অপেক্ষার প্রহর গুনছেন জেলেরা, ঘাটেই নষ্ট হচ্ছে বরফ-বাজার
jugantor
অপেক্ষার প্রহর গুনছেন জেলেরা, ঘাটেই নষ্ট হচ্ছে বরফ-বাজার

  গোলাম মোস্তফা চৌধুরী, পাথরঘাটা (বরগুনা)  

২৮ জুলাই ২০২১, ২৩:০৭:১৮  |  অনলাইন সংস্করণ

দীর্ঘ ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েও আবহাওয়া খারাপ থাকায় সাগরে যেতে না পেরে পাথরঘাটার বৃহত্তম মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে অপেক্ষার প্রহর গুনছেন জেলেরা। আর ঘাটেই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে মাছ শিকারে যাওয়ার জন্য কেনা বরফ ও বাজার।

নিষেধাজ্ঞার সময়ে পরিবার-পরিজনের ভরণপোষণে অনেক জেলেই মহাজনদের কাছ থেকে দাদন নিয়ে ঋণগ্রস্ত। আর এখন সাগর-নদী উত্তল থাকায় মাছ ধরতে যেতে পারেনি। এমন পরিস্থিতিতে জেলেরা বলছেন, এ সময়ে নদ-নদীতে ও সাগরে ইলিশ ধরতে না পারায় তারা চরম হতাশ।

পাথরঘাটার বলেশ্বর-বিশখালী তীরবর্তী পদ্মা গ্রামের প্রায় প্রতিটি পরিবারের আয়ের মূল উৎস মাছ শিকার। পেশাজীবী এসব জেলের দুর্দিন এখন চরমে।

ট্রলার মালিক মো. মাসুম মিয়া বলেন, বরফসহ প্রায় ২ লাখ টাকার বাজার সদায় দিয়ে সাগরের উদ্দেশ্যে রওয়ানা করে দিয়েছি কিন্তু ঘাট থেকেই যেতে পারেনি। এমন অবস্থায় ঘাটে বসেই বাজার সদাই শেষ হয়ে যাচ্ছে, বরফও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এমন অবস্থায় লাভের মুখ তো দেখবই না বরং লোকসানের ঘানি টানতে টানতে দিন পার হয়ে যাবে। বাকিতে বাজারের টাকা এবং দাদনের টাকা সময়মতোই পরিশোধ করতে হবে।

উপজেলার বাদুরতলা গ্রামের জাহাঙ্গীর মাঝি বলেন, ৬৫ দিন মাছ ধরায় নিষেধ থাকে। এ সময় পরিবার-পরিজন নিয়ে অতিকষ্টে দিন কাটিয়েছি। মাটির কাজ করে সংসার চালিয়েছি। ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে বুকভরা আশা নিয়ে সাগর উদ্দেশে রওনা দিলেও ঘাটে বসে বাজার সদাই খেয়ে দিন পার করছি। মোগো গুরাগারা লইয়া খামু কী আর দাদনের টাহাই বা কেমনে দিমু।

জাহাঙ্গীর মাঝির মতোই বিশখালী তীরবর্তী জিনতলা গ্রামে আরও অনেক জেলের একই অবস্থা।

বরগুনা জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে সাগরে যাওয়ার জন্য বাজারভর্তি ট্রলার ঘাটেই বসে রয়েছে। বরফসহ বাজার রসদ সামগ্রী নষ্ট হয়ে যাচ্ছে- এ অবস্থায় জেলেরা অসহায় সময় পার করছেন।

বরগুনা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিশ্বজিত কুমার দেব বলেন, মৌসুমে সাগর থেকে ইলিশ নদ-নদীতে বিচরণ করতে আসে। এ সময় প্রায় সবখানেই এসব ইলিশ ধরা পড়ে। আমরা আশা করি, শিগগিরই নদীতে ইলিশ ধরা পড়তে শুরু করবে।

অপেক্ষার প্রহর গুনছেন জেলেরা, ঘাটেই নষ্ট হচ্ছে বরফ-বাজার

 গোলাম মোস্তফা চৌধুরী, পাথরঘাটা (বরগুনা) 
২৮ জুলাই ২০২১, ১১:০৭ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

দীর্ঘ ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েও আবহাওয়া খারাপ থাকায় সাগরে যেতে না পেরে পাথরঘাটার বৃহত্তম মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে অপেক্ষার প্রহর গুনছেন জেলেরা। আর ঘাটেই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে মাছ শিকারে যাওয়ার জন্য কেনা বরফ ও বাজার।

নিষেধাজ্ঞার সময়ে পরিবার-পরিজনের ভরণপোষণে অনেক জেলেই মহাজনদের কাছ থেকে দাদন নিয়ে ঋণগ্রস্ত। আর এখন সাগর-নদী উত্তল থাকায় মাছ ধরতে যেতে পারেনি। এমন পরিস্থিতিতে জেলেরা বলছেন, এ সময়ে নদ-নদীতে ও সাগরে ইলিশ ধরতে না পারায় তারা চরম হতাশ।

পাথরঘাটার বলেশ্বর-বিশখালী তীরবর্তী পদ্মা গ্রামের প্রায় প্রতিটি পরিবারের আয়ের মূল উৎস মাছ শিকার। পেশাজীবী এসব জেলের দুর্দিন এখন চরমে। 

ট্রলার মালিক মো. মাসুম মিয়া বলেন, বরফসহ প্রায় ২ লাখ টাকার বাজার সদায় দিয়ে সাগরের উদ্দেশ্যে রওয়ানা করে দিয়েছি কিন্তু ঘাট থেকেই যেতে পারেনি। এমন অবস্থায় ঘাটে বসেই বাজার সদাই শেষ হয়ে যাচ্ছে, বরফও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এমন অবস্থায় লাভের মুখ তো দেখবই না বরং লোকসানের ঘানি টানতে টানতে দিন পার হয়ে যাবে। বাকিতে বাজারের টাকা এবং দাদনের টাকা সময়মতোই পরিশোধ করতে হবে।

উপজেলার বাদুরতলা গ্রামের জাহাঙ্গীর মাঝি বলেন, ৬৫ দিন মাছ ধরায় নিষেধ থাকে। এ সময় পরিবার-পরিজন নিয়ে অতিকষ্টে দিন কাটিয়েছি। মাটির কাজ করে সংসার চালিয়েছি। ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে বুকভরা আশা নিয়ে সাগর উদ্দেশে রওনা দিলেও ঘাটে বসে বাজার সদাই খেয়ে দিন পার করছি। মোগো গুরাগারা লইয়া খামু কী আর দাদনের টাহাই বা কেমনে দিমু।

জাহাঙ্গীর মাঝির মতোই বিশখালী তীরবর্তী জিনতলা গ্রামে আরও অনেক জেলের একই অবস্থা।

বরগুনা জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে সাগরে যাওয়ার জন্য বাজারভর্তি ট্রলার ঘাটেই বসে রয়েছে। বরফসহ বাজার রসদ সামগ্রী নষ্ট হয়ে যাচ্ছে- এ অবস্থায় জেলেরা অসহায় সময় পার করছেন। 

বরগুনা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিশ্বজিত কুমার দেব বলেন, মৌসুমে সাগর থেকে ইলিশ নদ-নদীতে বিচরণ করতে আসে। এ সময় প্রায় সবখানেই এসব ইলিশ ধরা পড়ে। আমরা আশা করি, শিগগিরই নদীতে ইলিশ ধরা পড়তে শুরু করবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন