতা, ৯ম শ্রেণির ছাত্রী, ডাক্তারি পরীক্ষা ও আদালতে জবানবন্দি দেয়ার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে বোকাইনগর ইউনিয়নের ইয়ারপুর গ্রামের আব্দুল বারেকের পুত্র মো. এনামুল হক বাবুকে গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরণ করেছে পুলিশ।

এনামুল হক বাবু গৌরীপুর সরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী।

মামলা, ভিকটিমের পরিবার ও পুলিশ সূত্র জানায়, বোকাইনগর ইউনিয়নের দাড়িয়াপুর গ্রামের গাজী মামুদের বড়ইবাগানে গত ৩ এপ্রিল রাতে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে ভিকটিমকে ইয়ারপুর গ্রামের আব্দুল বারেকের পুত্র মো. এনামুল হক বাবু (২০) ধর্ষণ করে। এছাড়াও একই স্থানে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক করে বাবু। এ নিয়ে গ্রাম্যসালিশ দরবারে ভিকটিমের সঙ্গে ৭ এপ্রিল বিয়ের দিন ধার্য হয়।

ভিকটিমের পরিবারের অভিযোগ সেই দিন ছেলের বাবা পুলিশকে ও প্রশাসনকে মোবাইল ফোনে বাল্যবিয়ের কথা বলে বিয়ে ভেঙে দেন। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে ভিকটিমের মা বাদী হয়ে তার মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মুহাম্মদ জামাল হোসেনও বাদীর অভিযোগ অনুযায়ী কনের বড়বোনকে ৮ এপ্রিল ২২ ধারা জবানবন্দির জন্য আদালতে ও ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ফরেনসিক বিভাগে প্রেরণ করেন।

এদিকে মো. এনামুল হক বাবুর পিতা মো. আব্দুল বারেক সাজানো ঘটনায় মিথ্যা মামলা দায়েরের অভিযোগ এনে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে ময়মনসিংহ রেঞ্জের ডিআইজি বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

তিনি দাবি করেন, তার ছেলের বয়স ১৭ বছর এবং মেয়ের বয়স ১৬ বছর হওয়ায় বাল্যবিয়ে বন্ধ করে দেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী কমিশনার (ভূমি)। তার ছেলের বিরুদ্ধে ওই মেয়ের বড়বোনকে দিয়ে সাজানো মিথ্যা বানোয়াট মামলা দায়ের করে ছেলে ও তার পরিবারকে হয়রানি করা হচ্ছে।

সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা যায়, কনের বড়বোন ৯ম শ্রেণির ছাত্রী ও অবিবাহিত নয়। ২০১৮ সালের ৯ সেপ্টেম্বর তার বিয়ে হয়েছে নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জ এলাকায়। কনের সঙ্গে এনামুল হক বাবুর ৭ এপ্রিল বিয়েও ঠিক করেন গ্রাম্য মাতবররা। সেই বিয়ে ভেঙে দেয় প্রশাসন।

মামলার বাদী ভিকটিমের মা জানান, আমাদের অভিযোগ লেখার সময় ভুল হয়েছিল। তা এখন সংশোধন করা হয়েছে।

ভিকটিমের বাবা জানান, ছোট মেয়ের নামের স্থলে বড় মেয়ের নাম হয়েছিল। তবে ম্যাজিস্ট্রেটের এখানেও সেই ভুল নামই লিখেছে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মুহাম্মদ জামাল হোসেন জানান, বাদীর লিখিত অভিযোগে ভুলক্রমে ভিকটিমের নামের জায়গায় ছোটবোনের স্থলে বড়বোনের নাম লিপিবদ্ধ হয়েছে। মামলার তদন্ত চলছে, তদন্তে প্রকৃত ভিকটিমের নাম ও ঘটনা বেড়িয়ে আসবে।

গৌরীপুর থানার ওসি খান আব্দুল হালিম সিদ্দিকী জানান, ভিকটিমের নাম সংশোধনের জন্য আদালতে দরখাস্ত করা হয়েছে।

বাল্যবিয়েতে বাধা, বরের বিরুদ্ধে কনের বড়বোনের ধর্ষণ মামলা!

 গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি 
২৫ জুলাই ২০২১, ০৯:৩৮ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে ছোটবোনের সঙ্গে বিয়ের প্রস্তুতি চলাকালে বাল্যবিয়ের অভিযোগে বিয়ে ভেঙে দেয় প্রশাসন! বিয়ে না হওয়ায় সেই বরের বিরুদ্ধে কনের বড়বোন ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের করেছেন।

আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ২২ ধারায় ভিকটিমের জবানবন্দিতে রয়েছে কনের বড়বোনের স্বাক্ষর।

কনের বড়বোন নিজেকে বিবাহিতা, ৯ম শ্রেণির ছাত্রী, ডাক্তারি পরীক্ষা ও আদালতে জবানবন্দি দেয়ার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে বোকাইনগর ইউনিয়নের ইয়ারপুর গ্রামের আব্দুল বারেকের পুত্র মো. এনামুল হক বাবুকে গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরণ করেছে পুলিশ।

এনামুল হক বাবু গৌরীপুর সরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী।

মামলা, ভিকটিমের পরিবার ও পুলিশ সূত্র জানায়, বোকাইনগর ইউনিয়নের দাড়িয়াপুর গ্রামের গাজী মামুদের বড়ইবাগানে গত ৩ এপ্রিল রাতে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে ভিকটিমকে ইয়ারপুর গ্রামের আব্দুল বারেকের পুত্র মো. এনামুল হক বাবু (২০) ধর্ষণ করে। এছাড়াও একই স্থানে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক করে বাবু। এ নিয়ে গ্রাম্যসালিশ দরবারে ভিকটিমের সঙ্গে ৭ এপ্রিল বিয়ের দিন ধার্য হয়।

ভিকটিমের পরিবারের অভিযোগ সেই দিন ছেলের বাবা পুলিশকে ও প্রশাসনকে মোবাইল ফোনে বাল্যবিয়ের কথা বলে বিয়ে ভেঙে দেন। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে ভিকটিমের মা বাদী হয়ে তার মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই  মুহাম্মদ জামাল হোসেনও বাদীর অভিযোগ অনুযায়ী কনের বড়বোনকে ৮ এপ্রিল ২২ ধারা জবানবন্দির জন্য আদালতে ও ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ফরেনসিক বিভাগে প্রেরণ করেন।

এদিকে মো. এনামুল হক বাবুর পিতা মো. আব্দুল বারেক সাজানো ঘটনায় মিথ্যা মামলা দায়েরের অভিযোগ এনে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে ময়মনসিংহ রেঞ্জের ডিআইজি বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

তিনি দাবি করেন, তার ছেলের বয়স ১৭ বছর এবং মেয়ের বয়স ১৬ বছর হওয়ায় বাল্যবিয়ে বন্ধ করে দেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী কমিশনার (ভূমি)। তার ছেলের বিরুদ্ধে ওই মেয়ের বড়বোনকে দিয়ে সাজানো মিথ্যা বানোয়াট মামলা দায়ের করে ছেলে ও তার পরিবারকে হয়রানি করা হচ্ছে।

সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা যায়, কনের বড়বোন ৯ম শ্রেণির ছাত্রী ও অবিবাহিত নয়। ২০১৮ সালের ৯ সেপ্টেম্বর তার বিয়ে হয়েছে নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জ এলাকায়। কনের সঙ্গে এনামুল হক বাবুর ৭ এপ্রিল বিয়েও ঠিক করেন গ্রাম্য মাতবররা। সেই বিয়ে ভেঙে দেয় প্রশাসন।

মামলার বাদী ভিকটিমের মা জানান, আমাদের অভিযোগ লেখার সময় ভুল হয়েছিল। তা এখন সংশোধন করা হয়েছে।

ভিকটিমের বাবা জানান, ছোট মেয়ের নামের স্থলে বড় মেয়ের নাম হয়েছিল। তবে ম্যাজিস্ট্রেটের এখানেও সেই ভুল নামই লিখেছে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই  মুহাম্মদ জামাল হোসেন জানান, বাদীর লিখিত অভিযোগে ভুলক্রমে ভিকটিমের নামের জায়গায় ছোটবোনের স্থলে বড়বোনের নাম লিপিবদ্ধ হয়েছে। মামলার তদন্ত চলছে, তদন্তে প্রকৃত ভিকটিমের নাম ও ঘটনা বেড়িয়ে আসবে।

গৌরীপুর থানার ওসি খান আব্দুল হালিম সিদ্দিকী জানান, ভিকটিমের নাম সংশোধনের জন্য আদালতে দরখাস্ত করা হয়েছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন