এক্সরে মেশিন আছে টেকনিশিয়ান নেই
jugantor
এক্সরে মেশিন আছে টেকনিশিয়ান নেই

  তাবারক হোসেন আজাদ, রায়পুর (লক্ষ্মীপুর)  

২৯ জুলাই ২০২১, ২৩:১১:৩৫  |  অনলাইন সংস্করণ

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও কর্মকর্তাসহ নানা সংকটে লক্ষ্মীপুরের ৫০ শয্যাবিশিষ্টরায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। জনবল সংকটে রোগীরা তাদের কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এ হাসপাতালে শয্যা ও ওয়ার্ড সংখ্যা বাড়ানো হলেও বাড়েনি জনবল। ফলে নির্ধারিত ক্ষমতার দ্বিগুণ বেশি রোগীর চিকিৎসাসেবা দিতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

টেকনিশিয়ান না থাকায় গত দুই মাস ধরে অচল পড়ে আছে নতুন ডিজিটাল এক্সরে মেশিন। আর টেকনিশিয়ান থাকলেও ইজিসি নাই। এদিকে কেন্দ্রীয় অক্সিজেন সিলিন্ডারের জন্য বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি রায়পুরের এমপি অ্যাডভোকেট নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়ন হাসপাতালের সার্বিক খোঁজখবর নেন। তিনি ব্যক্তিগত তহবিল থেকে হাসপাতালের আরএমও, ওটিরুম, রোগীর ওয়ার্ডের জন্য এসি, ১০টি সিলিং ফ্যান ও অক্সিজেন সিলিন্ডার সিভিল সার্জনের কাছে হস্তান্তর করেছেন।

অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে এই হাসপাতালে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের সংকট রয়েছে। এ সংকট সমাধানে প্রতি মাসে প্রতিবেদন পাঠালেও কোনো লাভ হচ্ছে না।

এদিকে দুইজন নার্স দিয়ে চলছে করোনার টিকা কেন্দ্র। করোনা রোগীদের জন্য ২০টি বেড প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তবে অক্সিজেন সিলিন্ডার সংকট রয়েছে।

রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জাকির হোসেনের দাবি, তিনি চিকিৎসক ও কর্মকর্তাসহ রায়পুরের সরকারি হাসপাতালে জনবল সংকট সমাধান, হাসপাতাল পরিচ্ছন্ন রাখা এবং রোগীদের সেবা বৃদ্ধিতে কাজ করছেন।

হাসপাতালের প্রশাসনিক বিভাগের দেওয়া তথ্যে দেখা যায়, ৫০ শয্যার এই হাসপাতালে ৩১টি অনুমোদিত পদের মধ্যে ৯ জন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারসহ শূন্য রয়েছে ১২টি। ৮ জন নার্স, ৬ জন মেডিকেল টেকনোলোজিস্ট, ১ জন স্টোর কিপার, ১ জন অফিস সহকারী, স্বাস্থ্য পরিদর্শক ৪ জন এবং ৩৪টি কমিউনিটি ক্লিনিকের ৫৫টি পদে ২৬ জনের পদ শূন্য রয়েছে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, বর্তমানে রায়পুর সরকারি এ হাসপাতালে বেডের তুলনায় রোগীর সংখ্যা বেশি। ফলে তারা প্রায় সময় বেকায়দায় পড়ছেন। ফ্লোরে বিছানা করে দিতে হচ্ছে। তাছাড়া তৃতীয়, চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীর সংকটও চরম। ফলে পরিচ্ছন্নতার অভাবে হাসপাতালের স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে।

এদিকে সরঞ্জাম সংকটে এ করোনার সময়ে জনবল সংকটের পাশাপাশি অপরিণত বয়সে জন্ম নেওয়া নবজাতকদের নিয়ে বিপাকে পড়েছেন চিকিৎসক ও অভিভাবকরা। হাসপাতালে ইনকিউবেটর ও রেডিয়েন্ট ওয়ার্মার না থাকায় শিশুদের সঠিক চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা কয়েকজন রোগী জানান, এখানের অধিকাংশ যন্ত্রপাতি নষ্ট। এক্সরে মেশিন আছে টেকনিশিয়ান নাই, অন্যদিকে টেকনিশিয়ান আছে কিন্তু ইসিজি যন্ত্র নাই। তাই বাইরে থেকে পরীক্ষা করে ডাক্তারকে রিপোর্ট দিতে হয়। সরকারি হাসপাতালের এক্সরে চালু না হওয়ায় বাইরের ক্লিনিক থেকে তিনগুণ টাকা দিয়ে রিপোর্ট এনে ডাক্তারকে দেখাতে হচ্ছে।

রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার জাকির হোসেন বলেন, ৯ বিশেষজ্ঞ ডাক্তারসহ কর্মকর্তা, নার্স, কমিউনিটি ক্লিনিকের ২৬ জন স্বাস্থ্য সহকারী নাই। প্রতিমাসে সিভিল সার্জন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রতিবেদন পাঠাই। রোগীদের সেবা করতে জনবল ও রোগীদের সেবার মান বাড়াতে চেষ্টা করছি। বাথরুমসহ হাসপাতালকে নিয়মিত পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য কয়েকজন কর্মী রেখেছি। করোনা রোগীর জন্য ২০ সিট বরাদ্দ আছে। ৫০ শয্যার এ হাসপাতালে মাত্র ৩৮টি অক্সিজেন আছে। কেন্দ্রীয় অক্সিজেন সিলিন্ডারের জন্য বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।

এক্সরে মেশিন আছে টেকনিশিয়ান নেই

 তাবারক হোসেন আজাদ, রায়পুর (লক্ষ্মীপুর) 
২৯ জুলাই ২০২১, ১১:১১ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও কর্মকর্তাসহ নানা সংকটে লক্ষ্মীপুরের ৫০ শয্যাবিশিষ্ট রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। জনবল সংকটে রোগীরা তাদের কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এ হাসপাতালে শয্যা ও ওয়ার্ড সংখ্যা বাড়ানো হলেও বাড়েনি জনবল। ফলে নির্ধারিত ক্ষমতার দ্বিগুণ বেশি রোগীর চিকিৎসাসেবা দিতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

টেকনিশিয়ান না থাকায় গত দুই মাস ধরে অচল পড়ে আছে নতুন ডিজিটাল এক্সরে মেশিন। আর টেকনিশিয়ান থাকলেও ইজিসি নাই। এদিকে কেন্দ্রীয় অক্সিজেন সিলিন্ডারের জন্য বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি রায়পুরের এমপি অ্যাডভোকেট নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়ন হাসপাতালের সার্বিক খোঁজখবর নেন। তিনি ব্যক্তিগত তহবিল থেকে হাসপাতালের আরএমও, ওটিরুম, রোগীর ওয়ার্ডের জন্য এসি, ১০টি সিলিং ফ্যান ও অক্সিজেন সিলিন্ডার সিভিল সার্জনের কাছে হস্তান্তর করেছেন।

অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে এই হাসপাতালে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের সংকট রয়েছে। এ সংকট সমাধানে প্রতি মাসে প্রতিবেদন পাঠালেও কোনো লাভ হচ্ছে না।

এদিকে দুইজন নার্স দিয়ে চলছে করোনার টিকা কেন্দ্র। করোনা রোগীদের জন্য ২০টি বেড প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তবে অক্সিজেন সিলিন্ডার সংকট রয়েছে।

রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জাকির হোসেনের দাবি, তিনি চিকিৎসক ও কর্মকর্তাসহ রায়পুরের সরকারি হাসপাতালে জনবল সংকট সমাধান, হাসপাতাল পরিচ্ছন্ন রাখা এবং রোগীদের সেবা বৃদ্ধিতে কাজ করছেন।

হাসপাতালের প্রশাসনিক বিভাগের দেওয়া তথ্যে দেখা যায়, ৫০ শয্যার এই হাসপাতালে ৩১টি অনুমোদিত পদের মধ্যে ৯ জন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারসহ শূন্য রয়েছে ১২টি। ৮ জন নার্স, ৬ জন মেডিকেল টেকনোলোজিস্ট, ১ জন স্টোর কিপার, ১ জন অফিস সহকারী, স্বাস্থ্য পরিদর্শক ৪ জন এবং ৩৪টি কমিউনিটি ক্লিনিকের ৫৫টি পদে ২৬ জনের পদ শূন্য রয়েছে।
     
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, বর্তমানে রায়পুর সরকারি এ হাসপাতালে বেডের তুলনায় রোগীর সংখ্যা বেশি। ফলে তারা প্রায় সময় বেকায়দায় পড়ছেন। ফ্লোরে বিছানা করে দিতে হচ্ছে। তাছাড়া তৃতীয়, চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীর সংকটও চরম। ফলে পরিচ্ছন্নতার অভাবে হাসপাতালের স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে।

এদিকে সরঞ্জাম সংকটে এ করোনার সময়ে জনবল সংকটের পাশাপাশি অপরিণত বয়সে জন্ম নেওয়া নবজাতকদের নিয়ে বিপাকে পড়েছেন চিকিৎসক ও অভিভাবকরা। হাসপাতালে ইনকিউবেটর ও রেডিয়েন্ট ওয়ার্মার না থাকায় শিশুদের সঠিক চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা কয়েকজন রোগী জানান, এখানের অধিকাংশ যন্ত্রপাতি নষ্ট। এক্সরে মেশিন আছে টেকনিশিয়ান নাই, অন্যদিকে টেকনিশিয়ান আছে কিন্তু ইসিজি যন্ত্র নাই। তাই বাইরে থেকে পরীক্ষা করে ডাক্তারকে রিপোর্ট দিতে হয়। সরকারি হাসপাতালের এক্সরে চালু না হওয়ায় বাইরের ক্লিনিক থেকে তিনগুণ টাকা দিয়ে রিপোর্ট এনে ডাক্তারকে দেখাতে হচ্ছে।

রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার জাকির হোসেন বলেন, ৯ বিশেষজ্ঞ ডাক্তারসহ কর্মকর্তা, নার্স, কমিউনিটি ক্লিনিকের ২৬ জন স্বাস্থ্য সহকারী নাই। প্রতিমাসে সিভিল সার্জন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রতিবেদন পাঠাই। রোগীদের সেবা করতে জনবল ও রোগীদের সেবার মান বাড়াতে চেষ্টা করছি। বাথরুমসহ হাসপাতালকে নিয়মিত পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য কয়েকজন কর্মী রেখেছি। করোনা রোগীর জন্য ২০ সিট বরাদ্দ আছে। ৫০ শয্যার এ হাসপাতালে মাত্র ৩৮টি অক্সিজেন আছে। কেন্দ্রীয় অক্সিজেন সিলিন্ডারের জন্য বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন