চট্টগ্রামে কোভিড থেকে সেরে ওঠা এক রোগীর ‘ব্ল্যাক ফাঙ্গাস’! 
jugantor
চট্টগ্রামে কোভিড থেকে সেরে ওঠা এক রোগীর ‘ব্ল্যাক ফাঙ্গাস’! 

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

২৮ জুলাই ২০২১, ২৩:৩৫:০১  |  অনলাইন সংস্করণ

ব্লাক ফাঙ্গাস

চট্টগ্রামে কোভিড থেকে সেরে ওঠা এক নারীর শরীরে ব্ল্যাক ফাঙ্গাস সংক্রমণ ঘটেছে বলে ধারণা করছেন চিকিৎসকরা।

চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন সেখ ফজলে রাব্বি বুধবার গণমাধ্যমকে বলেন, একজন রোগী পাওয়া গেছে যাকে ব্ল্যাক ফাংগাসের সন্দেহজনক বলা হচ্ছে।

ওই নারী কোভিড-১৯ আক্রান্ত হওয়ার পর হাসপাতালে ছিলেন। সেরে উঠে বাড়ি যাওয়ার পর পুনরায় অসুস্থ হলে তাকে হাসপাতালে ফেরত আনা হয়।

ওই নারী চার দিন আগে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগে ভর্তি হন। তবে তার বিষয়ে বুধবার জানা যায়।

ওই নারীর স্বজনেরা জানান, গত ২৫ জুন তার জ্বর আসে। ৩ জুলাই পরীক্ষায় করোনাভাইরাস ধরা পড়ে। পরে ১৫ জুলাই পরীক্ষায় তিনি কোভিড নেগেটিভ হন। তবে এরপরে তার নানা ধরনের শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়। ২৪ জুলাই তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনা হয়।

ওই নারীর স্বামী পাঁচদিন আগে কোভিডে আক্রান্ত হয়ে মারা যান।

ওই নারীর চিকিৎসায় সংশ্লিষ্ট চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. সুযত পাল গণমাধ্যমকে বলেন, তার ফাংগাল ইনফেকশন হয়েছে। মিউকরমাইকোসিসে আক্রান্ত বলে ধারণা করছি।

চট্টগ্রামের এই নারীও ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপে ভুগছিলেন বলে তার মেয়ে জানিয়েছেন। মায়ের বিষয়ে তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, কোভিড থেকে সুস্থ হওয়ার পর প্রথমে তার দাঁতব্যথা হয়। এরপর মুখ ফুলে যাচ্ছিল। পরে চোখ ও চোখের আশপাশের জায়গায় লালচে কালো হয়ে যাচ্ছিল। তখন একজন চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন তারা। ওই চিকিৎসক তার মায়ের সিটি স্ক্যান করতে দেন।

তিনি বলেন, রিপোর্ট আসার পর ব্ল্যাক ফাঙ্গাস বলে ধারণা করেন চিকিৎসকরা। পরে ২৪ জুলাই মাকে চট্টগ্রামে মেডিকেলে ভর্তি করা হয়। ভর্তির পর একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে মায়ের বায়োপসি করতে দেওয়া হয়। আজ দুপুরে আসা রিপোর্টে ব্ল্যাক ফাঙ্গাস শনাক্ত হয়েছে। আরও অধিকতর পরীক্ষার জন্য ঢাকায় নমুনা পাঠানো হয়েছে।

করোনাভাইরাস মহামারির দ্বিতীয় ঢেউয়ে বিপর্যস্ত ভারতে আতঙ্ক হয়ে দেখা দিয়েছিল কালো ছত্রাক বা ব্ল্যাক ফাঙ্গাস হিসেবে পরিচিত ‘মিউকরমাইকোসিস’।

এই ছত্রাক সাইনাস, মস্তিষ্ক ও ফুসফুসে আক্রমণ করে। ডায়াবেটিস, এইডস বা ক্যান্সারে যারা আক্রান্ত, যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দারুণভাবে দুর্বল, তাদের ক্ষেত্রে এ সংক্রমণ প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে।

এতে আক্রান্তদের মাথা ব্যথা, নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া, নাক দিয়ে রক্ত পড়া, মুখের একপাশ ফুলে যওয়া, চোখ ফুলে যাওয়া বা চোখে ব্যথা করা, চোখের পাপড়ি ঝরে পড়া, ঝাপসা দেখা এবং এক সময় দৃষ্টি হারানোর মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। কারও কারও ক্ষেত্রে নাকের পাশপাশে চামড়ায় কালচে দাগ দেখা দিতে পারে।

বাংলাদেশে গত জুন মাসে খুলনার এক ব্যক্তির কালো ছত্রাক সংক্রমণের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়। তবে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে তিনি সেরে উঠেছেন।

চট্টগ্রামে কোভিড থেকে সেরে ওঠা এক রোগীর ‘ব্ল্যাক ফাঙ্গাস’! 

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
২৮ জুলাই ২০২১, ১১:৩৫ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
ব্লাক ফাঙ্গাস
ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামে কোভিড থেকে সেরে ওঠা এক নারীর শরীরে ব্ল্যাক ফাঙ্গাস সংক্রমণ ঘটেছে বলে ধারণা করছেন চিকিৎসকরা। 

চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন সেখ ফজলে রাব্বি বুধবার গণমাধ্যমকে বলেন, একজন রোগী পাওয়া গেছে যাকে ব্ল্যাক ফাংগাসের সন্দেহজনক বলা হচ্ছে।

ওই নারী কোভিড-১৯ আক্রান্ত হওয়ার পর হাসপাতালে ছিলেন। সেরে উঠে বাড়ি যাওয়ার পর পুনরায় অসুস্থ হলে তাকে হাসপাতালে ফেরত আনা হয়।

ওই নারী চার দিন আগে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগে ভর্তি হন। তবে তার বিষয়ে বুধবার জানা যায়।

ওই নারীর স্বজনেরা জানান, গত ২৫ জুন তার জ্বর আসে। ৩ জুলাই পরীক্ষায় করোনাভাইরাস ধরা পড়ে। পরে ১৫ জুলাই পরীক্ষায় তিনি কোভিড নেগেটিভ হন। তবে এরপরে তার নানা ধরনের শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়। ২৪ জুলাই তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনা হয়।

ওই নারীর স্বামী পাঁচদিন আগে কোভিডে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। 

ওই নারীর চিকিৎসায় সংশ্লিষ্ট চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. সুযত পাল গণমাধ্যমকে বলেন,  তার ফাংগাল ইনফেকশন হয়েছে। মিউকরমাইকোসিসে আক্রান্ত বলে ধারণা করছি। 

চট্টগ্রামের এই নারীও ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপে ভুগছিলেন বলে তার মেয়ে জানিয়েছেন। মায়ের বিষয়ে তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, কোভিড থেকে সুস্থ হওয়ার পর প্রথমে তার দাঁতব্যথা হয়। এরপর মুখ ফুলে যাচ্ছিল। পরে চোখ ও চোখের আশপাশের জায়গায় লালচে কালো হয়ে যাচ্ছিল। তখন একজন চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন তারা। ওই চিকিৎসক তার মায়ের সিটি স্ক্যান করতে দেন।

তিনি বলেন, রিপোর্ট আসার পর ব্ল্যাক ফাঙ্গাস বলে ধারণা করেন চিকিৎসকরা। পরে ২৪ জুলাই মাকে চট্টগ্রামে মেডিকেলে ভর্তি করা হয়। ভর্তির পর একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে মায়ের বায়োপসি করতে দেওয়া হয়। আজ দুপুরে আসা রিপোর্টে ব্ল্যাক ফাঙ্গাস শনাক্ত হয়েছে। আরও অধিকতর পরীক্ষার জন্য ঢাকায় নমুনা পাঠানো হয়েছে।

করোনাভাইরাস মহামারির দ্বিতীয় ঢেউয়ে বিপর্যস্ত ভারতে আতঙ্ক হয়ে দেখা দিয়েছিল কালো ছত্রাক বা ব্ল্যাক ফাঙ্গাস হিসেবে পরিচিত ‘মিউকরমাইকোসিস’।

এই ছত্রাক সাইনাস, মস্তিষ্ক ও ফুসফুসে আক্রমণ করে। ডায়াবেটিস, এইডস বা ক্যান্সারে যারা আক্রান্ত, যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দারুণভাবে দুর্বল, তাদের ক্ষেত্রে এ সংক্রমণ প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে।

এতে আক্রান্তদের মাথা ব্যথা, নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া, নাক দিয়ে রক্ত পড়া, মুখের একপাশ ফুলে যওয়া, চোখ ফুলে যাওয়া বা চোখে ব্যথা করা, চোখের পাপড়ি ঝরে পড়া, ঝাপসা দেখা এবং এক সময় দৃষ্টি হারানোর মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। কারও কারও ক্ষেত্রে নাকের পাশপাশে চামড়ায় কালচে দাগ দেখা দিতে পারে।

বাংলাদেশে গত জুন মাসে খুলনার এক ব্যক্তির কালো ছত্রাক সংক্রমণের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়। তবে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে তিনি সেরে উঠেছেন।
 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : ছড়িয়ে পড়ছে করোনাভাইরাস

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন