কঠোর লকডাউনেও ব্যস্ত দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুট
jugantor
কঠোর লকডাউনেও ব্যস্ত দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুট

  গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি  

২৬ জুলাই ২০২১, ১৯:৩১:৪১  |  অনলাইন সংস্করণ

সারা দেশে কঠোর বিধিনিষেধের চতুর্থ দিন সোমবারও যাত্রী এবং যানবাহন পারাপারে ব্যস্ত রয়েছে দেশের গুরুত্বপূর্ণ দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুট। ঈদের ছুটি শেষ হয়ে গেছে ইতোমধ্যে। তারপরও কঠোর লকডাউনের মধ্যে ঢাকাসহ বিভিন্ন অঞ্চলমুখী বহু মানুষ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা-উপজেলা হতে এসে ভিড় করছেন রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে।

তবে গণপরিবহণ বন্ধ থাকায় এসব যাত্রীদের পথে নানা ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। বিভিন্ন ছোট ছোট যানবাহনে আসতে গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়া।

এদিকে নদীতে তীব্র স্রোত ও কঠোর বিধিনিষেধে যানবাহনের চাপ গত কয়েক দিনের তুলনায় কিছুটা কমে এসেছে। ফেরি কর্তৃপক্ষ জরুরি যানবাহন পারাপারের জন্য সোমবার সকাল থেকে রুটে ৮টি ফেরি চালু রেখেছে। গতকাল চলছিল ৯টি ফেরি। বহরে মোট ফেরির সংখ্যা ১৬টি। অন্য ফেরিগুলোকে পাটুরিয়া ঘাটে নোঙর করে রাখা হয়েছে।

বিআইডব্লিউটিসির দৌলতদিয়া ঘাট সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার থেকে সারা দেশে কঠোরতম বিধিনিষেধ শুরু হলে গণপরিবহনের সঙ্গে বন্ধ রাখা হয় লঞ্চ চলাচল। এরমধ্যেই দক্ষিণাঞ্চলের অসংখ্য মানুষ ও ব্যক্তিগত গাড়ি নানা প্রয়োজনে ঢাকাসহ বিভিন্ন অঞ্চলের উদ্দেশে দৌলতদিয়া ঘাটে আসেন।
কোনোভাবেই তাদের আটকানো যায়নি। তবে সোমবার থেকে কিছুটা চাপ কমেছে। তারপরও বহু মানুষ ও যানবাহন ঘাটে আসছে।

এদিকে ঘাটে দায়িত্বরত একাধিক পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, ফেরিতে সাধারণ যাত্রী পারাপার পুরোপুরি বন্ধ। এরপরও যাত্রীরা জরুরি কাজের নানা অজুহাত দেখাচ্ছে। কেউ অসুস্থ, কেউ রোগী দেখতে যাবে, কেউবা বলছেন চাকরি বাঁচাতে হলে ঢাকায় যেতেই হবে। আমরা নিষেধ করলেও তারা ফেরিতে উঠে যাচ্ছে।

সোমবার দুপুরে সরেজমিন দেখা যায়, বিভিন্ন এলাকা থেকে ভ্যান, রিকশা, মোটরসাইকেল, মাহিন্দ্রা, অটোরিকশাসহ থ্রি-হুইলারে করে লোকজন দৌলতদিয়া ঘাটে আসছেন। তারা ফেরিঘাটে দায়িত্বরত পুলিশ, আনসার, ঘাট কর্তৃপক্ষকে নানা অজুহাত দেখাচ্ছেন। এরপর ঘাটে ফেরি ভেড়ামাত্রই তারা ফেরিতে উঠে পড়ছেন। কোনো নিষেধই তারা মানছেন না। অধিকাংশ যাত্রীর মুখে মাস্ক নেই। মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি। পাটুরিয়া থেকে ছেড়ে আসা ফেরিগুলোতেও প্রচণ্ড ভিড় লক্ষ্য করা যায়।

যশোর থেকে আসা ঢাকাগামী যাত্রী মো. আলিয়ার রহমান বলেন, আমি গ্রামের বাড়িতে কোরবানি করতে এসে লকডাউনে আটকে পড়ি। ঢাকায় আমার স্ত্রী অসুস্থ হয়ে পড়েছে। আমি না গেলে তাকে ডাক্তার দেখানোর কেউ নেই। তাই বাড়ি থেকে বের হয়েছি। পথে অন্তত ১০ জায়গায় এ ব্যাপারটা বুঝিয়ে বলে আমাকে ঘাট পর্যন্ত আসতে হয়েছে। বিভিন্ন ছোট গাড়িতে ভেঙে ভেঙে ঘাটে আসতে তার এক হাজার টাকার বেশি খরচ হয়েছে।

কুষ্টিয়া থেকে আসা যাত্রী ওবায়দুর রহমান বলেন, ঈদের ছুটিতে দেশের বাড়িতে আসি। এখন তো ঢাকায় যেতেই হবে। বাসা খালি পড়ে আছে। তাই নানান দুর্ভোগ আর ভাড়া বেশি দিয়ে হলেও ঢাকায় যাচ্ছি।

বিআইডব্লিউটিসির দৌলতদিয়া কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) মো. জামাল হোসেন বলেন, পদ্মায় তীব্র স্রোত ও বিধি-নিষেধে যানবাহনের চাপ কমে যাওয়ায় সোমবার সকাল থেকে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে ৮টি ফেরি চলাচল করছে। ফেরিগুলোতে জরুরি প্রয়োজনে আসা অ্যাম্বুলেন্স, লাশবাহী গাড়ি, পণ্যবাহী ট্রাক পারাপার হচ্ছে। সেই সঙ্গে বিভিন্ন অজুহাতে যাত্রীরাও নদী পার হচ্ছে।

কঠোর লকডাউনেও ব্যস্ত দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুট

 গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি 
২৬ জুলাই ২০২১, ০৭:৩১ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

সারা দেশে কঠোর বিধিনিষেধের চতুর্থ দিন সোমবারও যাত্রী এবং যানবাহন পারাপারে ব্যস্ত রয়েছে দেশের গুরুত্বপূর্ণ দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুট। ঈদের ছুটি শেষ হয়ে গেছে ইতোমধ্যে। তারপরও কঠোর লকডাউনের মধ্যে ঢাকাসহ বিভিন্ন অঞ্চলমুখী বহু মানুষ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা-উপজেলা হতে এসে ভিড় করছেন রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে।

তবে গণপরিবহণ বন্ধ থাকায় এসব যাত্রীদের পথে নানা ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। বিভিন্ন ছোট ছোট যানবাহনে আসতে গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়া।

এদিকে নদীতে তীব্র স্রোত ও কঠোর বিধিনিষেধে যানবাহনের চাপ গত কয়েক দিনের তুলনায় কিছুটা কমে এসেছে। ফেরি কর্তৃপক্ষ জরুরি যানবাহন পারাপারের জন্য সোমবার সকাল থেকে রুটে ৮টি ফেরি চালু রেখেছে। গতকাল চলছিল ৯টি ফেরি। বহরে মোট ফেরির সংখ্যা ১৬টি। অন্য ফেরিগুলোকে পাটুরিয়া ঘাটে নোঙর করে রাখা হয়েছে।

বিআইডব্লিউটিসির দৌলতদিয়া ঘাট সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার থেকে সারা দেশে কঠোরতম বিধিনিষেধ শুরু হলে গণপরিবহনের সঙ্গে বন্ধ রাখা হয় লঞ্চ চলাচল। এরমধ্যেই দক্ষিণাঞ্চলের অসংখ্য মানুষ ও ব্যক্তিগত গাড়ি নানা প্রয়োজনে ঢাকাসহ বিভিন্ন অঞ্চলের উদ্দেশে দৌলতদিয়া ঘাটে আসেন। 
কোনোভাবেই তাদের আটকানো যায়নি। তবে সোমবার থেকে কিছুটা চাপ কমেছে। তারপরও বহু মানুষ ও যানবাহন ঘাটে আসছে।

এদিকে ঘাটে দায়িত্বরত একাধিক পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, ফেরিতে সাধারণ যাত্রী পারাপার পুরোপুরি বন্ধ। এরপরও যাত্রীরা জরুরি কাজের নানা অজুহাত দেখাচ্ছে। কেউ অসুস্থ, কেউ রোগী দেখতে যাবে, কেউবা বলছেন চাকরি বাঁচাতে হলে ঢাকায় যেতেই হবে। আমরা নিষেধ করলেও তারা ফেরিতে উঠে যাচ্ছে। 

সোমবার দুপুরে সরেজমিন দেখা যায়, বিভিন্ন এলাকা থেকে ভ্যান, রিকশা, মোটরসাইকেল, মাহিন্দ্রা, অটোরিকশাসহ থ্রি-হুইলারে করে লোকজন দৌলতদিয়া ঘাটে আসছেন। তারা ফেরিঘাটে দায়িত্বরত পুলিশ, আনসার, ঘাট কর্তৃপক্ষকে নানা অজুহাত দেখাচ্ছেন। এরপর ঘাটে ফেরি ভেড়ামাত্রই তারা ফেরিতে উঠে পড়ছেন। কোনো নিষেধই তারা মানছেন না। অধিকাংশ যাত্রীর মুখে মাস্ক নেই। মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি। পাটুরিয়া থেকে ছেড়ে আসা ফেরিগুলোতেও প্রচণ্ড ভিড় লক্ষ্য করা যায়।

যশোর থেকে আসা ঢাকাগামী যাত্রী মো. আলিয়ার রহমান বলেন, আমি গ্রামের বাড়িতে কোরবানি করতে এসে লকডাউনে আটকে পড়ি। ঢাকায় আমার স্ত্রী অসুস্থ হয়ে পড়েছে। আমি না গেলে তাকে ডাক্তার দেখানোর কেউ নেই। তাই বাড়ি থেকে বের হয়েছি। পথে অন্তত ১০ জায়গায় এ ব্যাপারটা বুঝিয়ে বলে আমাকে ঘাট পর্যন্ত আসতে হয়েছে। বিভিন্ন ছোট গাড়িতে ভেঙে ভেঙে ঘাটে আসতে তার এক হাজার টাকার বেশি খরচ হয়েছে।

কুষ্টিয়া থেকে আসা যাত্রী ওবায়দুর রহমান বলেন, ঈদের ছুটিতে দেশের বাড়িতে আসি। এখন তো ঢাকায় যেতেই হবে। বাসা খালি পড়ে আছে। তাই নানান দুর্ভোগ আর ভাড়া বেশি দিয়ে হলেও ঢাকায় যাচ্ছি। 

বিআইডব্লিউটিসির দৌলতদিয়া কার্যালয়ের  ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) মো. জামাল হোসেন বলেন, পদ্মায় তীব্র স্রোত ও বিধি-নিষেধে যানবাহনের চাপ কমে যাওয়ায় সোমবার সকাল থেকে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে ৮টি ফেরি চলাচল করছে। ফেরিগুলোতে জরুরি প্রয়োজনে আসা অ্যাম্বুলেন্স, লাশবাহী গাড়ি, পণ্যবাহী ট্রাক পারাপার হচ্ছে। সেই সঙ্গে বিভিন্ন অজুহাতে যাত্রীরাও নদী পার হচ্ছে। 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন