বঙ্গবন্ধুর ছবি ভাংচুরের মামলার আসামি পাচ্ছেন ছাত্রলীগের বড় পদ!
jugantor
বঙ্গবন্ধুর ছবি ভাংচুরের মামলার আসামি পাচ্ছেন ছাত্রলীগের বড় পদ!

  ফরিদপুর ব্যুরো  

২৫ জুলাই ২০২১, ২২:১১:৩৫  |  অনলাইন সংস্করণ

আওয়ামী লীগ অফিসে হামলা চালিয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি ভাংচুর মামলাসহ কয়েকটি মামলার আসামি শাহ মেহেদী হাসানকে ফরিদপুর নগরকান্দা উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি করা হচ্ছে- এমন গুঞ্জনে এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়েছে।

এমন খবরে খোদ আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের মাঝে বিস্ময়ের সৃষ্টি হয়েছে। মেহেদী হাসানের বিষয়ে নগরকান্দা উপজেলা ছাত্রলীগের সদ্য বিলুপ্ত কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে চিঠি দিয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেছেন।

স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, নগরকান্দা উপজেলা ছাত্রলীগের সর্বোচ্চ পদ বাগিয়ে নিতে স্থানীয় এক প্রভাবশালী নেতার সুপারিশে দৌড়ঝাঁপ চালাচ্ছেন বিভিন্ন মামলার আসামি শাহ মেহেদী হাসান। ইতোমধ্যে ‘সবুজ সংকেত’ মিলেছে মেহেদী হাসানের। প্রভাবশালী এক রাজনৈতিক নেতার সুপারিশসহ জেলা ছাত্রলীগের কাছে তালিকা পাঠানো হয়েছে। যে কোনো সময় সেই তালিকা অনুযায়ী কমিটি ঘোষণা হতে পারে। আর জেলা ছাত্রলীগ নেতাদের কাছে পাঠানো তালিকাটি ফাঁস হলে তোলপাড় শুরু হয়।

নগরকান্দা উপজেলা ছাত্রলীগের একাধিক নেতা জানান, ছাত্রলীগের কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ায় কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। পরে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে নতুন কমিটিতে পদ প্রত্যাশীদের জীবন বৃত্তান্ত আহবান করা হয়। সেই সূত্র ধরে অনেক নেতাই নতুন কমিটিতে পদ পেতে জীবন বৃত্তান্ত জমা দেয়।
কিন্তু নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে নগরকান্দার প্রভাবশালী এক রাজনৈতিক নেতা এলাকায় বিতর্কিত ও কয়েকটি মামলার আসামি শাহ মেহেদী হাসানকে সভাপতি করার সুপারিশ পাঠায় জেলা ছাত্রলীগের কাছে। আর তাতেই শুরু হয় ক্ষোভের।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ছাত্রনেতা জানান, মেহেদী হাসান ২০১৯ সালে উপজেলা নির্বাচনে নৌকার প্রার্থীর বিপক্ষে কাজ করে এবং তালমা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ অফিসে হামলা চালায়। সেই হামলার সময় সে বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি ভাংচুর করে। আওয়ামী লীগ অফিসে হামলার মামলার আসামি হয়ে গ্রেফতার হয়ে সে কিছুদিন জেলও খাটে। এছাড়া ডাকাতি, মাদক, হামলা-ভাংচুরসহ ৭টি মামলা রয়েছে মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে।

উপজেলা আওয়ামী লীগের কয়েক নেতা জানান, ছাত্রলীগের কমিটিতে এমন কাউকে দায়িত্ব দেওয়া ঠিক হবে না; যিনি জাতির পিতার ছবি ভাংচুর করার ধৃষ্টতা দেখায় কিংবা ফেরারি আসামি হয়ে পলাতক জীবনযাপন করে। যাকে সভাপতি করার সুপারিশ করা হয়েছে এমন ব্যক্তিকে দায়িত্ব দেওয়া হলে তা হবে কলঙ্কজনক।

এ বিষয়ে মেহেদী হাসান সাংবাদিকদের জানান, আওয়ামী লীগ অফিসে হামলা ও ভাংচুরের মামলা রয়েছে আমার বিরুদ্ধে। আর কোনো মামলা নেই আমার নামে। আমি যাতে কমিটিতে না আসতে পারি সেজন্য আমার বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।

নগরকান্দা উপজেলা ছাত্রলীগের সদ্য বিলুপ্ত কমিটির সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান জানান, মেহেদী হাসান ও রোমানকে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক করে জেলা কমিটির কাছে সুপারিশ পাঠানো হয়েছে। সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর রাজনৈতিক প্রতিনিধি শাহদাব আকবর লাবু চৌধুরীর কাছে অনুরোধ জানানো হয়েছে বিতকির্ত কাউকে যেন ছাত্রলীগের দায়িত্ব দেওয়া না হয়।

এদিকে সদ্য বিলুপ্ত কমিটির সভাপতি মীর আলামিন বাবু ও সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান কামরান শাহ মেহেদী হাসানকে ছাত্রলীগের কোনো পদ না দেওয়ার জন্য কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতাদের কাছে চিঠি দিয়েছেন।

ফরিদপুর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি তামজীদুল রশিদ চৌধুরী রিয়ান জানান, সংসদ উপনেতার রাজনৈতিক প্রতিনিধির কাছে আমরা একটি তালিকা চেয়েছিলাম। সেই অনুযায়ী তিনি একটি তালিকা আমাদের কাছে পাঠিয়েছেন। আমরা যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত নেব। কোনো বিতর্কিত ব্যক্তিকে দলের পদ দেওয়া হবে না।

বঙ্গবন্ধুর ছবি ভাংচুরের মামলার আসামি পাচ্ছেন ছাত্রলীগের বড় পদ!

 ফরিদপুর ব্যুরো 
২৫ জুলাই ২০২১, ১০:১১ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

আওয়ামী লীগ অফিসে হামলা চালিয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি ভাংচুর মামলাসহ কয়েকটি মামলার আসামি শাহ মেহেদী হাসানকে ফরিদপুর নগরকান্দা উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি করা হচ্ছে- এমন গুঞ্জনে এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়েছে। 

এমন খবরে খোদ আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের মাঝে বিস্ময়ের সৃষ্টি হয়েছে। মেহেদী হাসানের বিষয়ে নগরকান্দা উপজেলা ছাত্রলীগের সদ্য বিলুপ্ত কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে চিঠি দিয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেছেন। 

স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, নগরকান্দা উপজেলা ছাত্রলীগের সর্বোচ্চ পদ বাগিয়ে নিতে স্থানীয় এক প্রভাবশালী নেতার সুপারিশে দৌড়ঝাঁপ চালাচ্ছেন বিভিন্ন মামলার আসামি শাহ মেহেদী হাসান। ইতোমধ্যে ‘সবুজ সংকেত’ মিলেছে মেহেদী হাসানের। প্রভাবশালী এক রাজনৈতিক নেতার সুপারিশসহ জেলা ছাত্রলীগের কাছে তালিকা পাঠানো হয়েছে। যে কোনো সময় সেই তালিকা অনুযায়ী কমিটি ঘোষণা হতে পারে। আর জেলা ছাত্রলীগ নেতাদের কাছে পাঠানো তালিকাটি ফাঁস হলে তোলপাড় শুরু হয়। 

নগরকান্দা উপজেলা ছাত্রলীগের একাধিক নেতা জানান, ছাত্রলীগের কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ায় কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। পরে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে নতুন কমিটিতে পদ প্রত্যাশীদের জীবন বৃত্তান্ত আহবান করা হয়। সেই সূত্র ধরে অনেক নেতাই নতুন কমিটিতে পদ পেতে জীবন বৃত্তান্ত জমা দেয়। 
কিন্তু নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে নগরকান্দার প্রভাবশালী এক রাজনৈতিক নেতা এলাকায় বিতর্কিত ও কয়েকটি মামলার আসামি শাহ মেহেদী হাসানকে সভাপতি করার সুপারিশ পাঠায় জেলা ছাত্রলীগের কাছে। আর তাতেই শুরু হয় ক্ষোভের। 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ছাত্রনেতা জানান, মেহেদী হাসান ২০১৯ সালে উপজেলা নির্বাচনে নৌকার প্রার্থীর বিপক্ষে কাজ করে এবং তালমা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ অফিসে হামলা চালায়। সেই হামলার সময় সে বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি ভাংচুর করে। আওয়ামী লীগ অফিসে হামলার মামলার আসামি হয়ে গ্রেফতার হয়ে সে কিছুদিন জেলও খাটে। এছাড়া ডাকাতি, মাদক, হামলা-ভাংচুরসহ ৭টি মামলা রয়েছে মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে। 

উপজেলা আওয়ামী লীগের কয়েক নেতা জানান, ছাত্রলীগের কমিটিতে এমন কাউকে দায়িত্ব দেওয়া ঠিক হবে না; যিনি জাতির পিতার ছবি ভাংচুর করার ধৃষ্টতা দেখায় কিংবা ফেরারি আসামি হয়ে পলাতক জীবনযাপন করে। যাকে সভাপতি করার সুপারিশ করা হয়েছে এমন ব্যক্তিকে দায়িত্ব দেওয়া হলে তা হবে কলঙ্কজনক। 

এ বিষয়ে মেহেদী হাসান সাংবাদিকদের জানান, আওয়ামী লীগ অফিসে হামলা ও ভাংচুরের মামলা রয়েছে আমার বিরুদ্ধে। আর কোনো মামলা নেই আমার নামে। আমি যাতে কমিটিতে না আসতে পারি সেজন্য আমার বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। 

নগরকান্দা উপজেলা ছাত্রলীগের সদ্য বিলুপ্ত কমিটির সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান জানান, মেহেদী হাসান ও রোমানকে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক করে জেলা কমিটির কাছে সুপারিশ পাঠানো হয়েছে। সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর রাজনৈতিক প্রতিনিধি শাহদাব আকবর লাবু চৌধুরীর কাছে অনুরোধ জানানো হয়েছে বিতকির্ত কাউকে যেন ছাত্রলীগের দায়িত্ব দেওয়া না হয়। 

এদিকে সদ্য বিলুপ্ত কমিটির সভাপতি মীর আলামিন বাবু ও সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান কামরান শাহ মেহেদী হাসানকে ছাত্রলীগের কোনো পদ না দেওয়ার জন্য কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতাদের কাছে চিঠি দিয়েছেন। 

ফরিদপুর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি তামজীদুল রশিদ চৌধুরী রিয়ান জানান, সংসদ উপনেতার রাজনৈতিক প্রতিনিধির কাছে আমরা একটি তালিকা চেয়েছিলাম। সেই অনুযায়ী তিনি একটি তালিকা আমাদের কাছে পাঠিয়েছেন। আমরা যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত নেব। কোনো বিতর্কিত ব্যক্তিকে দলের পদ দেওয়া হবে না। 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন