সিলেটে বেড়েই চলছে যান চলাচল-জনসমাগম
jugantor
সিলেটে বেড়েই চলছে যান চলাচল-জনসমাগম

  সিলেট ব্যুরো  

২৮ জুলাই ২০২১, ২১:৫৯:৪৬  |  অনলাইন সংস্করণ

করোনা পাল্টে দিয়েছে মানুষের জীবনধারা। প্রয়োজনের তাগিদে ঘর থেকে বেরোচ্ছে মানুষ। জীবন-জীবিকার তাগিদে স্বাস্থ্যবিধি থেকে যাচ্ছে উপেক্ষিত। কঠোর লকডাউনেও অন্নের সংস্থানে করোনার ভয়কে তুচ্ছ করে দেখছেন সাধারণ মানুষ।

কঠোর লকডাউনের ৬ষ্ঠ দিনে সড়কে বেড়েছে যান চলাচল ও জনসমাগম। নগরীর মোড়ে মোড়ে চেকপোস্ট বসিয়ে পুলিশ যানবাহন আটকালেও নানা অজুহাতে মানুষ বের হচ্ছেন ঘর থেকে। নগরীর প্রধান সড়ক ছাড়াও পাড়া-মহল্লার ভেতরের রাস্তায় নিয়মিত আড্ডা দিতে দেখা গেছে লোকজনকে।

বুধবার নগরীর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট ঘুরে দেখা গেছে, লকডাউন বাস্তবায়নে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর রয়েছে। তবুও সড়কে চলছে সিএনজি অটোরিকশা ও প্রাইভেট গাড়ি। সেই সঙ্গে বিভিন্ন পণ্যসামগ্রীর দোকানও অর্ধেক শাটার খোলা রেখে ব্যবসা করতে দেখা গেছে।

ছোটখাটো প্রয়োজন, আবার কেউ কেউ প্রয়োজন ছাড়াই এসব গাড়ি নিয়ে রাস্তায় বের হতে দেখা গেছে। পুলিশ গাড়ি আটকালে তারা নানা অজুহাত দাঁড় করাচ্ছেন। কেউ বলছেন হাসপাতাল, ক্লিনিক, চিকিৎসক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যাবেন। আবার কেউ কেউ আত্মীয়-স্বজনের মৃত্যুর অজুহাতও দেখাচ্ছেন।

জিন্দাবাজার পয়েন্টে গিয়ে দেখা গেছে, অযথা মানুষ ঘুরাফেরা করছে। কেউ কেউ বন্ধ দোকানের সামনে বন্ধুদের সাথে বসে আড্ডা দিচ্ছেন। এদের অনেকের মুখে মাস্কও নেই। কাজল শাহ এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, গলির ভেতরে দোকানপাট খোলা। দোকানগুলোতে মানুষ অলস সময় পাড় করছে। উঠতি বয়সী ছেলে-মেয়েরা আড্ডা দিচ্ছে। আবার প্রধান সড়কেও অযথা মানুষ ঘুরাফেরা করতে দেখা গেছে। একই অবস্থাও দেখা গেছে লামাবাজার, রিকাবীবাজার, মুন্সিপাড়া, ভাতালিয়া, নোয়াপাড়া, বিলপার, মির্জাজাঙ্গালেও।

মির্জাজাঙ্গাল এলাকায় গলির মোড়ে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিচ্ছিলেন মুন্না আহমদ নামের এক যুবক। লকডাউনে স্বাস্থ্যবিধি না মেনে এরকম আড্ডা দেয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, লকডাউনে বাসায় বন্দি থাকতে থাকতে একগুয়েমি চলে এসেছে। তাই একটু স্বস্তির জন্য বন্ধুদের নিয়ে আড্ডা দিচ্ছেন।

মোটরসাইকেল আরোহী সোহেল আহমদ বলেন, ঘরে বসে থাকতে আর ভালো লাগে না, বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে একটু ঘুরব।

নগরীর বিলপার এলাকার জাহেদ চৌধুরী জানান, বাসার জন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় কিছু জিনিসপত্র কিনব, এর জন্য বের হতে হয়েছে।

পুলিশ সদস্যরা জানান, মানুষের চলাচল, যানবাহনের সংখ্যা কিছুটা বাড়লেও আমাদের চারদিকে চেকপোস্ট রয়েছে। অকারণে কারও বের হয়ে পার পাওয়ার সুযোগ নেই। আমরা কঠোর বিধিনিষেধ বাস্তবায়নে সরকারি নির্দেশ মোতাবেক কাজ করে যাচ্ছি। বৈধ কোনো কাগজ কিংবা পর্যাপ্ত কারণ ছাড়া বের হলেই আটক করছি। নিয়ম অমান্য করলে কোনো ছাড় নেই।

চৌহাট্টা পয়েন্টে দায়িত্বরত এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, সকাল থেকেই আমরা সড়কে রয়েছি। যেসব গাড়ি জরুরি কারণ ছাড়া ব্যক্তিগত কাজে বের হয়েছেন তাদের আমরা জরিমানা বা মামলার আওতায় নিয়ে আসছি।

তাছাড়া নিরাপদ শারীরিক দূরত্ব বজায় না রেখেই লাইনে দাঁড়িয়ে পণ্য কিনছে সাধারণ মানুষ। টিসিবির অব্যবস্থাপনায় পণ্য না পাওয়ার অনিশ্চয়তা ও মারামারিসহ বিভিন্নভাবে হয়রানির স্বীকার হচ্ছে নিম্নআয়ের ভোক্তারা।

টিসিবির ট্রাক থেকে কম দামে পণ্য কিনতে নিম্নআয়ের মানুষ করোনার ভয়কেও তুচ্ছ করে দেখছেন। ফলে নগরের রিকাবিবাজারে ন্যায্যমূল্যে পণ্য কিনতে ট্রাকের পেছনে মানুষের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। উপস্থিত লোকজনকে লাইনে স্বাস্থ্যবিধি না মেনে অপেক্ষমাণ থাকতে দেখা গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, করোনাকালে নিম্নআয়ের লোকজন সংসারের খরচ মেটাতে ব্যর্থ হচ্ছেন। মধ্যবিত্তরাও সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন। যে কারণে ন্যায্যমূল্যে পণ্য কিনতে টিসিবির পণ্যে ভরসা অনেকের।

নগরীর রিকাবিবাজারে টিসিবির ট্রাকে পণ্য বিক্রয়ে কর্মরতরা বলেন, কঠোর লকডাউন ব্যতিরেকে অন্য সময় টিসিবির পণ্য কিনতে এতো মানুষের ভিড় হয় না। অথচ করোনাকালে কঠোর লকডাউনে টিসিবির গাড়ির অপেক্ষায় আগে থেকেই লাইনে দাঁড়িয়ে থাকেন লোকজন।

সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (মিডিয়া) বিএম আশরাফ উল্লাহ তাহের বলেন, জরুরিসেবা ছাড়া অন্য কোনো দোকানপাট খোলা পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে জরিমানাও হচ্ছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ বাইরে বেরোলে জরিমানা গুনতে হচ্ছে। তবে জরুরি প্রয়োজনে বের হওয়া লোকজনকে ছাড় দেওয়া হচ্ছে।

সিলেটে বেড়েই চলছে যান চলাচল-জনসমাগম

 সিলেট ব্যুরো 
২৮ জুলাই ২০২১, ০৯:৫৯ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

করোনা পাল্টে দিয়েছে মানুষের জীবনধারা। প্রয়োজনের তাগিদে ঘর থেকে বেরোচ্ছে মানুষ। জীবন-জীবিকার তাগিদে স্বাস্থ্যবিধি থেকে যাচ্ছে উপেক্ষিত। কঠোর লকডাউনেও অন্নের সংস্থানে করোনার ভয়কে তুচ্ছ করে দেখছেন সাধারণ মানুষ। 

কঠোর লকডাউনের ৬ষ্ঠ দিনে সড়কে বেড়েছে যান চলাচল ও জনসমাগম। নগরীর মোড়ে মোড়ে চেকপোস্ট বসিয়ে পুলিশ যানবাহন আটকালেও নানা অজুহাতে মানুষ বের হচ্ছেন ঘর থেকে। নগরীর প্রধান সড়ক ছাড়াও পাড়া-মহল্লার ভেতরের রাস্তায় নিয়মিত আড্ডা দিতে দেখা গেছে লোকজনকে।

বুধবার নগরীর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট ঘুরে দেখা গেছে, লকডাউন বাস্তবায়নে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর রয়েছে। তবুও সড়কে চলছে সিএনজি অটোরিকশা ও প্রাইভেট গাড়ি। সেই সঙ্গে বিভিন্ন পণ্যসামগ্রীর দোকানও অর্ধেক শাটার খোলা রেখে ব্যবসা করতে দেখা গেছে।

ছোটখাটো প্রয়োজন, আবার কেউ কেউ প্রয়োজন ছাড়াই এসব গাড়ি নিয়ে রাস্তায় বের হতে দেখা গেছে। পুলিশ গাড়ি আটকালে তারা নানা অজুহাত দাঁড় করাচ্ছেন। কেউ বলছেন হাসপাতাল, ক্লিনিক, চিকিৎসক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যাবেন। আবার কেউ কেউ আত্মীয়-স্বজনের মৃত্যুর অজুহাতও দেখাচ্ছেন।

জিন্দাবাজার পয়েন্টে গিয়ে দেখা গেছে, অযথা মানুষ ঘুরাফেরা করছে। কেউ কেউ বন্ধ দোকানের সামনে বন্ধুদের সাথে বসে আড্ডা দিচ্ছেন। এদের অনেকের মুখে মাস্কও নেই। কাজল শাহ এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, গলির ভেতরে দোকানপাট খোলা। দোকানগুলোতে মানুষ অলস সময় পাড় করছে। উঠতি বয়সী ছেলে-মেয়েরা আড্ডা দিচ্ছে। আবার প্রধান সড়কেও অযথা মানুষ ঘুরাফেরা করতে দেখা গেছে। একই অবস্থাও দেখা গেছে লামাবাজার, রিকাবীবাজার, মুন্সিপাড়া, ভাতালিয়া, নোয়াপাড়া, বিলপার, মির্জাজাঙ্গালেও।

মির্জাজাঙ্গাল এলাকায় গলির মোড়ে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিচ্ছিলেন মুন্না আহমদ নামের এক যুবক। লকডাউনে স্বাস্থ্যবিধি না মেনে এরকম আড্ডা দেয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, লকডাউনে বাসায় বন্দি থাকতে থাকতে একগুয়েমি চলে এসেছে। তাই একটু স্বস্তির জন্য বন্ধুদের নিয়ে আড্ডা দিচ্ছেন। 

মোটরসাইকেল আরোহী সোহেল আহমদ বলেন, ঘরে বসে থাকতে আর ভালো লাগে না, বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে একটু ঘুরব।

নগরীর বিলপার এলাকার জাহেদ চৌধুরী জানান, বাসার জন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় কিছু জিনিসপত্র কিনব, এর জন্য বের হতে হয়েছে।

পুলিশ সদস্যরা জানান, মানুষের চলাচল, যানবাহনের সংখ্যা কিছুটা বাড়লেও আমাদের চারদিকে চেকপোস্ট রয়েছে। অকারণে কারও বের হয়ে পার পাওয়ার সুযোগ নেই। আমরা কঠোর বিধিনিষেধ বাস্তবায়নে সরকারি নির্দেশ মোতাবেক কাজ করে যাচ্ছি। বৈধ কোনো কাগজ কিংবা পর্যাপ্ত কারণ ছাড়া বের হলেই আটক করছি। নিয়ম অমান্য করলে কোনো ছাড় নেই।

চৌহাট্টা পয়েন্টে দায়িত্বরত এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, সকাল থেকেই আমরা সড়কে রয়েছি। যেসব গাড়ি জরুরি কারণ ছাড়া ব্যক্তিগত কাজে বের হয়েছেন তাদের আমরা জরিমানা বা মামলার আওতায় নিয়ে আসছি।

তাছাড়া নিরাপদ শারীরিক দূরত্ব বজায় না রেখেই লাইনে দাঁড়িয়ে পণ্য কিনছে সাধারণ মানুষ। টিসিবির অব্যবস্থাপনায় পণ্য না পাওয়ার অনিশ্চয়তা ও মারামারিসহ বিভিন্নভাবে হয়রানির স্বীকার হচ্ছে নিম্নআয়ের ভোক্তারা।

টিসিবির ট্রাক থেকে কম দামে পণ্য কিনতে নিম্নআয়ের মানুষ করোনার ভয়কেও তুচ্ছ করে দেখছেন। ফলে নগরের রিকাবিবাজারে ন্যায্যমূল্যে পণ্য কিনতে ট্রাকের পেছনে মানুষের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। উপস্থিত লোকজনকে লাইনে স্বাস্থ্যবিধি না মেনে অপেক্ষমাণ থাকতে দেখা গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, করোনাকালে নিম্নআয়ের লোকজন সংসারের খরচ মেটাতে ব্যর্থ হচ্ছেন। মধ্যবিত্তরাও সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন। যে কারণে ন্যায্যমূল্যে পণ্য কিনতে টিসিবির পণ্যে ভরসা অনেকের।

নগরীর রিকাবিবাজারে টিসিবির ট্রাকে পণ্য বিক্রয়ে কর্মরতরা বলেন, কঠোর লকডাউন ব্যতিরেকে অন্য সময় টিসিবির পণ্য কিনতে এতো মানুষের ভিড় হয় না। অথচ করোনাকালে কঠোর লকডাউনে টিসিবির গাড়ির অপেক্ষায় আগে থেকেই লাইনে দাঁড়িয়ে থাকেন লোকজন।

সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (মিডিয়া) বিএম আশরাফ উল্লাহ তাহের বলেন, জরুরিসেবা ছাড়া অন্য কোনো দোকানপাট খোলা পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে জরিমানাও হচ্ছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ বাইরে বেরোলে জরিমানা গুনতে হচ্ছে। তবে জরুরি প্রয়োজনে বের হওয়া লোকজনকে ছাড় দেওয়া হচ্ছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন