ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে বেড়েছে মানুষের ভিড়
jugantor
ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে বেড়েছে মানুষের ভিড়

  আলমগীর হোসেন, কালিয়াকৈর (গাজীপুর)  

২৯ জুলাই ২০২১, ২২:৪২:২৪  |  অনলাইন সংস্করণ

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে ১৪ দিনের কঠোর লকডাউন চলছে। বন্ধ রয়েছে যানবাহনসহ শিল্পকারখানা ও দোকানপাট। এর মধ্যেও বিভিন্ন কারণে মহাসড়কে বেড়েছে মানুষের আনাগোনা। এদের মধ্যে বেশিরভাগ মানুষ ফিরছেন গ্রাম থেকে।

বৃহস্পতিবার সকালে সরেজমিন দেখা যায়, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে মানুষের ভিড় বেড়েছে কয়েকগুণ। বিভিন্ন উপায়ে মহাসড়কে অবাধে চলাচল করছেন মানুষ। দূরপাল্লার গণপরিবহণ বন্ধ থাকলেও থেমে নেই দূরপথের যাত্রীদের নিজ কর্মস্থলে ফেরা। কখনো পণ্যবাহী ট্রাকে, কখনো সিএনজি, রিকশা ও মোটরসাইকেলে চলাচল করছেন সাধারণ মানুষ।

তবে ব্যতিক্রম দেখা গেছে পুলিশের চেকপোস্টের সামনে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে অনেকেই চেকপোস্ট থেকে কিছুটা দূরে নেমে পায়ে হেঁটে চেকপোস্ট অতিক্রম করছেন।

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চন্দ্রা চেকপোস্ট অতিক্রম করা মানুষের মধ্যে বেশিরভাগ রংপুর, সিরাজগঞ্জ, রাজশাহী, শেরপুর, বগুড়া, পাবনা ও কুড়িগ্রামের মানুষ। তারা সবাই কোনো না কোনো শিল্পকারখানার শ্রমিক।

শিউলি খাতুন নামে এক গার্মেন্ট শ্রমিক জানান, তিনি সিরাজগঞ্জ থেকে খুব সকালে গাজীপুরের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন। কালিয়াকৈর পৌঁছতে পথে পুলিশের কোনো ঝামেলায় পড়েননি।

তিনি বলেন, পুরোটা রাস্তাই সিএনজিতে এসেছি। একটু খরচ বেশি হলেও দ্রুত আসতে পারায় খুশি শিউলি। তিনি বলেন, ১ আগস্ট থেকে অফিস খোলা তাই ঝামেলায় যেন না পড়ি তাই দুই দিন আগেই আসলাম।

লোকমান হোসেন নামে আরেকজন বলেন, নওগাঁ হতে ট্রাকে ৭০০ টাকা দিয়ে চন্দ্রায় নেমেছি। আমাদের ফ্যাক্টরি ২ দিন হলো চালু। অনেকেই কাজ করছেন তাই চলে এলাম। কালকের মধ্যে ফ্যাক্টরিতে না গেলে চাকরি থাকবে না। তিনি কালিয়াকৈরের একটি সোয়েটার ফ্যাক্টরিতে কাজ করেন কিন্তু ফ্যাক্টরির নাম বলতে রাজি নন তিনি।

কোনাবাড়ি হাইওয়ে পুলিশের ওসি মীর গোলাম ফারুক জানান, লকডাউনে কাজ করতে আমাদের চেকপোস্টে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সবসময় তল্লাশি করছে। কোনো ধরনের যাত্রীবাহী পরিবহন চলাচল করছে না। তবে কিছু যাত্রী পায়ে হেঁটে চেকপোস্ট অতিক্রম করে যাচ্ছে।

এদিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকায় বৃহস্পতিবার দিনব্যাপী সালনা (কোনাবাড়ী) হাইওয়ে পুলিশ চেকপোস্ট বসিয়ে এক লাখ ৯৫ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করেছে।

হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা এলাকায় একদিনে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে পুলিশের দুটি চেকপোস্ট বসিয়ে ৭৯টি যানবাহন ও অযান্ত্রিক গাড়ি ও চালককে মামলা দিয়ে এক লাখ ৯২ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা আদায় করেছেন। সরকারি কঠোর লকডাউন কার্যকর করতে হাইওয়ে পুলিশ মহাসড়কে তৎপর থেকে অযান্ত্রিক গাড়ি চলতে না দেওয়ায় মহাসড়কে যাত্রীদের দুর্ভোগ বেড়েছে।

পুলিশের চেকপোস্টে ব্যক্তিগত গাড়ির মধ্যে অসুস্থ রোগীর গাড়ির সংখ্যাই বেশি চলাচল করছে। মানুষ বিভিন্ন অজুহাতে ঢাকায় প্রবেশের চেষ্টা করছে। যাত্রীদের অজুহাতের কোনো কমতি নেই। হাইওয়ে পুলিশ যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া কাউকে ঢাকার দিকে ঢুকতে দিচ্ছে না বলে পুলিশ জানায়।

সালনা (কোনাবাড়ী) হাইওয়ে পুলিশের ওসি মীর গোলাম ফারুক জানান, সরকারি কঠোর লকডাউন কার্যকর করতে হাইওয়ে পুলিশ তৎপর রয়েছে। তবে দুটি চেকপোস্ট বসিয়ে ৭৮টি যানবাহন ও অযান্ত্রিক গাড়িকে মামলা দিয়ে জরিমানা করা হয়েছে।

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে বেড়েছে মানুষের ভিড়

 আলমগীর হোসেন, কালিয়াকৈর (গাজীপুর) 
২৯ জুলাই ২০২১, ১০:৪২ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে ১৪ দিনের কঠোর লকডাউন চলছে। বন্ধ রয়েছে যানবাহনসহ শিল্পকারখানা ও দোকানপাট। এর মধ্যেও বিভিন্ন কারণে মহাসড়কে বেড়েছে মানুষের আনাগোনা। এদের মধ্যে বেশিরভাগ মানুষ ফিরছেন গ্রাম থেকে।

বৃহস্পতিবার সকালে সরেজমিন দেখা যায়, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে মানুষের ভিড় বেড়েছে কয়েকগুণ। বিভিন্ন উপায়ে মহাসড়কে অবাধে চলাচল করছেন মানুষ। দূরপাল্লার গণপরিবহণ বন্ধ থাকলেও থেমে নেই দূরপথের যাত্রীদের নিজ কর্মস্থলে ফেরা। কখনো পণ্যবাহী ট্রাকে, কখনো সিএনজি, রিকশা ও মোটরসাইকেলে চলাচল করছেন সাধারণ মানুষ।

তবে ব্যতিক্রম দেখা গেছে পুলিশের চেকপোস্টের সামনে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে অনেকেই চেকপোস্ট থেকে কিছুটা দূরে নেমে পায়ে হেঁটে চেকপোস্ট অতিক্রম করছেন।

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চন্দ্রা চেকপোস্ট অতিক্রম করা মানুষের মধ্যে বেশিরভাগ রংপুর, সিরাজগঞ্জ, রাজশাহী, শেরপুর, বগুড়া, পাবনা ও কুড়িগ্রামের মানুষ। তারা সবাই কোনো না কোনো শিল্পকারখানার শ্রমিক।

শিউলি খাতুন নামে এক গার্মেন্ট শ্রমিক জানান, তিনি সিরাজগঞ্জ থেকে খুব সকালে গাজীপুরের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন। কালিয়াকৈর পৌঁছতে পথে পুলিশের কোনো ঝামেলায় পড়েননি।

তিনি বলেন, পুরোটা রাস্তাই সিএনজিতে এসেছি। একটু খরচ বেশি হলেও দ্রুত আসতে পারায় খুশি শিউলি। তিনি বলেন, ১ আগস্ট থেকে অফিস খোলা তাই ঝামেলায় যেন না পড়ি তাই দুই দিন আগেই আসলাম।

লোকমান হোসেন নামে আরেকজন বলেন, নওগাঁ হতে ট্রাকে ৭০০ টাকা দিয়ে চন্দ্রায় নেমেছি। আমাদের ফ্যাক্টরি ২ দিন হলো চালু। অনেকেই কাজ করছেন তাই চলে এলাম। কালকের মধ্যে ফ্যাক্টরিতে না গেলে চাকরি থাকবে না। তিনি কালিয়াকৈরের একটি সোয়েটার ফ্যাক্টরিতে কাজ করেন কিন্তু ফ্যাক্টরির নাম বলতে রাজি নন তিনি।

কোনাবাড়ি হাইওয়ে পুলিশের ওসি মীর গোলাম ফারুক জানান, লকডাউনে কাজ করতে আমাদের চেকপোস্টে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সবসময় তল্লাশি করছে। কোনো ধরনের যাত্রীবাহী পরিবহন চলাচল করছে না। তবে কিছু যাত্রী পায়ে হেঁটে চেকপোস্ট অতিক্রম করে যাচ্ছে।

এদিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকায় বৃহস্পতিবার দিনব্যাপী সালনা (কোনাবাড়ী) হাইওয়ে পুলিশ চেকপোস্ট বসিয়ে এক লাখ ৯৫ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করেছে।

হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা এলাকায় একদিনে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে পুলিশের দুটি চেকপোস্ট বসিয়ে ৭৯টি যানবাহন ও অযান্ত্রিক গাড়ি ও চালককে মামলা দিয়ে এক লাখ ৯২ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা আদায় করেছেন। সরকারি কঠোর লকডাউন কার্যকর করতে হাইওয়ে পুলিশ মহাসড়কে তৎপর থেকে অযান্ত্রিক গাড়ি চলতে না দেওয়ায় মহাসড়কে যাত্রীদের দুর্ভোগ বেড়েছে।
  
পুলিশের চেকপোস্টে ব্যক্তিগত গাড়ির মধ্যে অসুস্থ রোগীর গাড়ির সংখ্যাই বেশি চলাচল করছে। মানুষ বিভিন্ন অজুহাতে ঢাকায় প্রবেশের চেষ্টা করছে। যাত্রীদের অজুহাতের কোনো কমতি নেই। হাইওয়ে পুলিশ যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া কাউকে ঢাকার দিকে ঢুকতে দিচ্ছে না বলে পুলিশ জানায়।

সালনা (কোনাবাড়ী) হাইওয়ে পুলিশের ওসি মীর গোলাম ফারুক জানান, সরকারি কঠোর লকডাউন কার্যকর করতে হাইওয়ে পুলিশ তৎপর রয়েছে। তবে দুটি চেকপোস্ট বসিয়ে ৭৮টি যানবাহন ও অযান্ত্রিক গাড়িকে মামলা দিয়ে জরিমানা করা হয়েছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন