নির্বাচন অফিসের বারান্দায় সন্তান প্রসব, অবশেষে অভিযোগ বাক্স স্থাপন
jugantor
নির্বাচন অফিসের বারান্দায় সন্তান প্রসব, অবশেষে অভিযোগ বাক্স স্থাপন

  দিরাই (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি  

২৯ জুলাই ২০২১, ০০:৪৮:৪২  |  অনলাইন সংস্করণ

‘দিরাইয়ে নির্বাচন অফিসের বারান্দায় নবজাতকের জন্ম’ শিরোনামে দৈনিক যুগান্তেরে সংবাদ প্রকাশে পর টনক নড়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের। তদন্ত কমিটি গঠনের পর বুধবার বেলা দেড়টার দিকে স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীদের উপস্থিতিতে অভিযোগ বাক্স স্থাপন করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. স্বাধীন কুমার দাস।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নিকটবর্তী নির্বাচন অফিসের বারান্দায় ঈদের পর দিন ২২ জুলাই প্রসূতির সন্তান প্রসবের ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত, দুঃখজনক, বিব্রতকর এবং স্বাস্থ্যসেবায় নিয়োজিতদের জন্য লজ্জাজনক উল্লেখ করে স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জানান, এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা অবগত হওয়ার পর হাসপাতালের মাধ্যমে প্রসূতির প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করা হয়। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয় এবং তদন্ত কমিটি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদন দাখিল করেছেন।

তদন্ত প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ভাটিপাড়া ইউনিয়নের ডুলকর গ্রামের রুবেল মিয়ার স্ত্রী রাসমিনা বেগম ২২ জুলাই মেডিকেল অফিসার ডা. মনি রানী তালুকদারের ব্যক্তিগত চেম্বারে চিকিৎসার জন্য শরণাপন্ন হন, কিন্তু প্রসূতির সংকটাপন্ন অবস্থা বিবেচনা করে তাকে রিস্কবন্ডসহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তির পরামর্শ দেন। কিন্তু প্রসূতি জরুরি বিভাগ হতে ভর্তি না হয়ে হাসপাতালের লেবার ওয়ার্ডে যান, সেখানে কর্তব্যরত মিডওয়াইফ তাকে জরুরি বিভাগ হতে ভর্তি হয়ে আসতে বলেন, কিছুক্ষণ পর তারা লেবার ওয়ার্ড হতে প্রস্থান করেন এবং জরুরি বিভাগে যান নাই, যা কর্তব্যরত মেডিকেল অফিসার বিদ্যুত রঞ্জন দাসের বক্তব্য এবং জরুরি বিভাগের রেজিস্টার খাতা দেখে প্রমাণিত হয়। তাছাড়া রোগিণীর পর্যাপ্ত তথ্য না থাকায় তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

দেশের একটি সেবা প্রতিষ্ঠান এহেন ঘটনার দায় এড়াতে পারে না উল্লেখ করে স্বাস্থ্য কর্মকর্তা যুগান্তরকে জানান, এরূপ ঘটনার যেন পুনরাবৃত্তি না ঘটে সে বিষয়ে অত্র প্রতিষ্ঠানের হাসপাতাল ও মাঠপর্যায়ে সংশ্লিষ্ট সব সেবাদানকর্মীকে সতর্ক করা হয়েছে। বর্তমানে রাসমিনা ও তার সন্তান নিজ বাড়িতে স্বাস্থ্যকর্মীর তত্ত্বাবধানে রয়েছেন।

তিনি বলেন, হাওরাঞ্চলের গণমানুষের চিকিৎসার একমাত্র ভরসাস্থল এই হাসপাতাল। এখন থেকে হাসপাতালে একটি ‘অভিযোগ বাক্স’ স্থাপন করা হয়েছে। এই বাক্সে পাওয়া অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উল্লেখ্য, উপজেলার ভাটিপাড়া ইউনিয়নের ডুলকর গ্রামের রুবেল মিয়ার স্ত্রী রেসমিনা বেগম। ঈদের পরদিন বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রসব ব্যথায় কাতর স্ত্রীকে নিয়ে প্রত্যন্ত এলাকা থেকে দুর্গম পথ পেরিয়ে দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসেন স্বামী রুবেল মিয়া। জরুরি বিভাগে গেলে ডাক্তার ওই নারীকে ভর্তি না নিয়ে সিলেটে নিয়ে যেতে বলেন। শরণাপন্ন হন এক মেডিকেল অফিসারের। তিনিও একই পরামর্শ দেন।

ভর্তির চেষ্টা করে ব্যর্থ হোটেল শ্রমিক স্বামী স্ত্রীকে নিয়ে হাসপাতাল ফটকের সামনে এসে অ্যাম্বুলেন্সের খোঁজ করতে থাকেন। এ সময় স্ত্রীর প্রসব ব্যথা তীব্র হলে তাকে নিয়ে হাসপাতালের ফটকের সামনে দিরাই নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ের বারান্দায় যান। কয়েক মিনিটের মধ্যেই ফুটফুটে এক মেয়েসন্তানের জন্ম দেন তার স্ত্রী।

রেসমিনার স্বামী রুবেল মিয়া (২৭) বলেন, ‘আমার স্ত্রীর প্রসব ব্যথা শুরু হলে আমি দিরাই হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসি। প্রথমে কাউকে পাইনি। অনেকক্ষণ খোঁজাখুঁজি করে একজনকে জরুরি বিভাগে পাই। তিনি আমার স্ত্রীকে সিলেট নিয়ে যেতে বলেন। আমি গরিব মানুষ। এত টাকা কোথায় পাব। এই চিন্তা করে বড় ডাক্তারের খোঁজ করতে থাকি। নিরুপায় হয়ে সিলেট যাওয়ার জন্য রওনা হই। হাসপাতালের গেটের সামনে যাওয়ার পর সে ব্যথা সহ্য করতে পারছিল না। অবশেষে রাস্তার পাশে অফিসের বারান্দায় আমার মা ও আরেকজন মহিলার সহযোগিতায় কাপড়ের পর্দা দিয়ে আড়াল করে ধরলে একটি মেয়ে সন্তানের জন্ম হয়। এটি আমার প্রথম সন্তান।'

তিনি বলেন, আমি হাসপাতালে গিয়ে একজন নার্সকে ঘটনা বললে তিনি ওই অফিসের বারান্দায় এসে আমার স্ত্রী-সন্তানকে দেখে যান।

নির্বাচন অফিসের বারান্দায় সন্তান প্রসব, অবশেষে অভিযোগ বাক্স স্থাপন

 দিরাই (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি 
২৯ জুলাই ২০২১, ১২:৪৮ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ

‘দিরাইয়ে নির্বাচন অফিসের বারান্দায় নবজাতকের জন্ম’ শিরোনামে দৈনিক যুগান্তেরে সংবাদ প্রকাশে পর টনক নড়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের। তদন্ত কমিটি গঠনের পর বুধবার বেলা দেড়টার দিকে স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীদের উপস্থিতিতে অভিযোগ বাক্স স্থাপন করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. স্বাধীন কুমার দাস।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নিকটবর্তী নির্বাচন অফিসের বারান্দায় ঈদের পর দিন ২২ জুলাই প্রসূতির সন্তান প্রসবের ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত, দুঃখজনক, বিব্রতকর এবং স্বাস্থ্যসেবায় নিয়োজিতদের জন্য লজ্জাজনক উল্লেখ করে স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জানান, এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা অবগত হওয়ার পর হাসপাতালের মাধ্যমে প্রসূতির প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করা হয়। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয় এবং তদন্ত কমিটি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদন দাখিল করেছেন।

তদন্ত প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ভাটিপাড়া ইউনিয়নের ডুলকর গ্রামের রুবেল মিয়ার স্ত্রী রাসমিনা বেগম ২২ জুলাই মেডিকেল অফিসার ডা. মনি রানী তালুকদারের ব্যক্তিগত চেম্বারে চিকিৎসার জন্য শরণাপন্ন হন, কিন্তু প্রসূতির সংকটাপন্ন অবস্থা বিবেচনা করে তাকে রিস্কবন্ডসহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তির পরামর্শ দেন। কিন্তু প্রসূতি জরুরি বিভাগ হতে ভর্তি না হয়ে হাসপাতালের লেবার ওয়ার্ডে যান, সেখানে কর্তব্যরত মিডওয়াইফ তাকে জরুরি বিভাগ হতে ভর্তি হয়ে আসতে বলেন, কিছুক্ষণ পর তারা লেবার ওয়ার্ড হতে প্রস্থান করেন এবং জরুরি বিভাগে যান নাই, যা কর্তব্যরত মেডিকেল অফিসার বিদ্যুত রঞ্জন দাসের বক্তব্য এবং জরুরি বিভাগের রেজিস্টার খাতা দেখে প্রমাণিত হয়। তাছাড়া রোগিণীর পর্যাপ্ত তথ্য না থাকায় তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

দেশের একটি সেবা প্রতিষ্ঠান এহেন ঘটনার দায় এড়াতে পারে না উল্লেখ করে স্বাস্থ্য কর্মকর্তা যুগান্তরকে জানান, এরূপ ঘটনার যেন পুনরাবৃত্তি না ঘটে সে বিষয়ে অত্র প্রতিষ্ঠানের হাসপাতাল ও মাঠপর্যায়ে সংশ্লিষ্ট সব সেবাদানকর্মীকে সতর্ক করা হয়েছে। বর্তমানে রাসমিনা ও তার সন্তান নিজ বাড়িতে স্বাস্থ্যকর্মীর তত্ত্বাবধানে রয়েছেন।

তিনি বলেন, হাওরাঞ্চলের গণমানুষের চিকিৎসার একমাত্র ভরসাস্থল এই হাসপাতাল। এখন থেকে হাসপাতালে একটি ‘অভিযোগ বাক্স’ স্থাপন করা হয়েছে। এই বাক্সে পাওয়া অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উল্লেখ্য, উপজেলার ভাটিপাড়া ইউনিয়নের ডুলকর গ্রামের রুবেল মিয়ার স্ত্রী রেসমিনা বেগম। ঈদের পরদিন বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রসব ব্যথায় কাতর স্ত্রীকে নিয়ে প্রত্যন্ত এলাকা থেকে দুর্গম পথ পেরিয়ে দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসেন স্বামী রুবেল মিয়া। জরুরি বিভাগে গেলে ডাক্তার ওই নারীকে ভর্তি না নিয়ে সিলেটে নিয়ে যেতে বলেন। শরণাপন্ন হন এক মেডিকেল অফিসারের। তিনিও একই পরামর্শ দেন।

ভর্তির চেষ্টা করে ব্যর্থ হোটেল শ্রমিক স্বামী স্ত্রীকে নিয়ে হাসপাতাল ফটকের সামনে এসে অ্যাম্বুলেন্সের খোঁজ করতে থাকেন। এ সময় স্ত্রীর প্রসব ব্যথা তীব্র হলে তাকে নিয়ে হাসপাতালের ফটকের সামনে দিরাই নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ের বারান্দায় যান। কয়েক মিনিটের মধ্যেই ফুটফুটে এক মেয়েসন্তানের জন্ম দেন তার স্ত্রী।

রেসমিনার স্বামী রুবেল মিয়া (২৭) বলেন, ‘আমার স্ত্রীর প্রসব ব্যথা শুরু হলে আমি দিরাই হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসি। প্রথমে কাউকে পাইনি। অনেকক্ষণ খোঁজাখুঁজি করে একজনকে জরুরি বিভাগে পাই। তিনি আমার স্ত্রীকে সিলেট নিয়ে যেতে বলেন। আমি গরিব মানুষ। এত টাকা কোথায় পাব। এই চিন্তা করে বড় ডাক্তারের খোঁজ করতে থাকি। নিরুপায় হয়ে সিলেট যাওয়ার জন্য রওনা হই। হাসপাতালের গেটের সামনে যাওয়ার পর সে ব্যথা সহ্য করতে পারছিল না। অবশেষে রাস্তার পাশে অফিসের বারান্দায় আমার মা ও আরেকজন মহিলার সহযোগিতায় কাপড়ের পর্দা দিয়ে আড়াল করে ধরলে একটি মেয়ে সন্তানের জন্ম হয়। এটি আমার প্রথম সন্তান।'

তিনি বলেন, আমি হাসপাতালে গিয়ে একজন নার্সকে ঘটনা বললে তিনি ওই অফিসের বারান্দায় এসে আমার স্ত্রী-সন্তানকে দেখে যান।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন