ইলিশ শিকারে গিয়ে শূন্য হাতে ফিরছেন জেলেরা
jugantor
ইলিশ শিকারে গিয়ে শূন্য হাতে ফিরছেন জেলেরা

  গলাচিপা ও দক্ষিণ (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি   

২৮ জুলাই ২০২১, ১৮:০২:১৩  |  অনলাইন সংস্করণ

পটুয়াখালী গলাচিপার তেঁতুলিয়া ও রাবনাবাদ নদীতে ইলিশের আকাল, হতাশ হয়ে ফিরছেন জেলেরা। মৌসুমের আড়াই মাস পার হয়ে গেলেও গলাচিপার তেঁতুলিয়া, রাবনাবাদ ও আগুনমুখা নদীতে আশানুরূপ ইলিশ ধরা পড়ছে না। জেলেরা দিন-রাত চেষ্টা করেও নদীতে জাল ফেলে মাছ না পেয়ে ফিরছেন শূন্য হাতে।

এতে করে গলাচিপা উপকূলীয় অঞ্চলের জেলেপাড়াগুলোতে নেমে এসেছে চরম হতাশা। ইলিশ ধরা না পড়ায় জেলে, আড়তদার ও মৎস্যজীবী শ্রমিকরা কর্মহীন হয়ে পড়েছেন।

সরেজমিন উপজেলার পানপট্টি, বোয়ালিয়া, আমখোলা, নলুয়াবাগী, পক্ষিয়া, বদনাতলী, হরিদেবপুর, চরবিশ্বাস, নোমোর স্লুইজ বাজার, চরকাজল, চরশিবা ঘুরে দেখা যায়, মৌসুমের আড়াই মাস অতিবাহিত হলেও নদীতে ইলিশ ধরা না পড়ায় জেলেসহ এর সঙ্গে জড়িত সবার জীবন-জীবিকা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

এ সময় সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সাধারণত বৈশাখ থেকে আশ্বিন মাস পর্যন্ত সময়কে ইলিশের ভরা মৌসুম হিসেবে মনে করা হয়। এ সময় জেলেদের জালে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়ার কথা। কিন্তু এ ভরা মৌসুমেও তেঁতুলিয়া, রাবনাবাদ ও আগুনমুখা নদীতে ইলিশের দেখা মিলছে না। চলছে চরম আকাল।

ইলিশের এ আকালে মৎস্য শিকারি জেলেসহ আড়তদার ও মৎস্যজীবী শ্রমিকরা অলস দিন কাটিয়ে হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। যে কারণে মাছঘাটগুলোতে ব্যবসায়ী ও জেলেদের সমাগম অনেক কমে গেছে। বড় রকমের লোকসান গুনছেন বরফকলের মালিকরাও। হোটেল রেস্টুরেন্ট, তেল ও সুতা ব্যবসায়ীদের দোকানপাটে আমদানিও কমে গেছে বলে জানিয়েছেন অনেকে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা গেছে, গলাচিপায় প্রায় ১৫ হাজার জেলে পরিবার ইলিশ ব্যবসার সাথে জড়িত। এ বছর অনেক ইলিশ ধরা পড়বে বলে অধিকাংশ জেলে পরিবার দাদনদার, মহাজন, এনজিও এবং ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে এমনকি জমিজমা বন্ধক রেখে জাল-নৌকা প্রস্তুত করেছে। ওই সব জেলেরা আশায় বুক বেঁধে রয়েছে চলতি মৌসুমে গত বছরের লোকসান কাটিয়ে উঠতে পারবে।

হাসি ফুটাবে পরিবার পরিজনদের মুখে। কিন্তু এখন ইলিশের ভরা মৌসুম চললেও এখন পর্যন্ত তেমন সংখ্যক ইলিশের দেখা মিলছে না জেলেদের জালে। স্থানীয় বাজারেও ইলিশ মিলছে না। আড়তদারদের কাছে যা কিছু আসে তাও ক্রয় ক্ষমতার বাইরে। বড় এক হালি ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৩ থেকে ৪ হাজার টাকায় এবং ছোট আকারের এক হালি ইলিশের দাম দেড় হাজার থেকে আড়াই হাজার টাকা হাঁকানো হচ্ছে।

উপজেলার মৎস্য আড়তের মালিক মো. ছরোয়ার (৪২), মো. চুন্নু মিয়াসহ (৫২) একাধিক আড়তদার জানান, এবার ইলিশের দেখা পাওয়া যাচ্ছে না। এ সময় জেলেরা দিনে ২-৩ বার ট্রলারে ইলিশ মাছ নিয়ে আড়তে আসত। কিন্তু এবার সপ্তাহেও একবার ইলিশের ট্রলার আসছে না। দুই-চারটা যা মিলছে তার দামও প্রচুর।

তেঁতুলিয়া নদীপাড়ের জেলে শাজাহান মাঝি (৪৮) জানান, চলতি ইলিশ মৌসুমের শুরুতেই নদীতে মাছ ধরার জন্য জাল ফেলার প্রস্তুতি নেয় তারা। মহাজন,আড়তদারদের কাছ থেকে দাদন আবার কেউ কেউ জমিজমা বন্ধক রেখে ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে, কেউবা এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে জাল ও নৌকা গোছ-গাছ করে রুপালি ইলিশের শিকারে নামছে। কিন্তু তেঁতুলিয়া, রাবনাবাদ ও আগুনমুখা নদীতে জেলেরা জাল নৌকা নিয়ে দিন-রাত পরিশ্রম করেও ইলিশ পাচ্ছে না।

গলাচিপা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. জরিরুন্নবী বলেন, নদীতে অনেক ডুবোচর রয়েছে। ডুবোচরের কারণে ইলিশ বিচরণ করতে সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। যেহেতু ইলিশ গভীর জলের মাছ তাই নদীতে বেশি পানি হলে ইলিশ সহজেই বিচরণ করতে পারে। তখন জেলেদের জালেও ইলিশ বেশি ধরা পড়ে।

ইলিশ শিকারে গিয়ে শূন্য হাতে ফিরছেন জেলেরা

 গলাচিপা ও দক্ষিণ (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি  
২৮ জুলাই ২০২১, ০৬:০২ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

পটুয়াখালী গলাচিপার তেঁতুলিয়া ও রাবনাবাদ নদীতে ইলিশের আকাল, হতাশ হয়ে ফিরছেন জেলেরা। মৌসুমের আড়াই মাস পার হয়ে গেলেও গলাচিপার তেঁতুলিয়া, রাবনাবাদ ও আগুনমুখা নদীতে আশানুরূপ ইলিশ ধরা পড়ছে না। জেলেরা দিন-রাত চেষ্টা করেও নদীতে জাল ফেলে মাছ না পেয়ে ফিরছেন শূন্য হাতে। 

এতে করে গলাচিপা উপকূলীয় অঞ্চলের জেলেপাড়াগুলোতে নেমে এসেছে চরম হতাশা। ইলিশ ধরা না পড়ায় জেলে, আড়তদার ও মৎস্যজীবী শ্রমিকরা কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। 

সরেজমিন উপজেলার পানপট্টি, বোয়ালিয়া, আমখোলা, নলুয়াবাগী, পক্ষিয়া, বদনাতলী, হরিদেবপুর, চরবিশ্বাস, নোমোর স্লুইজ বাজার, চরকাজল, চরশিবা ঘুরে দেখা যায়, মৌসুমের আড়াই মাস অতিবাহিত হলেও নদীতে ইলিশ ধরা না পড়ায় জেলেসহ এর সঙ্গে জড়িত সবার জীবন-জীবিকা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। 

এ সময় সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সাধারণত বৈশাখ থেকে আশ্বিন মাস পর্যন্ত সময়কে ইলিশের ভরা মৌসুম হিসেবে মনে করা হয়। এ সময় জেলেদের জালে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়ার কথা। কিন্তু এ ভরা মৌসুমেও তেঁতুলিয়া, রাবনাবাদ ও আগুনমুখা নদীতে ইলিশের দেখা মিলছে না। চলছে চরম আকাল। 

ইলিশের এ আকালে মৎস্য শিকারি জেলেসহ আড়তদার ও মৎস্যজীবী শ্রমিকরা অলস দিন কাটিয়ে হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। যে কারণে মাছঘাটগুলোতে ব্যবসায়ী ও জেলেদের সমাগম অনেক কমে গেছে। বড় রকমের লোকসান গুনছেন বরফকলের মালিকরাও। হোটেল রেস্টুরেন্ট, তেল ও সুতা ব্যবসায়ীদের দোকানপাটে আমদানিও কমে গেছে বলে জানিয়েছেন অনেকে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা গেছে, গলাচিপায় প্রায় ১৫ হাজার জেলে পরিবার ইলিশ ব্যবসার সাথে জড়িত। এ বছর অনেক ইলিশ ধরা পড়বে বলে অধিকাংশ জেলে পরিবার দাদনদার, মহাজন, এনজিও এবং ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে এমনকি জমিজমা বন্ধক রেখে জাল-নৌকা প্রস্তুত করেছে। ওই সব জেলেরা আশায় বুক বেঁধে রয়েছে চলতি মৌসুমে গত বছরের লোকসান কাটিয়ে উঠতে পারবে। 

হাসি ফুটাবে পরিবার পরিজনদের মুখে। কিন্তু এখন ইলিশের ভরা মৌসুম চললেও এখন পর্যন্ত তেমন সংখ্যক ইলিশের দেখা মিলছে না জেলেদের জালে। স্থানীয় বাজারেও ইলিশ মিলছে না। আড়তদারদের কাছে যা কিছু আসে তাও ক্রয় ক্ষমতার বাইরে। বড় এক হালি ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৩ থেকে ৪ হাজার টাকায় এবং ছোট আকারের এক হালি ইলিশের দাম দেড় হাজার থেকে আড়াই হাজার টাকা হাঁকানো হচ্ছে। 

উপজেলার মৎস্য আড়তের মালিক মো. ছরোয়ার (৪২), মো. চুন্নু মিয়াসহ (৫২) একাধিক আড়তদার জানান, এবার ইলিশের দেখা পাওয়া যাচ্ছে না। এ সময় জেলেরা দিনে ২-৩ বার ট্রলারে ইলিশ মাছ নিয়ে আড়তে আসত। কিন্তু এবার সপ্তাহেও একবার ইলিশের ট্রলার আসছে না। দুই-চারটা যা মিলছে তার দামও প্রচুর। 

তেঁতুলিয়া নদীপাড়ের জেলে শাজাহান মাঝি (৪৮) জানান, চলতি ইলিশ মৌসুমের শুরুতেই নদীতে মাছ ধরার জন্য জাল ফেলার প্রস্তুতি নেয় তারা। মহাজন,আড়তদারদের কাছ থেকে দাদন আবার কেউ কেউ জমিজমা বন্ধক রেখে ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে, কেউবা এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে জাল ও নৌকা গোছ-গাছ করে রুপালি ইলিশের শিকারে নামছে। কিন্তু তেঁতুলিয়া, রাবনাবাদ ও আগুনমুখা নদীতে জেলেরা জাল নৌকা নিয়ে দিন-রাত পরিশ্রম করেও ইলিশ পাচ্ছে না। 

গলাচিপা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. জরিরুন্নবী বলেন, নদীতে অনেক ডুবোচর রয়েছে। ডুবোচরের কারণে ইলিশ বিচরণ করতে সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। যেহেতু ইলিশ গভীর জলের মাছ তাই নদীতে বেশি পানি হলে ইলিশ সহজেই বিচরণ করতে পারে। তখন জেলেদের জালেও ইলিশ বেশি ধরা পড়ে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন