‘পেট তো আর লকডাউন মানতো না’
jugantor
‘পেট তো আর লকডাউন মানতো না’

  সোহেল রানা, মুক্তাগাছা (ময়মনসিংহ)  

২৬ জুলাই ২০২১, ২২:২৩:৫১  |  অনলাইন সংস্করণ

ভাবকির মোড়ের মুদি দোকানি সবুজ বেশ রাগ ও ক্ষোভেই বললেন, আমরা গরিব মানুষ। কে দেখবো আমাগো। পেট তো আর লকডাউন মানতো না, তাকে খাওন দিওনই লাগবো। তাই এক ধরনের চুরি কইরায় দোহান চালাইতেছি। তারপরও দোহান খুলন রাহাই সাহেবরা আইসা জরিমানা করতাছে। এ পর্যন্ত তিনবার জরিমানা খাইছি। এখন যামু কই কনতো মিয়া।

শুধুমাত্র ভাবকির মোড়ের অবস্থা এমনটি তা নয়, লকডাউনের ৩য় দিনে উপজেলার মনতলা বাজার, আটানি বাজার, পুরাতন বাসস্ট্যাণ্ড,ভাবকীর মোড় পৌরসভা এলাকায়
সরেজমিন দিনমজুর, রিকশাওয়ালা ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বললে এমন চিত্র সামনে আসে।

মনতলা বাজারের রিকশাওয়ালা হাফিজ যুগান্তরকে বলেন, আমার পরিবারে বাবা-মাসহ ৫ জন রয়েছে। আমি রিকশা না চালালে তাদের পেটে ভাত জোটে না। অহন রিকশা নিয়ে না বেরুলে কি করতাম বলেন স‍্যার। কে আমাগো খাওন দিব কন।

অন‍্যদিকে, উপজেলার মোড়ে মোড়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।

সরকার ঘোষিত লকডাউন বাস্তবায়নে কঠোর অবস্থানে রয়েছে মুক্তাগাছা উপজেলার পুলিশ প্রশাসন। তারপরও সকাল থেকেই রাস্তাঘাটে জনসাধারণের অবাধে চলাফেরা ঠেকানো সম্ভব হচ্ছে না। বিভিন্ন অজুহাতে ঘর থেকে বাহিরে আসছে মানুষ। যার মধ্যে সাধারণ দিনমুজুর ও স্কুল-কলেজের তরুণদের সংখ্যাই বেশি।

এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাসুদ রানার নেতৃত্বে উপজেলা নির্বাহী অফিসার, আবদুল্লাহ আল মনসুদ ও থানা পুলিশের উপস্থিতিতে শহরের মোড়ে মোড়ে দাঁড়িয়ে থেকে অভিযান পরিচালনা করছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। প্রয়োজন ছাড়া রাস্তায় কাউকে থাকতে দেওয়া হচ্ছে না। সড়কে থামিয়ে কোথায় যাচ্ছেন, কেন যাচ্ছেন- এমন নানা প্রশ্নের যৌক্তিক জবাব দিতে পারলেই সাধারণ মানুষকে গন্তব্যে যেতে দেওয়া হচ্ছে। সদুত্তর না পেলে ফিরিয়ে দেয়া হচ্ছে সবাইকে।

ভ্রাম্যমাণ আদালত, দণ্ডবিধি ১৮৬০ ধারায় সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ ও নির্মূল আইন-২০১৮ এবং সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ অনুযায়ী,মাস্ক পরিধান না করা, স্বাস্থ্যবিধি ও আইন অমান্যকারী ও যান চলাচলকারীদের গাড়ির রেজিস্ট্রেশন, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও হেলমেট না থাকার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করার পাশাপাশি মামলা ও অর্থদণ্ড করা হয়েছে।

এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাসুদ রানা যুগান্তরকে জানান, সরকার ঘোষিত লকডাউন নিশ্চিত করতে আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করার পাশাপাশি বিনাপ্রয়োজনে ঘর থেকে বাহিরে না আসার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মনসুর যুগান্তরকে বলেন, বিধিনিষেধ উপেক্ষা করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ ও জরিমানা আদায় করা হচ্ছে। পাশাপাশি লকডাউনে ক্ষতিগ্রস্ত দিনমজুর, অসহায় ও খেটে খাওয়া মানুষদের পাশে দাঁড়াতে জনপ্রতিনিধিদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য,ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলায় বিকাল ৪টা পর্যন্ত ১৮ মামলায় ৩৫ জনকে ১৬ হাজার ৭৮০ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

‘পেট তো আর লকডাউন মানতো না’

 সোহেল রানা, মুক্তাগাছা (ময়মনসিংহ) 
২৬ জুলাই ২০২১, ১০:২৩ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

ভাবকির মোড়ের মুদি দোকানি সবুজ বেশ রাগ ও ক্ষোভেই বললেন, আমরা গরিব মানুষ। কে দেখবো আমাগো। পেট তো আর লকডাউন মানতো না, তাকে খাওন দিওনই লাগবো। তাই এক ধরনের চুরি কইরায় দোহান চালাইতেছি। তারপরও দোহান খুলন রাহাই সাহেবরা আইসা জরিমানা করতাছে। এ পর্যন্ত তিনবার জরিমানা খাইছি। এখন যামু কই কনতো মিয়া।

শুধুমাত্র ভাবকির মোড়ের অবস্থা এমনটি তা নয়, লকডাউনের ৩য় দিনে উপজেলার মনতলা বাজার, আটানি বাজার, পুরাতন বাসস্ট্যাণ্ড,ভাবকীর মোড় পৌরসভা এলাকায় 
সরেজমিন দিনমজুর, রিকশাওয়ালা ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বললে এমন চিত্র সামনে আসে।

মনতলা বাজারের রিকশাওয়ালা হাফিজ যুগান্তরকে বলেন, আমার পরিবারে বাবা-মাসহ ৫ জন রয়েছে। আমি রিকশা না চালালে তাদের পেটে ভাত জোটে না। অহন রিকশা নিয়ে না বেরুলে কি করতাম বলেন স‍্যার। কে আমাগো খাওন দিব কন।

অন‍্যদিকে, উপজেলার মোড়ে মোড়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।

সরকার ঘোষিত লকডাউন বাস্তবায়নে কঠোর অবস্থানে রয়েছে মুক্তাগাছা উপজেলার পুলিশ প্রশাসন। তারপরও সকাল থেকেই রাস্তাঘাটে জনসাধারণের অবাধে চলাফেরা ঠেকানো সম্ভব হচ্ছে না। বিভিন্ন অজুহাতে ঘর থেকে বাহিরে আসছে মানুষ। যার মধ্যে সাধারণ দিনমুজুর ও স্কুল-কলেজের তরুণদের সংখ্যাই বেশি।

এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাসুদ রানার নেতৃত্বে উপজেলা নির্বাহী অফিসার, আবদুল্লাহ আল মনসুদ ও থানা পুলিশের উপস্থিতিতে শহরের মোড়ে মোড়ে দাঁড়িয়ে থেকে অভিযান পরিচালনা করছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। প্রয়োজন ছাড়া রাস্তায় কাউকে থাকতে দেওয়া হচ্ছে না। সড়কে থামিয়ে কোথায় যাচ্ছেন, কেন যাচ্ছেন- এমন নানা প্রশ্নের যৌক্তিক জবাব দিতে পারলেই সাধারণ মানুষকে গন্তব্যে যেতে দেওয়া হচ্ছে। সদুত্তর না পেলে ফিরিয়ে দেয়া হচ্ছে সবাইকে।

ভ্রাম্যমাণ আদালত, দণ্ডবিধি ১৮৬০ ধারায় সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ ও নির্মূল আইন-২০১৮ এবং সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ অনুযায়ী,মাস্ক পরিধান না করা, স্বাস্থ্যবিধি ও আইন অমান্যকারী ও যান চলাচলকারীদের গাড়ির রেজিস্ট্রেশন, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও হেলমেট না থাকার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করার পাশাপাশি মামলা ও অর্থদণ্ড করা হয়েছে।

এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাসুদ রানা যুগান্তরকে জানান, সরকার ঘোষিত লকডাউন নিশ্চিত করতে আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করার পাশাপাশি বিনাপ্রয়োজনে ঘর থেকে বাহিরে না আসার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মনসুর যুগান্তরকে বলেন, বিধিনিষেধ উপেক্ষা করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ ও জরিমানা আদায় করা হচ্ছে। পাশাপাশি লকডাউনে ক্ষতিগ্রস্ত দিনমজুর, অসহায় ও খেটে খাওয়া মানুষদের পাশে দাঁড়াতে জনপ্রতিনিধিদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য,ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলায় বিকাল ৪টা পর্যন্ত ১৮ মামলায় ৩৫ জনকে ১৬ হাজার ৭৮০ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন