কবিরাজের চিকিৎসায় মারা গেলে শিশুর লাশ কূপে ফেলে দেন মা
jugantor
কবিরাজের চিকিৎসায় মারা গেলে শিশুর লাশ কূপে ফেলে দেন মা

  বগুড়া ব্যুরো  

২৬ জুলাই ২০২১, ০১:০৫:২৫  |  অনলাইন সংস্করণ

বগুড়ার ধুনটে ৩৮ দিন বয়সী শিশু আঁখি খাতুনের হত্যা রহস্য উন্মোচিত হয়েছে। হার্টে ছিদ্র থাকা শিশুকে কবিরাজের ফিটকিরির পানি খাওয়ালে তার মৃত্যু হয়। ভয়ে মা আদুরী খাতুন (২৩) টয়লেটের কূপে ফেলে নিখোঁজের নাটক করেন।

গ্রেফতার আদুরী শনিবার বিকালে বগুড়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ওমর ফারুকের আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন।

গ্রেফতার অপচিকিৎসক কবিরাজ কেছাম আলী শেখকে (৪৫) রোববার বিকালে স্বীকারোক্তি রেকর্ডে আদালতে হাজির করা হয়।

ধুনট থানার ওসি কৃপা সিন্ধু বালা এ তথ্য দিয়েছেন।

ধুনট থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) জাহিদুল হক ও তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আবদুর রাজ্জাক জানান, উপজেলার পারধুনট গ্রামের হোসেন প্রামাণিকের ছেলে ওয়াসিম প্রামাণিক প্রায় সাত বছর আগে পার্শ্ববর্তী চান্দারপাড়া গ্রামের আয়তুল্লাহ মণ্ডলের মেয়ে আদুরী খাতুনকে বিয়ে করেন। তাদের সংসারে আতিক প্রামাণিক নামে ছয় বছর বয়সী ছেলে রয়েছে। গত জুনে আদুরী কন্যা সন্তানের জন্ম দেন। নাম রাখা হয় আঁখি খাতুন।

জন্মের পর থেকে শিশুটি শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন রোগে ভুগছিল। তাকে প্রথমে ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা তাকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে রেফার্ড করেন।

সেখানে পাঁচ দিন চিকিৎসাকালে চিকিৎসক জানান, বাচ্চার হার্টে ছিদ্র আছে বড় হলে প্রতিবন্ধী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ওই কদিনে হাসপাতালে কয়েকটি শিশুর মৃত্যু দেখে আদুরী ভয় পান। তিনি মেয়েকে বাপের বাড়ি এলাকার কবিরাজের কাছে চিকিৎসা করার পরিকল্পনা করেন।

আদুরী ছাড়পত্র ছাড়াই হাসপাতাল থেকে মেয়েকে নিয়ে গত ১৬ জুলাই চান্দারপাড়া গ্রামে বাপের বাড়িতে আসেন। তিনি পরদিন সকালে ওই গ্রামের মৃত রহিম বক্স শেখের ছেলে কবিরাজ কেছাম শেখের শরণাপন্ন হন।

কেছাম তাকে জানায়, শিশুটির ওপর জিনের নজর পড়েছে। তিনি চিকিৎসার জন্য কলা পড়া, তাবিজ ও ফিটকিরি মেশানো পানি দেন। এছাড়া স্থানীয় মসজিদে মোমবাতি প্রজ্বলন করতে বলা হয়। বাড়িতে এসে বিকালে শিশু আঁখিকে কলা, তাবিজ ধুয়ে পানি ও পানিতে মেশানো ফিটকিরি খাওয়ান। এসব খাওয়ার পর শিশুটি ঘুমিয়ে পড়ে। এ সময় শিশুর নানি চম্পা খাতুন মসজিদে মোমবাতি জ্বালাতে যান।

শিশু আঁখি ঘুম থেকে জেগে উঠলে তাকে দুধ খাওয়ানোর পর আদুরী আবারো ফিটকিরি মেশানো পানি খাওয়ান ও নিজে খান। খাওয়ার পর আঁখি নিস্তেজ হয়ে পড়ে। তখন আদুরী প্রচণ্ড ভয় পান এবং মৃত ভেবে আঁখিকে বাপের বাড়ির ল্যাট্রিনের কাঁচা কূপে ফেলে দেন। এরপর নিজে অসুস্থ ও বাচ্চা নিখোঁজের নাটক করেন। চিকিৎসার জন্য তিনি নিজেও স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন।

১৮ জুলাই কূপে আঁখির লাশ পাওয়া যায়। এ ব্যাপারে শিশুর বাবা ওয়াসিম প্রামাণিক ধুনট থানায় অজ্ঞাতদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে বগুড়া শজিমেক হাসপাতাল মর্গে পাঠান।

এদিকে তদন্তকারী কর্মকর্তা আবদুর রাজ্জাক জানতে পারেন, এ হত্যাকাণ্ডের সাথে মা আদুরী জড়িত আছেন। তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি সব তথ্য ফাঁস করেন। গ্রেফতারের পর শনিবার বিকালে তাকে বগুড়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ওমর ফারুকের আদালতে হাজির করলে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি দেন। পরে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

তদন্তকারী কর্মকর্তা আরও জানান, রোববার সকালে আত্মগোপনে থাকা কবিরাজ কেছাম আলী শেখকে গ্রাম থেকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি শিশুটিকে কলা পড়া, পানি পড়া ও ফিটকিরি মেশানো পানি খেতে দেওয়ার কথা স্বীকার করেন। বিকালে তাকে স্বীকারোক্তি রেকর্ডের জন্য বগুড়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। বিকাল ৬টা পর্যন্ত আদালতের কার্যক্রম শুরু হয়নি।

কবিরাজের চিকিৎসায় মারা গেলে শিশুর লাশ কূপে ফেলে দেন মা

 বগুড়া ব্যুরো 
২৬ জুলাই ২০২১, ০১:০৫ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ

বগুড়ার ধুনটে ৩৮ দিন বয়সী শিশু আঁখি খাতুনের হত্যা রহস্য উন্মোচিত হয়েছে। হার্টে ছিদ্র থাকা শিশুকে কবিরাজের ফিটকিরির পানি খাওয়ালে তার মৃত্যু হয়। ভয়ে মা আদুরী খাতুন (২৩) টয়লেটের কূপে ফেলে নিখোঁজের নাটক করেন।

গ্রেফতার আদুরী শনিবার বিকালে বগুড়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ওমর ফারুকের আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন।

গ্রেফতার অপচিকিৎসক কবিরাজ কেছাম আলী শেখকে (৪৫) রোববার বিকালে স্বীকারোক্তি রেকর্ডে আদালতে হাজির করা হয়।

ধুনট থানার ওসি কৃপা সিন্ধু বালা এ তথ্য দিয়েছেন।

ধুনট থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) জাহিদুল হক ও তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আবদুর রাজ্জাক জানান, উপজেলার পারধুনট গ্রামের হোসেন প্রামাণিকের ছেলে ওয়াসিম প্রামাণিক প্রায় সাত বছর আগে পার্শ্ববর্তী চান্দারপাড়া গ্রামের আয়তুল্লাহ মণ্ডলের মেয়ে আদুরী খাতুনকে বিয়ে করেন। তাদের সংসারে আতিক প্রামাণিক নামে ছয় বছর বয়সী ছেলে রয়েছে। গত জুনে আদুরী কন্যা সন্তানের জন্ম দেন। নাম রাখা হয় আঁখি খাতুন।

জন্মের পর থেকে শিশুটি শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন রোগে ভুগছিল। তাকে প্রথমে ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা তাকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে রেফার্ড করেন।

সেখানে পাঁচ দিন চিকিৎসাকালে চিকিৎসক জানান, বাচ্চার হার্টে ছিদ্র আছে বড় হলে প্রতিবন্ধী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ওই কদিনে হাসপাতালে কয়েকটি শিশুর মৃত্যু দেখে আদুরী ভয় পান। তিনি মেয়েকে বাপের বাড়ি এলাকার কবিরাজের কাছে চিকিৎসা করার পরিকল্পনা করেন।

আদুরী ছাড়পত্র ছাড়াই হাসপাতাল থেকে মেয়েকে নিয়ে গত ১৬ জুলাই চান্দারপাড়া গ্রামে বাপের বাড়িতে আসেন। তিনি পরদিন সকালে ওই গ্রামের মৃত রহিম বক্স শেখের ছেলে কবিরাজ কেছাম শেখের শরণাপন্ন হন।

কেছাম তাকে জানায়, শিশুটির ওপর জিনের নজর পড়েছে। তিনি চিকিৎসার জন্য কলা পড়া, তাবিজ ও ফিটকিরি মেশানো পানি দেন। এছাড়া স্থানীয় মসজিদে মোমবাতি প্রজ্বলন করতে বলা হয়। বাড়িতে এসে বিকালে শিশু আঁখিকে কলা, তাবিজ ধুয়ে পানি ও পানিতে মেশানো ফিটকিরি খাওয়ান। এসব খাওয়ার পর শিশুটি ঘুমিয়ে পড়ে। এ সময় শিশুর নানি চম্পা খাতুন মসজিদে মোমবাতি জ্বালাতে যান।

শিশু আঁখি ঘুম থেকে জেগে উঠলে তাকে দুধ খাওয়ানোর পর আদুরী আবারো ফিটকিরি মেশানো পানি খাওয়ান ও নিজে খান। খাওয়ার পর আঁখি নিস্তেজ হয়ে পড়ে। তখন আদুরী প্রচণ্ড ভয় পান এবং মৃত ভেবে আঁখিকে বাপের বাড়ির ল্যাট্রিনের কাঁচা কূপে ফেলে দেন। এরপর নিজে অসুস্থ ও বাচ্চা নিখোঁজের নাটক করেন। চিকিৎসার জন্য তিনি নিজেও স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন।

১৮ জুলাই কূপে আঁখির লাশ পাওয়া যায়। এ ব্যাপারে শিশুর বাবা ওয়াসিম প্রামাণিক ধুনট থানায় অজ্ঞাতদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে বগুড়া শজিমেক হাসপাতাল মর্গে পাঠান।

এদিকে তদন্তকারী কর্মকর্তা আবদুর রাজ্জাক জানতে পারেন, এ হত্যাকাণ্ডের সাথে মা আদুরী জড়িত আছেন। তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি সব তথ্য ফাঁস করেন। গ্রেফতারের পর শনিবার বিকালে তাকে বগুড়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ওমর ফারুকের আদালতে হাজির করলে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি দেন। পরে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

তদন্তকারী কর্মকর্তা আরও জানান, রোববার সকালে আত্মগোপনে থাকা কবিরাজ কেছাম আলী শেখকে গ্রাম থেকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি শিশুটিকে কলা পড়া, পানি পড়া ও ফিটকিরি মেশানো পানি খেতে দেওয়ার কথা স্বীকার করেন। বিকালে তাকে স্বীকারোক্তি রেকর্ডের জন্য বগুড়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। বিকাল ৬টা পর্যন্ত আদালতের কার্যক্রম শুরু হয়নি।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন