বিদেশি ফল চাষে তিন সহোদরের সাফল্য (ভিডিও)
jugantor
বিদেশি ফল চাষে তিন সহোদরের সাফল্য (ভিডিও)

  সৈয়দ মাহফুজ-উননবী খোকন, সাতকানিয়া (চট্টগ্রাম)  

২৫ জুলাই ২০২১, ২১:৫৭:১১  |  অনলাইন সংস্করণ

জমির একপাশ থেকে অন্যপাশ সারি সারি মাচা। লম্বা মাচায় ঝুলছে হাজারো তরমুজ। নেটের ব্যাগের মধ্যে ভরে সেই তরমুজ বেঁধে রেখেছেন মাচার সঙ্গে। তবে সাধারণ কোনো জাতের তরমুজ নয়। গোল্ডেন ক্রাউন জাতের। সাতকানিয়ার ৯৮ শতক মাটিতে রসে ভরা বিদেশি এ ফল চাষ করেছেন উপজেলার ছদাহা ইউনিয়নের তিন ভাই।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসের পরামর্শে ৪২ শতক জমির জন্য ৭০ গ্রাম বীজ সংগ্রহ করেন কৃষক আবুল হোসেন। সিডলিং ট্রেতে ভার্মিকপোস্ট আর কোকোপিটের মাধ্যমে চারা উৎপাদন করে গেল মে মাসের ২৩ তারিখে জমিতে রোপণ করেন তিনি। প্রায় দুই মাসের মাথায় ফল আসে।

গত ২০ জুলাই থেকে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে ফল তুলতে শুরু করেন। ৪২ শতক জমিতে এ চাষ করতে তার খরচ হয়েছে ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা। আর পুরো বাগান বিক্রি করে তিনি পেয়েছেন আড়াই লাখ টাকা।

এছাড়া তার ছোটভাই আবুল হাশেম ৪০ শতক জমিতে লাগানো গাছ থেকে ৭০ টাকা কেজি দরে স্থানীয় বাজারে এ পর্যন্ত ৪০ হাজার টাকার ফল বেচেছেন। বেচতে পারবেন প্রায় আরও দুই লাখ টাকার ফল।

তাছাড়া তাদের আরেক ভাই আবুল কাশেম ১৬ শতক জমিজুড়ে লাগিয়েছেন বিদেশি এ ফলের গাছ। তিনিও স্থানীয় বাজারে পাইকারি দরে বিক্রি করছেন। স্থানীয় বাজারে তাদের দুই ভাইয়ের বেচা এ ফল বিক্রি হচ্ছে কেজিতে ১০০ থেকে ১২০ টাকা।

উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরের তথ্যমতে, উপজেলা কৃষি অফিসের সহায়তায় এবং নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, চট্টগ্রাম ও চাঁদপুর কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় দুটি প্রদর্শনীর মাধ্যমে অসময়ে তরমুজ চাষ শুরু হয়। চলতি বছর সাতকানিয়া উপজেলার ছদাহা ইউনিয়নের কৃষক আবুল ফয়েজের হাত ধরে এই প্রকল্পের আওতায় গোল্ডেন ক্রাউন জাতের তরমুজ আবাদ শুরু হয়। ২০ শতক জমিতে তিনি আবাদ করে বেশ লাভবানও হয়েছেন।

আবুল ফয়েজের সফলতা দেখে আগ্রহ জন্মে আশপাশের কৃষকদের। এরই ফলশ্রুতিতে একই ইউনিয়নের আবুল হোসেন, তার ছোটভাই আবুল কাশেম আর আবুল হাশেম চাষে পা আগান। আবুল হোসেন উপজেলা কৃষি অফিসের সহযোগিতায় ঢাকা থেকে ৭০ গ্রাম বীজ সংগ্রহ করেন।

এরপর সিডলিং ট্রেতে ভার্মি কম্পোস্ট ও কোকোপিটের মাধ্যমে চারা উৎপাদন করেন। এরপর জমি ভালোভাবে ৬টি চাষ দিয়ে জমিতে গোবর, ভার্মি কম্পোস্ট, ডিএপি, এমওপি, জিপসাম, বোরন, ম্যাগনেশিয়াম, জিংক ও দানাদার কীটনাশক ছিটিয়ে বেড তৈরি করেন। তারপর পলিমালচিং সিট দিয়ে বেড ঢেকে দেন।

চারার বয়স যখন ১০ দিন ১৮ ইঞ্চি পর পর মালচিং সিট গোল করে কেটে চারা রোপণ করেন তিনি। এরপর বাঁশ ও লাইলন দড়ি দিয়ে মাচা তৈরি করেন। একই পদ্ধতিতে এক সপ্তাহের ব্যবধানে চারা রোপণ করেন বাকি দুই ভাইও।

নিরাপদ তরমুজ উৎপাদন, রোগ-পোকা আক্রমণ হতে রক্ষা এবং উৎপাদন খরচ কমাতে তারা কৃষি অফিসের পরামর্শমতে ব্যবহার করেন ফেরোমন ট্রাপ, হলুদ আঠালো ফাঁদ, পলিমালচিং এবং জৈব বালাইনাশকের মতো আধুনিক প্রযুক্তি।

কৃষক আবুল হোসেন জানান, মে মাসের ২৩ তারিখে চারা লাগিয়ে তিনি ৬০-৭০ দিনের মাথায় ফলন পেয়েছেন। পুরো ৪২ শতক জমিতে তার খরচ লেগেছে ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা। আর তিনি পুরো বাগান বিক্রি করেছেন আড়াই লাখ টাকায়। স্থানীয় একজন ব্যবসায়ী এসব ফল ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে ফল ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করবেন।

তিনি ইতোপূর্বে বেগুন, টমেটো, ঝিঙ্গা, শশিন্দাসহ নানারকম সবজি চাষ করতেন। তবে এবার কৃষি কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় কম সময়ে বেশি লাভবান হওয়ায় আবারো বিদেশি এ ফল চাষে আগ্রহের কথা জানিয়েছেন তিনি।

উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ প্রতাপ চন্দ্র রায় বলেন, উপজেলা কৃষি অফিসের সহায়তায় সাতকানিয়ার ছদাহায় সর্বপ্রথম আবুল ফয়েজ নামে একজন গোল্ডেন ক্রাউন জাতের তরমুজ চাষ শুরু করেন। এরপর একই ইউনিয়নের আবুল হোসেন, আবুল হাশেম ও আবুল কাশেম বিদেশি এ ফল চাষ করতে আগ্রহী হন। তাদের আগ্রহে কৃষি অফিস থেকে পূর্ণাঙ্গ সহায়তার পাশাপাশি নোয়াখালী, ফেনী, লক্ষ্মীপুর, চট্টগ্রাম ও চাঁদপুর কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় দুটি প্রদর্শনী দেওয়া হয়। সেখানে প্রায় দুই মাসের মাথায় ফলন আসে। প্রতিটি ফলের ওজন প্রায় আড়াই কেজি।

তিনি জানান, ৬০ হাজার টাকা খরচে তারা আয় করেছেন প্রায় আড়াই লাখ টাকা। আবার যারা স্থানীয় বাজারে বিক্রি করেছেন তারা ৭০ টাকা কেজি দরে পাইকারি ছেড়েছেন, খুচরা বিক্রেতারা ১০০ থেকে ১২০ টাকায় বাজারে ছাড়ছেন। সাতকানিয়ায় বিদেশি এ ফলের আবাদ বাড়াতে কৃষি দপ্তরের চেষ্টা অব্যাহত আছে।

বিদেশি ফল চাষে তিন সহোদরের সাফল্য (ভিডিও)

 সৈয়দ মাহফুজ-উননবী খোকন, সাতকানিয়া (চট্টগ্রাম) 
২৫ জুলাই ২০২১, ০৯:৫৭ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

জমির একপাশ থেকে অন্যপাশ সারি সারি মাচা। লম্বা মাচায় ঝুলছে হাজারো তরমুজ। নেটের ব্যাগের মধ্যে ভরে সেই তরমুজ বেঁধে রেখেছেন মাচার সঙ্গে। তবে সাধারণ কোনো জাতের তরমুজ নয়। গোল্ডেন ক্রাউন জাতের। সাতকানিয়ার ৯৮ শতক মাটিতে রসে ভরা বিদেশি এ ফল চাষ করেছেন উপজেলার ছদাহা ইউনিয়নের তিন ভাই।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসের পরামর্শে ৪২ শতক জমির জন্য ৭০ গ্রাম বীজ সংগ্রহ করেন কৃষক আবুল হোসেন। সিডলিং ট্রেতে ভার্মিকপোস্ট আর কোকোপিটের মাধ্যমে চারা উৎপাদন করে গেল মে মাসের ২৩ তারিখে জমিতে রোপণ করেন তিনি। প্রায় দুই মাসের মাথায় ফল আসে।

গত ২০ জুলাই থেকে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে ফল তুলতে শুরু করেন। ৪২ শতক জমিতে এ চাষ করতে তার খরচ হয়েছে ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা। আর পুরো বাগান বিক্রি করে তিনি পেয়েছেন আড়াই লাখ টাকা।

এছাড়া তার ছোটভাই আবুল হাশেম ৪০ শতক জমিতে লাগানো গাছ থেকে ৭০ টাকা কেজি দরে স্থানীয় বাজারে এ পর্যন্ত ৪০ হাজার টাকার ফল বেচেছেন। বেচতে পারবেন প্রায় আরও  দুই লাখ টাকার ফল।

তাছাড়া তাদের আরেক ভাই আবুল কাশেম ১৬ শতক জমিজুড়ে লাগিয়েছেন বিদেশি এ ফলের গাছ। তিনিও স্থানীয় বাজারে পাইকারি দরে বিক্রি করছেন। স্থানীয় বাজারে তাদের দুই ভাইয়ের বেচা এ ফল বিক্রি হচ্ছে কেজিতে ১০০ থেকে ১২০ টাকা।

উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরের তথ্যমতে, উপজেলা কৃষি অফিসের সহায়তায় এবং নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, চট্টগ্রাম ও চাঁদপুর কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় দুটি প্রদর্শনীর মাধ্যমে অসময়ে তরমুজ চাষ শুরু হয়। চলতি বছর সাতকানিয়া উপজেলার ছদাহা ইউনিয়নের কৃষক আবুল ফয়েজের হাত ধরে এই প্রকল্পের আওতায় গোল্ডেন ক্রাউন জাতের তরমুজ আবাদ শুরু হয়। ২০ শতক জমিতে তিনি আবাদ করে বেশ লাভবানও হয়েছেন।

আবুল ফয়েজের সফলতা দেখে আগ্রহ জন্মে আশপাশের কৃষকদের। এরই ফলশ্রুতিতে একই ইউনিয়নের আবুল হোসেন, তার ছোটভাই আবুল কাশেম আর আবুল হাশেম চাষে পা আগান। আবুল হোসেন উপজেলা কৃষি অফিসের সহযোগিতায় ঢাকা থেকে ৭০ গ্রাম বীজ সংগ্রহ করেন।

এরপর সিডলিং ট্রেতে ভার্মি কম্পোস্ট ও কোকোপিটের মাধ্যমে চারা উৎপাদন করেন। এরপর জমি ভালোভাবে ৬টি চাষ দিয়ে জমিতে গোবর, ভার্মি কম্পোস্ট, ডিএপি, এমওপি, জিপসাম, বোরন, ম্যাগনেশিয়াম, জিংক ও দানাদার কীটনাশক ছিটিয়ে বেড তৈরি করেন। তারপর পলিমালচিং সিট দিয়ে বেড ঢেকে দেন।

চারার বয়স যখন ১০ দিন ১৮ ইঞ্চি পর পর মালচিং সিট গোল করে কেটে চারা রোপণ করেন তিনি। এরপর বাঁশ ও লাইলন দড়ি দিয়ে মাচা তৈরি করেন। একই পদ্ধতিতে এক সপ্তাহের ব্যবধানে চারা রোপণ করেন বাকি দুই ভাইও।

নিরাপদ তরমুজ উৎপাদন, রোগ-পোকা আক্রমণ হতে রক্ষা এবং উৎপাদন খরচ কমাতে তারা কৃষি অফিসের পরামর্শমতে ব্যবহার করেন ফেরোমন ট্রাপ, হলুদ আঠালো ফাঁদ, পলিমালচিং এবং জৈব বালাইনাশকের মতো আধুনিক প্রযুক্তি।

কৃষক আবুল হোসেন জানান, মে মাসের ২৩ তারিখে চারা লাগিয়ে তিনি ৬০-৭০ দিনের মাথায় ফলন পেয়েছেন। পুরো ৪২ শতক জমিতে তার খরচ লেগেছে ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা। আর তিনি পুরো বাগান বিক্রি করেছেন আড়াই লাখ টাকায়। স্থানীয় একজন ব্যবসায়ী এসব ফল ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে ফল ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করবেন।

তিনি ইতোপূর্বে বেগুন, টমেটো, ঝিঙ্গা, শশিন্দাসহ নানারকম সবজি চাষ করতেন। তবে এবার কৃষি কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় কম সময়ে বেশি লাভবান হওয়ায় আবারো বিদেশি এ ফল চাষে আগ্রহের কথা জানিয়েছেন তিনি।

উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ প্রতাপ চন্দ্র রায় বলেন, উপজেলা কৃষি অফিসের সহায়তায় সাতকানিয়ার ছদাহায় সর্বপ্রথম আবুল ফয়েজ নামে একজন গোল্ডেন ক্রাউন জাতের তরমুজ চাষ শুরু করেন। এরপর একই ইউনিয়নের আবুল হোসেন, আবুল হাশেম ও আবুল কাশেম বিদেশি এ ফল চাষ করতে আগ্রহী হন। তাদের আগ্রহে কৃষি অফিস থেকে পূর্ণাঙ্গ সহায়তার পাশাপাশি নোয়াখালী, ফেনী, লক্ষ্মীপুর, চট্টগ্রাম ও চাঁদপুর কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় দুটি প্রদর্শনী দেওয়া হয়। সেখানে প্রায় দুই মাসের মাথায় ফলন আসে। প্রতিটি ফলের ওজন প্রায় আড়াই কেজি।

তিনি জানান, ৬০ হাজার টাকা খরচে তারা আয় করেছেন প্রায় আড়াই লাখ টাকা। আবার যারা স্থানীয় বাজারে বিক্রি করেছেন তারা ৭০ টাকা কেজি দরে পাইকারি ছেড়েছেন, খুচরা বিক্রেতারা ১০০ থেকে ১২০ টাকায় বাজারে ছাড়ছেন। সাতকানিয়ায় বিদেশি এ ফলের আবাদ বাড়াতে কৃষি দপ্তরের চেষ্টা অব্যাহত আছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন