হত্যার পর দরজা জানালা বন্ধ করে মৃত স্ত্রীর সঙ্গে ৪ ঘণ্টা
jugantor
হত্যার পর দরজা জানালা বন্ধ করে মৃত স্ত্রীর সঙ্গে ৪ ঘণ্টা

  ব্রাহ্মণপাড়া (কুমিল্লা) প্রতিনিধি  

২৭ জুলাই ২০২১, ০১:৩২:৪১  |  অনলাইন সংস্করণ

রোবরার গভীর রাতে কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার সাদকপুর গ্রামের এক আনসার সদস্য তার স্ত্রীকে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে। হত্যাকাণ্ডের পর পাষণ্ড স্বামী জাহাঙ্গীর আলম (৪৫) ৪ ঘণ্টা ঘরের দরজা জানালা বন্ধ করে মৃত স্ত্রীর পাশে বসে থাকেন।

খবর পেয়ে বুড়িচং থানার ওসি তদন্ত মোঃ মাসুদ আলম সঙ্গীয় ফোর্সসহ ফোঁস লাশ উদ্ধার করে এবং ঘাতক স্বামীকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।

পুলিশ জানায়, জেলার বুড়িচং উপজেলার পীরযাত্রাপুর ইউনিয়নের সাদকপুর উত্তর পাড়া গ্রামের আবদুল আওয়াল মাস্টারের বাড়ির মৃত আবুল হাসেমের ছেলে জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে উপজেলার ষোলনল ইউনিয়নের খাড়াতাইয়া গ্রামের ছাফর আলীর মেয়ে শাহিনুর আক্তারের (৩৫) বিয়ে হয় ১৯৯৭ সালে। বৈবাহিক জীবনে তাদের দুটি ছেলে রয়েছে। বড় ছেলে রবিউল একাদশ শ্রেণিতে ও ছোট ছেলে সাবিক নবম শ্রেণিতে অধ্যায়নরত আছে।

মৃত গৃহবধূর ভাসুর মো. মোস্তফা কামাল জানান, জাহাঙ্গীর জেলার বরুড়া উপজেলায় আনসার ব্যাটালিয়নে কর্মরত আছে। ঈদের পরদিন বৃহস্পতিবার রাতে ছুটিতে বাড়িতে আসে সে।

সূত্র জানায়, আনসার সদস্য জাহাঙ্গীর আলম ৪-৫ মাস ধরে বাড়ি ও আসেন না এবং স্ত্রীকে পারিবারিক খরচও দেন না। তাই গত ২২ জুলাই শাহীনুর আক্তার স্বামীর কর্মস্থল বরুড়া উপজেলায় গিয়ে তাকে সঙ্গে করে বাড়ি নিয়ে আসে। বিয়ের পর থেকে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক বিরোধের জের ধরে প্রায় ঝগড়া বিবাদ এবং মারধরের ঘটনা ঘটত।

রোববার দিবাগত রাত ৩টায় চিৎকার শুনে বাড়ির লোকজন জাহাঙ্গীরের ঘরের সামনে যায়। এ সময় দরজা ভিতর থেকে বন্ধ করে জাহাঙ্গীর। বাড়ির লোকজন অনেক চেষ্টা করে ও ঘরের দরজা খুলতে পারেনি। এদিকে তার দুই সন্তানও অন্য রুমে ঘুমিয়ে ছিল তার চিৎকার শুনে আসে। জাহাঙ্গীর আলম সকাল ৭টা পর্যন্ত ঘরের দরজা জানালা বন্ধ করে মৃত স্ত্রীর পাশে বসে থাকে। বাড়ির লোকজন ঘরের দরজা খুলতে ব্যর্থ হয়ে বুড়িচং থানা পুলিশকে খবর দেয়।

খবর পেয়ে বুড়িচং থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে আসলে জাহাঙ্গীর ঘরের দরজা খুলে দেয়।

বুড়িচং থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাকসুদ আলম জানান, খবর পেয়ে ৭টায় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে যান তিনি। পুলিশের উপস্থিতি দেখে আনসার সদস্য ঘরের দরজা খুলে দেয়। এ সময় বিছানার ওপর থেকে তার স্ত্রীর লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় আনসার সদস্য জাহাঙ্গীরকে আটক ও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার দুই ছেলেকে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে।

বুড়িচং থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মাসুদ আলম বলেন, পারিবারিক বিরোধের জের ধরে জাহাঙ্গীর তার স্ত্রীকে লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করলে মাথা ফেটে যায় এবং কিছুক্ষণ পর তার মৃত্যু হয়। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এ ঘটনায় স্বামী জাহাঙ্গীর আলমকে আসামি করে মৃত গৃহবধূর ভাসুর অবসর সার্জেন্ট মো. মোস্তফা কামাল বাদী হয়ে বুড়িচং থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন বলে জানান ওই কর্মকর্তা।

হত্যার পর দরজা জানালা বন্ধ করে মৃত স্ত্রীর সঙ্গে ৪ ঘণ্টা

 ব্রাহ্মণপাড়া (কুমিল্লা) প্রতিনিধি 
২৭ জুলাই ২০২১, ০১:৩২ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ

রোবরার গভীর রাতে কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার সাদকপুর গ্রামের এক আনসার সদস্য তার স্ত্রীকে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে। হত্যাকাণ্ডের পর পাষণ্ড স্বামী জাহাঙ্গীর আলম (৪৫) ৪ ঘণ্টা ঘরের দরজা জানালা বন্ধ করে মৃত স্ত্রীর পাশে বসে থাকেন।

খবর পেয়ে বুড়িচং থানার ওসি তদন্ত মোঃ মাসুদ আলম সঙ্গীয় ফোর্সসহ ফোঁস লাশ উদ্ধার করে এবং ঘাতক স্বামীকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।  

পুলিশ  জানায়, জেলার বুড়িচং উপজেলার পীরযাত্রাপুর ইউনিয়নের সাদকপুর উত্তর পাড়া গ্রামের আবদুল আওয়াল মাস্টারের বাড়ির মৃত আবুল হাসেমের ছেলে জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে উপজেলার ষোলনল ইউনিয়নের খাড়াতাইয়া গ্রামের ছাফর আলীর মেয়ে শাহিনুর আক্তারের (৩৫) বিয়ে হয় ১৯৯৭ সালে। বৈবাহিক জীবনে  তাদের দুটি ছেলে রয়েছে। বড় ছেলে রবিউল একাদশ শ্রেণিতে ও ছোট ছেলে সাবিক নবম শ্রেণিতে অধ্যায়নরত আছে।

মৃত গৃহবধূর ভাসুর মো. মোস্তফা কামাল জানান, জাহাঙ্গীর জেলার বরুড়া উপজেলায় আনসার ব্যাটালিয়নে কর্মরত আছে। ঈদের পরদিন বৃহস্পতিবার রাতে ছুটিতে বাড়িতে আসে সে।

সূত্র জানায়, আনসার সদস্য জাহাঙ্গীর আলম ৪-৫ মাস ধরে বাড়ি ও আসেন না এবং স্ত্রীকে পারিবারিক খরচও দেন না। তাই গত ২২ জুলাই শাহীনুর আক্তার স্বামীর কর্মস্থল বরুড়া উপজেলায় গিয়ে তাকে সঙ্গে করে বাড়ি নিয়ে আসে। বিয়ের পর থেকে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক বিরোধের জের ধরে প্রায় ঝগড়া বিবাদ এবং মারধরের ঘটনা ঘটত।

রোববার দিবাগত রাত ৩টায়  চিৎকার শুনে বাড়ির লোকজন জাহাঙ্গীরের ঘরের সামনে যায়। এ সময় দরজা ভিতর থেকে বন্ধ করে জাহাঙ্গীর। বাড়ির লোকজন অনেক চেষ্টা করে ও ঘরের দরজা খুলতে পারেনি। এদিকে তার দুই সন্তানও অন্য রুমে ঘুমিয়ে ছিল তার চিৎকার শুনে আসে। জাহাঙ্গীর আলম সকাল ৭টা পর্যন্ত ঘরের দরজা জানালা বন্ধ করে মৃত স্ত্রীর পাশে বসে থাকে। বাড়ির লোকজন ঘরের দরজা খুলতে ব্যর্থ হয়ে বুড়িচং থানা পুলিশকে খবর দেয়। 

খবর পেয়ে বুড়িচং থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে আসলে জাহাঙ্গীর ঘরের দরজা খুলে দেয়। 

বুড়িচং থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাকসুদ আলম জানান, খবর পেয়ে ৭টায় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে যান তিনি। পুলিশের উপস্থিতি দেখে আনসার সদস্য ঘরের দরজা খুলে দেয়। এ সময় বিছানার ওপর থেকে তার স্ত্রীর লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় আনসার সদস্য জাহাঙ্গীরকে আটক ও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার দুই ছেলেকে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। 

বুড়িচং থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মাসুদ আলম বলেন, পারিবারিক বিরোধের জের ধরে জাহাঙ্গীর তার স্ত্রীকে লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করলে মাথা ফেটে যায় এবং কিছুক্ষণ পর তার মৃত্যু হয়। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এ ঘটনায় স্বামী জাহাঙ্গীর আলমকে আসামি করে মৃত গৃহবধূর ভাসুর অবসর সার্জেন্ট মো. মোস্তফা কামাল বাদী হয়ে বুড়িচং থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন বলে জানান ওই কর্মকর্তা।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন